বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ সম্পদ বৈষ্ণব পদাবলী। শ্রীচৈতন্য-পূর্ব যুগে বৈষ্ণব পদাবলী রচিত হলেও পদাবলী সাহিত্যের বিকাশে শ্রীচৈতন্য-এর অবদান অনস্বীকার্য। বর্তমান আলোচনার মূল লক্ষ্য ওড়িশা সীমান্ত বঙ্গে রচিত বা প্রচলিত বৈষ্ণব পদাবলীর প্রাথমিক পরিচয় তুলে ধরা। তবে তার পূর্বে এই ভূখণ্ডের ভৌগোলিক অবস্থান, ইতিহাস, ধর্মধারা, ভাষা-সাহিত্য সম্পর্কে কয়েকটি কথা বলা আবশ্যক।
অবস্থানগতভাবে ওড়িশা সীমান্ত বঙ্গ অর্থাৎ মেদিনীপুরের দক্ষিণ-পশ্চিম ভূভাগ ওড়িশার উত্তর বালেশ্বর ও ময়ূরভঞ্জের উত্তর-পূর্ব সংলগ্ন ভূখণ্ড। ওড়িশা ও বঙ্গ– এই দুই ভূখণ্ডের মধ্যে সে রকম কোনও ভেদরেখা বা প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতা নেই। শুধু তাই নয়, ওড়িশা ও বঙ্গের বর্তমান সীমারেখা স্থিরীকৃত হয় ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে। তার পূর্বে ইতিহাসের দৃষ্টিতে দেখা যায়, এই দুই ভূখণ্ড দীর্ঘ কয়েক শতাব্দ কোনও না কোনও একই শাসকগোষ্ঠীর শাসনাধীন ছিল– দ্বাদশ শতক থেকে ষোড়শ শতকের মধ্যপর্ব পযর্ন্ত এই দুই ভূখণ্ড ওড়িশার গঙ্গ ও সূর্য বংশের অধিকৃত ভূমি। ১৫৬৮ খ্রিস্টাব্দে ওড়িশার শেষ স্বাধীন নরপতি মুকুন্দদেবের পরাজয়ের পর বঙ্গের পাঠান শাসনের অন্তর্ভুক্ত। আবার ১৫৯১ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে মোগল সাম্রাজ্যভুক্ত। আকবর ওড়িশাকে পাঁচটি সরকারে বিভক্ত করেছিলেন। তার মধ্যে জলেশ্বর সরকারের অন্তর্ভুক্ত ছিল আলোচ্য ভূখণ্ড-সহ প্রায় সমগ্ৰ মেদিনীপুর। তার পরের প্রায় দেড়শো বছর এই ভূখণ্ড মোগল সুবাদার বা মোগল সাম্রাজ্যের অধীনস্থ বঙ্গের নবাবদের দ্বারা শাসিত হয়েছে। ১৭৫১ খ্রিস্টাব্দে মারাঠাদের সঙ্গে নবাব আলিবর্দীর চুক্তির ফলে সুবর্ণরেখার দক্ষিণভাগ মারাঠাদের অধিকারে আসে আর উত্তরাংশ নবাবের প্রত্যক্ষ শাসনাধীনে থাকে। ফলে বালেশ্বরের দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে উত্তরাঞ্চল রাজনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয় এবং জলেশ্বর থেকে ভোগরাই পযর্ন্ত বিস্তৃত অঞ্চল মেদিনীপুরের অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রাম, বর্ধমান ও মেদিনীপুরের দেওয়ানি লাভ সূত্রে এই ভূখণ্ড ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অধীনে আসে। ১৮০৩ খ্রিস্টাব্দে মারাঠাদের সঙ্গে চুক্তির ফলে কোম্পানি প্রায় সমগ্ৰ ওড়িশা দখল করে। পরবর্তী ব্রিটিশ শাসনে বালেশ্বরের উত্তরাংশ কখনও মেদিনীপুর বা হিজলীর অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, কখনও বা ওড়িশার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
উপরোক্ত ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে দেখা গেল, দীর্ঘ প্রায় সাতশো বছর উত্তর বালেশ্বর ও দক্ষিণ-পশ্চিম মেদিনীপুর রাজনৈতিকভাবে পরস্পর সম্পৃক্ত থেকেছে এবং কোনও প্রাকৃতিক সীমাবদ্ধতা না থাকায় দীর্ঘ কয়েক শতাব্দ ধরে ওড়িয়া ও বঙ্গীয় জনগোষ্ঠীর সহাবস্থান ঘটেছে। বৈবাহিক ও বাণিজ্যিক সূত্রে এই দুই ভূখণ্ডের অধিবাসীদের সম্পর্কের বন্ধন দৃঢ় হয়েছে। সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও তার প্রভাব পড়েছে– এই সীমান্তভূমিতে ওড়িয়া ও বঙ্গ সংস্কৃতির এক মিশ্র রূপ গড়ে উঠেছে। ধর্মাচারণের ক্ষেত্রেও দেখা যায় একদিকে জনজীবনে বার-ব্রত পালনে ও জগন্নাথ চেতনায় ওড়িয়া ধর্মধারা প্রবহমান। অন্যদিকে শ্রীচৈতন্য প্রবর্তিত ও শ্যামানন্দ-রসিকানন্দ প্রচারিত গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্ম আলোচ্য ভূখণ্ডের ধর্মীয় জীবনকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করেছে। প্রায় সমগ্ৰ ওড়িশায় জ্ঞানমিশ্রা বৈষ্ণবধর্মে বিশ্বাসী হলেও ভোগরাই, বালিয়াপাল, জলেশ্বর-সহ বালেশ্বর জেলার মানুষ শ্রীচৈতন্য প্রবর্তিত ভক্তি আশ্রিত বৈষ্ণবপন্থার অনুসারী। অর্থাৎ ধর্মাচারণের ক্ষেত্রে এই ভূখণ্ডে বঙ্গ ও ওড়িয়া উভয় ধারাই স্বীকৃত হয়েছে।
সমাজ-সংস্কৃতি গঠনের একটি মৌলিক উপদান ভাষা। ভাষাতত্ত্বের নিরিখে আলোচ্য ভূখণ্ডের ভাষা বিশেষ স্বাতন্ত্র্যের দাবি রাখে। জন বিমস্ তাঁর A Comparative Grammer of Modern Aryan Language of India গ্রন্থের ভূমিকায় এই অঞ্চলের ভাষা সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন– In the north of Orissa, about the Subarnarekha river and along the Hijli coast, and even to within a short distance of Midnapur (Medinipur), a corrupt form of Oriya is spoken, mixed with an equally corrupt form of Bengali. (১) ভাষাতাত্ত্বিকেরা এই ভাষাকে ‘মেদিনীপুরি ওড়িয়া’ বা ‘উত্তরা ওড়িয়া উপভাষা’ নামে অভিহিত করেছেন। কারণ, এই ভাষা বাংলা ও ওড়িয়ার মিশ্রিত রূপ হলেও এতে ওড়িয়া ভাষার বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের প্রাধান্য দেখা যায়। অনেকে অবশ্য এই ভাষাকে বাংলা ও ওড়িয়ার সংমিশ্রণ বলে স্বীকার করেন না। তাঁদের মতে, মূল অর্ধমাগধী ভাষা থেকে ওড়িয়া, বাংলা, অসমীয়া প্রভৃতি ভাষার উন্মেষ-পূর্বে এই অঞ্চলে যে ঔপভাষিক স্বাতন্ত্র্য সৃষ্টি হয়েছিল তাই এই ভাষার মূল চালিকাশক্তি। আজও তা ওড়িশার ভোগরাই, বালিয়াপাল, জলেশ্বর ও মেদিনীপুরের দাঁতন, মোহনপুর, এগরা, রামনগর, কাঁথি অঞ্চলের মুখ্য কথ্যভাষা।
কথ্যভাষায় স্বাতন্ত্র্য থাকলেও এই ভূখণ্ড থেকে এযাবৎ প্রাপ্ত অসংখ্য পুথি থেকে অনুমান করা যায়, বহু প্রাচীন কাল থেকেই তৎকালীন মান্য ওড়িয়া ও মান্য বাংলা সাহিত্যচর্চার মাধ্যম হিসেবে গৃহীত হয়েছিল। পাশাপাশি, সংস্কৃত ভাষারও প্রসার ছিল। এই অঞ্চলের বহু সংস্কৃতজ্ঞ পণ্ডিত সংস্কৃত ভাষায় কাব্য বা বিভিন্ন সংস্কৃতশাস্ত্রের টীকা রচনা করেছেন। অনেকে আবার ওড়িয়া বা বাংলা ভাষায় সংস্কৃতশাস্ত্রের অনুবাদ করেছেন, টীকা রচনা করেছেন।
তবে দীর্ঘকাল ধরে ওড়িয়া রাজশাসন ও ওড়িয়া পুরোহিত-তন্ত্রের প্রভাবে ওড়িয়া ভাষা-সংস্কৃতির সঙ্গে সঙ্গে এই ভূখণ্ডে ওড়িয়া ধর্মীয় পুথির প্রসার ঘটেছিল। কয়েক দশক পূর্বেও পুরোহিত ব্রাহ্মণ পরিবারে ওড়িয়া ভাষায় তালপত্রে লেখা বিভিন্ন ধর্মশাস্ত্র, পুরাণ, বৈদিক পূজাবিধি, বিবাহ, উপনয়ন, গৃহ প্রতিষ্ঠা, মন্দির প্রতিষ্ঠা, দান, যজ্ঞবিধি ও বহু ব্রত-র পুথি দেখা যেত। প্রায় প্রত্যেক বর্ধিষ্ণু গ্রামে ‘ভাগবত টুঙ্গী’ ছিল যেখানে প্রতি সন্ধ্যায় পুথিপাঠের আসর বসত। উনিশ শতকে এই ভূখণ্ডে ওড়িয়া পুথিপাঠের প্রাবল্যের পরিচয় পাওয়া যায় ফকিরমোহন সেনাপতির রচনায়। ফকিরমোহন লিখেছেন– “সম্প্রতি মধ্য উক্ত স্থানমানঙ্ক গ্রামস্থ প্রধান লোকমানঙ্ক গৃহরে প্রতিদিন সন্ধ্যা সময়রে জগন্নাথ দাসঙ্ক ভাগবত, শারলা মহাভারত ও ওড়িয়া রামায়ণ প্রভৃতি পঠিত হেউঅছি।… বালেশ্বর ও কটক জিল্লারু শত শত পোথিপড়া ব্রাহ্মণ স্থানে স্থানে পোথি বসাই জীবিকা নির্বাহ করুঅছন্তি। অনেক মহাজন এবং জমিদারঙ্ক ঘরে পোথিপড়া ব্রাহ্মণ খঞ্জা অছন্তি।” ২
বাংলা ভাষায় সাহিত্যচর্চারও প্রচলন ছিল। শ্যামানন্দ-রসিকানন্দ বৈষ্ণবগোষ্ঠীর মাধ্যমে এই ভূখণ্ডে বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতির প্রসার ঘটে। শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত, চৈতন্যভাগবত, কৃত্তিবাসী রামায়ণ, কাশীদাসী মহাভারত, কবিকঙ্কণ চণ্ডী, রামেশ্বর ভট্টাচার্যের শিবায়ন, ক্ষেমানন্দের মনসামঙ্গল, ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল, নিত্যানন্দের শীতলামঙ্গল প্রভৃতি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ সম্পদগুলির অসংখ্য পুথি এই অঞ্চল থেকে পাওয়া গেছে। স্থানীয় কবিরাও বাংলা ভাষায় সাহিত্যচর্চা করেছেন। এই অঞ্চল থেকে কৃষ্ণলীলা ও রাস বিষয়ক বহু পুথি পাওয়া গেছে, যেগুলি শ্যামানন্দ-রসিকানন্দ বৈষ্ণবগোষ্ঠীর কবিদের রচনা হওয়াই সমীচীন।
ওড়িয়া ও বাংলা পুথিচর্চার নিরিখে বলা যায়, এই ভূখণ্ডে বাংলা ও ওড়িয়া সাহিত্যের মধ্যে কোনও জল-অচল সম্পর্ক ছিল না। দুই ভিন্ন জনগোষ্ঠীর সহাবস্থানের মতো দুই ভাষার সাহিত্যও পাশাপাশি অবস্থান করেছে। অনেক সময় এক ভাষার শ্রেষ্ঠ সম্পদ অন্যভাষায় অনূদিত হয়েছে। জগন্নাথ দাসের ওড়িয়া ভাগবত-এর বাংলা এবং কৃষ্ণদাস কবিরাজের শ্রী শ্রী চৈতন্যচরিতামৃত-এর ওড়িয়া অনুবাদের বহু পুথি পাওয়া গেছে। আবার বাংলা ও ওড়িয়া ভাষায় সমন্বয়ও কাব্য রচিত হয়েছে। এই প্রসঙ্গে আলোচ্য অঞ্চল থেকে প্রাপ্ত এবং ওড়িশা রাজ্য সংগ্রহশালায় রক্ষিত দু’টি পুথির উল্লেখ করতে হয়– দু’টিই উনবিংশ শতকে রচিত– একটি কবি গোকুল রায় রচিত ‘কৃষ্ণার্জুন পালা’৩ অপরটি হরিকৃষ্ণ দাস লিপিকৃত ‘কৃষ্ণলীলা’।৪ এই দু’টি কাব্যকে ব্যতিক্রম হয়তো বলা যাবে না। কারণ, এই দু’টি পুথি রচনার প্রায় দু’শত বছর আগে সনাতন বিদ্যাবাগীশ বাংলা ভাষায় ভাগবত অনুবাদ শেষ করতে গিয়ে জগন্নাথ দাসের ভাগবত ও ওড়িয়া ভাষার আশ্রয় নিয়েছিলেন। তাঁর কথায়–
শুন শুন শ্রোতাজন করি নিবেদন
প্রথম হইতে গ্রন্থ লেখিলু আপন
দশমরে শেষ খণ্ড ভাষা ন পাইল
অনেক তপসি গ্রামে গ্রামে বেড়াইল
এ হেতু উৎকল ভাষা করিল লিখন
জগন্নাথ দাস কৃত অপূর্ব বর্ণন
গ্রন্থ সমাপন হেতু উৎকণ্ঠ হইয়া
বঙ্গজ ভাষায় উৎকল মিশাইয়া।৫
বিদ্যাবাগীশের এই দৃষ্টান্ত পরবর্তীকালে স্থানীয় কথ্যভাষাকে সাহিত্য সৃষ্টির মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করার প্রেরণা যুগিয়েছিল কি না তা অনুসন্ধানযোগ্য। ওড়িশা সীমান্ত বঙ্গের ইতিহাস, সমাজ-সংস্কৃতির এই বিস্তৃত প্রেক্ষাপটে এবার আমরা এই ভূখণ্ডে রচিত বা প্রচলিত বৈষ্ণব পদাবলীর সন্ধান করতে পারি।
(২)
জয়ানন্দ-এর চৈতন্যমঙ্গল বা গোবিন্দদাস-এর কড়চা-য় শ্রীচৈতন্য-এর ওড়িশা গমন পথের যে বিবরণ পাওয়া যায়, তার থেকে স্পষ্ট শ্রীচৈতন্য তমলুক, নারায়ণগড়, দাঁতন-এর পথে নীলাচল অভিমুখী হয়েছিলেন।সেই দিব্যকান্তি তরুণ সন্ন্যাসীর মুখে অবিরত কৃষ্ণনাম ধ্বনি নিশ্চয়ই এতদঞ্চলের কিছু মানুষের ‘কানের ভিতর দিয়া মরমে’ প্রবেশ করেছিল কিন্তু শ্রীচৈতন্য প্রবর্তিত বৈষ্ণব ভাবধারা জনমানসে আদৃত হতে আরও অন্তত শ’খানেক বৎসর লেগেছিল। শ্রীচৈতন্য-এর তিরোধানের পর তাঁর ভাবধারা প্রচার ও প্রসারের ভার ন্যস্ত হয় বৃন্দাবনের ‘ষড় গোস্বামী’-র ওপর। এই গোস্বামীদের অন্যতম শ্রীজীব গোস্বামী তাঁর শিষ্য শ্যামানন্দ-কে প্রেরণ করেন উৎকলে শ্রীচৈতন্য প্রবর্তিত বৈষ্ণব ভাবধারা প্রচারের উদ্দেশ্যে। উল্লেখ্য, সেই সময় মেদিনীপুরের অধিকাংশই ছিল উৎকলের অন্তর্ভুক্ত। ষোড়শ-সপ্তদশ শতাব্দের সেই সন্ধিক্ষণে উৎকল তথা এই সীমান্ত অঞ্চলের সমাজজীবনের বাস্তবানুগ বিবরণ গোপীজনবল্লভ দাস রচিত রসিকমঙ্গল কাব্যে পাওয়া যায়–
উৎকলের সর্ব্বজনে পাপে দৃঢ়মতি।
না লয় হরি নাম না শুনে হরিকীর্ত্তী।।
অতিশয় দুষ্ট কর্ম করে নিরন্তর।
ব্রাহ্মণ বৈষ্ণব নিন্দা করেন বিস্তর।।
মদ্যপানে মত্ত হয়ে করেন হিংসন।
দণ্ডধারী সন্ন্যাসী বৈষ্ণব ব্রাহ্মণ।।
ধনলোভে হিংসন করয়ে সাধুজন।
বনভূমি মধ্যে করে এই আচরণ।।৬
এই রকম এক পরিবেশে শ্যামানন্দকে পাঠানোর কারণ, শ্যামানন্দ ছিলেন এই অঞ্চলের সন্তান। আদি নিবাস খড়্গপুরের নিকটবর্তী ধারেন্দা বাহাদুরপুর। ফলে এই অঞ্চলে সম্পর্কে তাঁর সম্যক ধারণা ছিল। গুরুর মান রেখেছিলেন শ্যামানন্দ। বস্তুত, শ্যামানন্দ ও তাঁর শিষ্য-প্রশিষ্যদের প্রচেষ্টায় এই সীমান্ত ভূমি শ্রীচৈতন্য ভাবধারায় প্লাবিত হয়। শ্যামানন্দের তিরোধানের পর তাঁর শিষ্যেরা দ্বাদশ শাখায় বিভক্ত হয়ে কেশিয়াড়ি রোহিণী, ধারেন্দা, ঝাড়গ্রাম, রাজগ্রাম, হরিহরপুর, সাঁকোয়া, গোপীবল্লভপুর, ভোগরাই (বর্তমানে ওড়িশার অন্তর্ভুক্ত) প্রভৃতি স্থানে মঠ প্রতিষ্ঠা করে ধর্ম প্রচারে আত্মনিয়োগ করেন। তবে শ্যামানন্দের যোগ্য উত্তরসূরি ছিলেন তাঁর প্রধান শিষ্য রসিকানন্দ। রোহিণী গ্রামের এই ভূস্বামী সন্তানের প্রচেষ্টায় বহু জমিদার এমনকি ময়ূরভঞ্জের রাজাও বৈষ্ণব ধর্মে দীক্ষিত হন। রসিকানন্দ শ্রীপাট গোপীবল্লভপুরে মঠ স্থাপন করেন। এই মঠ আজও ওড়িশা ও বঙ্গের এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলের বৈষ্ণবীয় ভাবধারাকে পরিচালিত করে চলেছে।
শ্যামানন্দ ও তাঁর শিষ্যেরা প্রায় প্রত্যেকেই ছিলেন সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্যে সুপণ্ডিত, গৌড়ীয় বৈষ্ণব দর্শনেও তাঁরা গভীর অনুরাগী। তাই দেখা যায়, শ্যামানন্দ-এর অদ্বৈত তত্ত্ব, উপাসনা সার সংগ্রহ বা রসিকানন্দ-এর রতিবিলাস-এর মতো গ্রন্থ বৈষ্ণব সমাজে আজও সমাদৃত। এর পাশাপাশি শ্যামানন্দ, রসিকানন্দ, শ্যামানন্দ শিষ্য দুঃখী শ্যামাদাস, প্রশিষ্য গোবর্ধন দাস, কানুরাম দাস প্রমুখ রাধাকৃষ্ণ লীলা বা গৌরাঙ্গ লীলা বিষয়ক পদ রচনায় কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। এঁরা প্রায় সকলেই এই সীমান্ত অঞ্চলের সন্তান, তাই এঁদের রচিত পদই এই অঞ্চলের আদি পদাবলী। এখানে উল্লেখ্য যে, একমাত্র কানুরাম দাসের কিছু সংখ্যক ব্রজবুলি-তে লেখা পদ ছাড়া এঁরা প্রত্যেকেই তৎকালীন মান্য বাংলা ভাষায় পদ রচনা করেছেন। এঁদের অধিকাংশ পদই বিভিন্ন বৈষ্ণব পদসঞ্চয়ন গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
(৩)
ওড়িশা-বঙ্গ সীমান্ত অঞ্চলের বৈষ্ণব পদাবলী বিষয়ে আলোচনায় স্বাভাবিকভাবেই ওড়িয়া কবিদের রচিত পদের কথাও এসে পড়ে। শ্রীচৈতন্য জীবনের শেষ আঠারোটি বছর পুরীধামে অতিবাহিত করেন। এইসময় তাঁর আচরিত ও প্রচারিত ধর্মমত জনসাধারণকে আকৃষ্ট করা স্বাভাবিক। সমাজের উচ্চ স্তরের মানুষেরাও– রাজা প্রতাপরুদ্রদেব, রাজপ্রতিনিধি রায় রামানন্দ, শিখি মাহান্তি প্রমুখ বিশিষ্ট ব্যক্তি শ্রীচৈতন্য প্রবর্তিত ধর্মমতের অনুসারী হয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, বাংলার অনুকরণে ওড়িশায় বাংলা কিংবা ব্রজবুলি ভাষায় পদাবলী রচনার সূত্রপাত হয়। সেই ষোড়শ শতকের শেষভাগ থেকে উনিশ শতকের মধ্যভাগ পর্যন্ত বহু ওড়িয়া কবি বাংলা ও ব্রজবুলি ভাষায় পদ রচনা করেছেন। শ্রীচৈতন্য সমকালে রায় রামানন্দ, প্রতাপরুদ্রের মন্ত্রী যদুপতি, দামোদর চম্পতি রায়, মাধবী দাসী প্রমুখ ব্রজবুলি-তে পদ রচনা করে খ্যাত হয়েছেন। প্রসঙ্গত ষোড়শ শতকের কবি কানাই খুন্টিয়া-র একটি পদ উদ্ধৃত করা হল ওড়িয়া কবিদের বাংলা ভাষা চর্চার উদাহরণস্বরূপ–
মন চোরার বাঁশি বাজও ধীরে ধীরে
আকুল করিল তোমার সুমধুর সুরে (ধ্রু)
আমরা কুলের নারী হই গুরুজনের মাঝে রই
না বাজও খলের বদনে ।
আমার বচন রাখ নীরব হইয়া থাক
না বধিব অবলার প্রাণে ।।
… … …
তরলে জন্ম তোর সরল হৃদয় মোর
ঠেকিয়াছ গোঁয়ারের হাতে।
কানাই খুন্টিয়া কয় মোর মনে হেন লয়
বাঁশি হৈল অবলা বাধিতে।।৭
বস্তুত, জানা না থাকলে কখনও মনে হবে না যে, পদটি কোনও ওড়িয়াভাষীর লেখা। কানাই খুন্টিয়া ছাড়া মাধবী দাসী, পিণ্ডিক শ্রীচন্দন, ব্রজবন্ধু সিংহ, ব্রজনাথ বড়জেনা প্রমুখ ওড়িয়া কবি বাংলা ভাষায় পদ রচনা করেছেন। এর পাশাপাশি ষোড়শ শতক থেকেই ওড়িয়া ভাষায় রাধাকৃষ্ণের লীলা বিষয়ে পদ রচিত হয়েছে। যদিও কৃষ্ণলীলা বিষয়ে পদ রচনার চেয়ে কৃষ্ণলীলা বিষয়ক কাব্য রচনায় ওড়িয়া কবিদের মনোযোগ বেশি ছিল।
অষ্টাদশ শতকে কৃষ্ণলীলা বিষয়ক পদ ওড়িয়া জনসমাজে অধিক সমাদর লাভ করে এবং উপাস্য দেবতার গুণকীর্তনের নামে লৌকিক আদিরসাশ্রয়ী ভাবনাকে কৃষ্ণলীলার মাধ্যমে প্রকাশ করা একটি সাহিত্যিক রীতিতে পরিণত হয়েছিল। এই সময় ওড়িশা সমাজজীবনে কীর্তন, ঝুলন, রাস প্রভৃতি উৎসবের প্রচলন বৃদ্ধি পায় এবং এই উপলক্ষে বহু কবি পদ রচনা করেন। অষ্টাদশ শতাব্দের মধ্যভাগ থেকে উনবিংশ শতাব্দের মধ্যভাগ পর্যন্ত ওড়িয়া পদাবলী সাহিত্যের যথার্থ বিকাশকাল।
বনমালী দাস, দীনকৃষ্ণ দাস, উপেন্দ্র ভঞ্জ, রামকৃষ্ণ পট্টনায়ক, গোপালকৃষ্ণ পট্টনায়ক, বলদেব রথ, সোমনাথ সিংহ প্রমুখ ওড়িয়া পদাবলী সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য কবি। এঁদের মধ্যে সপ্তদশ শতাব্দের কবি দীনকৃষ্ণ ছিলেন দাঁতন সংলগ্ন জলেশ্বরের মনতুনিয়া গ্রামের অধিবাসী।
(৪)
বৈষ্ণব পদাবলী রচনার দিন শেষ হয়ে গেছে কিন্তু কমেনি তার মাধুর্য, কমেনি শ্রীচৈতন্য প্রবর্তিত বৈষ্ণব ধর্মের প্রভাব। আলোচ্য ভূখণ্ডের সংখ্যাধিক্য মানুষ এই ধর্মের অনুরাগী। আজও গ্রামে গ্রামে ব্যক্তিগত বা সম্মিলিত উদ্যোগে মহোৎসব-এর আয়োজন করা হয়। গৃহপ্রবেশ, উপনয়ন, বিবাহ বা কোনও শুভ কর্মে গৃহস্থ বাড়িতে এই অঞ্চলের কোনও প্রাচীন মঠ বা মন্দির থেকে মহাপ্রভু বিগ্রহ নিয়ে আসা হয়। বিভিন্ন গ্রামে রাস, ঝুলন প্রভৃতি উৎসব পালিত হয়, কীর্তন-এর আসর বসে। এই সব উপলক্ষে যেমন বৈষ্ণব পদাবলী গীত হয়, তেমনই এই ভূখণ্ডে প্রচলিত মনসা, ষষ্ঠী বা শীতলা পালাগানের আসরেও প্রাসঙ্গিক সূত্রে বৈষ্ণব পদের অবতারণা করা হয়। মূলত কীর্তন ও পালাগানের গায়কেরাই এখন এই ভূখণ্ডে বৈষ্ণব পদাবলীর ধারক ও বাহক। ভাষাগত বিচারে তাঁরা তিন প্রকার পদ গান করে থাকেন–
প্রথমত, সীমান্ত খণ্ডের মিশ্র সংস্কৃতির বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী এঁরা বাংলা ও ওড়িয়া উভয় ধারার বৈষ্ণব পদাবলীকে গ্রহণ করেছেন। চণ্ডীদাস, গোবিন্দদাস, শ্যামানন্দ, বাসু ঘোষ প্রমুখের পাশাপাশি উপেন্দ্র ভঞ্জ, দীনকৃষ্ণ, গোপালকৃষ্ণ প্রমুখ ওড়িয়া কবিদের পদও এঁরা গেয়ে থাকেন।
দ্বিতীয়ত, ওড়িয়া কবিদের পদ অল্প-বিস্তর পরিবর্তন করে। একটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি স্পষ্ট হয়–
উপেন্দ্র ভঞ্জ-এর মূল পদ (ভাবোচ্ছ্বাস পর্যায়ের):
মল্লীমাল শ্যামকু দেবি মন তোষিবি
গ্রীষ্ম হইলে বাস চন্দন মুঁ লেপিবি। (ধ্রু)
তা অঙ্গরু স্বেদ বারি যেবে পড়ুথিব ঝরি
মো দৃষ্টি পড়ন্তে কানি পণন্তরে পোছিবি।
যেবে সে করিবে মান ভাঙ্গি ভুঞ্জাইবি পান
গণ্ডে দেইণ চুম্বন হরষ করাইবি।
তাঙ্কু করি গলা হার সেবিবি তাঙ্ক পয়র
সে যেহ্নে হোইবে বর হর পূজা করিবি।
উপইন্দ্র ভঞ্জ কহি রমনী রতন সেহি
তাহাঙ্ক চরণ ধ্যায়ি শরণাগত হেবি। (৮)
পদটির প্রচলিত রূপ–
মলি মাল দেই বধুঁর মন তোষিবি।
গ্রীষ্ম হইলে বাস চন্দন দেবী।।
তা অঙ্গরু স্নেহ বারি,যেবে পড়ুথিব ঝরি।
মো নেত্র পড়ন্তে নেজ ,পনন্তরে পুছিবি।।মলি মাল দেই…
সে যেবে করিব মান,ভাঙ্গি ভুঞ্জাইবি পান।
মুখরে দেবি চুম্বন,হরষ করাইবি।।
তাঙ্কু করি গলা হার,পূজিবি তাঙ্কর পয়র।
সে যদি ভাবিব পর, হর পূজা করিবি।।
উপইন্দ্র ভঞ্জ কহি, রমনী রতন পাহি।
তাহার চরণে যাই, শরণে পশিবি।। মলি মাল দেই…
তবে এটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য নাও হতে পারে। গায়কের ব্যক্তিগত অভিরুচি বা অজ্ঞতাজনিতও হতে পারে। বেশ কিছু পদে এই ধরনের পরিবর্তন আমাদের নজরে আসায় উল্লেখ করা হল মাত্র। প্রসঙ্গত, কোনও বাংলা পদের ক্ষেত্রে এই ধরনের পরিবর্তন আমাদের চোখে পড়েনি।
তৃতীয়ত, কিছু সংখ্যক পদাবলীর সন্ধান পাওয়া যায়, যেগুলির ভাষা এই ভূখণ্ডে প্রচলিত উত্তরা-ওড়িয়া উপভাষা। ভীম দাস, কিনুরাম, দীন রামচন্দ্র, হীন হরি, দ্বিজ কুবের, ক্ষেত্রি বাসুদেব, গিরিবর, ভরত প্রমুখের সঙ্গে ‘শোলচনা’ (সুলোচনা?) নাম্নি এক কবির লেখা এবং ‘ভনিতা’-হীন কিছু পদের সন্ধান মেলে। আমাদের সংগ্রহ থেকে কয়েকটি পদের উল্লেখ করা হল–
১. হা রে বসন্তকালে পতি নাহি কোলে যা মোর বধুঁ নাহি কোলে
রে বসন্ত কালে।
এ যুবা ডালিম্ব কঁড়ি দিনে দিনে যিব বড়ি পাখিরে পড়িব ঝরি
ইহাথিলা কপাল রে বসন্ত কালে।।
তুম্ভর যিবা বেলে আসিবে বলি কহিলে সে কি পাইঁ ন অইলে ভাবন
হেলে রে বসন্ত কালে।
আহা রে আহা দইব সতেকি পতি আসিব হাসি হাসি আসিব মোর
বসিব কোলে রে বসন্ত কালে।।
ভাঙ্গি রখি ছাঁচি পান কর্পূর মিশাই চুন খাইব হে প্রাণধন আসি
অবহেলে রে বসন্ত কালে।
ভনই শ্রী ভীম দাস সুন্দরী ছাড়ে নিঃশ্বাস রহিবি মু কাহাপাশ ধনি
লুটে ভূমিতলে রে বসন্ত কালে।।
পতি নাহি কোলে যা মোর বধুঁ নাহি কোলে রে বসন্ত কালে।।
২. সখি আউলো মান করোনা,সখি আউলো (ধ্রু)
সখিরে তোর মনে কিংবা অছি,মু তো জানি না পারিলি কিছি
ভাঙ্গি ফেরি কহিলেত জানিবু সিনা।সখি আউলো …
সখিরে আসরে মোর কোলে বস দিয়রে সুরতি রস
দাস যদি করে দোষ দিঅ দান্তনা।সখি আউলো …
সখিরে ছাতিরে সুবর্ণঘট কেতে করু লুয়া কট
দেখি মন ছটপট কলানি সিনা।সখি আউলো…
সখিরে টেকি চাঁহা বারে মুখ যাউ মোর রঙ্গ দুঃখ
না দিঅ লো প্রাণ মিত রতি যন্ত্রণা।সখি আউলো..
সখিরে ছাঁচিপান গুয়া যেতে সবু ভুঞ্জাইলু মোতে
কপট পাষাণ হিয়া মোতে করোনা।সখি আউলো…
সখিরে কহে ক্ষেত্রি বাসুদেব তোঠারে মোর দয়াথিব
দয়া ভাবি করি মোতে কহিবু সিনা।
সখি আউলো মান করোনা।
৩. বংশীচুরি পর্যায়ের একটি ভনিতাহীন পদ–
রাধে গো রাধে মো বংশীটি আনি দিঅ
হাতরু কঙ্কন গলারু রতন তাহা ইচ্ছা তাহা লিয়
রাধে গো রাধে মো বংশীটি আনি দিঅ।
অতি যতনরে শয্যা করুথিনি বংশীটি সিতানে থোই ।
চতুরী রাধিকা এই বাটে গলে মো বংশীটি নেলে চোরাই।।
রাধে গো রাধে মো বংশীটি আনি দিঅ
অতি যতনরে বংশী ঘড়ুথিনি সনার পিড়ন দেই।
বংশীর বিহনে অন্ন না রুচিলা মুখ মোর তিতা লাগই।।
রাধে গো রাধে মো বংশীটি আনি দিঅ।
৪. কহিবু বুঝাই শ্যাম বঁধুর মন মগাই।
গুপতে পিরীত করি কি সুখ দেল ভাসাই।।
জাগি যোগী ন জাগর নিশি গলা উজাগর।
ঘারিলা মদন জ্বর শ্যাম বঁধুঙ্কর পাইঁ।।
এড়ে নিদারুণ বলি সখি মু ন জানুথিলি।
শোক জলে ভাসি গনি কুসুম শয্যারে থাই।।
দাসী কহে শুন দূতী পথর কর গো ছাতি।
আসিবে তোর প্রাণপতি শুভরাত্রি যিব বহি।।
আমাদের মনে হয়, এই ধরনের পদগুলি এই ভূখণ্ডের কবি-গায়কদের লেখা। সেদিক থেকে বলতে হয়, শ্যামানন্দ ও তাঁর শিষ্যদের পরও এই ভূখণ্ডে পদাবলী রচনার ধারা বজায় ছিল। যদিও পরবর্তীকালের কবিরা স্থানীয় কথ্য ভাষাকেই রচনার মাধ্যমরূপে গ্রহণ করেছিলেন। এই ভাষাগত কারণে এবং একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের মধ্যে প্রচলিত থাকার জন্য বোধহয় এযাবৎ আলোচক, সংকললকদের দৃষ্টির বাইরে থেকে গেছে। রচনা সৌকর্যে না হলেও ওড়িশা-বঙ্গ সীমান্ত খণ্ডের বৈষ্ণব পদাবলীর ইতিহাসে এই ধরনের পদের গুরুত্বকে অস্বীকার করা যায় না।
…………………………………………………………………………………………………
তথ্যসূত্র:
১. John Beams and Orissa: Compiled and Edited by Dr. Lalatendu Das Mahapatra, Pragati Utkal Sangha, Rourkela, 2007 page 303
২. আত্মচরিত: ফকিরমোহন সেনাপতি, সম্পাদনা: দেবেন্দ্র কুমার দাশ, ন্যাশনাল বুক ট্রাস্ট, নতুন দিল্লি, ২০১০, পৃষ্ঠা ১০
৩. ওড়িশা রাজ্য সংগ্রহশালা, পুথি সংখ্যা OL / 714(B)
৪. ওড়িশা রাজ্য সংগ্রহশালা, পুথি সংখ্যা OL / 998(B)
৫. ওড়িয়া সাহিত্যের ইতিহাস: পঠাণি পট্টনায়ক, নালন্দা, ১৯৮৪.পৃষ্ঠা ৩১৬
৬. রসিক মঙ্গল, পূর্ব্ব বিভাগ, তৃতীয় লহরী
৭. বৈষ্ণব পদাবলী: জানকীবল্লভ মহান্তি, ওড়িশা বুক স্টোর, কটক,১৯৮০ পৃষ্ঠা ৯(মুখবন্ধ)
৮. তদেব, পৃষ্ঠা ২
চিত্রণ: মনিকা সাহা








One Response
সমৃদ্ধ হলাম। ওড়িশা সংলগ্ন মেদিনীপুরের ভাষার ধারণা এল।