Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

যে গ্রন্থে ‘সত্যেরে লও সহজে’ কথা ক’টির যথার্থ বাস্তবায়ন ঘটেছে

বিভিন্ন বিষয়ে প্রকাশিত তাঁর অসংখ্য মননশীল প্রবন্ধ-নিবন্ধ যেমন আমাদের চোখে পড়েছে, তেমনই বৈদ্যুতিন মাধ্যমে নানা গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যও কানে এসেছে এবং আসছে। এছাড়া সমাজসেবার দিকটিও উল্লেখ করার মতো। তিনি মীরাতুন নাহার। একটা গোটা জীবন মেরুদণ্ড টান টান করে চলা মানুষ এই সময়ে খুব একটা চোখে পড়ে না। সুতরাং ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্বই বটে।

একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নিতান্ত ভালবেসেই তিনি আমাকে পড়তে দিয়েছিলেন তাঁর সদ্যপ্রকাশিত গ্রন্থ ‘অমৃতে-বিষে’। গ্রন্থের শিরোনামের ঠিক নিচেই বন্ধনীর মধ্যে লেখা ছিল ‘কাহিনির মতো, কাহিনি নয়া’ কথা ক’টি। স্বভাবতই কৌতূহল ছিল গ্রন্থটি নিয়ে। এবং সেই কৌতূহল মেটাতেই দ্রুত স্বাদ নেওয়া গেল ‘অমৃতে-বিষে’-র। তবে বলতে দ্বিধা নেই, একই সঙ্গে অমৃত-বিষ মন্থন করে যে সারবস্তুটুকু পাওয়া গেল— তা জীবনে চলার পথের পাথেয় হয়ে থাকবে নিশ্চিত। এমন বিরল অভিজ্ঞতা পাঠকের কমই হয়।

দেড় শতাধিক (১৫২) পৃষ্ঠার বই। বইয়ের বাঁদিকের ব্লার্বে লেখা হয়েছে, ‘এক মানবী-জীবনের একান্ত আপন আরশিতে প্রতিবিম্বিত সমগ্র মনুষ্য-জীবনের বিচিত্র রহস্যময়তা। যাপিত জীবনের নিয়ত ঘটে চলা উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনার বিবৃতি মাত্র নয়।’ তাহলে কী আছে আলোচ্য গ্রন্থে? এমন একটা প্রাসঙ্গিক (এবং কৌতূহলিও বটে) প্রশ্ন পাঠকের মনে জাগাটাই খুব স্বাভাবিক। এই আলোচকের মনেও জেগেছে। এবং তার যথার্থ উত্তরও মিলেছে বইকী। যার ভাগ এই লেখায় পাঠকের জন্যে উন্মোচিত হল।

ওই কথাগুলির পরেই ওই ব্লার্বেই উল্লেখ করা হয়েছে, ‘সেসবের মধ্যে প্রতিফলিত হয়েছে সাধারণভাবে নারী-জীবনের সমাজ-নির্মিত যন্ত্রণা-বিদ্ধ অবস্থান, রাষ্ট্রব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে বিস্তৃত অন্ধকারাচ্ছন্নতা, দেশোন্নয়নের দায়ভার বহন করে চলা নেতা-নেত্রীদের দেশ-ঘাতী ধ্যান-ধারণা সহ নিজ ব্যক্তিজীবনের আলো-ছায়া মাথা পথে অবিশ্রাম চলমানতার চিত্র।’ এই চিত্রের পরতে পরতে জড়িয়ে আছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভাবনার বীজ, যা আমাদের সবারই চলার পথকে সহজ ও সুগম করতে পারে। যদি তা অনুসরণ করি।

কারণ এই প্রাজ্ঞ ও প্রবীণা লেখিকার মতে, ‘আমাদের জীবনযাত্রায় অমিয় ও গরল দুই-ই গ্রহণ করতে হয়। এই সত্য কেবল অধ্যয়ন-পিপাসুদের উপলব্ধির বিষয় নয়। এটি মানুষ মাত্রেরই নিবিড় জীবন-পাঠে লভ্য জীবনদর্শন…।’ জীবনকে সঠিক অর্থে জানা-বোঝার কঠিন প্রয়াসই প্রাধান্য পেয়েছে এই অনুপম গ্রন্থে। লেখিকার কথায়, এই গ্রন্থ কোনও ‘আত্মকথা বা আত্মকাহিনি নয়।’ কিন্তু এই বইয়ের তন্নিষ্ঠ পাঠক কী বলেন? ‘অমৃতে-বিষে’-র প্রধান চরিত্র রাইমন কি স্বয়ং লেখিকা নন? তিনি কি শুধুই সূত্রধার?

যাক, এই তর্ক-বিতর্কে না ঢুকে বরং তাঁর ‘অমৃতে-বিষে’ গ্রন্থের কথায় আসা যাক। শুরুটা হয়েছে এভাবে, ‘সকালের সোনা রঙের মিঠে রোদ ঘরময় ছড়িয়ে পড়লে তবে রাইমনের ঘুম ভাঙে রোজ…।’ এই ছোট্ট রাইমন থেকে সত্তরোর্ধ্ব রাইমনের ‘আলো-ছায়া মাথা পথে অবিশ্রাম চলমানতার চিত্র’-ই আঁকা হয়েছে ‘অমৃতে-বিষে’, যা পাঠককে ভাবতে বাধ্য করায়— হতাশা নয়, হাল ছেড়ে দেওয়া নয়, অন্যায়ের কাছে মাথা নত করা নয়, প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে নিরন্তর লড়াই করে বেঁচে থাকার নামই জীবন।

এই পার্থিব জগতে প্রাপ্তির (অর্থ-প্রচার-পদ নানাবিধ) হাতছানিকে অগ্রাহ্য করার ক্ষমতা খুব কম মানুষেরই আছে। ‘পরিবর্তন’-এর আগে-পরে ‘প্রাপ্তি’-র এমন অনেক ঘটনাই আমাদের কমবেশি জানা। সেই জানার বাইরেও যে কিছু মানুষ আছেন, যাঁরা মেরুদণ্ড নোয়াতে জানেন না— তাঁদেরই একজন এই গ্রন্থের প্রধান চরিত্র রাইমন ওরফে লেখিকা। যাঁর বৌদ্ধিক আচরণ, নান্দনিক কর্মকাণ্ড আর মানবদরদি সংগ্রাম আমাদেরকে ভীষণভাবেই উদ্বুদ্ধ করে। জীবনের আইডল হিসেবে তাঁকে অনায়াসেই প্রতিষ্ঠা দেওয়া যায়।

যদিও আজকের ভোগবাদী বা পণ্যবাদী দুনিয়ায় ত্যাগ-আদর্শ-ন্যায়নীতির কোনও আপাত-মূল্য নেই বলেই অনেকের ধারণা। এই ‘অনেক’-কে অবশ্য দোষ দেওয়া যায় না। কারণ তাদের সামনে আজ আর তেমন কোনও আদর্শ নেই। লেখিকার কথার, ‘রাষ্ট্রব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে বিস্তৃত অন্ধকারাচ্ছন্নতা, দেশোন্নয়নের দায়ভার বহন করে চলা নেতা-নেত্রীদের দেশ-ঘাতী ধ্যান-ধারণা’ আমাদেরকে কমবেশি প্রভাবিত করে তো বটেই। আমাদের অসহায়তা কিংবা বিপণ্নতা, আমাদের সরল বিশ্বাস তাদেরকে ওইকাজে ইন্ধন যোগায় নিশ্চিত।

রাইমন চরিত্রের মধ্য দিয়ে এমন অকপটে ‘কাহিনির মতো, কাহিনি নয়’-তে বর্ষীয়ান লেখিকা অধ্যাপিকা ড. মীরাতুন নাহার সমাজের যে দগদগে ঘা-এর চিত্র তুলে ধরেছেন তা কোনওভাবেই অস্বীকার করা যায় কি? আমাদের বোধ ও বোধি, আমাদের মন ও মনন, আমাদের দেখা ও দেখানোর মধ্যে যে বিস্তর ফাঁকফোকর আর গরমিল তা স্পষ্ট হয় অমৃত-বিষের মন্থনে। মুখ ও মুখোশের ফারাক স্পষ্ট হয়। অস্বীকার করে লাভ নেই, কপটতাকে আষ্টেপৃষ্ঠে আঁকড়ে আছি অনেকেই; কিন্তু তা আড়াল করতে ব্যস্ত সবাই।

আজকের (অপ)রাজনীতি যে শুধু ‘ক্ষমতা দখলের দর্শন’— তা বার বার প্রমাণ করছেন এদেশের ডান-বাম সব পক্ষই। যে ক্ষমতা দখলের পিছনে আছে শুধুই দলীয় শ্রীবৃদ্ধির উগ্রচিত্র। নেই মানবকল্যাণের ছিটেফোঁটাও। ঝান্ডা নির্বিশেষে দলীয় রাজনীতির এই নোংরা ও উলঙ্গ চেহারা দেখে যারপরনাই বীতশ্রদ্ধ রাইমন। তাই বাম-ডান উভয় দলের সরকারের দেওয়া অত্যন্ত লোভনীয় পদ গ্রহণে তাঁর বিন্দুমাত্র স্পৃহা নেই। হেলায় ছেড়ে দিতে পারেন তা— যা পাওয়ার জন্য লালায়িত এ রাজ্যের ‘বিশিষ্টজন’-দের অনেকেই।

Advertisement

আত্মজৈবনিক গ্রন্থ আমাদের কমবেশি অনেকেরই হয়তো-বা পড়া। সে মহাত্মা গান্ধী থেকে বাংলাদেশের বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। ব্যক্তিজীবনের অনেক গোপন কথাই তাঁরা বিশদে বর্ণনা করেছেন তাঁদের বহুচর্চিত গ্রন্থে। কিন্তু ‘অমৃতে-বিষে’-র রাইমন চরিত্রের মধ্যে দিয়ে এমন মার্জিত, নান্দনিক ও দৃঢ়তার সঙ্গে উচ্চারণ করা— অত্যন্ত সাহসিকতার কাজ এ বিষয়ে সন্দেহের কোনও অবকাশই নেই। স্বনামধন্যা শিক্ষাবিদ ও লেখিকা ড. মীরাতুন নাহার এই কাজটি অত্যন্ত সহজ ও সাবলীলভাবে সম্পন্ন করেছেন।

স্কুলজীবন থেকে অধ্যাপনাজীবন— এই দীর্ঘজীবনে নানা অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ বা ঝড়-ঝাপটা সইতে হয়েছে সংখ্যালঘু পরিবারে জন্ম নেওয়ার ‘অপরাধ’-এ। ভারতের মতো ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ দেশেও এসব ঘটনা আকছারই আমাদের চোখে পড়ে, যা অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক। স্বীকার করুন আর নাই করুন, এই অন্তর্গত যন্ত্রণা নিয়েই চলতে হয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অনেককে। মানুষের ‘প্রথাগত ধর্ম’-ই যখন মানুষের মধ্যে বিভেদ-বিদ্বেষ ঘটায়, তখন সেই ‘ধর্ম’ থেকে দূরত্ব রেখে চলাটাই বোধহয় সমীচীন। কিন্তু তা পারছি কোথায়?

‘আত্মসংযম ও আত্মজ্ঞানই ধর্মের প্রধান দিক ও সার অংশ। যদি আত্মসংযম করতে পারা যায় তবেই আত্মজ্ঞান লাভ সম্ভব হয়…।’ স্বামী অভেদানন্দের এই চূড়ান্ত আত্ম-উপলব্ধিকে মান্যতা দিলে ধর্মীয় বিভেদ-বিদ্বেষের প্রশ্ন ওঠে কোথায়? মুখে আমরা অনেক তত্বজ্ঞানের কথা আওড়ালেও আমাদের মনের মধ্যে জমানো কালিমা-কলুষতা দূর করতে আগ্রহী নই। বর্ষীয়ান প্রাজ্ঞ লেখিকা ড. মীরাতুন নাহার আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখান আমাদের ভিতর ও বাইরে দ্বিচারী মানসিকতা। কীভাবে এখনও ‘জাতের নামে বজ্জাতি’ চলছে।

অপরাজেয় কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় একবার আক্ষেপ করে বলেছিলেন, ‘মানুষের মরণ আমাকে বড় আঘাত করে না, করে মনুষ্যত্বের মরণ দেখিলে…।’ আমাদের চারদিকে এখন ‘মনুষ্যত্বের মরণ’। যা আঘাত করে, যন্ত্রণা দেয় জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে যেকোনও অনুভবী মানুষকেই। আঘাত করে ড. মীরাতুন নাহারের মতো মনুষ্যত্ব ও মানবিকতায় ভরপুর একজন প্রাজ্ঞ মানুষকে। এটা আমাদের শিক্ষা-সংস্কৃতি-সভ্যতার নির্বিকল্প লজ্জা। শুধু প্রথাগত সমাজ-সংস্কৃতির দোহাই দিয়ে মানুষকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার জঘন্যতম লজ্জা।

আলোচ্য গ্রন্থে মুদ্রণ-প্রমাদ নেই বললেই চলে। তবে কিছু জায়গায় রাইমন থেকে হঠাৎই ‘আমি’-তে চলে এসেছেন লেখিকা। বলাবাহুল্য, তিনটি জায়গায় এটা চোখে পড়েছে। যা এড়ানো গেলে ভাল হত নিশ্চিত। যেমন এক জায়গায় (৫৪ পৃষ্ঠায়) ‘…আমি নামছি। সাহায্যে এগিয়ে এলেন অন্য যাত্রী কয়েকজন। আমার সহযাত্রীটি তখন দূরে দাঁড়িয়ে। হয়তো কিছু অভিযোগ শোনার অনিচ্ছায়…।’ এরপরই অবশ্য তিনি ফিরেও গেছেন রাইমনের কথায়, ‘রাই আজ পর্যন্ত তাকে কিছু বলেনি এমন সব কাণ্ড ঘটানোর পরও…।’

এছাড়া তেমন কোনও ত্রুটি-বিচ্যুতি একেবারেই চোখে পড়েনি। আলোচ্য গ্রন্থে ব্যবহৃত হরফের সাইজ, চারদিকের ছাড়, সুন্দর কাগজে ঝকঝকে ছাপা ও বাঁধাই বেশ ভাল। যা হাতেগোনা দু’-একটি বাংলা প্রকাশনা ব্যতীত চোখে পড়ে না। তবে বইয়ের নামের লেটারিং এবং শাওনী শবনম-কৃত প্রচ্ছদ-চিত্রটি আরও একটু বাঙ্ময় হলে মনে হয় ভাল হত। শৈল্পিক চেতনার সঙ্গে দৃশ্যনন্দন বিষয়টাও গভীরভাবে সম্পৃক্ত যে। আসলে ডিজিটাল-যুগে বর্ণময় (অর্থবহও) চিত্রের সঙ্গে অভ্যস্ত চোখে একটু বেমানান লাগে হয়তো-বা।

আলোচনার ইতি টানা যাক রবীন্দ্রনাথের কথা দিয়ে (যাঁকে ছাড়া আমরা একেবারেই অচল)— ‘মনেরে তাই কহ যে,/ভালো মন্দ যাহাই আসুক, সত্যেরে লও সহজে।’ ‘অমৃতে-বিষে’-র কেন্দ্রীয় চরিত্র রাইমন নিজের জীবনে এই ‘সত্যেরে’ সহজে নিয়েছেন। এজন্য তাঁকে পদে পদে হেনস্থা ও হয়রানি কম সইতে হয়নি; কিন্তু কোনও অবস্থাতেই তিনি নিজের দৃঢ় অবস্থান থেকে কিছুমাত্র বিচ্যুত হননি। এখানেই তাঁর চারিত্রিক দৃঢতার অনন্য পরিচয়। আর এখান থেকেই আমাদের শিক্ষা নেওয়ার প্রকৃত পাঠ পাই। সেই পাঠে মনুষ্যজীবন আলোকিত হয়।

অমৃতে-বিষে ।। মীরাতুন নাহার ।। জিজ্ঞাসা ।। মূল্য: ১৭৫ টাকা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two + 3 =

Recent Posts

মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

বুদ্ধ: অন্ধকারে আলোর দিশারী

তিনি বলেন গেছেন, হিংসা দিয়ে হিংসাকে জয় করা যায় না, তাকে জয় করতে প্রেম ও ভালবাসা দিয়ে। মৈত্রী ও করুণা— এই দুটি ছিল তাঁর আয়ুধ, মানুষের প্রতি ভালবাসার, সহযোগিতার, বিশ্বপ্রেমের। তাই তো তাঁর অহিংসার আহ্বান ছড়িয়ে পড়েছিল দেশ ছাড়িয়ে বিদেশে,— চীন, জাপান, মায়ানমার, তিব্বত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটানে। এই বাংলায় যে পালযুগ, তা চিহ্নিত হয়ে আছে বৌদ্ধযুগ-রূপে। সুদীর্ঘ পাঁচ শতাব্দী ধরে সমগ্র বাংলা বুদ্ধ-অনুশাসিত ছিল। বাংলা ভাষার আদি নিদর্শন ‘চর্যাপদ’ বৌদ্ধ কবিদের দ্বারাই রচিত হয়েছে।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

স্যার রোনাল্ড রস, ম্যালেরিয়া ও অন্যান্য

রোনাল্ড রসকে তাঁর গবেষণার সহায়তাকারী এক বিস্মৃত বাঙালি বিজ্ঞানীর নাম কিশোরীমোহন বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৭৭-১৯২৯)। তাঁর অবদান কিন্তু খুব কম নয়। তিনি ছিলেন রস-এর অধীনে সহ-গবেষক। রস নোবেল পেলে উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারীর নেতৃত্বে আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু, আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়, শিবনাথ শাস্ত্রী, আচার্য ব্রজেন্দ্রনাথ শীল, রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ কিশোরীনাথের ভূমিকার বিষয়টি বড়লাট লর্ড কার্জনকে জানান। কার্জন এ-বিষয়টি ব্রিটিশ সরকারের গোচরে আনেন। এর ফলে ১৯০৩ সালে যখন দিল্লিতে দরবার বসে, তখন ডিউক অফ কনট-এর মাধ্যমে কিশোরীনাথকে ব্রিটিশরাজ সপ্তম এড‌ওয়ার্ড-এর তরফ থেকে স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়। পরে কলকাতা
র সেনেট হলে তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল। সভাপতি ছিলেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ।

Read More »
গৌতম চক্রবর্তী

দুই হুজুরের গপ্পো

১৯৩০ সালের ১৪ জুলাই, আলবার্ট আইনস্টাইন বার্লিনের উপকণ্ঠে নিজের বাড়িতে স্বাগত জানান ভারতীয় কবি, দার্শনিক ও সঙ্গীতজ্ঞ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে। তিনি ছিলেন প্রথম অ-ইউরোপীয় নোবেল বিজয়ী। তাঁদের এই সাক্ষাৎকারটি ইতিহাসের অন্যতম বুদ্ধিদীপ্ত ও মননশীল আলাপচারিতায় পরিণত হয়, যেখানে তাঁরা বিজ্ঞান ও ধর্মের চিরন্তন দ্বন্দ্ব নিয়ে আলোচনা করেন। “সায়েন্স অ্যান্ড দ্য ইন্ডিয়ান ট্রাডিশন: হোয়েন আইনস্টাইন মেট টেগোর” গ্রন্থে এই ঐতিহাসিক সাক্ষাতের বিবরণ পাওয়া যায়। এই বইতে বিশ শতকের শুরুতে ভারতের বৌদ্ধিক পুনর্জাগরণ এবং ভারতীয় ঐতিহ্য ও পাশ্চাত্য বৈজ্ঞানিক চিন্তার মেলবন্ধন তুলে ধরা হয়েছে।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

শতবর্ষী বাঙালি

বাঙালিদের মধ্যেও শতায়ু লোক নেহাত কম নেই। একটা কথা মনে রাখা জরুরি, বিখ্যাত ব্যক্তি ছাড়া সাধারণ মানুষের আয়ু নিয়ে বিশেষ কোনও গবেষণা থাকে না। আবার একটু বেশি বয়স্ক মানুষকে শতায়ু বলে চালিয়ে দেওয়ার রেওয়াজ-ও রয়েছে। তবে শতবর্ষের আয়ুলাভ যে মানুষের কাঙ্ক্ষিত, তা উপনিষদের‌ একটি বাক্যে সুন্দরভাবে ধরা পড়েছে— ‘জীবেম শরদঃ শতম্’, অর্থাৎ শতবর্ষ বাঁচতে ইচ্ছে করবে। কেবল অলস জীবন নিয়ে বাঁচবার ইচ্ছে করলেই হবে না, কর্ম করে বাঁচার কথাও বলা হয়েছে সেখানে— ‘কুর্বেন্নেবেহ কর্মাণি জিজীবিষেচ্ছতম্ সমাঃ’।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

আশা ভোসলে ও তাঁর বাংলা গান

সুদীর্ঘ আট দশক ধরে তিনি তাঁর সঙ্গীতের সুধায় ভরিয়ে দিয়েছেন কেবল ভারত বা এই উপমহাদেশকেই নয়, বিশ্বকে। পরিণত বয়সেই মৃত্যু হয়েছে তাঁর, যেমন কয়েক বছর আগে হয়েছিল তাঁর স্বনামখ্যাত অগ্রজা লতা মঙ্গেশকরের। আশা ভোসলে তাঁর সমগ্র জীবনে বারো হাজার গান গেয়ে গিনেস বুকে স্থান পেয়েছেন। একদিকে ধ্রুপদী সঙ্গীত, অন্যদিকে লঘু, পপ, এমনকী চটুল গানেও তাঁর সমকক্ষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। সমসাময়িক কিংবদন্তি শিল্পীদের মধ্যে এজন্য অনায়াসে স্থান করে নিয়েছিলেন তিনি।

Read More »
গৌতম চক্রবর্তী

স্প্যানিশ ছোটগল্প: পুতুল রানি

সত্যিকারের আমিলামিয়া আবার আমার স্মৃতিতে ফিরে এসেছে, আর আমি আবার— সম্পূর্ণ সুখী না হলেও সুস্থ বোধ করছি: পার্ক, জীবন্ত সেই শিশুটি, আমার কৈশোরের পঠনকাল— সব মিলিয়ে এক অসুস্থ উপাসনার প্রেতচ্ছায়ার ওপর জয়লাভ করেছে। জীবনের ছবিটাই বেশি শক্তিশালী। আমি নিজেকে বলি, আমি চিরকাল আমার সত্যিকারের আমিলামিয়ার সঙ্গেই বাঁচব, যে মৃত্যুর বিকৃত অনুকরণের ওপর জয়ী হয়েছে। একদিন সাহস করে আবার সেই খাতাটার দিকে তাকাই— গ্রাফ কাগজের খাতা, যেখানে আমি সেই ভুয়ো মূল্যায়নের তথ্য লিখে রেখেছিলাম। আর তার পাতার ভেতর থেকে আবার পড়ে যায় আমিলামিয়ার কার্ডটি— তার ভয়ানক শিশুসুলভ আঁকাবাঁকা লেখা আর পার্ক থেকে তার বাড়ি পর্যন্ত যাওয়ার মানচিত্র। আমি সেটা তুলে নিয়ে হাসি।

Read More »