Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

ডেকামেরন: প্রথম দিনের প্রথম গল্প

জোভান্নি বোক্কাচ্চো

অনুবাদ: দিবাকর পুরকায়স্থ

মাসিয়েত্ত ফ্রাঁজেসি ফ্রান্সের একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি ব্যাঙ্কিং ব্যবসায়েও হাত লাগিয়েছিলেন। একবার তিনি তৎকালীন রাজার ভাই মঁসিয়ে চার্লস লেকল্যান্ডের সাথে টাসকানি নগরে যেতে প্রস্তুত হলেন। কিন্তু তার ব্যবসা এত ছড়ানো ছিল যে একা হাতে সামলানো যাচ্ছিল না। এই অবস্থায় কোথাও যাওয়া অসুবিধাজনক। তাই তিনি বিভিন্ন কাজের জন্য আলাদা আলাদা লোক নিয়োগ করলেন। কিন্তু ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে আদায়ের জন্য একজন বিশেষ লোকের দরকার পড়ল, বিশেষত বারগুন্ডি নামে এক জায়গায়, যেখানে তিনি অনেক ঋণ দিয়েছিলেন কিন্তু ওখান থেকে আদায় আসছিল না। বারগুন্ডির লোকগুলো মোটেই বিশ্বস্ত নয় উপরন্তু ঝগড়ুটে এবং মামলাবাজ। মাসিয়েত্ত ফ্রাঁজেসি অনেক চিন্তাভাবনা করলেন। এমন একজন লোক নিয়োগ করা প্রয়োজন যে শক্ত হাতে এই ঋণ আদায় করবে।

ওর হঠাৎ মনে পড়ল এক উকিলের কথা। মাস্টার চাপারেল্লো নামে ওই উকিল ওর প্যারির বাসায় মাঝে মাঝে আসতেন। তার নাম চাপারেল্লো, তার অর্থ ‘মালা’ এবং অনেকে তার নাম বদলে চিয়াপেলেট্টো করে দিয়েছিল এবং খুব কম লোকই জানত যে তার আসল নাম মাস্টার চাপারেল্লো।

আমরা এখন অন্য সবার মত ওকে চিয়াপেলেট্টো বলে উল্লেখ করব।

এই উকিল চিয়াপেলেট্টো সম্পর্কে কিছু পূর্ব কথা এখানে বলে নেয়া আবশ্যক, তাতে তার সম্বন্ধে পাঠকদের সম্যক ধারণা হবে।

চিয়াপেলেট্টো ক’টা মামলা সৎভাবে শুদ্ধ কাগজপত্র দিয়ে জিতেছেন তার চিন্তা করলে তিনি নিজেই লজ্জা পাবেন। কারণ সারা জীবন মিথ্যা এবং জালিয়াতি করে কাগজপত্র তৈরি করে মামলা জেতা ওনার বাঁহাতের খেলা ছিল। তিনি মিথ্যা সাক্ষ্য দিতেও পারঙ্গম। তাছাড়া তিনি ঘোর নাস্তিক এবং কোনও ঈশ্বরে বিশ্বাস করতেন না। তাই আদালতে দাঁড়িয়ে বাইবেল ছুঁয়ে শপথ গ্রহণ করেও অবিরাম মিথ্যা সাক্ষ্য দিতেন।

চিয়াপেলেট্টোর মহিলা আসক্তি ছিল চরম এবং কুকুর যেরকম বংশদণ্ড তারিয়ে তারিয়ে চিবিয়ে আনন্দ লাভ করে, মহিলাদের ওপর তিনি তদ্রূপ ব্যবহার করতে অভ্যস্ত ছিলেন। মামলা চলাকালে প্রতিপক্ষের তরফে যারা সাক্ষ্য দিতে প্রস্তুত হত, তাদেরকে নিশাকালে তিনি নিজে প্রচণ্ড প্রহার করতেন এবং কোনও কোনও ক্ষেত্রে এই প্রহারে দু-একজনের ভবলীলা সাঙ্গ হয়েছিল শোনা যায় কিন্তু প্রমাণাভাবে ওর বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি।

ওর জুয়া খেলা এবং মদ্যপানে আসক্তি কোনও অংশে কম ছিল না এবং অতিরিক্ত মদ্যপান করে তিনি দু-একবার নানা কেলোতে জড়িয়ে পড়েন কিন্তু অপরিসীম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে পার পেয়ে যান।

এরূপ একজন গুণবান লোককে ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের জন্য নিযুক্ত করতে পেরে মাসিয়েত্ত ফ্রাঁজেসি খুব খুশি হলেন এবং দুজনের মধ্যে একটা দলিল তৈরি করলেন যে, যা কিছু আদায় হবে তার একটা ভাল অংশ চিয়াপেলেট্টো পাবেন।

এই ব্যবস্থা করে মাসিয়েত্ত ফ্রাঁজেসি মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে টাসকানি যাত্রা করলেন। এদিকে চিয়াপেলেট্টো মহা আনন্দে বারগুন্ডি চলে গেলেন। বারগুন্ডিতে এসে তিনি বীরবিক্রমে খাতকদের থেকে টাকা আদায় করতে লাগলেন। এভাবে কয়েকমাস কেটে গেল।

কথায় বলে, রতনে রতন চেনে। চিয়াপেলেট্টো বারগুন্ডিতে তেজারতি কারবার করে কুখ্যাত কাবুলিওয়ালা-সদৃশ দুই ভাইয়ের বাড়িতে থাকছিলেন। এখানে অতিরিক্ত পরিশ্রমে তিনি হঠাৎ ভীষণ অসুস্থ হয়ে শয্যা নিলেন। দুই ভাই প্রথমে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র করল, ঔষধপথ্যও চলতে লাগল কিন্তু যখন সাতদিন পার হয়ে গেল আর চিয়াপেলেট্টোর রোগের কোনও উন্নতির চিহ্ন দেখা গেল না তখন দুই ভাই চিন্তিত হল। একসময় দুজনে রোগী যেন শুনতে না পায় এরকম করে জনান্তিকে আলোচনা করতে লাগল।

এক ভাই বলল, ‘একে নিয়ে কী করি? এখন আশ্রিতকে যদি বাইরে ফেলে দিই তবে পাড়ায় আমাদের বদনাম হবে।’

আর-একজন বলল, ‘না না, কক্ষনো নয়। আমাদের বিরোধী গোষ্ঠী জানতে পারলে আমাদের ঘর আক্রমণ করে আমাদের সম্পত্তি লুট করতে পারে। কিন্তু এভাবে একে ক’দিন পালতে থাকব?’

চিয়াপেলেট্টোর কান কুকুরের থেকে পাতলা। ও ঘর থেকে দুই ভাইয়ের কথাবার্তা হয় শুনতে পেলেন।

তিনি ভাইদের ডেকে বললেন, ‘তোমাদের সব কথা আমি শুনতে পেয়েছি। তোমাদের কোনও ভয় নেই। আমি তোমাদের ক্ষতি করব না। তোমরা একজন পাদ্রীকে ডেকে আনো। আমি যাজকের সামনে পাপ স্বীকার করে ক্ষমা চাইব।

এরকম দুষ্টের এরূপ মানসিক বদলের কথা শুনে দুই ভাই যারপরনাই চমৎকৃত হল। কিন্তু কথামত ওরা শহরের গির্জা থেকে একজন বিশিষ্ট যাজককে ডেকে আনল।

ধর্মগুরু এসে চিয়াপেলেট্টোর শারীরিক অবস্থা খুব একটা আশাপ্রদ দেখলেন না। তিনি প্রথামত রোগীকে জিগ্যেস করলেন, ‘আপনি প্রভুর নিকট প্রার্থনা কতদিন পর পর করেন?’

যদিও চিয়াপেলেট্টো জীবনে কোনওদিন প্রার্থনা করা তো দূরের কথা এসবে বিশ্বাস অব্দি করেন না, কিন্তু এখন তিনি অম্লানবদনে বললেন, ‘প্রার্থনা তো রোজ দুবেলা করি, শুধু গত আটদিন অসুস্থ হয়ে পড়ে একদিনও প্রভুর শরণ নিতে পারিনি। এর জন্য কি করুণাময় প্রভু আমাকে ক্ষমা করবেন?’

ধর্মগুরু খুব খুশি হয়ে বললেন, ‘ঈশ্বর আপনার মত লোকের মঙ্গল করবেন। এখন আপনার কী কী পাপের কথা স্বীকার করবেন বলুন?’

চিয়াপেলেট্টো বললেন, ‘হে মহাত্মন! আমি ঠিকভাবে হয়তো বলতে পারব না। আপনি বরং প্রশ্ন করুন, আমি জবাবের মাধ্যমে আমার পাপ স্বীকার করব।’

যাজক বললেন, ‘সেই ভাল। আচ্ছা প্রথমে বলুন, আপনি কোনও নারীর প্রতি কখনও আসক্ত হয়েছেন?’

দুষ্টর নারীর ওপর আসক্তির কথা সর্বজনবিদিত। কিন্তু তিনি তা অস্বীকার করে বললেন, ‘হে গুরুদেব! প্রভু সাক্ষী, আমি এক নারীকেই জানি। তিনি আমার মা। আমি তার জঠর থেকে বেরোনোর সময় যে কৌমার্য নিয়ে বেরিয়েছিলাম এখনও তাই আছি। আমি বিয়ে করিনি।’

যাজক যারপরনাই তুষ্ট হয়ে বললেন, ‘আপনি সত্যিই এক মহাত্মা। ঈশ্বর আপনার মঙ্গল করবেন। এখন বলুন তো, আপনি কখনও খাবারের ওপর লোভ করেছেন কখনও রাক্ষসোচিত আচরণ করেছেন?’

চিয়াপেলেট্টো প্রায় কেঁদে ফেললেন। বললেন, ‘হে মহান! আমি সত্যিই এই পাপে পাপী। আমি দিনে একটুকরো রুটি খাই আর জল খাই। কখনও মদ্যপরা যেরকম লোভ করে প্রয়োজনের অতিরিক্ত মদ খেয়ে নেয়, আমিও সেরূপ প্রয়োজনের অতিরিক্ত জল খেয়ে নিয়েছি। আর ওই গ্রামের মহিলারা যখন বিকেলে সালাড তৈরি করার শাক নিয়ে ঘরে যায় আমার বাড়ির সামনে দিয়ে, আমি লোভীর দৃষ্টিতে ওই শাকসবজির দিকে তাকিয়েছি।’

‘এসব কোনও পাপের পর্যায়ে পড়ে না। এসব ছোট ভুল সবাই করে। ঈশ্বর আপনার মঙ্গল করবেন। এখন বলুন তো দেখি, একজন উকিল হয়ে কখনও মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন?’ যাজক প্রশ্ন করেন।

যদিও মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়ে মামলা জেতা ওর অতিপরিচিত পন্থা ছিল কিন্তু দুষ্ট চিয়াপেলেট্টো তার ধারেকাছে গেলেন না। উনি বলতে লাগলেন, ‘হে মহাত্মা! আমি একবার শুধু মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়ে ঘোর পাপে নিমজ্জিত হয়েছি। আমার প্রতিবেশী একবার মদ্যপান করে ওর পত্নীকে ভীষণ মারধর করছিল। এই দেখে আমি ওই মহিলাটির ওপর দয়াপরবশ হয়ে ওর পিতাকে মিথ্যা বলি যে, লোকটি ওর স্ত্রীকে রোজ প্রচণ্ড প্রহার করে। ওই মহিলাকে রক্ষা করার জন্য মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়ে পাপ করেছি আমি।’

‘এটা কোনও পাপ নয়। অন্যকে রক্ষার জন্য অনেকে এরূপ করে। আপনি মহান আত্মা। এবার বলুন তো, উকিল হিসাবে আপনি যা উপার্জন করেছেন তার সদর্থক খরচ কীভাবে করেছেন?’

অগাধ অর্থ যদিও মদ, জুয়া আর নারীর পেছনে খরচ করে আসছেন সারা জীবন তথাপি চিয়াপেলেট্টো অম্লানবদনে বললেন, ‘আমি যেটুকু উপার্জন করেছি তার অর্ধেক সর্বদা গরিব-দুঃখীদের এবং গির্জাতে দান করেছি আর বাকি অর্ধেক দিয়ে কায়ক্লেশে দিন গুজরান করেছি।’

ধর্মযাজক বললেন, ‘আপনি উকিল হিসাবে কার্যকালে কখনও উৎকোচ গ্রহণ করেছেন কি?’

ছলছল চোখে পাপিষ্ঠ বললেন, ‘ঈশ্বর সাক্ষী, একবার এক মোয়াক্কেল আমাকে অর্থ দিলে আমি না গুনে বাক্সে রেখে দিই। পরদিন দেখি ওখানে আমার প্রাপ্য টাকা থেকে চার টাকা বেশি। আমি লোকটির জন্য এক বৎসর অপেক্ষা করি এবং পরে ওই চার টাকা গির্জায় দান করি।’

‘সাধু সাধু! আপনি সত্যই মহান। আর কিছু কি আপনার বলার আছে?’ ধর্মগুরু অভিভূত।

‘আমি বহু পাপে পাপী প্রভু। আমি একদিন ভুলক্রমে গির্জার মাটিতে থুথু ফেলেছি। এ পাপ থেকে আমার কি মুক্তি হবে?’ দুষ্ট চিয়াপেলেট্টোর চোখে জল।

‘এসব কি পাপ? আমরা গুরু-পুরোহিতরা অনেক সময় গির্জার মাটিতে থুতু ফেলি। এসব ছোট পাপ।’ গুরু সান্ত্বনা দিতে লাগলেন আর দুষ্ট পাপী হঠাৎ হু হু করে কেঁদে ফেললেন।

‘আমার মুক্তি নেই প্রভু। আমি ছোটবেলায় আমার জন্মদাত্রী মাকে একবার গালি দিয়েছিলাম। এ যে বড় পাপ। আমার কী হবে প্রভু?’

যাজক দেখলেন না যে পাপিষ্ঠর এক চোখে জল অন্য চোখে হাসি। উনি বললেন, ‘আপনি সত্যিই মহান আত্মা। বালকের কোনও অপরাধ ঈশ্বরের দরবারে অপরাধ বলে গণ্য হয় না। কিন্তু আপনার শরীরের যে অবস্থা দেখছি তাতে এখানে যদি আপনার ভালমন্দ কিছু হয়ে যায় তবে আপনাকে যদি আমরা গির্জার মাটিতে সমাধিস্থ করি তবে আপনার মতামত কী?’

‘আমি তো সর্বদা গির্জার মাটিতে সমাধিস্থ হতে চেয়েছিলাম। পরম করুণাময় প্রভুর কাছে থাকার চেয়ে ভাল আর কী আছে?’

‘তবে তাই হবে।’ বলে ধর্মযাজক বিদায় নিলেন। আর সত্যি সত্যি দুষ্ট চিয়াপেলেট্টোর ভবলীলা ক’দিন পরই বারগুন্ডিতে সাঙ্গ হল। স্থানীয় গির্জার কর্তাব্যক্তিরা প্রবল জয়ধ্বনি সহ সভা করে বলেন যে, এরূপ মহান সাধুপুরুষ এতদঞ্চলে কখনও পাওয়া যায়নি এবং মহাসমারোহে চিয়াপেলেট্টোকে গির্জার ভেতরে সমাধিস্থ করা হয়। তদুপরি লোকজনের অনুরোধে চিয়াপেলেট্টোকে ‘সাধু চিয়াপেলেট্টো’ রূপে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য ইতালিতে মহামান্য পোপের নিকট আবেদন করা হল। এইরূপে এক দুষ্ট নিজ দুষ্টবুদ্ধি দ্বারা মৃত্যুর পর সমাজে এক মহাত্মারূপে পরিগণিত হল।

চিত্রণ: চিন্ময় মুখোপাধ্যায়

***

লেখক পরিচিতি

জোভান্নি বোক্কাচ্চো (জন্ম: শ্রটালদো অথবা ফ্লোরেন্স জুন/জুলাই ১৩১৩– মৃত্যু: শ্রটালদো, ২১ ডিসেম্বর ১৩৭৫) একজন বিখ্যাত ইতালীয় লেখক এবং কবি। বোক্কাচ্চো ছিলেন ১৪০০ শতকের সফলতম ইতালীয় এবং ইউরোপীয় ঔপন্যাসিকদের একজন। তাঁর লেখা ডেকামেরন যা বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। এই বইতে দশ জন‌ ব্যক্তি রানিকে প্রতিদিন একটি করে গল্প; মোট দশদিন ধরে শোনায়। ১০x১০, মোট একশটি ছোটগল্প নিয়ে এই ডেকামেরন লেখা হয়েছে। এই গল্পগুলোতে তখনকার ইউরোপীয় সমাজ, অর্থনীতি, বিচারব্যবস্থা সব কিছু প্রতিফলিত হয়েছে। বোক্কাচ্চোর কাজের প্রভাব শুধুমাত্র ইতালির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না বরং ইউরোপের বাকি অংশে প্রসারিত হয়েছিল, ইংরেজি সাহিত্যের একজন প্রধান ব্যক্তিত্ব জেফ্রি চসারের মত লেখকদের ওপর প্রভাব ফেলেছিল। কিছু পণ্ডিতের বিবেচনায় তিনি তাঁর সময়ের সর্বশ্রেষ্ঠ ইউরোপীয় গদ্যকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

five × 4 =

Recent Posts

মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

নারায়ণগঞ্জের দুর্গাপুজো

বাংলাদেশের নানা জেলার‌ রামকৃষ্ণ মিশনে ঘোরার অভিজ্ঞতায় দেখেছি, সব জায়গাতেই আচারপরায়ণ মহারাজ ও ব্রহ্মচারীদের সুমধুর ব্যবহার। এখানে এসেই যখন এখানকার অধ্যক্ষ মহারাজ স্বামী একনাথানন্দজির সঙ্গে আলাপ হল, মুহূর্তের মধ্যেই তিনি অন্তরঙ্গ হয়ে উঠলেন। আমাকে পূজামণ্ডপে নিয়ে তাঁর কাছে বসালেন। ষষ্ঠীর রাতে নববস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠান‌ ছিল। আমাকে দিয়েও বস্ত্রদান করালেন। এই যে আচরণ, এতে করে আমি যে কী পরিমাণ সম্মানিত বোধ করলাম, তা বলার‌ নয়। কেবল‌ তাই নয়, সমবেত দর্শক-শ্রোতার সামনে আমাকে কিছু বলার আমন্ত্রণ-ও জানালেন। আমাকে আপ্লুত করল তাঁর এই আহ্বান।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

দুর্গাপূজা ও প্রসঙ্গত

এতদিন ধরে অন্য কোনও দেবদেবীর পুজো কোথাও হয় না। দুর্গাপুজোর এটি একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য। আরও একটি বৈশিষ্ট্য, এই পুজো উপলক্ষে কত যে পত্রপত্রিকা বেরোয়, তার কোনও সীমা নেই। কলকাতা যেহেতু এ-পুজোর প্রাণকেন্দ্র, স্বভাবতই এখান থেকে সবচেয়ে বেশি পুজোসংখ্যা পত্রিকা বেরোয়। প্রতিটি দৈনিক পত্রিকা বিরাট আকারে পুজোর অর্ঘ্য সাজায়। প্রসঙ্গত, সত্যজিৎ রায় তাঁর যে দু’টি ভিন্নধারার লেখার মাধ্যমে দীর্ঘ পঞ্চাশ বছরের ওপর জনপ্রিয়তার শীর্ষে, তা কিন্তু এই পুজোর ‘দেশ’ আর’ আনন্দমেলা’-র সূত্রেই।

Read More »
পবিত্র সরকার

পবিত্র সরকারের বিশেষ রচনা

বাংলাদেশের প্রগতিশীল মানুষদের রবীন্দ্রনাথ সম্বন্ধে একটু বেশি দুর্বলতা আছে। রবীন্দ্রনাথ আমাদের কাছে যত কিছু, তাঁদের কাছেও তত কিছু তো বটেই, কিন্তু তারও চেয়ে অনেকটা বেশি। তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একজন সেনাপতি। বাহান্নর ভাষা-আন্দোলনের সময় থেকে, আয়ুব শাহি ফরমানে রেডিয়োতে রবীন্দ্রসঙ্গীত নিষেধ আর রবীন্দ্র-শতবার্ষিকীর ওপর ফতোয়া জারি থেকে রবীন্দ্রনাথ বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের এক মহাশক্তিধর যোদ্ধা, তাঁর সম্বন্ধে এঁরা তাই এত স্পর্শকাতর।

Read More »
মীরাতুন নাহার

মীরাতুন নাহারের প্রবন্ধ

হিন্দু-সাম্প্রদায়িকতা এবং মুসলমান-সাম্প্রদায়িকতা উভয়কেই তিনি যুক্তি ও তথ্যদ্বারা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ধ্বংসাত্মক বলে বোঝাতে চেয়েছেন দেশবাসীকে। কিন্তু ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শের দ্বারা অনুপ্রাণিত দেশবাসীকে তিনি হিন্দুত্ববাদী সাম্প্রদায়িকতার বিপদ সম্পর্কে অধিকতর সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন, যদিও তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল ‘সাম্প্রদায়িকতার বিষ’ দেশবাসীর মন থেকে নিষ্কাশন করে দেশকে বিপন্মুক্ত করা।

Read More »
গৌতম ঘোষ

গৌতম ঘোষের প্রবন্ধ

চলচ্চিত্রের ধর্ম হল সময়কে ধরে রাখা, সময়ের স্মৃতিমালাকে ধরে রাখা। সেই পদ্ধতি, সেই প্রক্রিয়া কিন্তু চলতেই থাকবে। এখন আমাদের আরও মানবিক হতে হবে। চলচ্চিত্র যারা তৈরি করবেন তারা শুধুমাত্র সস্তার বিনোদন সরিয়ে রেখে একটু মানবিক ছবি করবেন। যেখানে প্রকৃতি ও মানুষের সম্পর্ক, মানুষ ও সমাজের সম্পর্ক, মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক থাকবে। যা আমরা বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ক্লাসিক সব সিনেমায় দেখেছি, সেই ভাবনায় ভাবতে হবে।

Read More »
সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়

সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়ের বিশেষ নিবন্ধ

বস্তুত সুকান্ত কবিতার চাইতে বড়। তিনি এক প্রতীকচিহ্ন। সারা ভারতে যখন কবিকে ভাবা হয়েছে জনতার একজন প্রতিনিধি হিসেবে, তখন সুকান্তকেই ভাবা হয়েছে। তামিল বা হিন্দি সিনেমাতেও হয়েছে। যেমন রাজেশ খান্নার ‘অনুরোধ’ নামের ছবিটিতে যে কবিটি রাজেশের বন্ধু ছিলেন তার নাম সুকান্ত। অথবা অতদূরে কেন যাই, বাংলায় উত্তম-তনুজার ‘দেনা পাওনা’ ছবিতে উত্তম যে বন্ধুর চিকিৎসার জন্য কলকাতায় আসেন, তার নামও তো সুকান্ত। তিনিও তো ফুসফুসের রোগী।

Read More »