বাতাসের প্রাণ আছে
বাতাস ভারী হয়ে আসে হালকা হয়ে আসে
কখন
এটা কেউ আপনাকে বলে দেবে না
কিন্তু বাতাস এমন এক বস্তু যে ঘোরাফেরা করে
আমাদেরই ভেতর
আমাদের ইলেক্ট্রিসিটি বিল আর রেশনকার্ড সে চেক করে
আমাদের অস্বস্তির ওপর সে ছিটিয়ে দেয় সোশাল সিম্ফনি
আমরা টের পাইনে
শহিদের রক্তে আর মাসিকের রক্তে
হিমোগ্লোবিনের উপস্থিতির তফাৎ ঠিক কীরকম
এটা আজ অব্দি হাতেনাতে কেউ কি আপনাকে দেখিয়েছে
হ্যাঁ বাতাসের গতিবিধি নিয়ে আমাদের সতর্ক থাকা দরকার
কেন না খুব সহজে
বাতাস
আমাদের বাগান এলোমেলো করে দিতে পারে
আবার এও মনে রাখা দরকার
বাতাসের সৃষ্টি আমাদেরই ভেতর থেকে
বা ভেতরের ভেতর থেকে
*
আদিবাসী, এবং জাতীয়তাবাদী রাষ্ট্রের পবিত্র পতাকা
মনে করো
এক-সিঁড়ির এই জগতে
থৈ না পাওয়া এক জীব তুমি
মাথা নেই
লেজ অনেক লম্বা
জলের তলে
আলোর তলে
পুরাকালে ছিল নদী
মানুষ তো নদীরই সন্তান
অথবা তার বাম পায়ের আঁচড় থেকেই
তৈরি হয়েছে নদী
বেয়াড়া বাতাসে রাত্রিযাপন করে তারা
তাদের স্বপ্ন তাদের মতোই
জন্তুরা তাদের মতোই
জন্তু আর জলজন্তু
গাছের পাতার অন্ধকার
আর পাখি
আর পরাগরেণু
গাছের অসুখ
সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের
চিন্তাকে
ভালবাসাকে
শ্রদ্ধা করতে
শেখো
*
নারীর আগুনলাগা বন
আমি কোনওদিন তোমাকে বিশ্বাস করিনি
প্রতিবার
তোমার মাটির নগ্ন শরীর
দু’হাতে ছানি
আর ওটা পিছলে যায়
পিছলে যায়
বিশাল বনের ওপর ভাসতে ভাসতে
আমার নাগালের বাইরে
তবে আগুন লাগার পর
বন
নিচের দিকে খানিক তাকায়
এই যে প্রমাণ
ছাই
*
সহজ একটা উপায়
যে লোক তিন বেলা খেতে পায় না
তার পক্ষে টিস্যু পেপার কেনা হাস্যকর।
আবার এও তো সত্যি
যে টিস্যু পেপার অতি দরকারি জিনিস।
সহজ উপায় বাতলে দিচ্ছি:
যে কাগজগুলোতে ছবি থাকে
বিশুদ্ধ সব ছবি
যে কাগজগুলোতে কবিতা থাকে
বিশুদ্ধ সব কবিতা
সেগুলোকে নির্দ্বিধায় টিস্যু পেপার বানিয়ে ফেলো।
*
একজন বিখ্যাত কবির আত্মপ্রতিকৃতি
কে বোঝে
আমার কবিতা?
কে শোনে
আমার জখম প্রকরণচিড়?
কে দেখে
আমার আলোছায়ার ত্রাসিত পরিপ্রেক্ষিত?
কে জানে
আমার নাম?
আমার সত্যিকার নাম?
আমি জানি?
চিত্রণ: মনিকা সাহা





