Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

বিশেষ নিবন্ধ: সুমন্ত বন্দ্যোপাধ্যায়

কলকাতায় ‘পথের রাজা’ উইম ওয়েন্ডার্স

“সত্যজিৎ রায়ের সাথে আমার দেখা বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবে। তিনি তখন নামী পরিচালক, আমার সবে তিনটি ছবি হয়েছে। উনি একা দাঁড়িয়ে ছিলেন, আমি সাহস করে গিয়ে কথা বললাম। উনি আমার সঙ্গে খুবই খোলামেলা আলোচনা করলেন পনেরো মিনিটেরও বেশি সময় ধরে। ওই উৎসবে ওঁর ‘ডিসট্যান্ট থান্ডার’ (অশনি সংকেত) ছবিটি দেখানো হয়েছিল। আমি আরও আনন্দিত হই কারণ ওই উৎসবে ‘ডিসট্যান্ট থান্ডার’ স্বর্ণ ভাল্লুক পুরস্কার জিতে নেয়। সত্যজিৎ খুবই দীর্ঘকায় মানুষ ছিলেন। তখন বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবের নিজস্ব চিত্রগ্রাহক ছিলেন একজন লাতিন আমেরিকার ভদ্রমহিলা। এই খর্বকায় মানুষটি সবসময় গলায় বেশ কয়েকটি ক্যামেরা ঝুলিয়ে ঘুরতেন। তিনি পরে দীর্ঘকাল বার্লিন উৎসবের ছবি তুলেছেন। তিনি অনেক কসরত করে সত্যজিৎ রায়ের সাথে আমার একটা ছবি তুলে দেন। ছবিটা খুব যত্ন করে রেখে ছিলাম। যাতে আরও ভাল থাকে তার জন্য ছবিটা আমি ফাউন্ডেশনের হাতে তুলে দিয়েছিলাম। তারা সেটা এত যত্ন করে সুরক্ষিত করেছে যে, কলকাতায় আসার সময় আর সেই ছবিটা হাতে পেলাম না।”

বিশ্ববন্দিত জার্মান চলচ্চিত্র পরিচালক উইম ওয়েন্ডার্স তাঁর প্রথম কলকাতা সফরে কলকাতার চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মুখোমুখি হয়ে এই কথা শোনালেন। দীর্ঘকাল পর বিশ্বচলচ্চিত্রের একজন কিংবদন্তি ব্যক্তিত্ব এই শহরে এলেন, চলচ্চিত্রমোদীদের সঙ্গে আলাপচারিতায় মাতলেন। ফিল্ম হেরিটেজ ফাউন্ডেশন, উইম ওয়েন্ডার্স ফাউন্ডেশন (Wim Wenders Stiftung), গথে ইন্সটিটিউট এবং কলকাতার ম্যাক্সমুলার ভবন যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। উইম ওয়েন্ডার্সের ছবির নাম অনুসরণে এই উদ্যোগের পোশাকি নাম দেয়া হয়েছিল ‘উইম ওয়েন্ডার্স- কিং অফ দ্য রোড- দ্য ইন্ডিয়া ট্যুর’। এটি ছিল পরিচালকের প্রথম ভারত সফর। আলোচনায় উইম ওয়েন্ডার্স জানালেন এই পরিকল্পনা তাঁকে জানানো হলে তিনি বলেছিলেন, তিনি সময় নিয়ে এই অনুষ্ঠান করতে চান। ফলত, সংগঠকরা এই বছর ফেব্রুয়ারির পাঁচ থেকে তেইশ তারিখ পর্যন্ত বিস্তৃত এই অনুষ্ঠান আয়োজনের সুযোগ পান। কলকাতা ছাড়াও দিল্লি, মুম্বাই, পুণা, তিরুবনন্তপুরম শহরেও এই আয়োজন হয়েছিল। ভারতীয় দর্শকরা এই সুযোগে উইম ওয়েন্ডার্সের ১৮টি ছবি ফিরে দেখতে পেলেন। কলকাতায় নন্দন ও বসুশ্রী প্রেক্ষাগৃহে ১৬টি ছবি দেখানো হল। নন্দন ও বসুশ্রীতে দর্শকরা স্বয়ং পরিচালকের উপস্থিতিতে ছবি দেখারও সুযোগ পেলেন। ১৭ ফেব্রুয়ারি কলকাতার জি ডি বিড়লা সভাগৃহে আমন্ত্রিত দর্শকে পরিপূর্ণ হলে উইম ওয়েন্ডার্স এখানকার চলচ্চিত্রমোদীদের মুখোমুখি হলেন। শিবেন্দ্র সিং দুঙ্গারপুরের সুযোগ্য উপস্থাপনায় ‘এ মাস্টারক্লাস উইথ উইম ওয়েন্ডার্স’ শীর্ষক অনুষ্ঠান কলকাতার সিনেমা মহলের বিশিষ্ট পরিচালক, কলাকুশলী, সমালোচক, শিক্ষক-সহ অজস্র চলচ্চিত্রের ছাত্র ও উৎসাহীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে দারুণ উপভোগ্য হয়ে উঠেছিল। শুরুতে পরিচালক বলেছিলেন, তিরুবনন্তপুরম শহরের চলচ্চিত্র উৎসাহীদের জ্ঞানগর্ভ অংশগ্রহণ তাঁকে বিস্মিত করছে। কলকাতার তরুণ-তরুণীরাও জি ডি বিড়লা সভাগৃহে এই শহরের চলচ্চিত্র ঐতিহ্যকে যথাযথভাবে রক্ষা করেছেন। এই সফরের মধ্যেই তিনি শিবেন্দ্র সিং দুঙ্গারপুরকে সঙ্গে নিয়ে হাজির হন সত্যজিৎ রায়ের বাসভবনে। সেখানে সন্দীপ রায় উইম ওয়েন্ডার্সের সত্যজিৎকে লেখা বহু পুরাতন একটি চিঠি তাঁকে দেখান। উইম ওয়েন্ডার্স একজন দীর্ঘকালের সত্যজিৎ-অনুরাগী। ওইদিনই তিনি ‘চারুলতা’ মাধবী মুখোপাধ্যায়ের সাথেও দেখা করেন।

প্রথম কলকাতা সফরে উইম ওয়েন্ডার্স।

পরিচালক হয়ে ওঠা: নিজের কথায়

উইম ওয়েন্ডার্সের থেকে জানা গেল, তাঁর বাবা ছিলেন একজন চিকিৎসক। সব সন্তানদের যেমন তার বাবার পেশা আর্কষণ করে, তাঁকেও করেছিল। তিনি ডাক্তারি পড়তে যান। ছোট থেকেই তিনি ছবি আঁকতে খুব ভালবাসতেন, নিয়মিত আঁকাআঁকি করতেনও। বছর ছয়-সাত বয়সে প্রথম ক্যামেরা হাতে পান, বাবার দেয়া উপহার। তখন থেকেই ফটোগ্রাফিচর্চা শুরু। সেই ক্যামেরায় নিচের দিকে তাকিয়ে ভিউ ফাইন্ডার দেখতে হত। সেটি তার কাছে অস্বস্তিকর মনে হত। কিছুদিন পর বাবা আরেকটা ক্যামেরা এনে দেন, যেটা চোখের সামনে তুলে ভিউ ফাইন্ডারে চোখ রাখা যেত। যাইহোক, চিকিৎসা বিজ্ঞান পড়তে গিয়ে মনে হল ছবি আঁকা ছাড়া আর কিছু তাঁর পক্ষে করা সম্ভব নয়। তাঁর এই সিদ্ধান্তে বাবা বাধা দেননি। ডাক্তারি পড়া ছেড়ে প্যারিসে এসে আর্টস্কুলে ভর্তি হলেন। আর্থিক সংকট ছিলই। প্যারিসে একটা ছোট স্যাঁতসেঁতে ঠান্ডা ঘরে থাকতে হত। প্যারিসের প্রবল ঠান্ডায় একটু উষ্ণতার খোঁজে একদিন হাজির হয়ে গেলেন হেনরি ল্যাংলোইসের ফিল্ম ক্লাব সিনেমাথেক ফ্রান্সিসিতে। সেখানে সিনেমা দেখতে দেখতে মাধ্যমটির সঙ্গে তাঁর ভালবাসা গাঢ়তর হল। চলচ্চিত্রবেত্তা, সংরক্ষক হেনরি ল্যাংলোইসের প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধা বারংবার উইম ওয়েন্ডার্সের কথায় প্রকাশিত হচ্ছিল। প্যারিসে সিনেমা দেখতে দেখতেই ঠিক করে ফেললেন তিনি চিত্রপরিচালক হবেন। ১৯৫০-৬০ দশকে জার্মানির নিজস্ব চলচ্চিত্রজগতের চরম বন্ধ্যাবস্থা। পুরো সিনেমার জগৎটাই হলিউডের দখলে। পূর্ণ সময়ের পেশা হিসাবে চলচ্চিত্র পরিচালনার কথা কেউ ভাবতেও পারতেন না। ১৯৬০-এর শেষদিকে মিউনিখে ফিল্ম স্কুল খোলার সংবাদ পেয়ে তিনি জার্মানিতে ফিরে এসে সেই স্কুলে ভর্তি হলেন। যদিও যে তিন বছর তিনি ওই স্কুলে ছিলেন সেইসময় সেখানে না ছিল কোনও ক্যামেরা, না ছিল ছবি সম্পাদনা করার কোনও ব্যবস্থা। সেই সময় তাঁর সবচেয়ে দামি ব্যক্তিগত সম্পত্তি ছিল একটা স্যাক্সোফোন, একসময় সঙ্গীতশিল্পী হওয়ার বাসনাও তাঁর মনে ছিল। সেই স্যাক্সোফোন বিক্রি করে কিনে ফেললেন একটা ১৬ মিমি বোলেক্স ক্যামেরা। ফিল্ম-স্কুলের সকল শিক্ষার্থীর ডিপ্লোমা ছবির তিনিই চিত্রগ্রাহক, কারণ অন্য কাউকে তিনি ক্যামেরা ধরতে দিতেন না। ক্যামেরাটির ট্রাইপডটি ছিল বেজায় গোলমেলে, প্রায় কোনও মুভমেন্টই করা যেত না। কোনও শিক্ষার্থী পরিচালক প্যান শট দাবি করলে তিনি বলে দিতেন, নিজে করে নাও। শিক্ষান্তে কুড়ি হাজার মার্ক পাওয়া গেল নিজের মতো ছবি বানাতে। ওই অর্থে কোনও ফিল্ম নষ্ট না করে যে ছবি বানালেন, তার দৈর্ঘ্য হল আড়াই ঘণ্টা। কর্তৃপক্ষ বলল, সম্পাদনা করে ছবিটি ছোট করতে। সেইসময় মিউনিখের এক পানশালায় উইম ওয়েন্ডার্সের মতো চলচ্চিত্র উৎসাহীদের আড্ডা ছিল। সেখানে একজন বলল, সে একজন ফিল্ম-এডিটরের সহকারী, সুতরাং সে সম্পাদনা করে দিতে পারবে। কাজের সময় বোঝা গেল সে আদতে ফিল্মে দাগ দেয়া, নম্বর মেলানোর মতো কাজ করে। অনেক টানাপোড়েনের পর তাকে নিয়েই উইম ওয়েন্ডার্স তাঁর সেই ছবির সম্পাদনার কাজ সারেন। পরবর্তীকালে সেই বন্ধু পিটার প্রিজগোড্ডা হলেন উইম ওয়েন্ডার্সের সম্পাদক।

নতুন জার্মান সিনেমা (das neue Kino)

উইম ওয়েন্ডার্স যে চলচ্চিত্রধারার প্রতিনিধি সেটি নতুন জার্মান সিনেমা (das neue Kino) নামে পরিচিত। ১৯৬০-এর দশকে এসে জার্মান চলচ্চিত্রের সৃজনশীলতা তলানিতে ঠেকেছিল। বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবের মতো কুলীন ও সৃজনশীল উৎসব সংগঠকদের দেশে ও দেশের বাইরে সমাদৃত হওয়ার মতো কোনও ছবি নির্মিত হচ্ছিল না। জার্মানি এমন এক দেশ যেখানে সঙ্গীত, চিত্রকলা, নাটক, ভাস্কর্য প্রভৃতি সৃজনশীল ক্ষেত্রে সারা পৃথিবীকে তাক লাগানোর মতো কাজ হয়ে থাকে। যেখানে প্রথম মহাযুদ্ধের পরই প্রকাশবাদী চলচ্চিত্রের বিকাশ ঘটেছিল, সেখানে সাম্প্রতিক চলচ্চিত্রের দীনতা জার্মান চলচ্চিত্রপ্রেমীদের বিষণ্ণ করছিল। এর মধ্যে রাইন নদী দিয়ে শুধু জল নয়, বহু রক্তস্রোতও প্রবাহিত হয়েছে। হিটলার ও নাজি পার্টির শাসন, মহাযুদ্ধ, জার্মানির পরাজয়, দেশের দ্বিখণ্ডীকরণ, বার্লিনের বুকে বিভেদের পাঁচিল, জার্মান জাতিসত্তা মনোজগতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। আমেরিকার রাষ্ট্রপতি হ্যারি ট্রুম্যানের কৌশলে জারি ‘মার্শাল প্ল্যান’ পশ্চিম জার্মানিকে ধ্বংসস্তূপ থেকে মাথা তুলে দাঁড়াতে সাহায্য করেছে। এই পরিস্থিতিতে বহু তরুণ চলচ্চিত্রপ্রেমী স্বল্পদৈর্ঘ্যের পরীক্ষামূলক ছবি নির্মাণ করছিলেন। প্রতি বছর ওবেরহাউসেন শহরে সেইসব ছবির উৎসব ঘিরে উৎসাহ বাড়ছিল। সেই চলচ্চিত্র উৎসবের সঙ্গে যুক্ত ২৬ জন পরিচালক এক ঘোষণার মাধ্যমে নতুন জার্মান সিনেমার (das neue Kino) আগমনবার্তা দিলেন। সেখানে বলা হল:

‘জার্মানির তরুণ স্রষ্টা (auteurs), পরিচালক ও প্রযোজকদের নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবিগুলি সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবগুলিতে বিরাট সংখ্যায় পুরস্কৃত হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক সমালোচকদের অনুমোদনও পাচ্ছে। এইসব কাজ ও তাঁদের সাফল্য প্রমাণ করছে যে, জার্মান চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ যাঁদের হাতে তাঁরা চলচ্চিত্রের এক নতুন ভাষায় তাঁদের কাজ প্রকাশ করছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো জার্মানিতেও স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবিগুলি কাহিনিচিত্রের প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। আমরা নতুন জার্মান সিনেমা উদ্ভাবনের ঘোষণা করছি।’

ওবেরহাউসেন ম্যানিফেস্টো, ১৯৬২

যেভাবে ইতালির নববাস্তবতা বা ফ্রান্সের নবতরঙ্গ একটি নির্দিষ্ট শৈলী, প্রকাশভঙ্গির জন্ম দিয়েছিল, ওই সমস্ত ধারার চলচ্চিত্রকারদের সৃষ্টিতে কিছু সাধারণ লক্ষণ প্রকট হয়েছিল। জার্মানির এই নব্য সিনেমায় তা ঘটেনি। কার্যত নতুন জার্মান সিনেমা এই দেশের সিনেমার ইতিহাসের একটি পর্বকে চিহ্নিত করে। নববাস্তবতা বা নবতরঙ্গের মতো নতুন জার্মান সিনেমার কোনও কেন্দ্রীয় আদর্শগত অবস্থান ছিল না। এই ধারার পরিচালকদের শৈলী ও প্রকাশভঙ্গির ক্ষেত্রে বহু বৈচিত্র্য রয়েছে, বিভিন্নতা রয়েছে। আবার তাঁদের কাজগুলির মধ্যে বেশ কিছু মিলও দেখতে পাওয়া যায়। যুক্তি বা ব্যাখ্যা দেওয়ার পরিবর্তে গভীর অনুভূতির প্রকাশ। রয়েছে ব্যঙ্গাত্মক সমাজবাস্তবতা ও প্রতীকী প্রকাশভঙ্গির মধ্যবর্তী এক তির্যক অবস্থান। নব্য জার্মান সিনেমার কুশীলবরা বড় হয়ে উঠেছিল আমেরিকার সহায়তাপ্রাপ্ত জার্মান অর্থনীতির নিরাপদ কোলে। নাৎসি যুগের ভয়াবহতা, যুদ্ধের বীভৎসতাকে অনেক পিছনে ফেলে। বিভক্ত জার্মানির পশ্চিম অংশে সেই দুঃস্বপ্নের কাল মনে করা থেকে মানুষ বিরত ছিলেন। নতুন সিনেমার লক্ষ্যে যাঁরা ইস্তেহার প্রকাশ করলেন তাঁরা মূলত তাঁদের নিজেদের মতো করে ছবি করার আর্থিক, পরিকাঠামোগত সহায়তা ও পরিবেশ চাইছিলেন। ১৯৬০-এর দশকের মধ্যবর্তী সময়ে নতুন জার্মান সিনেমার যাত্রা শুরু হল। ১৯৬৬ সালে নির্মিত ভোলকার স্লোয়েনডর্ফের ‘ইয়ং টরলেস’ ছবির সূত্রে। প্রথম মহাযুদ্ধের আগের এক ছেলেদের স্কুল এই ছবির পটভূমি। রবার্ট মুশিল-এর সামরিকবাদ-বিরোধী মানসিকতার উপন্যাস এই ছবির ভিত্তি। স্লোয়েনডর্ফের পরের ছবি ‘বাল’ (১৯৬১) বের্টোল্ট ব্রেখটের নাটকের ভিত্তিতে নির্মিত। নতুন জার্মান সিনেমার সবচেয়ে আলোচিত শিল্পী আলেকজান্ডার ক্রুগে। পূর্বে উল্লেখিত ওবেরহাউসেন ইস্তেহারের তিনিই মুখ্য প্রবক্তা। ক্রুগে ছিলেন একজন পেশাদার আইনজীবী, আইনশাস্ত্রে সুপণ্ডিত, অন্যদিকে সমাজতত্ত্বের আলোচক ও ঔপন্যাসিক। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ফ্রিৎজ লাং ১৯৫০ দশকের শেষভাগে একবার পশ্চিম জার্মানিতে ফিরে আসেন। ক্রুগে কিছুদিন ফ্রিৎজ লাং-এর সহকারীরূপে কাজ করেছিলেন। তাঁর প্রথম ছবি ‘ইয়েসটার ডে গার্ল’ (১৯৬৭)। ‘দ্য আর্টিস্ট আনডার দা বিগ টপ-ডিসওরিয়েন্টেড’ (১৯৬৮), পরিচালনার সূত্রে তিনি এই ধারার পুরোধা শিল্পীরূপে প্রতিষ্ঠিত হন। ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র এক নারী, যে উত্তরাধিকার সূত্রে একটি সার্কাসের মালিক হয়, কিন্তু চাইলেও সে সংস্থার দীর্ঘদিন চলে আসা ঐতিহ্য, নিয়মকানুন বদলাতে পারে না। একজন শিল্পীর প্রচেষ্টার রূপকধর্মী প্রকাশ। ছবিটি ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসব পুরস্কৃত হয়। আলেকজান্ডার ক্রুগে কার্যত নব্য জার্মান সিনেমার আদর্শগত গুরু, মূলত তাঁর উদ্যোগেই জার্মানি সরকার বার্লিন ও মিউনিখে ফিল্ম স্কুল প্রতিষ্ঠা করে এবং এই পরীক্ষামূলক চলচ্চিত্র-ধারাকে সহায়তা প্রদান করে। প্রথম পর্বের নতুন জার্মান সিনেমার অন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিচালক হলেন এডগার রাইটস্, ভের্নের হারজগ প্রমুখ। এবং অবশ্যই ফ্যাসবিন্দার। ১৯৭০ দশকের শুরুতেই নতুন জার্মান সিনেমাতে এক বাঁক আসে। অত্যন্ত প্রতিভাবান কয়েকজন চলচ্চিত্র পরিচালকের অংশগ্রহণ নতুন জার্মান সিনেমাকে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র রসিক মহলে অত্যন্ত জনপ্রিয় ও প্রশংসিত করে তোলে। এই পরিচালকদের মধ্যে প্রথম যাঁর নাম উল্লেখ করতে হয় তিনি হলেন– উইম ওয়েন্ডার্স। তাঁর ছবি কান, বার্লিন, ভেনিস-সহ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসবগুলিতে পুরস্কৃত, উচ্চপ্রশংসিত। উইম ওয়েন্ডার্স চলচ্চিত্র পরিচালনার পাশাপাশি একজন স্থিরচিত্র-গ্রাহকরূপেও বিশ্ববন্দিত। নাট্যকার, লেখক, চলচ্চিত্রবেত্তারূপেও তাঁর পরিচিতি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপ্ত।

পথের রাজা

উইম ওয়েন্ডার্সের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্যের কাহিনিচিত্র ‘দ্য গোলকিপারস ফিয়ার অফ দ্য পেনাল্টি’ (১৯৭২)। এটি আপাতভাবে একটি হত্যারহস্য। কাহিনির কেন্দ্রীয় চরিত্র এক ফুটবল গোলকিপার মনোবৈকল্যে ভোগে। নিজের অস্তিত্ব সম্পর্কেই সে সন্দিহান হয়ে ওঠে। পরিচালক ওজুর মতো ক্যামেরা সংস্থাপন ও বিষয়মুখী নানারকম শটের ব্যবহারে ওই গোলকিপারের মনোজগতের অবস্থা দর্শকের কাছে তুলে ধরতে চেয়েছেন উইম ওয়েন্ডার্স। কিন্তু পরিচালককে আন্তর্জাতিক মহলে পরিচিতি এনে দিল তাঁর ‘রোড মুভিজ’-গুলি। তাঁর বিশিষ্টতা ধরা পড়ল এই ধরনের ছবিতে। ‘অ্যালিস ইন দ্য সিটিস’ (১৯৭৪) তাঁর বিখ্যাত ‘রোড ট্রিলজি’-র প্রথম পর্ব। এই ছবিতে নিউ ইয়র্কে একজন বিশিষ্ট আলোকচিত্রীর কাছে নিজের মেয়েকে রেখে এক ভদ্রমহিলা নিরুদ্দেশ হয়ে যান। ছবির বাকি অংশজুড়ে ওই আলোকচিত্রী সেই বালিকাটিকে সঙ্গে নিয়ে গোটা পশ্চিম জার্মানি ঘুরে বেড়ান বালিকাকে তার ঠাকুমার কাছে পৌঁছে দিতে। এক শহর থেকে অন্য শহর, দেশের একপ্রান্ত থেকে অপরপ্রান্ত দুই অসমবয়সী মানুষের ছুটে চলা আর খুঁজে ফেরা। বালিকাটিও তার কখনও না দেখা বাবাকে যেন এই আলোকচিত্রীর মধ্যে খুঁজে ফেরে। উইম ওয়েন্ডার্সের ছবিতে এই জগৎজুড়ে নিজের ঘর খুঁজে ফেরার ভাবনাটা বিশেষভাবে ক্রিয়াশীল থাকে। এই ট্রিলজির দ্বিতীয় ছবি ‘কিংস অফ দ্য রোড’ (১৯৭৬)। এই ছবি প্রসঙ্গে উইম ওয়েন্ডার্সের থেকে জানা গেল যে, কোনও চিত্রনাট্য ছাড়াই তিনি এই ছবির শ্যুটিং শুরু করেন। একটি পাতায় সামান্য কিছু খসড়া নিয়ে তিনি কাজ শুরু করেন।শ্যুটিংয়ের পর প্রতি রাতে তিনি দুই কেন্দ্রীয় চরিত্রের অভিনেতাকে নিয়ে পরের দিনের চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখতে বসতেন। সারাদিন শ্যুটিং করার পর স্বাভাবিকভাবেই সকলে ক্লান্ত থাকতেন। ফলত, দিনকয়েক পর থেকে অভিনেতারা চিত্রনাট্যকারকে সাহায্য করা ছেড়ে দিলেন। উইম ওয়েন্ডার্সকে সারা রাত জেগে চিত্রনাট্য লিখতে হত, আবার পরদিন সকাল থেকে চিত্রগ্রহণ শুরু। এই অতিমানবিক পরিশ্রমে উইম ওয়েন্ডার্সের শারীরিক অবস্থা এমন হয়েছিল যে, বাধ্য হয়ে কিছু দিনের জন্য শ্যুটিং বন্ধ রাখতে হয়েছিল। ছবিতে দুজন মানুষের পথে আলাপ হয়, তারপর দুজনে মিলে জার্মানির উত্তর অংশজুড়ে, মূলত তৎকালীন দুই জার্মানির সীমান্ত ছুঁয়ে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়ায়। পরিচালকের মতে, তখন দুই জার্মানির সম্পর্ক কতকটা আজকের দুই কোরিয়ার মতো। সীমান্ত অঞ্চলের পরিস্থিতির জন্য সেখান থেকে বহু মানুষ, বিশেষত তরুণেরা অন্যত্র চলে গিয়েছিল। দুই চরিত্রের একজনের জীবিকা নিজের ভ্যান চালানো আর ফিল্ম প্রজেক্টর সারানো, যার অসম্ভব পরিকল্পনা হল নিজের ভক্সওয়াগান-সমেত এক অগভীর নদীতে ডুবে আত্মহত্যা করা আর অপরজন জেনেভার মানুষ, সম্প্রতি যার স্ত্রী তাকে পরিত্যাগ করেছে। প্রায় তিন ঘণ্টা দীর্ঘ ছবি মূলত ঘটনাবিহীন, দুই সহযাত্রীও বিশেষ বাক্যালাপ করে না কিন্তু সাদাকালো চিত্রায়ণে, ক্যামেরার ধীর চলনে, প্রথা-বহির্ভূত শটের মাধ্যমে অফ স্ক্রিন স্পেসের ব্যবহারে পরিচালক তাদের সেই যাত্রার সঙ্গী করেন দর্শকদের। এই দীর্ঘ রিলটাইম কখন শেষ হয়ে যায় বোঝাও যায় না। সমসাময়িক সমাজজীবনের ক্লেদ কীভাবে এই চরিত্রদুটিকে গ্রাস করেছে, তাও সুস্পষ্ট হয় পর্দায়। ট্রিলজির অপর ছবি ‘দ্য রং মুভ’ (১৯৭৬)-এও মানুষের শিকড় থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার সমস্যাকেই তুলে ধরা হয়। পরিচালক বলছিলেন, তাঁর কাছে ‘জার্নি’-টাই গুরুত্বপূর্ণ, গন্তব্য নয়। তাঁর ‘রোড মুভিজ’-গুলি দেখলে দর্শকেরও সেই প্রত্যয় জাগবে। বলছিলেন, তিনি আগে ‘লোকেশন’ দেখেন তার পর আখ্যান নির্মাণের কথা ভাবেন। তাঁর অন্যতম রোডমুভি ‘প্যারিস, টেক্সাস’ (১৯৮৪) চলচ্চিত্র দুনিয়ায় এক কাল্ট-মুভির মর্যাদা পায়। এই ছবির সূত্রে পরিচালক কান চলচ্চিত্র উৎসবে পাম ডি অর পুরস্কারে ভূষিত হন। এখানে এক ভবঘুরে রহস্যজনকভাবে মরুভূমি পার হয়ে চলে ভাই ও সাত বছরের ছেলের সঙ্গে দেখা করতে। বালকটির সাথে দেখা হওয়ায় পর তারা দুজনে মিলে দক্ষিণ-পশ্চিম আমেরিকার প্রান্তরজুড়ে বহুকাল আগে নিখোঁজ তার স্ত্রীর সন্ধান করে ফেরে।

তথ্যচিত্র-কাহিনিচিত্র

উইম ওয়েন্ডার্সের কথায় জানা গেল, তিনি কাহিনিচিত্রে তথ্যচিত্রের উপাদান, আঙ্গিক ব্যবহারে উৎসাহী, আবার তথ্যচিত্রে কাহিনিচিত্রের শৈলী ব্যবহারে তিনি পিছপা নন। এভাবেই তিনি তথ্যচিত্র ও কাহিনিচিত্রের অন্তর্বর্তী বিভেদরেখা মুছে দিতে উদ্যোগী থেকেছেন বরাবর। এই প্রসঙ্গে উঠে এল ‘টোকিও গা’ (১৯৮৫) ছবির কথা। যা উইম ওয়েন্ডার্সের মতে, তাঁর প্রথম প্রকৃত তথ্যচিত্র। জানা গেল, তিনি চিত্রগ্রাহক এডোয়ার্ড ল্যাচম্যানকে সঙ্গে নিয়ে টোকিওতে হাজির হয়েছিলেন শ্যুটিং করতে। ল্যাচম্যান পরবর্তীকালে হলিউডের এক পরিচিত নাম। উইম ওয়েন্ডার্স নিজে শব্দগ্রহণের দায়িত্বে ছিলেন। শব্দগ্রাহককে বারবার যন্ত্রের ওপর চোখ রাখতে হয়, তাই শ্যুটিং চলাকালীন দৃশ্যগুলি তিনি ঠিকমতো দেখতে পারছিলেন না। পরে তিনি ওজুর দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগীর সাথে কথা বলেন। এঁরা হলেন চিত্রগ্রাহক ইউহারু আতসুতে এবং ওজুর প্রায় সব ছবির অভিনেতা চিসু রাইহু। ছবিটি কতকটা এক ‘ফিল্ম ডায়েরি’ যেখান পরিচালক খুঁজে ফেরেন ওজুর ছবিতে বর্ণিত টোকিও শহরকে।

নতুন প্রযুক্তি-নতুন সময়

উইম ওয়েন্ডার্সের আধুনিক প্রযুক্তি আত্মীকরণ প্রসঙ্গে নিজস্ব অভিমত অত্যন্ত স্বচ্ছ। তিনি নিউ ইয়র্ক শহরে বেড়াতে যাওয়া দুই পর্যটকদলের গল্প শোনালেন। একদল ইন্টারনেট বাহিত নির্দেশানুসারে পথ চলে। অন্যদল প্রথাগত ম্যাপ দেখে নিজের মতো চলে। দ্বিতীয় দলের পর্যটকরা সেই শহরকে অনেক ভালভাবে দেখে। মানুষ ক্রমশ প্রযুক্তির দাস হয়ে পড়ছে, নিজস্ব যুক্তিবুদ্ধি কম ব্যাবহার করছে, এটা তাঁর চিন্তার কারণ। একজন অভিনেতা প্রকৃত লোকেশনে না গিয়ে স্টুডিওতে সবুজ পর্দার সামনে দাঁড়িয়ে অভিনয় করলে যথার্থ অনুভূতির প্রকাশ ঘটানো সম্ভব নয় বলেই তিনি মনে করেন। তবে একথা জানাতেও ভোলেননি যে, তিনিও ‘পারফেক্ট ডেস’ (২০২৩) ছবিতে ‘সবুজপর্দা প্রযুক্তি’ ব্যবহার করেছিলেন। চলচ্চিত্রে নতুন প্রযুক্তিকে তিনি সর্বদা স্বাগত জানিয়েছেন, প্রয়োগ করেছেন। ‘থ্রিডি’ প্রযুক্তির ব্যবহারে ‘পিনা’ (২০১১) ছবিটি তিনি করেন নৃত্যশিল্পী পিনা বাউস্কের সৃষ্টিকে যথাযথ চলচ্চিত্রীয় ক্ষেত্রে (Space) ধরতে। যন্ত্রের পিছনে থাকা মানুষ নিজেকে প্রয়োগ করুক এই তার কামনা।

দীর্ঘ আলাপচারিতায় উইম ওয়েন্ডার্সের প্রায় ছয় দশক ব্যাপ্ত কর্মজীবনের বিবিধ প্রসঙ্গ উঠে আসে। ‘দ্য আমেরিকান ফ্রেন্ড’ (১৯৭৭) ছবিতে হলিউড তারকা ডেনিশ হুপার এবং জার্মান মঞ্চাভিনেতা ব্রুনো গাঞ্জের গোলযোগ, লিসবুয়ায় ‘ফোদো’ লোকসঙ্গীতের কথা, ‘পারফেক্ট ডেস’ ছবির শেষদৃশ্য গ্রহণের সময় সমগ্র ইউনিটের কেঁদে ফেলা, নিজের ফিল্ম স্কুলে অধ্যাপনা করতে গিয়ে ছাত্রদের সঙ্গে নিয়ে ছবি তৈরির অভিজ্ঞতা, ফাউন্ডেশন গড়ার কারণ ও চলচ্চিত্র সংরক্ষণের গুরুত্ব– এরকম নানা জানা-অজানা কথায় সমৃদ্ধ হলেন কলকাতার সিনেমাপ্রেমীরা। এ শহরের চলচ্চিত্রচর্চার ইতিহাসে এক উজ্জ্বল সংযোজন হয়ে রইল ‘পথের রাজা’-র কলকাতা সফর।

চিত্র: সুচরিতা গোস্বামী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

1 × four =

Recent Posts

মো. বাহাউদ্দিন গোলাপ

জীবনচক্রের মহাকাব্য নবান্ন: শ্রম, প্রকৃতি ও নবজন্মের দ্বান্দ্বিকতা

নবান্ন। এটি কেবল একটি ঋতুভিত্তিক পার্বণ নয়; এটি সেই বৈদিক পূর্ব কাল থেকে ঐতিহ্যের নিরবচ্ছিন্ন ধারায় (যা প্রাচীন পুথি ও পাল আমলের লোক-আচারে চিত্রিত) এই সুবিস্তীর্ণ বদ্বীপ অঞ্চলের মানুষের ‘অন্নময় ব্রহ্মের’ প্রতি নিবেদিত এক গভীর নান্দনিক অর্ঘ্য, যেখানে লক্ষ্মীদেবীর সঙ্গে শস্যের অধিষ্ঠাত্রী লোকদেবতার আহ্বানও লুকিয়ে থাকে। নবান্ন হল জীবন ও প্রকৃতির এক বিশাল মহাকাব্য, যা মানুষ, তার ধৈর্য, শ্রম এবং প্রকৃতির উদারতাকে এক মঞ্চে তুলে ধরে মানব-অস্তিত্বের শ্রম-মহিমা ঘোষণা করে।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

বুদ্ধদেব বসু: কালে কালান্তরে

বুদ্ধদেব বসুর অন্যতম অবদান যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলনামূলক সাহিত্য (Comparative Literature) বিষয়টির প্রবর্তন। সারা ভারতে বিশ্ববিদ্যালয়-মানে এ বিষয়ে পড়ানোর সূচনা তাঁর মাধ্যমেই হয়েছিল। এর ফল হয়েছিল সুদূরপ্রসারী। এর ফলে তিনি যে বেশ কয়েকজন সার্থক আন্তর্জাতিক সাহিত্যবোধসম্পন্ন সাহিত্যিক তৈরি করেছিলেন তা-ই নয়, বিশ্বসাহিত্যের বহু ধ্রুপদী রচনা বাংলায় অনুবাদের মাধ্যমে তাঁরা বাংলা অনুবাদসাহিত্যকে সমৃদ্ধ করে গেছেন। অনুবাদকদের মধ্যে কয়েকজন হলেন নবনীতা দেবসেন, মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, সুবীর রায়চৌধুরী প্রমুখ। এবং স্বয়ং বুদ্ধদেব।

Read More »
দেবময় ঘোষ

দেবময় ঘোষের ছোটগল্প

দরজায় আটকানো কাগজটার থেকে চোখ সরিয়ে নিল বিজয়া। ওসব আইনের বুলি তার মুখস্থ। নতুন করে আর শেখার কিছু নেই। এরপর, লিফটের দিকে না গিয়ে সে সিঁড়ির দিকে পা বাড়াল। অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বেরিয়ে উঠে বসল গাড়িতে। চোখের সামনে পরপর ভেসে উঠছে স্মৃতির জলছবি। নিজের সুখের ঘরের দুয়ারে দাঁড়িয়ে ‘ডিফল্ট ইএমআই’-এর নোটিস পড়তে মনের জোর চাই। অনেক কষ্ট করে সে দৃশ্য দেখে নিচে নেমে আসতে হল বিজয়াকে।

Read More »
সব্যসাচী সরকার

তালিবানি কবিতাগুচ্ছ

তালিবান। জঙ্গিগোষ্ঠী বলেই দুনিয়াজোড়া ডাক। আফগানিস্তানের ঊষর মরুভূমি, সশস্ত্র যোদ্ধা চলেছে হননের উদ্দেশ্যে। মানে, স্বাধীন হতে… দিনান্তে তাঁদের কেউ কেউ কবিতা লিখতেন। ২০১২ সালে লন্ডনের প্রকাশনা C. Hurst & Co Publishers Ltd প্রথম সংকলন প্রকাশ করে ‘Poetry of the Taliban’। সেই সম্ভার থেকে নির্বাচিত তিনটি কবিতার অনুবাদ।

Read More »
নিখিল চিত্রকর

নিখিল চিত্রকরের কবিতাগুচ্ছ

দূর পাহাড়ের গায়ে ডানা মেলে/ বসে আছে একটুকরো মেঘ। বৈরাগী প্রজাপতি।/ সন্ন্যাস-মৌনতা ভেঙে যে পাহাড় একদিন/ অশ্রাব্য-মুখর হবে, ছল-কোলাহলে ভেসে যাবে তার/ ভার্জিন-ফুলগোছা, হয়তো বা কোনও খরস্রোতা/ শুকিয়ে শুকিয়ে হবে কাঠ,/ অনভিপ্রেত প্রত্যয়-অসদ্গতি!

Read More »
শুভ্র মুখোপাধ্যায়

নগর জীবন ছবির মতন হয়তো

আরও উপযুক্ত, আরও আরও সাশ্রয়ী, এসবের টানে প্রযুক্তি গবেষণা এগিয়ে চলে। সময়ের উদ্বর্তনে পুরনো সে-সব আলোর অনেকেই আজ আর নেই। নিয়ন আলো কিন্তু যাই যাই করে আজও পুরোপুরি যেতে পারেনি। এই এলইডি আলোর দাপটের সময়কালেও।

Read More »