Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

বিশেষ নিবন্ধ: সুমন ভট্টাচার্য

ইলিশই সেরার সেরা

‘মাছের রাজা ইলিশ।’

তাই রাজারাজড়া তো বটেই, রাজনীতিকদের জীবনের সঙ্গেও বোধহয় আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে ইলিশ। কত রাজনীতিকের যে প্রিয় খাদ্য ইলিশ, তা বোধহয় বলে শেষ করা যাবে না! আসলে, এই ‘রাজকীয়’ মাছের মোহে, কিংবা স্বাদে-রূপে মুগ্ধ হননি এমন কে-ই বা আছেন! আমার ছোটবেলার স্মৃতি বলে, যে কংগ্রেস নেতা এবং প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সির বাড়ির সরস্বতী পুজোয় গোবিন্দভোগ চাল আর সোনামুগের ডাল দিয়ে খিচুড়ির সঙ্গে ইলিশ ভাজাটা ছিল ‘মাস্ট’। প্রিয়রঞ্জনরা আদতে ছিলেন পূর্ববঙ্গের লোক। বরিশাল থেকে চলে এসে থাকতেন উত্তরবঙ্গের কালিয়াগঞ্জে। উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জ থেকে ছাত্র-রাজনীতির সূত্র ধরে তাঁর কলকাতায় আগমন এবং ক্রমে ক্রমে কংগ্রেস রাজনীতির ‘মহীরুহ’ হয়ে ওঠা। খাঁটি ‘বাঙাল’ প্রিয়রঞ্জন ফুটবলে মোহনবাগানের সমর্থক হলেও পূর্ববঙ্গীয় অভ্যাস অনুযায়ী বসন্তপঞ্চমীতে সরস্বতী পুজোর দিন বাড়িতে জোড়া ইলিশ আসাটা ছিল ‘বাধ্যতামূলক’।

সরস্বতী পুজোয় প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সির বাড়িতে পাত পেড়ে বসে খিচুড়ি আর ইলিশ মাছ খাননি, ডানপন্থী রাজনীতিতে এমন কম চরিত্রই খুঁজে পাওয়া যাবে। প্রয়াত সুব্রত মুখোপাধ্যায় থেকে এখনও সাংসদ সৌগত রায়, ‘প্রিয়রঞ্জন ঘনিষ্ঠ’ বলে একদা পরিচিত প্রদীপ ভট্টাচার্য, মালা রায়, নির্বেদ রায়, আব্দুল মান্নান কিংবা সদ্য গেরুয়া শিবিরে চলে যাওয়া তাপস রায়— কে আসেননি সরস্বতী পুজোয় গাওয়া ঘি দিয়ে খিচুড়ি আর ইলিশ মাছের রসাস্বাদন করতে! বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু তো বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে বলেই থাকেন, ইস্টবেঙ্গলের মতো ইলিশ মাছ তাঁর অস্থিতে-মজ্জায় মিশে আছে। আসলে, কংগ্রেস বা তৃণমূল কিংবা বিজেপি এইরকম ভাগাভাগি করে ‘ইলিশ প্রেম’-টা ঠিক বোঝা যাবে না। ১৯৭৭-এ কংগ্রেস সরকার পতনের পরে এবং প্রথম বামফ্রন্ট সরকার গঠিত হওয়ার সময় গেরুয়া শিবিরের যে বিধায়ক তাঁর অসাধারণ বাগ্মিতা দিয়ে সবাইকে মুগ্ধ করেছিলেন, সেই হরিপদ ভারতীও নাকি ইলিশ মাছ খেতে প্রচণ্ড ভালবাসতেন। জনশ্রুতি অনুযায়ী, বিবেকানন্দ যেমন মৃত্যুর দিন অর্থাৎ ৪ জুলাই ১৯০২, দুপুরবেলাতেও ইলিশ মাছ দিয়ে পরিপাটি করে ভাত খেয়েছিলেন, তেমনই হৃদরোগে অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়ার আগের দিন হরিপদ ভারতীও নাকি একাধিক ইলিশ মাছের পেটি খেয়েছিলেন।

প্রথমে কাউন্সিলর, পরে সিপিএমের দাপুটে মন্ত্রী শ্যামল চক্রবর্তীকে হারিয়ে বিধায়ক হওয়া পরেশ পালেরও তো ‘সিগনেচার ইভেন্ট’ ছিল পূর্ব কলকাতায় ইলিশ উৎসব। একদা যুবনেতা, সেখান থেকে রাজ্য যুব কংগ্রেসের সভাপতি পরেশ পাল চিরকালই ‘চমকপ্রদ’ কিছু করতে ভালবাসেন। সেই সুবাদেই তিনি যেমন পূর্ব কলকাতায় ‘গণবিবাহ’ বা ‘সুভাষ মেলা’-র আয়োজন করতেন এবং করে চলেছেন, ঠিক তেমনই তাঁর ‘ইলিশ উৎসব’-ও ছিল নজরকাড়া। পূর্ব কলকাতায় পরেশ পালের ইলিশ উৎসবে রাজনীতিকরা তো বটেই, বলিউডের সেলিব্রিটি, কখনও-সখনও পদ্মা-পাড়ের ক্রিকেটাররাও হাজির হয়ে গিয়েছেন। ‘ভোজনরসিক’ বলে পরিচিত আর এক ডানপন্থী রাজনীতিক মুকুল রায়ও ইলিশ খেতে এবং খাওয়াতে অত্যন্ত ভালবাসতেন। এখন অতীতের ‘ছায়া হয়ে যাওয়া’ মুকুল রায়ের আতিথেয়তাকে যাঁরা মনে রেখেছেন, রাজনীতিকরা এবং সাংবাদিককুল, তাঁরা সবাই স্বীকার করবেন, ‘মুকুলদা’-র আয়োজন মানেই বিশাল সাইজের ইলিশের পেটি আর গলদা চিংড়ি থাকবেই। তৃণমূল থেকে বিজেপিতে গিয়েছেন, আবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলে ফিরেছেন, কিন্তু যত দিন সুস্থ ছিলেন, কাঁচরাপাড়ার রেল ইয়ার্ডের রাজনীতি থেকে উঠে আসা মুকুল রায়ের আতিথেয়তায় কোনও ছেদ পড়েনি। প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি এবং মুকুল রায়ের মধ্যে একটা অদ্ভুত মিল ছিল, বিরোধী গোষ্ঠীর কোনও রাজনীতিক দেখা করতে এলে আপ্যায়ন এবং খাওয়া-দাওয়ার বহর বেড়ে যেত। এখনও আমার স্মৃতিতে টাটকা আছে, তিক্ত লড়াইয়ের পর সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতির পদে জিতে কলকাতায় ফেরার পরের দিনই যখন প্রিয়রঞ্জন ফোন পেয়েছেন— কলকাতার ময়দানে তাঁর সবচেয়ে বড় ‘শত্রু’ দেখা করতে চান, তখন দক্ষিণ কলকাতার বাড়িতে তাঁকে ডেকে সোজা আপ্যায়ন করে নিয়ে গিয়েছেন অধুনালুপ্ত পার্ক স্ট্রিটের স্কাইরুম রেস্তোরাঁয় ‘স্মোকড হিলসা’ খাওয়াতে। প্রিয়রঞ্জন হাসতে হাসতে বলতেন, ‘শত্রুতাকে বন্ধুত্বে বদলে দিতে ইলিশের জুড়ি নেই!’ ঠিক তেমনই মুকুল রায় গেরুয়া শিবিরে যাওয়ার পর যখন নিজের রাজনৈতিক ঘুঁটি সাজাচ্ছেন, তখন বিরোধী শিবিরের কেউ দেখা করতে এলে মধ্যাহ্নভোজনে ইলিশ থাকতই। আর বিকেলে চায়ের সঙ্গে ‘আপনজন’ থেকে নিয়ে আসা ফিশ ফ্রাই।

ইলিশে অবশ্য কে-ই বা না মুগ্ধ হয়েছেন! খোদ রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, ‘ইলিশ মাছ অমনি দিব্যি থাকে, ধরলেই মারা যায়। প্রতিভাও ঠিক তাই, তাকে বাঁধলেই সর্বনাশ!’ এতটা খাদ্যরসিক ছিলেন বলেই তো রবীন্দ্রনাথ ইলিশকে প্রতিভার সঙ্গে তুলনা করতে পেরেছেন। গুরু রামকৃষ্ণও ইলিশে মুগ্ধ ছিলেন, কিন্তু বিবেকানন্দের ‘ইলিশ প্রেম’ বোধহয় অন্য উচ্চতার ছিল। পদ্মাপাড় দিয়ে তিনি হাঁটছেন, ইলিশ বিক্রি হচ্ছে দেখে এক টাকায় ১৬টা ইলিশ কেনা হল। কিন্তু স্বামীজির ইচ্ছে হয়েছে কচু দিয়ে ইলিশ খাবেন। খোঁজ খোঁজ, কোথায় পাওয়া যাবে কচু শাক এবং কচুর লতি। বাজারে নেই, কোথাও নেই কচু। অনেক খুঁজে জানা গেল এক কৃষকের ঘরে কচু শাক আছে। কৃষক কচু শাক দিতে রাজি, কিন্তু একটাই শর্ত, স্বামী বিবেকানন্দকে তাঁকে দীক্ষা দিতে হবে। স্বামীজি বললেন, ‘তথাস্তু! আমি দীক্ষা দিয়েই কচু শাক নেব।’ আর সেই কচু দিয়েই রাঁধা হল পদ্মাপাড়ের ইলিশ। মৃত্যুর ঠিক এক বছর আগে ১৯০১ সালের ৬ জুলাই বেলুড় মঠে বসে ইলিশ দেখতে দেখতে বিবেকানন্দ এক চিঠিতে তাঁর মার্কিনি ভক্ত ক্রিস্টেনকে লিখেছিলেন, ‘আমাদের ইলিশ তোমাদের আমেরিকান ইলিশের চেয়ে বহুগুণে উৎকৃষ্ট।’ ইলিশের প্রতি টান বিবেকানন্দের জীবনের ছত্রে ছত্রে জড়িয়ে আছে।

Advertisement

আসলে, ইলিশ মানেই যে রাজকীয়তা, যে অনিবার্য আকর্ষণ, তাকে বাঙালি কবে ভুলতে পেরেছে? আজকের বাংলাদেশ যতই পূর্ব পাকিস্তান হওয়ার পথে হাঁটুক না কেন, কী করে আমরা ভুলে যাব ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালি অস্মিতাকে মনে করিয়ে দেওয়া সেই বিখ্যাত ছড়াকে, ‘ইলিশ মাছের তিরিশ কাঁটা, বোয়াল মাছে দাড়ি/ ইয়াহিয়া খান ভিক্ষা করে, শেখ মুজিবের বাড়ি।’ বাঙালি যে চিরকাল নিজের শ্রেষ্ঠত্বকে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছে, সেদিনের পাকিস্তানেও পাঞ্জাবি আধিপত্যবাদকে নস্যাৎ করে নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব আর বাঙালি অস্মিতাকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছিল, এই ছড়া তো তারই প্রমাণ। ভুলে গেলে চলবে না, সৈয়দ মুজতবা আলি, আর এক রবীন্দ্রভক্ত বাঙালি মুসলিম একবার ইলিশের নিন্দা করায় তাঁর এক পাঞ্জাবি বন্ধু অধ্যাপকের সঙ্গে কথোপকথনই বন্ধ করে দিয়েছিলেন। ইলিশের নিন্দা, তা হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে বাঙালি কোনওদিন সহ্য করতে পারেনি।

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত যেমন তাঁর ‘আইকনিক’ ‘ইলশে গুঁড়ি’ কবিতা লিখে বর্ষা, বাঙালির ইলিশ প্রেম, প্রকৃতির অবর্ণনীয় সৌন্দর্য— এই সব কিছুকে অমর করে দিয়েছেন, তেমনই বুদ্ধদেব বসু থেকে সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়— তাঁদের লেখায় বারবার ইলিশের প্রসঙ্গ এনেছেন। উত্তর কলকাতার বরানগরের বাসিন্দা, যাঁর বাড়ির কাছে গঙ্গার ঘাটেও একসময় চমৎকার রুপোলি ইলিশ উঠত, সেই সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় যখন বাঙালিকে ‘রসেবশে’ থাকার সহবত শেখাচ্ছেন, তখন রবিবার বাড়িতে ইলিশ নিয়ে এলে গোটা বাড়ি কেমন ‘ইলিশময়’ হয়ে থাকে, তার অসাধারণ বর্ণনা দিয়েছিলেন। ফ্রিজ খুললেই ‘ইলিশ ইলিশ গন্ধ’, দুপুরে খাওয়ার পর হাত ধুয়ে ফেললেও ইলিশের তেল দিয়ে ভাত মাখার অদৃশ্য স্পর্শ যেন জড়িয়ে থাকে শরীরের সর্বত্র, দোরের সামনে বসে থাকা বিড়ালের হাসিখুশি মুখ, ডিগবাজি খাওয়া বলে দেয় মার্জারও আজ মুগ্ধ ইলিশে। ওই বঙ্গের ‘আইকনিক’ লেখক শওকত ওসমানের পুত্র এককালের সেলিব্রিটি বিজ্ঞাপন-চিত্রনির্মাতা জঁ নিসার ওসমান তো সেই কারণেই কোন যুগে বিখ্যাত বিজ্ঞাপনের স্লোগান দিয়েছিলেন, ‘মাছের রাজা ইলিশ, বাতির রাজা ফিলিপস’। ওসমান ভাইয়ের বানানো বহুজাতিকের সেই বিজ্ঞাপন আজও হয়তো পদ্মাপাড়ের সবাই ভুলে যাননি।

এই যে ইলিশকে নিয়ে উন্মাদনা, ঘটি-বাঙালের লড়াইতে পূর্ববঙ্গ থেকে চলে আসা ছিন্নমূল মানুষদের গর্ব আর হারিয়ে যাওয়া সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে ইলিশের ‘সুপারস্টার’ হয়ে যাওয়া, এই সব কিছুকে কীভাবেই বা ব্যাখ্যা করা যায়? সত্যিই তো মাছের রাজাই ইলিশ! তাকে যে নামেই ডাকা হোক না কেন! মারাঠিতে তাকে বলা হয় ‘পলা’, কন্নড়ে ‘পালিয়া’, তামিলে ‘ওলাম’, তেলেগুতে ‘পোলাম’, আর সিন্ধুদেশে ‘পাল্লা’। যে নামেই ডাকুন না কেন, ইলিশের আবেদনকে কে কবে উপেক্ষা করতে পেরেছে? খেয়ালি সম্রাট, যিনি রাজধানী স্থানান্তর করে নিজের এবং প্রজাদের জীবনেও সর্বনাশ ডেকে এনেছিলেন, সেই তুঘলক, যাঁর সৃষ্টিছাড়া আচরণকে আজও মনে রাখা হয় ‘তুঘলকি’ কাণ্ডকারখানা প্রবাদবাক্যের মধ্যে দিয়ে, সেই সুলতানও তো মৃত্যুর আগের দিন পেটপুরে পাল্লা অর্থাৎ ইলিশ খেয়েছিলেন। এতটাই ইলিশের টান!

চিত্রণ: মুনির হোসেন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two × one =

Recent Posts

মো. বাহাউদ্দিন গোলাপ

জীবনচক্রের মহাকাব্য নবান্ন: শ্রম, প্রকৃতি ও নবজন্মের দ্বান্দ্বিকতা

নবান্ন। এটি কেবল একটি ঋতুভিত্তিক পার্বণ নয়; এটি সেই বৈদিক পূর্ব কাল থেকে ঐতিহ্যের নিরবচ্ছিন্ন ধারায় (যা প্রাচীন পুথি ও পাল আমলের লোক-আচারে চিত্রিত) এই সুবিস্তীর্ণ বদ্বীপ অঞ্চলের মানুষের ‘অন্নময় ব্রহ্মের’ প্রতি নিবেদিত এক গভীর নান্দনিক অর্ঘ্য, যেখানে লক্ষ্মীদেবীর সঙ্গে শস্যের অধিষ্ঠাত্রী লোকদেবতার আহ্বানও লুকিয়ে থাকে। নবান্ন হল জীবন ও প্রকৃতির এক বিশাল মহাকাব্য, যা মানুষ, তার ধৈর্য, শ্রম এবং প্রকৃতির উদারতাকে এক মঞ্চে তুলে ধরে মানব-অস্তিত্বের শ্রম-মহিমা ঘোষণা করে।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

বুদ্ধদেব বসু: কালে কালান্তরে

বুদ্ধদেব বসুর অন্যতম অবদান যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলনামূলক সাহিত্য (Comparative Literature) বিষয়টির প্রবর্তন। সারা ভারতে বিশ্ববিদ্যালয়-মানে এ বিষয়ে পড়ানোর সূচনা তাঁর মাধ্যমেই হয়েছিল। এর ফল হয়েছিল সুদূরপ্রসারী। এর ফলে তিনি যে বেশ কয়েকজন সার্থক আন্তর্জাতিক সাহিত্যবোধসম্পন্ন সাহিত্যিক তৈরি করেছিলেন তা-ই নয়, বিশ্বসাহিত্যের বহু ধ্রুপদী রচনা বাংলায় অনুবাদের মাধ্যমে তাঁরা বাংলা অনুবাদসাহিত্যকে সমৃদ্ধ করে গেছেন। অনুবাদকদের মধ্যে কয়েকজন হলেন নবনীতা দেবসেন, মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, সুবীর রায়চৌধুরী প্রমুখ। এবং স্বয়ং বুদ্ধদেব।

Read More »
দেবময় ঘোষ

দেবময় ঘোষের ছোটগল্প

দরজায় আটকানো কাগজটার থেকে চোখ সরিয়ে নিল বিজয়া। ওসব আইনের বুলি তার মুখস্থ। নতুন করে আর শেখার কিছু নেই। এরপর, লিফটের দিকে না গিয়ে সে সিঁড়ির দিকে পা বাড়াল। অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বেরিয়ে উঠে বসল গাড়িতে। চোখের সামনে পরপর ভেসে উঠছে স্মৃতির জলছবি। নিজের সুখের ঘরের দুয়ারে দাঁড়িয়ে ‘ডিফল্ট ইএমআই’-এর নোটিস পড়তে মনের জোর চাই। অনেক কষ্ট করে সে দৃশ্য দেখে নিচে নেমে আসতে হল বিজয়াকে।

Read More »
সব্যসাচী সরকার

তালিবানি কবিতাগুচ্ছ

তালিবান। জঙ্গিগোষ্ঠী বলেই দুনিয়াজোড়া ডাক। আফগানিস্তানের ঊষর মরুভূমি, সশস্ত্র যোদ্ধা চলেছে হননের উদ্দেশ্যে। মানে, স্বাধীন হতে… দিনান্তে তাঁদের কেউ কেউ কবিতা লিখতেন। ২০১২ সালে লন্ডনের প্রকাশনা C. Hurst & Co Publishers Ltd প্রথম সংকলন প্রকাশ করে ‘Poetry of the Taliban’। সেই সম্ভার থেকে নির্বাচিত তিনটি কবিতার অনুবাদ।

Read More »
নিখিল চিত্রকর

নিখিল চিত্রকরের কবিতাগুচ্ছ

দূর পাহাড়ের গায়ে ডানা মেলে/ বসে আছে একটুকরো মেঘ। বৈরাগী প্রজাপতি।/ সন্ন্যাস-মৌনতা ভেঙে যে পাহাড় একদিন/ অশ্রাব্য-মুখর হবে, ছল-কোলাহলে ভেসে যাবে তার/ ভার্জিন-ফুলগোছা, হয়তো বা কোনও খরস্রোতা/ শুকিয়ে শুকিয়ে হবে কাঠ,/ অনভিপ্রেত প্রত্যয়-অসদ্গতি!

Read More »
শুভ্র মুখোপাধ্যায়

নগর জীবন ছবির মতন হয়তো

আরও উপযুক্ত, আরও আরও সাশ্রয়ী, এসবের টানে প্রযুক্তি গবেষণা এগিয়ে চলে। সময়ের উদ্বর্তনে পুরনো সে-সব আলোর অনেকেই আজ আর নেই। নিয়ন আলো কিন্তু যাই যাই করে আজও পুরোপুরি যেতে পারেনি। এই এলইডি আলোর দাপটের সময়কালেও।

Read More »