Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

তিনি সান্দ্রা, মানবাধিকার পাওয়া একমাত্র ‘মানবেতর মানুষী’

নাম তাঁর সান্দ্রা। জন্ম, ১৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৬। স্ত্রী ওরাংওটাং। প্রকৃতিতে বন্যপ্রাণী, প্রতিষ্ঠা বা মর্যাদায় ‘মানবেতর মানুষী’। যিনি ‘মানবাধিকার’ পাওয়া একমাত্র মানবেতর প্রাণী। যিনি ভালবাসার পাত্রের সঙ্গে ভ্যালেন্টাইন দিবসে একান্তে নিজের জন্মদিনও পালন করেন। বনমানুষীকে আপনি-আজ্ঞে সম্বোধন? আজ্ঞে হ্যাঁ, ঠিকই পড়ছেন! কারণ, মনুষ্যেতর প্রাণীদের মধ্যে বিশ্বে তিনিই প্রথম ‘মানবেতর ব্যক্তি’-র মর্যাদা ও অধিকারের আইনি স্বীকৃতি পেয়েছিলেন। তাই সান্দ্রা আইনত কোনও বন্যপ্রাণী নন, বরং একজন ‘মানবেতর মানুষী’।

প্রায় আড়াই দশক বন্দি ও নিঃসঙ্গ সান্দ্রাকে মুক্ত করতে আদালত তাঁকে ব্যক্তির মৌলিক অধিকার প্রদানের কথা ঘোষণা করে, যাতে তাঁর জীবন, স্বাধীনতা সুনিশ্চিত হয় এবং শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পান তিনি। এর পর থেকেই রাষ্ট্রসংঘ নির্দেশিত মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র অনুযায়ী বিশ্বের সকল মানুষ যে যে মৌলিক অধিকার ও উন্নত জীবনযাত্রার সুবিধা ভোগ করেন, তা পাওয়ার অধিকারিণী হয়েছেন সান্দ্রা।

সান্দ্রার জন্ম জার্মানিতে, এক চিড়িয়াখানায়। এর পর আর্জেন্টিনার বুয়েনস আইরেস শহরে অধুনা উঠে যাওয়া এক চিড়িয়াঘরে খাঁচাবন্দি জীবন কাটাতে হয় দীর্ঘ ২৫ বছর। মাঝখানে ১৯৯৯-এ সান্দ্রার দু’টি মেয়ে হয়েছিল। সেই দুই কন্যা ‘শেমবিরা’ আর ‘গেমবিরা’-কে ২০০৮-এ চিনের একটি বন্যপ্রাণী পার্কে স্থানান্তরিত করা হয়। সেই পর্বে অনেকগুলো বছর অন্য ওরাংওটাংদের সাহচর্য ছাড়াই নিঃসঙ্গভাবে কাটে তাঁর। এই অসহায় পরিস্থিতি থেকে তাঁকে উদ্ধারে ২০১৪-তে সান্দ্রার হয়ে মামলা দায়ের করেন প্রাণীদের হয়ে ওকালতি করা একদল আইনজীবী। সেই মামলার জেরে আন্তর্জাতিক মহলে পরিচিতি পেয়েছিলেন সান্দ্রা। মামলায় একটি আদালতের বিচারকরা সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেন, যে, সান্দ্রা একজন ‘মানবেতর ব্যক্তি, (যার) কিছু মৌলিক মানবাধিকার রয়েছে।’ রায়দানের সময় বিচারক এলেনা লিবারেটরি নির্দেশ দেন, সান্দ্রাকে কোনও সুখ্যাত নিভৃত আবাসে স্থানান্তরিত করতে হবে, যেখানে তাঁর মৌলিক চাহিদাগুলি সহজ-স্বাভাবিকভাবে পূরণ হতে পারে।

এই ঐতিহাসিক রায়ের ঘটনা ২০১৫-র। তার পরও দীর্ঘ বিধির বাধা ডিঙিয়ে ২০১৯-এ সান্দ্রার ঠাঁই হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার ওয়াউচুলায় সেন্টার ফর গ্রেট এপস-এ (সিজিএ)। এখানে এসে তাঁর একাকিত্ব ঘুচেছে। সবুজঘেরা সেই অভয়ারণ্যে তাঁর চেয়ে আড়াই বছরের ছোট স্বজাতীয় পুরুষ ‘জেথরো’র প্রতি আকর্ষণ অনুভব করেন সান্দ্রা। শান্ত ও কোমল স্বভাবের জেথরোও সান্দ্রার দেহরূপসুধা আকণ্ঠ পান করেছে। পরস্পরকে জানা এবং বিশ্বাসী হওয়ার প্রক্রিয়া চলাকালীন জেথরোকে দূর থেকে পর্যবেক্ষণ ও অনুসরণ করেছেন সান্দ্রা। অবশেষে সম্পর্কের প্রতি আস্থা অর্জন করায় জেথরোকে ক্রমে ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। ক্রমে তারা পরস্পরের নির্ভরযোগ্য সঙ্গী হয়ে উঠেছেন। এখন তাঁদের অবাধ ‘মেলামেশা’। ঠিক যেন কোনও মানবীর প্রণয়কাহিনির অংশ। হবে নাই বা কেন? জিন গবেষণাতেও প্রমাণ মিলেছে, এই ওরাংওটাংদের জিনগত বৈশিষ্ট্য মানুষের অনেকটাই কাছাকাছি। উভয়ের মধ্যে প্রায় ৯৬ শতাংশ মিল রয়েছে যে!

চিত্র : গুগল
5 1 vote
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments

Recent Posts

সাবিনা ইয়াসমিন

শিলং ঘোরা

নদীর মাঝখানে একটা মস্ত পাথরের চাঁই। তারপরে সিলেট, বাংলাদেশের শুরু। কোনও বেড়া নেই। প্রকৃতি নিজে দাঁড়িয়ে দুই পারের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

আষাঢ়স্য প্রথম দিবস

পয়লা আষাঢ় বলতে অবধারিতভাবে যে কবিকে মনে না এসে পারে না, তিনি হলেন মহাকবি কালিদাস। তিনি তাঁর ‘মেঘদূত’ কাব্যে পয়লা আষাঢ়কে অমরত্ব দিয়ে গেছেন।

Read More »
উত্তম মাহাত

কল্পোত্তমের দুটি কবিতা

দশাধিক বছরের সূর্যোদয় মনে রেখে/ শিখেছি সংযম, শিখেছি হিসেব,/ কতটা দূরত্ব বজায় রাখলে শোনা যায়/ তোমার গুনগুন। দেখা যায়/
বাতাসের দোলায় সরে যাওয়া পাতার ফাঁকে/ জেগে ওঠা তোমার কৎবেল।// দৃষ্টি ফেরাও, পলাশের ফুলের মতো/ ফুটিয়ে রেখে অগুনতি কুঁড়ি/ দৃষ্টি ফেরাও সুগভীর খাতে/ বুঝিয়ে দাও/ তোমার স্পর্শ ছাড়া অসম্পূর্ণ আমার হাঁটাহাঁটি।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়: অনন্যতাসমূহ

বিভূতিভূষণ, বনফুল, সতীনাথ ভাদুড়ীর মতো তিনিও ডায়েরি লিখতেন। এ ডায়েরি অন্য এক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সামনে এনে দাঁড় করায়। মদ্যাসক্ত মানিক হাসপাতালে লুকিয়ে রাখছেন মদের বোতল। ডাক্তার-নার্সকে লুকিয়ে মদ খাচ্ছেন। আর বাঁচার আকুলতায় মার্ক্সবাদী মানিক কালীর নাম জপ করছেন! তবু যদি শেষরক্ষা হত! মধুসূদন ও ঋত্বিক যেমন, ঠিক তেমন করেই অতিরিক্ত মদ্যপান তাঁর অকালমৃত্যু ডেকে আনল!

Read More »
মধুপর্ণা বসু

মধুপর্ণা বসুর দুটি কবিতা

ভয় পেলে ভয়ংকর সত্যি ধারালো ছুরির মতো/ খুব সন্তর্পণে এফোঁড়ওফোঁড় তবুও অদৃশ্য ক্ষত,/ ছিঁড়ে ফেলে মধ্যদিনের ভাতকাপড়ে এলাহি ঘুম/ দিন মাস বছরের বেহিসেবি অতিক্রান্ত নিঃঝুম।/ গণনা থাক, শুধু বয়ে চলে যাওয়া স্রোতের মুখে/ কোনদিন এর উত্তর প্রকাশ্যে গাঁথা হবে জনসম্মুখে।/ ততক্ষণে তারাদের সাথে বুড়ি চাঁদ ডুবেছে এখন,/ খুঁজে নিতে পারঙ্গম দুদণ্ড লজ্জাহীন সহবাস মন।

Read More »
নন্দদুলাল চট্টোপাধ্যায়

ছোটগল্প: জমির বিষ

বিষয় মানেই বিষ। তালুকেরও হুল ছিল। বছরে দু’বার খাজনা দিতে হতো। আশ্বিন মাসে দুশ’ টাকা আর চত্তির মাসে শেষ কিস্তি আরো দুশ’ টাকা। এই চারশ’ টাকা খাজনার চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত। সে বছর বাবার ভীষণ অসুখ। বাতে একদম পঙ্গু, শয্যাশায়ী। অসুস্থ হয়ে জমিদারের ছুটি মিলল। কিন্তু খাজনা জমা দেবার ছুটি ছিল না। চত্তির মাসের শেষ তারিখে টাকা জমা না পড়লেই সম্পত্তি নিলাম হয়ে যেত।

Read More »