Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

রাশিয়ার গল্প: প্রেমে ফেলা

ওলগা সাভেলিয়েভা

অনুবাদ: ড. স্মিতা সেনগুপ্ত

দেখামাত্র আমার পছন্দ হয়ে গেছিল মিশাকে। কিন্তু আমি তক্ষুনি বুঝিনি কেন।

দেখতে আর পাঁচটা ছেলের মতোই। আশেপাশে আরও সুন্দর, আরও লম্বা, আরও হান্ডসাম অনেক ছেলে ছিল। কিন্তু ও তাকাল— আর চুম্বকের মতো আকর্ষণ করল।

নির্ভয়ে বলা যায় যে, এটা প্রথম দর্শনেই প্রেম।

কিছুদিন পরে আমি এর রহস্য উদ্ধার করতে পেরেছিলাম। আমার অনুভূতি ব্যবচ্ছেদ করে বুঝতে পেরেছিলাম ব্যাপারটা কী।

যে-কোনও ধরনের সহানুভূতির কোনও না কোনও কারণ থাকে।

মানুষ হয় অন্যজনের মধ্যে নিজেকে চিনতে পারে আর তাদের ওয়েভ লেন্থ মিলে যায়। নয়তো অন্যের মধ্যে দেখে সেটা, যেটার ঘাটতি আছে তার নিজেরই।

মিশা খুব আত্মবিশ্বাসী ছিল। এত বেশি যে, ক্ষেত্রবিশেষে বাড়াবাড়ি রকমের।

আর আমি— উল্টো। এতটাই কম আত্মবিশ্বাসী, যে বলার নয়।

আমি তার আত্মবিশ্বাসে এতটাই আবাক হয়েছিলাম যে, না ভালবেসে পারিনি। রূপকে বলতে গেলে, আমি স্বনির্ভরতার জন্য এক তীব্র তৃষ্ণা অনুভব করছিলাম, আর ওর সেই গুণটা ছিল পুরো এক কুয়ো।

আমি সব সময় ওর কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করতাম। আমার জ্বর জ্বর লাগত যদি ও ক্লাসে না আসত আর আমাদের দেখা না হত। কী করে সম্ভব? আজ ওকে ছাড়া? এক চুমুকও না?!

আত্মবিশ্বাসী লোকের পাশে সবসময় সহজ আর শান্ত থাকা যায়। আমি তার দিকে মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতাম: যদি আগুন লাগে, সবাই চারপাশে দৌড়বে, ‘আগুন! আগুন!’ বলে চিৎকার করবে আর আতঙ্ক ছড়াবে, আর ও নেভাবে। আর আমি, যথারীতি, জল ভর্তি বালতি এগিয়ে দেব।

আমি কাছাকাছি থাকতে চাইতাম, চেষ্টা করতাম ওর মনে ধরার। কীভাবে আর চেষ্টা করতাম, শুধু তাকিয়ে থাকতাম, লজ্জা পেতাম আর, যদি চোখে চোখ পড়ে যেত, তাড়াতাড়ি চোখ সরিয়ে নিতাম। অবশ্য নামেই ফ্লার্টিং।

কিন্তু আমি জেন আয়ার ছিলাম, সাশা গ্রে নয়। গর্ব আর সংস্কার আমার মধ্যে ফুঁসে উঠত, অন্য কিছু নয়।

এক ভয়ানক দিনে আমি জানতে পারলাম যে, মিশার এক বান্ধবী আছে। সে তার সাথে দেখা করে, তাকে ইনস্টিটিউট পর্যন্ত পৌঁছে দেয়, থাকেও তারা একসাথে, এমনকি একটা বেড়ালছানাকেও পোষ্য নিয়েছে।

আমার পৃথিবী চুরমার হয়ে গেল। বেড়ালছানা পোষে বাচ্চা বড় করার মহড়া হিসাবে। তার মানে, ওদের সুখী এবং সম্পূর্ণ পরিবার।

আর আমি এমনি… একজন সহপাঠিনী।

‘তুই ঠিক কী আশা করেছিলি?’— আমি নিজেকে নিজে প্রশ্ন করলাম। ‘কোন দুঃখে সে তোর দিকে তাকাবে?’

আমার বান্ধবী গভীর নেক লাইন জামা পরত। সে বলেছিল: ‘ট্রাম্প কার্ড নিয়ে ঘুরতে হয়।’

আমার সেরকম ট্রাম্প কার্ড ছিল না। তাই… জ্যাক।

আমার ট্রাম্প কার্ড ছিল পা, কিন্তু আমি তো এমনিতেই সেগুলো দিয়েই হাঁটতাম। কীভাবে সেগুলোকে আরও আকর্ষণীয় করা যায় তা আমার জানা ছিল না। দেখা হলে আনন্দে দুদিকে পা ছড়িয়ে বসে পড়ব (ব্যালেরিনাদের মতো)? নাকি ঘাড়ের পেছনে একটা পা ঝুলিয়ে রাখব?

কম আত্মবিশ্বাসীরা আমাকে বুঝবে: আমি নিজেকে পাত্রী-বাজারে প্রতিযোগিতায় নামার যোগ্য বলে মোটেও মনে করতাম না।

আমার মনে হচ্ছিল আমি খুব সাধারণ। কেউ না। কিছুই না।

একদিন সন্ধেবেলা মিশা আমাকে বাড়ি পৌঁছে দিল। আমরা, শুধুই বন্ধু, ইনস্টিটিউট থেকে যখন বেরলাম তখন অন্ধকার হয়ে গেছে, বাস স্টপের দিকে গেলাম। দেখলাম কীভাবে আমার বাসটা চলে গেল। আর পরের বাসটা ৪০ মিনিট বাদে। আমরা দৌড়লাম, চিৎকার করলাম, কিন্তু ধরতে পারলাম না। বাসটা সানন্দে সাইড লাইট দিয়ে চোখ মেরে চলে গেল।

‘ধুর’, দীর্ঘশ্বাস ফেললাম আমি। ‘আমি এখানেই অক্কা পাব।’

আমার ঠান্ডা লাগছিল। মিশা আমাকে নিজের জ্যাকেটটা দিল, আমার ওর জন্য ঠান্ডা লাগতে শুরু করল। খুব ইচ্ছে করছিল জড়িয়ে ধরতে, যাতে গরম হওয়া যায়, কিন্তু তা সম্ভব নয়, ওর তো একটা বেড়ালছানা আছে। আর কোন একটা মেয়ে, যে কিনা বেড়ালটার ট্রে পরিষ্কার করে।

আমরা মিনিট পাঁচেক বাস স্টপে দাঁড়িয়েছিলাম আর হঠাৎ দেখি যে, আমার বাস আসছে কিন্তু খালি। হয়তো কিছু ভেঙে গেছিল, হয়তো রুটের বাস নয়, স্টপগুলোতে থামছে না।

‘আরে, চল জিজ্ঞাসা করা যাক, দৈবাৎ যদি সেদিকেই যায় যেদিকে তোর দরকার?’ প্রস্তাব দিল মিশা।

‘কী করে জিজ্ঞাসা করব, ওটা তো থামবে না।’

‘থামবে।’

‘তুই কী করে ভাবছিস? এটা অসম্ভব!’

মিশা দৌড়ে রাস্তার দিকে গেল আর তার হাতটা এমনভাবে বাড়াল যেন ট্যাক্সি ধরছে। আর ধরল একটা বাস। সেটা থামল, যেন মাটিতে বসে গেল, সবুজ রঙের বাসটা। আমি ওটাকে সারাজীবনের মতো মনে রেখে দিলাম।

‘আচ্ছা আপনি কি ঘটনাক্রমে ইজমাইলোভস্কি পার্কের দিকে যাচ্ছেন?’ মিশা ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করল।

‘হ্যাঁ, আমি ডিপোতে যাচ্ছি।’

‘মেয়েটাকে নামিয়ে দেবেন কি?’ ঠান্ডায় জমে যাবে যে। ওকে ওদিকেই যেতে হবে।

ড্রাইভার নিঃশব্দে সামনের দরজা খুলে দিল, আর মিশা বীরের মতো তার হাত আমার দিকে বাড়িয়ে দিল।

আমি হতবাক হয়ে খালি বাসে উঠে পড়লাম, শেষ মুহূর্তে ওর জ্যাকেটের কথা মনে পড়ল।

‘আমি নম্বর লিখে নিয়েছি, ভয় পাস না, বাড়ি পৌঁছে ফোন করিস’, মিশা তাড়াহুড়ো করে আমাকে ফিসফিসিয়ে বলল। ‘আর আসল কথা, মনে রাখিস: অসম্ভব বলে কিছু হয় না।’

দশ মিনিট পরে আমরা ওভারটেক করলাম প্রথম বাসটাকে, যেটায় করে আমার যাওয়ার কথা ছিল। আমি তখনও ধাতস্থ হতে পারিনি।

ওইখানে, ওই বাসের মধ্যেই, আমি খুব চাইছিলাম আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠতে। চাপ দিয়ে নিজের মধ্যে গুণটাকে ঢোকাতে।

যাতে ভবিষ্যতে অজানা কোথাও থেকে ফুল স্পিডে আসা দরকারি বাসগুলোকে আমি নিজেই থামাতে পারি। আমি বুঝতে পেরেছি যে, আত্মবিশ্বাস হল ভাগ্যের পরিকল্পনার চেয়ে দ্রুত এবং আরও আরামে যেখানে যেতে হবে সেখানে পৌঁছানোর ক্ষমতা।

আর এও বুঝলাম যে, আমি খুব চাই যাতে মিশা আমার প্রেমে পড়ে। যাতে সে সারাজীবন শুধু আমাকেই কোথাও যাওয়ার সময় পৌঁছে দেয় বা কোথাও থেকে ফেরার সময় নিয়ে আসে, আমাকেই কেবল নিজের জ্যাকেট দেয় আর শুধু আমার জন্যই বাস থামায়।

ও নিজেই বলেছে যে, অসম্ভব বলে কোনও কিছুর অস্তিত্ব নেই, এমনকি প্রমাণও করেছে। এক কথায় দোষ ওরই।

এই বাসেই, ইজমাইলোভস্কি পার্কের স্টপ দুয়েক আগে জন্ম হল নতুন এক মানুষের– আত্মবিশ্বাসে ভরপুর ওলিয়া।

তাহলে কী দাঁড়াচ্ছে? একটা ছেলে আছে যাকে আমার পচ্ছন্দ। কিন্তু সে এনগেজড্।

কিন্তু, অন্যদিকে, সে স্পষ্টতই আমার প্রতি টান অনুভব করে, হয়তো বা অজান্তেই।

ইনস্টিটিউটে সব অফ পিরিয়ডে আমরা একসাথে হাসি, ঘুরে বেড়াই, আড্ডা মারি, এমনকি সাথে স্যান্ডউইচও নিয়ে যাই হিসেব করে যে, ‘আমি একা টিফিন খাব না।’

অর্থাৎ, আমার ট্রাম্প কার্ড নেকলাইন বা মিনিস্কার্টে নয়, এমনকি রান্নাতেও নয়: আমার হ্যাম স্যান্ডউইচগুলো— অবশ্যই সেকরম কিছু নয়, যা ওকে আমার সঙ্গ পাওয়ায় প্রলুব্ধ করে। ওর হৃদয়ে প্রবেশপথটা কাঁটায় ভরা আর অস্পষ্ট, আর সেটা আমার প্রমাণহীন বুদ্ধির খালবিল পেরিয়ে।

আমি আত্মবিশ্বাসের সাথে নিজের কর্তব্য ঠিক করে ফেলেছি: আমাকে ওর কাছে বেড়ালছানার মালকিনের চেয়ে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতেই হবে।

এরপর যা ঘটল তা হাস্যকর।

আমি খুব বই পড়তাম। তখন মারিনিনা আর দাশকোভার ডিটেকটিভ গল্প জনপ্রিয়তার শীর্ষে ছিল, তা যাইহোক ওগুলো আমি সব পড়ে ফেললাম আর সেখান থেকে অনেক ইন্টারেস্টিং জ্ঞান সংগ্রহ করলাম।

মিশাকে জেতার জন্য আমার পরবর্তী কৌশলগুলো ছিল সরলতা এবং অদূরদর্শিতা দ্বারা নির্ধারিত: স্যান্ডউইচের পাশাপাশি, আমি মিশাকে আমার উইকএন্ড কীরকম কেটেছে সে গল্পগুলোও গেলাতাম। আর দিনগুলো খুবই ব্যস্ততায় কাটত, যেহেতু গোয়েন্দা গল্পগুলোর প্রধান চরিত্রগুলো যে সমস্ত সমস্যায় পড়ত সেগুলোর প্রায় সব ক’টা সমস্যায় শনি এবং রবিবারের মধ্যে আমাকে পড়তে হত। গল্পটা, প্রথম পুরুষে অর্থাৎ আমি করে বলায় আর রাজধানীর একটা আবাসিক এলাকায় স্থানান্তরিত হয়ে, আমার অভিনয়ে একটা অবিশ্বাস্য রহস্যময় পর্যায়ে পৌঁছে যেত।

মিশা মুগ্ধ হয়ে শুনত, ওর মুখে থাকত তারিফের ছাপ। এখন, বিয়ের সতেরো বছর পরে, একমাত্র গ্রামের টক ক্রিম দিয়ে বিশেষরকম স্বাদু স্যুপ বোর্শ খাবার পরে ওর মুখের এরকম অভিব্যক্তি হয়।

আর তখন ও ওর সমস্ত চোখ দিয়ে আমাকে দেখত, আমার ব্যস্ত জীবনকে ঈর্ষা করত আর এক সেকেন্ডের জন্যও সন্দেহ করত না যে, এই সেই নিম্নবিত্ত পড়ুয়া মেয়ে, বগলে বই নিয়ে প্রতি শনিবার ছাদে ওঠে, গল্প করে মুদ্রা বিশারদদের সাথে, যারা জারের আমলের সোনার মুদ্রা খুঁজে পেয়েছে আর ঘটনাক্রমে সন্ধান পেয়েছে সেইসব অপরাধীদের যারা সরকারের খোঁজের তালিকায় রয়েছে।

সব মিলিয়ে কৌশল কাজ করেছিল। মিশা গভীর প্রেমে পড়ে গেল। এক বছর পরে, আমরা একসাথে থাকতে শুরু করি আর ওর প্রাক্তন বান্ধবী বেড়ালছানা সহ তার মায়ের কাছে চলে যায়।

এই গল্পে একটা করুণ এপিসোড আছে।

এই বেড়ালছানাটা একদিন খুব অসুস্থ হয়ে পড়ে আর মারা যায়। মিশা সেটাকে কবর দেওয়ায় সাহায্য করতে গিয়েছিল। সেই মুহূর্তে আমি মিশার বাড়িতে বসেছিলাম আর ভাবছিলাম: যদি সেই প্রাক্তন বান্ধবী, মিশাকে এইভাবে ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করে থাকে? এহ বাহ্য যে, ওরা একই দুঃখে দুঃখী, কাজেই একে অপরকে আলিঙ্গন করবে… হয়তো, এই জন্যই বেড়ালছানাটাকে মেরে ফেলল? (সবারই তো জানা যে, বরদের প্রাক্তন বান্ধবীরা— ডাইনি।)

এই চিন্তার পরে, আমি সিদ্ধান্ত নিলাম যে ডিটেকটিভ পড়া বন্ধ করার সময় এসেছে।

আর মিথ্যা বলা থামানোরও সময় হয়েছে। মিথ্যার ওপর সংসার গড়া ঠিক নয়।

সেদিন সন্ধেতেই, যখন মিশা বাড়ি ফিরল, আমি বললাম:

—‘তোকে কিছু পড়তে দেব।’

আর তাকে মারিনিনার গল্পসংগ্রহ এগিয়ে দিলাম।

—‘আজ?’ মিশা আঁতকে উঠল।

‘না। আজই নয়। ধীরে ধীরে। পড়ার পর আমার সম্পর্কে তোর মনে প্রশ্ন জাগবে।’

কিন্তু আমি এই গোপনীয়তা আমার সাথে বয়ে বয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি।

মিশা কৌতূহলী হয়ে তক্ষুনি পড়তে শুরু করে দিল। আমি পড়া শেষ হবার অপেক্ষায় রইলাম।

পুরো উইকএন্ড ধরে ও পড়ল। আমি ওই ক’দিনের জন্য আমার বান্ধবীর কাছে চলে গেলাম।

যখন আমাদের দেখা হল, ও আমার দিকে তাকাল সেই তারিফের চোখেই।

‘আমি জানি কেন তোকে আমার পছন্দ’, সে বলল। ‘তোর আত্মবিশ্বাস। তুই এত আত্মবিশ্বাসের সাথে আর এমন সূক্ষ্মভাবে মিথ্যা বলেছিস যে, আমি এক সেকেন্ডের জন্যও সন্দেহ করিনি, যেন এ সমস্ত তোর সাথেই ঘটেছে। আমি যখন বইটা পড়ছিলাম, প্রথমে নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারিনি। সত্যি কথা বলতে, প্রথমে আমি ভেবেছিলাম, যে লেখিকা মারিনিনা— আসলে তুই…’

আমি হেসে ফেলেছিলাম। এখন— এটা পারিবারিক গল্প। কীভাবে অনিশ্চিত ওলিয়া আত্মবিশ্বাসী হওয়া অভ্যাস করেছিল আর প্রেমযুদ্ধে জিতেছিল সেই নিয়ে।

আর আমি খালি জানতাম গোপন কথাটা: ‘অসম্ভব’ একটা শব্দ মাত্র। যেটা হয়তো আদৌ নেই।

বিশেষ করে যখন প্রেম ইতিমধ্যে হয়েই গেছে…

চিত্রণ: মনিকা সাহা

***

লেখক পরিচিতি

লেখিকা ওলগা সাভেলিয়েভার জন্ম ১৯৮১ সালের ৫নভেম্বর মস্কোতে। তিনি একজন জনপ্রিয় ব্লগার, আন্তর্জাতিক পাঠক (দর্শক) মহলে পরিচিতা, পাবলিক ফিগার, ইনফ্লুয়েন্সার এবং বহু বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্না মোটিভেশনাল স্পিকার, বড় মাপের ইভেন্ট এবং বিভিন্ন পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের সঞ্চালিকা। ওলগা ১২ বছর ফেডারেল নির্বাহী সংস্থার প্রেস সার্ভিসের প্রধান ছিলেন। একজন সোশ্যাল ব্লগার ও ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে তিনি রাশিয়ার প্রধান দাতব্য কার্যক্রমের প্রতিষ্ঠানগুলোকে তথ্য সহায়তা দিয়ে থাকেন। সুখ এবং নিজের জীবনের উদ্দেশ্য খুঁজে বের করা নিয়ে উজ্জ্বল, মজার, জীবনভিত্তিক ‘স্ট্যান্ডআপ’ শেখান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

3 × 2 =

Recent Posts

মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

বাইশে শ্রাবণ

রবীন্দ্রনাথ-ও কিন্তু আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন। যে কবি চির আশাবাদী, একটা সময় প্রখর বিষণ্নতা গ্রাস করেছিল তাঁকেও। ইউনানি মতে একবার নিজের চিকিৎসা করান তিনি। তাইতেই এমন মানসিক বিপর্যয়। অবসাদ, কান্না পাওয়া, আত্মহননেচ্ছা, সাময়িকভাবে এসব পেয়ে বসেছিল তাঁকে। পুত্র রথীন্দ্রনাথকে চিঠিতে জানাচ্ছেন তিনি, ‘দিনরাত্রি মরবার কথা এবং মরবার ইচ্ছা আমাকে তাড়না করছে। মনে হচ্ছে আমার দ্বারা কিছুই হয় নি এবং হবে না। আমার জীবন যেন আগাগোড়া ব্যর্থ।’ কবির এহেন অনুভব, ভাবা যায়? এন্ড্রুজকে লেখা চিঠিতেও এর সমর্থন আছে, ‘l feel that l am on the brink of a breakdown.’

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

মোহন রায়হান: এক সুহানা সফর

মোহন রায়হান জীবনযাপনেও দলছুট এক কবি, একলা চলার ব্রত ও অভীপ্সা নিয়ে তিনি পথ চলেন। সেজন্য কম প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়নি তাঁকে, এমনকী কারাবাস ও শারীরিক নির্যাতন, যে জন্য দীর্ঘ চিকিৎসার জন্য চেন্নাইয়ের হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল তাঁকে। ‘কবি ছাড়া আমাদের জয় বৃথা’, আপ্তবাক্যটি মোহন রায়হান নামের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। মোহন রায়হান কবিতায় সহসা আগন্তুক নন। তাঁর আছে পরম্পরা, ঐতিহ্য, পুরনো দশকসমূহের অনুবর্তিতা আর উত্তরাধিকার। একাত্তর, তার-ও আগের বাহান্নো, বা সাতচল্লিশ পূর্ববঙ্গ বা বাংলাদেশের কবিতায় যে রেখাপাত ঘটিয়েছে, আলো আর অন্ধকারের কলমকারিতে তার মহাগীত রচিত হয়ে আছে।

Read More »
সালমিন রহমান

বেলুচিস্তান সংকট মোকাবিলা কতটা সহজ

বেলুচিস্তানের সংকটকে কেবল বিচ্ছিন্নতাবাদ কিংবা কেবল নিরাপত্তা সমস্যার দৃষ্টিতে দেখলে পূর্ণ চিত্রটি বোঝা যায় না। এখানে ইতিহাস, জাতিগত পরিচয়, প্রাকৃতিক সম্পদ, উন্নয়ন বৈষম্য, মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং আঞ্চলিক শক্তির প্রতিযোগিতা— সবকিছু একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। স্বাধীন বেলুচিস্তান গঠিত হলে বহু মানুষের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা পূরণ হতে পারে। একই সঙ্গে একটি নতুন রাষ্ট্রের সামনে দাঁড়াবে নিরাপত্তা, অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং রাষ্ট্র পরিচালনার কঠিন বাস্তবতা। অন্যদিকে, পাকিস্তান, চীন, ভারত এবং সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল ও দুই বিখ্যাত বাঙালি

কী অসাধারণ শিক্ষাই না আমরা পেতে পারি, উৎসাহিত হয়ে পারি খেলোয়াড়দের থেকে! একটি উদাহরণ: প্রথম বিশ্বকাপে সোনাজয়ী উরুগুয়ে দলে ছিলেন হেক্টর কাস্ত্রো। তেরো বছর বয়সে মেশিনে তাঁর ডানহাত কাটা পড়েছিল। অদম্য উৎসাহে তিনি ফুটবল খেলেছেন, জাতীয় দলে স্থান করে নিয়েছেন, আর ফাইনালে জয়সূচক গোলটিও তাঁর-ই করা! তাঁর স্বদেশবাসী তাঁকে ডাকতেন— ‘এল ডিভিনো মানকো’, অর্থাৎ একহাত-বিশিষ্ট ঈশ্বর।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

আমেরিকার স্বাধীনতা: আড়াইশো বছর

১৬০৭ থেকে ১৭৮৩ পর্যন্ত সময়কাল আমেরিকায় ব্রিটেনের ঔপনিবেশিক রাজত্ব। আজকের দিনে যে আমেরিকা, তা কিন্তু পুরোটা ব্রিটিশদের দখলে ছিল না। ছিল ভার্জিনিয়া, ম্যাসাচুসেটস, নিউ ইয়র্ক, পেনসিলভেনিয়া-সহ ১৩টি রাজ্য। আর কানাডার বেশ কিছু অঞ্চল। আমেরিকার অন্যান্য স্থানে ফরাসি, ডাচ, নরওয়েজিয়, সুইডিস উপনিবেশ-ও ছিল। তাছাড়া রাশিয়া আমেরিকার আলাস্কা থেকে ক্যালিফোর্নিয়া পর্যন্ত দখল করে। পরে সে আলাস্কা আমেরিকার কাছে বিক্রিও করে দেয়।

Read More »
অপরাজিতা মৈত্র

গোদাবরীর গোমুখে

গঙ্গার মর্ত্যে আগমন নিয়ে যেমন ভগীরথের গল্প, তেমনই গোদাবরীর উৎসস্থলে না এলে জানা যেত না, দক্ষিণের গঙ্গা নিয়েও আছে হাজার গল্প। যে গল্প জানাবে আজও এই অঞ্চলের মানুষ অনেক সময়েই কাছাকাছি আর কোনও পানীয়জল না পেয়ে কষ্ট করে হলেও এই উৎসস্থলে এসেই শীতল এই পানীয়জল নিয়ে যান নিজেদের কাজের জন্য। গঙ্গা বা অন্য নদী সে শুধু ধার্মিক আবেগের কারণে পবিত্র না, হাজার প্রাণীর ‘তৃষ্ণা’ মেটাবার জন্য সে হয়ে ওঠে ‘দেবী’ বা ‘পবিত্র’। সে পথে মিশে যায় হাজার গল্প-কষ্ট কিংবা দিনযাপনের চরম বাস্তবতা।

Read More »