Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

বামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ছোটগল্প

বাইনোকুলারের ওপারে যে রহস্যময়ী

স্কুল ছুটি হওয়ার আগের পিরিয়ডে সুনীল আমাকে বলল, আজ আমাদের বাড়ি বাইনোকুলার আসবে। তুই যাবি দেখতে?

আকাশে তখন বাদল মেঘেরা ঘোঁট পাকাচ্ছে। মাঝে মাঝেই হাঁক পাড়ছে মেঘের দল। সুনীলের কথাটা শেষ হয়েছে কী হয়নি অমনি মেঘ গর্জায়। আমি শুনলাম মেঘ বলছে, খবরদার যাসনি। আজ বানভাসি করে দেব। বাড়ি ফিরতে পারবি না।

মেঘের কথা মিথ্যে হয় না। আমাদের ক্লাসরুমের আলোগুলো জ্বেলে ক্লাস নিচ্ছেন সুধীরঞ্জনবাবু। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস। কী রে, যাবি তো নাকি? সুনীল আমার উত্তর চাইছে।

ওকে না করাটা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। কেননা ওর বাড়ির প্রতি আমার একটা দুর্লভ টান ছিল। সেকালের মধ্যবিত্ত বাঙালি পরিবারের ছবি যেমন হত, সুনীলদের পরিবারটা ছিল তা থেকে উত্তর-দক্ষিণ আলাদা। ওদের বাড়ির ভেতরকার গন্ধটা আমাকে একটা ঝিমঝিমে মৌতাত ধরাত। আর ছিল ওদের অবহেলায় পড়ে থাকা উপচে ওঠা বৈভব।

আকাশের ধমকানি গায়ে মাখলাম না। বললাম, তোকে কোনওদিন কি না বলেছি? শুধু ভাবছিলাম বৃষ্টির কথা। রাস্তায় জল জমে গেলে কেলো হবে। আমাদের বাড়ির সামনে কোমর জল দাঁড়িয়ে যায় তা তো তুই জানিস। সুনীল আমার পাশে একটু ঝুঁকে পড়ে যেই না বলেছে, তোদের বাড়ি থেকে আমাদের বাড়ি ২০০ মিটার… অমনি সুধীরঞ্জনবাবু বললেন, ওহে তোমাদের প্রেমালাপটা থামালে বড়ু চণ্ডীদাসের ক্লাসরুমে ঢোকার সুবিধা হয়। ক্লাসে একটা হালকা হাসির রেশ ছড়িয়ে পড়ল, পুকুরে ঢিল ছুড়লে যেমনটা হয়।

সেইদিনকার মেঘের দল ছিল বোধহয় ফুটো মস্তান। নইলে পিরিয়ড শেষ হওয়ার আগেই তারা আকাশ থেকে কেটে পড়ে? তখনও কনে-দেখা আলোর মানে বুঝিনি কিন্তু এক অপরূপ আলোর ছটায় স্কুল বিল্ডিং, সবুজ মাঠ, গোলপোস্ট, বাগানের গাছপালা আনন্দে একেবারে টইটুম্বুর। সেই আলো দেখে স্যার হঠাৎ পড়া থামিয়ে বলেছিলেন, ‘মেঘ দেখে কেউ করিসনে ভয়/ আড়ালে তার সূর্য হাসে।’ তারপর জিজ্ঞাসা করলেন, এটা কার লেখা রে? কেউ হাত তুলল না দেখে স্যার নিজেই বলে যান, ‘হারা শশীর হারা হাসি/ অন্ধকারেই ফিরে আসে।’ তারপর বলেছিলেন, না রবীন্দ্রনাথ নন। ছন্দের জাদুকর– সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত।

সুনীলের বাড়িতে যখন ঢুকছি তখন শেষবেলার রোদ বেশ চড়া। সেটা ছিল শ্রাবণের শেষ। তখনও কলকাতার মানুষ কোনও বহুতল দেখেনি। আমাদের ভবানীপুরে তখন গরিব, মধ্যবিত্ত আর বড়লোক বাঙালিতে ভরপুর। ওদের বাড়িতে ঢুকতে গেলে ডানদিকে তাকালে আমাদের বাড়ি দেখা যায়। দেখলাম, দোতলার বারান্দায় কেউ নেই। ওর বাড়িতে সেদিন যে মোগলাই পরোটা আর কষা মাংসের গন্ধ পেয়েছিলাম, তা আজও মনে আছে।

সুনীলদের ছোট বাড়ি কিন্তু অনেক মানুষ। যাকে বলে গিজগিজে ভিড়। ওদের বৈঠকখানায় বসার অনুমতি ছিল না। কেননা ওই ঘরটা ছিল ওদের বাবার জন্য শুধুমাত্র নির্দিষ্ট। ওর বাবা ছিলেন থানার দারোগা। কলকাতার নানা থানায় পোস্টিং হলেও তিনি বাড়ি থেকেই যাতায়াত করতেন। কদাচিৎ ছুটি মিললে ওই ঘরে বসত সহকর্মীদের সঙ্গে আড্ডা। তখন ওদের বাড়ি থেকে ভেসে আসত ভুরভুরে বিদেশি তামাকের ধোঁয়া। যার সঙ্গে মিশে থাকত কেমন একটা কুলের আচারের গন্ধ। সেই সময় ঘরে বেজে উঠত কাচের গ্লাসের গা ছোঁয়াছু্ঁয়ির শব্দ। কী আশ্চর্য, আমার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় কিছুতেই প্রশ্ন করতে দেয়নি সুনীলকে, ঘরে ওটা কীসের গন্ধ রে? পরিণত বয়সে যেদিন প্রথম কুলের আচারের গন্ধ-উৎসের সঙ্গে মুখোমুখি হই, সেদিন বুঝি মদিরার গন্ধটা ওইরকম টোকো ধরনেরই হয়।

সুনীল ছিল আমার অত্যন্ত অন্তরঙ্গ সুহৃদ। বাড়ির অনেক কথা সে এমন অবলীলায় বলে দিত যে, আমি অবাক হতাম। আসলে ও বিশ্বাস করত, ওর আর আমার মধ্যে যেসব কথাবার্তা হয়, তা কোনওদিন তিন কান হবে না। সেদিন যেমন সে বাইনোকুলার দেখাতে ডেকেছিল, তেমনই ডাক আরও কয়েকবার পেয়েছিলাম। তার মাস তিনেক আগে ও বলেছিল, আজ আমাদের বাড়ি এনসাইক্লোপেডিয়া ব্রিটানিকা আসবে। দাম পড়েছে পাঁচ হাজার টাকা। সে আমলের পাঁচ হাজারে একটা বড় ক্লাবের দুর্গাপুজো হয়ে যেত। খুব ইচ্ছে করত ওকে জিজ্ঞাসা করতে, এত টাকার জিনিস এমন ঘনঘন আসে কীভাবে ওদের বাড়িতে? কিন্তু ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় ফের বাকরোধ করেছিল একেবারে ঠিক মুহূর্তে। তবে একই পাড়ায় বাড়ি হওয়ায় এর-তার মুখ থেকে ওর বাবার সম্বন্ধে বিস্তর খবরাখবর পেতাম। আর সেই সব খবরে সত্যের আধিক্য থাকত বলেই সুনীল সব সময় বলত, আজ আমাদের বাড়ি এটা কিংবা ওটা আসবে। কে সেটা আনছেন কিনে কিংবা কেউ উপহার হিসেবে দিচ্ছেন কি না তা সব সময়ই সে উহ্য রাখত।

স্কুল থেকে ফিরেছি বলে প্রচুর খাওয়ালেন ওর মা। মোগলাই পরোটা, কষা মাংস আর আমের কুচি দেওয়া ক্ষীর। মাসিমা আমাকে ভালবাসতেন খুব। বললেন, খেয়েদেয়ে নতুন জিনিসটা দেখে যাস। সানি কিছু বলেনি তোকে? আমি বললাম, মাসিমা, সেই জন্যই তো এলাম আজ। মাসিমা বললেন, ওটা সানির ঘরেই আছে।

বাইনোকুলারটা একটা প্যাকেটের মধ্যে ছিল। সেটাকে মুক্ত করতেই ঘরে একটা বিদেশি গন্ধ ছড়িয়ে পড়ল। ও সেটা ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে দেখে বলল, এটা রাশিয়ায় তৈরি, টেন্ট কোম্পানির। চল, ছাদে না গেলে এর পাওয়ার বোঝা যাবে না।

ছাদে উঠে দেখি, আকাশের রং ডিমের কুসুমের মতো হয়ে আছে। আর আকাশ জুড়ে নরম একটা আলোর মাখামাখি। সুনীল তখন আকাশে পাখি কিংবা এরোপ্লেন দেখার চেষ্টা করছে। আমি ঠিক ওর পিছনে। অপেক্ষায় আছি কখন ও বাইনোকুলারটা হাতে দেবে। সুনীল একটু পর বাইনোকুলারটা নিচে নামিয়ে দেখছিল আশপাশের বাড়ির ছাদ, বারান্দা এবং শেষ পর্যন্ত বাড়ির সামনের রাস্তা। দেখতে দেখতেই সে মন্তব্য করছিল নানা রকম। যেমন, খুব পাওয়ারফুল বাইনোকুলার। কিংবা দত্তবাবুর কপালের আঁচিলটা পর্যন্ত বিরাট করে দেখা যাচ্ছে। বাড়ির কার্নিশে একটা পায়রা ডিম পেড়েছিল। সেটা ভাল করে দেখতে গিয়েই হল চিত্তির। তা দিতে বসা মা পায়রা উড়ে এসে সুনীলের সামনে ঝটাপটি লাগিয়ে দিল। ওকে কাটিয়ে নিচের রাস্তার দিকে বহুক্ষণ মন দিয়ে কী যেন দেখছিল ও। আমি অধৈর্য হয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, কীরে এতক্ষণ সময় নিয়ে কী দেখছিস? একটু পরেই ও যন্ত্রটা আমার হাতে দিয়ে বলল, চ্যাটার্জিদের বাড়ির রকটা ঝপ করে দেখে নে। বাইনোকুলারটা সে যখন আমাকে দিল, দেখি ওর মুখটা লাল হয়ে আছে।

বাইনোকুলার তো আর মানুষের বা নিজের চোখ নয় যে, ইচ্ছে মাত্রই ফোকাসিং করে অবজেক্ট দেখে নেওয়া যাবে। ভারী বস্তুটাকে সাবধানে হাতে ধরে ধাতস্থ হতেই সময় লাগল খানিকটা। তারপর চাটুজ্জেদের রকে পৌঁছবার আগে বাইনোকুলার আমার সামনে নিয়ে এল মস্ত একটা টেকো মাথা (বাচ্চুর বাবা), গোটা চারেক নেড়ি, ফুটপাতে বসা বিড়িওয়ালা এবং এবং। প্রথমটা দেখে চিনতেই পারিনি। একেবারে অন্যরকম। আর এত কাছে যে, আমি ভয় পেয়ে যন্ত্রটা চোখ থেকে নামিয়ে ছাদের মাঝখানে চলে আসি। সুনীল বলল কী হল? আমি বললাম, ওরে ও তো পিন্টুর বড়দি। সুনীল বলল, ওর একটা নামও আছে। তা বুঝি তুই জানিস না যেন! আমি বললাম, জানব না কেন? নন্দিনী। ভাল নাম রাজনন্দিনী। সুনীল বলে, ইয়েস। এবার ওকে স্রেফ নন্দিনী হিসেবে ভাল করে দেখ। একটা অদ্ভুত ফিলিং হবে কিন্তু। একটু আগে আমারও হচ্ছিল। অতএব ফের পাঁচিলের সামনে যাই এবং সাবধানে নন্দিনীকে ফোকাস করি। হ্যাঁরে, বাইনোকুলার কি মানুষকে সুন্দর করে তোলে? আমি ফিসফিস করে জানতে চাইলাম। সুনীল বলল, আগে দেখ। এবং আমি ফের দেখি। আজন্ম চেনা পিন্টুর বড়দি নন্দিনী যেন নতুন হয়ে আমার চোখে ধরা দেয়। উজ্জ্বল সোনালি আলোর ছটা তখন আর নেই। তবু সেই নরম কমলা আলোয় নন্দিনী যেন পোটোপাড়ার লক্ষ্মী ঠাকুর। একটা আটপৌরে শাড়ি, তাও তখন কী ঝলমলে। আমি দেখতে থাকি নন্দিনীকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে। তার চোখের এত ঘন গভীর কালো পাতা কখনও চোখেই পড়েনি আমার। ওর পায়ের পাতাটা দেখে আমি মূর্ছা যাই আর কী। ওর মুখমণ্ডল, কানের লতি, বাহুমূল, শরীরের উপর থেকে নিচ প্রতি ইঞ্চি দেখি আর ভাবি, নন্দিনীর চেয়ে সুন্দরী বুঝি ভূভারতে নেই। সুনীল একটু পরে যন্ত্রটা আমার হাত থেকে কেড়ে নিয়ে বলল, নে নে খুব হয়েছে। আর অত মেয়ে দেখতে হবে না। চল, নিচে গিয়ে বাইনোকুলারের মেকানিজমটা পড়ি ভাল করে।

আমি বলেছিলাম, আমি ফিজিক্স পড়তে চাই না। সুনীল অবাক হল একটু। তারপর বলল, কেন? আমি বললাম, ফিজিক্স বাইনোকুলারের আদ্যোপান্ত বোঝাবে বটে কিন্তু পিন্টুর বড়দি কী করে আমাদের দম বন্ধ করে দিচ্ছিল, তা বোঝাতে পারবে কি? এখানেই বিজ্ঞানের হার। সুনীল বলল, সে কারণটা থাকতেও তো পারে। বললাম, আমি নন্দিনীর অপরূপা হয়ে ওঠার রহস্য সমাধান করতে চাই না। না। কিছুতেই না।

চিত্রণ: মুনির হোসেন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one × two =

Recent Posts

মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

নারায়ণগঞ্জের দুর্গাপুজো

বাংলাদেশের নানা জেলার‌ রামকৃষ্ণ মিশনে ঘোরার অভিজ্ঞতায় দেখেছি, সব জায়গাতেই আচারপরায়ণ মহারাজ ও ব্রহ্মচারীদের সুমধুর ব্যবহার। এখানে এসেই যখন এখানকার অধ্যক্ষ মহারাজ স্বামী একনাথানন্দজির সঙ্গে আলাপ হল, মুহূর্তের মধ্যেই তিনি অন্তরঙ্গ হয়ে উঠলেন। আমাকে পূজামণ্ডপে নিয়ে তাঁর কাছে বসালেন। ষষ্ঠীর রাতে নববস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠান‌ ছিল। আমাকে দিয়েও বস্ত্রদান করালেন। এই যে আচরণ, এতে করে আমি যে কী পরিমাণ সম্মানিত বোধ করলাম, তা বলার‌ নয়। কেবল‌ তাই নয়, সমবেত দর্শক-শ্রোতার সামনে আমাকে কিছু বলার আমন্ত্রণ-ও জানালেন। আমাকে আপ্লুত করল তাঁর এই আহ্বান।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

দুর্গাপূজা ও প্রসঙ্গত

এতদিন ধরে অন্য কোনও দেবদেবীর পুজো কোথাও হয় না। দুর্গাপুজোর এটি একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য। আরও একটি বৈশিষ্ট্য, এই পুজো উপলক্ষে কত যে পত্রপত্রিকা বেরোয়, তার কোনও সীমা নেই। কলকাতা যেহেতু এ-পুজোর প্রাণকেন্দ্র, স্বভাবতই এখান থেকে সবচেয়ে বেশি পুজোসংখ্যা পত্রিকা বেরোয়। প্রতিটি দৈনিক পত্রিকা বিরাট আকারে পুজোর অর্ঘ্য সাজায়। প্রসঙ্গত, সত্যজিৎ রায় তাঁর যে দু’টি ভিন্নধারার লেখার মাধ্যমে দীর্ঘ পঞ্চাশ বছরের ওপর জনপ্রিয়তার শীর্ষে, তা কিন্তু এই পুজোর ‘দেশ’ আর’ আনন্দমেলা’-র সূত্রেই।

Read More »
পবিত্র সরকার

পবিত্র সরকারের বিশেষ রচনা

বাংলাদেশের প্রগতিশীল মানুষদের রবীন্দ্রনাথ সম্বন্ধে একটু বেশি দুর্বলতা আছে। রবীন্দ্রনাথ আমাদের কাছে যত কিছু, তাঁদের কাছেও তত কিছু তো বটেই, কিন্তু তারও চেয়ে অনেকটা বেশি। তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একজন সেনাপতি। বাহান্নর ভাষা-আন্দোলনের সময় থেকে, আয়ুব শাহি ফরমানে রেডিয়োতে রবীন্দ্রসঙ্গীত নিষেধ আর রবীন্দ্র-শতবার্ষিকীর ওপর ফতোয়া জারি থেকে রবীন্দ্রনাথ বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের এক মহাশক্তিধর যোদ্ধা, তাঁর সম্বন্ধে এঁরা তাই এত স্পর্শকাতর।

Read More »
মীরাতুন নাহার

মীরাতুন নাহারের প্রবন্ধ

হিন্দু-সাম্প্রদায়িকতা এবং মুসলমান-সাম্প্রদায়িকতা উভয়কেই তিনি যুক্তি ও তথ্যদ্বারা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ধ্বংসাত্মক বলে বোঝাতে চেয়েছেন দেশবাসীকে। কিন্তু ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শের দ্বারা অনুপ্রাণিত দেশবাসীকে তিনি হিন্দুত্ববাদী সাম্প্রদায়িকতার বিপদ সম্পর্কে অধিকতর সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন, যদিও তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল ‘সাম্প্রদায়িকতার বিষ’ দেশবাসীর মন থেকে নিষ্কাশন করে দেশকে বিপন্মুক্ত করা।

Read More »
গৌতম ঘোষ

গৌতম ঘোষের প্রবন্ধ

চলচ্চিত্রের ধর্ম হল সময়কে ধরে রাখা, সময়ের স্মৃতিমালাকে ধরে রাখা। সেই পদ্ধতি, সেই প্রক্রিয়া কিন্তু চলতেই থাকবে। এখন আমাদের আরও মানবিক হতে হবে। চলচ্চিত্র যারা তৈরি করবেন তারা শুধুমাত্র সস্তার বিনোদন সরিয়ে রেখে একটু মানবিক ছবি করবেন। যেখানে প্রকৃতি ও মানুষের সম্পর্ক, মানুষ ও সমাজের সম্পর্ক, মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক থাকবে। যা আমরা বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ক্লাসিক সব সিনেমায় দেখেছি, সেই ভাবনায় ভাবতে হবে।

Read More »
সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়

সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়ের বিশেষ নিবন্ধ

বস্তুত সুকান্ত কবিতার চাইতে বড়। তিনি এক প্রতীকচিহ্ন। সারা ভারতে যখন কবিকে ভাবা হয়েছে জনতার একজন প্রতিনিধি হিসেবে, তখন সুকান্তকেই ভাবা হয়েছে। তামিল বা হিন্দি সিনেমাতেও হয়েছে। যেমন রাজেশ খান্নার ‘অনুরোধ’ নামের ছবিটিতে যে কবিটি রাজেশের বন্ধু ছিলেন তার নাম সুকান্ত। অথবা অতদূরে কেন যাই, বাংলায় উত্তম-তনুজার ‘দেনা পাওনা’ ছবিতে উত্তম যে বন্ধুর চিকিৎসার জন্য কলকাতায় আসেন, তার নামও তো সুকান্ত। তিনিও তো ফুসফুসের রোগী।

Read More »