Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

হেলেন কেলার: পুঁজিবাদী অন্ধকারের উৎস হতে

অ ভি জি ৎ  সি ন হা

‘জন্মিলে মরিতে হবে/ অমর কে কোথা কবে?’ অমোঘ উচ্চারণ মাইকেল মধুসূদনের। মরণশীল মানুষদের মধ্যে থেকেও হেলেন কেলারের মতো কিছু কিছু মানুষ তাঁদের নিজগুণে মৃত্যুকে অতিক্রম করে যান। পার্থিব প্রয়াণের পরেও তাঁরা স্মরণীয় হয়ে থাকেন মানুষের মনে। এই মার্কিন মহীয়সীর সম্বন্ধেই কিছু কথা বলব আজ।

১৮৮০ সালের জন্ম তাঁর। দীর্ঘজীবী এই রমণীটির প্রয়াণ ঘটে ১৯৬৮ সালে। তার পরেও কেটে গেছে এতগুলো বছর। অনেক জল প্রবাহিত হয়েছে গঙ্গা-পদ্মা-মিসিসিপি দিয়ে। পাল্টে গেছে ইতিহাস, ভূগোল। তবুও তিনি উজ্জ্বল থেকে গেছেন সারা পৃথিবীর মানুষের মনে। অথচ গুগল-গুরু বলবেন, তিনি ছিলেন এক মার্কিন গ্রন্থকার। তা মার্কিন মুলুকে তো গ্রন্থকারের সংখ্যা নিতান্ত কম নয়, ভূরিভূরি। তার ওপর এটাও সত্য যে, মার্ক টোয়েনের মতো হাতেগোনা কিছু ব্যতিক্রম বাদে কোনও মার্কিন গ্রন্থকারই সেভাবে দাগ কাটতে পারেননি। কিন্তু এই গ্রন্থকারই বা এত জনপ্রিয় হয়ে উঠলেন কেন? এই বিষয়ে গুগল চুপ। বলবে, এঁর গ্রন্থের সংখ্যা ১২। যার অনেকগুলিই বেস্ট সেলার। ১১টি বইয়ের কথা সে হয়তো বলবে, কিন্তু বলবে না সেই বইয়ের কথা, যেখানে ফুটে উঠেছিল তাঁর রাজনৈতিক দর্শনটি। আর আমরা সেই চেষ্টাই করব এই লেখায়।

উনবিংশ শতক ছিল আবিষ্কারের শতক। এই শতকের শুরুতে ফরাসি আবিষ্কারক লুইস ব্রেইল আবিষ্কার করেন দৃষ্টিশক্তিহীনদের জন্য লিপি। দৃষ্টিহীনদের মধ্যে শিক্ষাবিস্তারে যে লিপি একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে ও করে চলেছে।

এই শতকের শেষে টমাস আলভা এডিসন একের পর এক উদ্ভাবন করেন বিভিন্ন যন্ত্রের। বৈদ্যুতিক বাল্ব, প্রথম প্রজন্মের ব্যাটারি সহ প্রচুর প্রয়োজনীয় দ্রব্য উদ্ভাবন করেন তিনি। মোট ১০৯৩টি পেটেন্ট তাঁর নামে। এই এডিসনের হাত দিয়েই ১৮৭৭ সালে উদ্ভাবিত হয় ফোনোগ্রাফ যন্ত্র। অবশ্য সেটি একেবারে প্রাথমিক স্তরের। ১৮৮৬ সালে তার উন্নয়ন ঘটান আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল। এর আগে ১৮৭৬ সালে এই মার্কিনি টেলিফোন যন্ত্র আবিষ্কার করে রীতিমতো খ্যাতি অর্জন করেন।

হেলেন কেলার।

হেলেন কেলারকে বুঝতে আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল সম্বন্ধে জানা জরুরি। এই বিখ্যাত আবিষ্কারক আমৃত্যু ছিলেন হেলেনের বন্ধু ও পথপ্রদর্শক। আগেই বলেছি হেলেনের জন্ম ১৮৮০ সালে। মাত্র ১৯ মাস বয়সে সেই সময়ের এক দুরারোগ্য ব্যাধিতে তাঁর দৃষ্টি ও শ্রবণশক্তি নষ্ট হয়ে যায়। তিন বছর বয়সে মাতৃবিয়োগ ঘটে হেলেনের। তাঁর বাবা আর্থার কেলার ছিলেন সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন ও ডেমোক্র‍্যাটিক পার্টির মাঝারি মাপের নেতা। একটি সাময়িকীর সম্পাদনাও করতেন তিনি। সুতরাং অতি ব্যস্ত। ফলে শৈশবে হেলেন ছিলেন একাকী। তাঁর চরিত্রে প্রকাশ পাচ্ছিল বন্যতা। ফলে হেলেনের শিক্ষার বিষয়ে চিন্তিত ছিলেন আর্থার।

হেলেনের যখন ছ’-সাত বছর বয়স, তখন আলবামার এক চক্ষুবিশারদের পরামর্শে সদ্য-আবিষ্কৃত ব্রেইল লিপিতে পড়াশোনা শুরু হয় তাঁর। আর্থার তাঁর কন্যার বধিরতার কারণে পরামর্শ করেন আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেলের সঙ্গে। এখানে উল্লেখ্য, আলেকজান্ডার গ্রাহামের মা এলিজা গ্রেস ছিলেন প্রায় বধির। যা বিরাট প্রভাব ফেলে আলেকজান্ডারের মনে। পরবর্তী জীবনে তিনি এক বধির স্কুলের শিক্ষক হন। ওই স্কুলেরই ছাত্রী মাবেল হাবোর্ডকে তিনি পরবর্তীকালে বিবাহ করেন। তিনি হেলেনকে তাঁর উদ্ভাবিত এক পকেটঘড়ি দেন। এই ঘড়িটি সময়ের জানান দিতে শুধু শব্দই করত না, তার সঙ্গে কাঁপতও। এর ফলে কম্পনানুভূতির সঙ্গে পরিচিত হলেন হেলেন। স্পর্শেন্দ্রিয়ের মাধমে শব্দ অনুভব করতেন তিনি।

পরে ১৯৩০ সালে রবীন্দ্রনাথ যখন হেলেন কেলারের সঙ্গে দেখা করতে যান, তখন কবি তাঁকে শুনিয়েছিলেন ‘আমি চিনি গো চিনি তোমারে’ গানটি। যা বধির হেলেন উপলব্ধি করেছিলেন স্রেফ কবির ঠোঁট স্পর্শ করে। তাঁর স্পর্শানুভূতি ছিল অসাধারণ। শোনা যায়, তিনি নাকি বাদ্যযন্ত্র স্রেফ ছুঁয়ে যন্ত্রসঙ্গীতের সুর হৃদয়ঙ্গম করতে পারতেন। রবীন্দ্রনাথ যখন তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসেন, তখন এই স্পর্শের মাধ্যমেই তাঁর কথা, তাঁর গানের স্বাদ নিয়েছিলেন তিনি। স্পর্শের মাধ্যমে বাক্য অনুভবে রীতিমতো পারদর্শী ছিলেন তিনি। এই পারদর্শিতা তিনি অর্জন করেন তাঁর শিক্ষয়িত্রী ও সর্বক্ষণের সঙ্গী অ্যানি সুলিভানের কাছ থেকে। এই অ্যানিকে হেলেনের কাছে নিয়ে আসেন আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল। এই অ্যানির প্রশিক্ষণে নিজের বিকাশ ঘটান হেলেন। ভর্তি হন র‍্যাডক্লিফ কলেজে। যেখান থেকে ১৯০৪ সালে স্নাতক হন তিনি।

রবীন্দ্রনাথ ও হেলেন কেলার।

অবশ্য এর আগের বছরেই সাহিত্য জগতে পা রাখা হেলেনের। প্রকাশিত হয়েছে দুটি গ্রন্থ। আত্মজৈবনিক ‘The Story of My Life’ এবং ‘Optimism’। প্রথম বইটি উৎসর্গ করা হয় আলেকজান্ডার বেলকে। তখন মার্কিন সাহিত্যজগৎ ছিল পুরুষ লেখক অধ্যুষিত। সেখানে এক ২৩ বছরের অন্ধ-বধির মহিলার প্রবেশকে ভালচোখে যে দেখা হবে না সে তো জানা কথাই। চক্ষুষ্মানদের যুক্তিহীন সমালোচনার শিকার হয়েছিলেন হেলেন। বলা হয়েছিল, তিনি নাকি টুকে লেখেন। এসবের পরেও তিনি লড়াই করেছিলেন। এবং সেই অসম লড়াইয়ে জয়ী হয়েছিলেন। অর্জন করেছিলেন এক বিশ্বব্যাপী খ্যাতি।

এই লড়াই সোজা ছিল না কখনও। কিন্তু তিনি হাল ছাড়েননি। জীবনের দ্বিতীয় গ্রন্থ ‘Optimism’-এ বলেছেন সেই কথা। বইটি পড়ে আমার মনে হয়েছে, চূড়ান্ত আশাবাদের কথা বলা হয়েছে এই বইয়ে। পুরস্কার প্রভৃতি অনেক বহির্জাগতিক প্রেরণার কথা বলা হয় বিভিন্ন পরিচালনবিদ্যার বইয়ে। কিন্তু এইসব বহির্জাগতিক প্রেরণার থেকে যে অন্তর্নিহিত প্রেরণা অনেকগুণ দামি, সেটাই এই বইয়ের মূল প্রতিপাদ্য। নিজের জীবনের উদাহরণ দিয়ে তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে এই অন্তর্নিহিত প্রেরণার মাধ্যমে টপকানো যায় পৃথিবীর সকল বাধা। সত্যিই, এত বাধা অতিক্রম করেছিলেন তিনি, যা আমাদের সকলকে বিস্মিত করে। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তো ছিলই, ছিল পুরুষতান্ত্রিকতার বাধাও।

আজও মার্কিন দেশ পুরুষতান্ত্রিক। আমাদের দেশ ৫০ বছর আগেই মহিলা প্রধানমন্ত্রী পেলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কিন্তু মহিলা প্রেসিডেন্ট পায়নি এখনও। এই চূড়ান্ত পুরুষতান্ত্রিক দেশে এক বিস্ময়কর লড়াই করে নিজের আসন পাকা করেছেন হেলেন। যে লড়াইয়ের কথা গুগল কোনওদিন বলবে না। অথচ যে লড়াইটা না-বুঝলে হেলেন কেলারকে কখনওই বোঝা যাবে না। বোঝা যাবে না কেন এই রমণী আজও দৃষ্টি এবং অন্য প্রতিবন্ধকতা-যুক্ত মানুষের কাছে এত জনপ্রিয়। এঁদের জীবনের দিশা দেখিয়েছিলেন তিনি। শুধু তা দেখানোই নয়, নিজের জীবন দিয়ে দেখিয়েছিলেন, নিজের মধ্যে আত্মবিশ্বাস থাকলে, ‘কেন আমি পারব না’ এই মনোভাব থাকলে, সবকিছুকেই জয় করা যায়। তাই হেলেন কেলার কোনও মার্কিন রমণী নন, এক তুলনাহীন জেদের প্রতীক। প্রতীক এক মহাকাব্যিক লড়াইয়ের।

তাঁর স্পর্শানুভূতি ছিল অসাধারণ।

এই লড়াই তিনি করে গিয়েছেন সারাজীবন ধরে। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য তো বটেই, সকল প্রতিবন্ধকতা-যুক্ত মানুষদের জন্যই ছিল তাঁর আপসহীন সংগ্রাম। আধুনিক সমাজ এই রকম মানুষদের দূরে সরিয়ে রাখে। আর তাদের প্রতি আকর্ষণের কারণেই শিল্প অন্ধত্ব নিয়ে তাঁর আগ্রহ। আর সেই গবেষণা করতে গিয়েই তাঁর সিদ্ধান্ত, এই অন্ধত্বের পিছনে রয়েছে শিল্পপতিদের উদগ্র লোভ। সেই লোভের কারণেই তাঁরা শিল্প সুরক্ষার ব্যাপারটা উপেক্ষা করে থাকেন। বাজে খরচ মনে করেন শ্রমিকদের সুরক্ষা-খাতে খরচকে। এই উপলব্ধি থেকেই তাঁর ১৯০৮ সালে আমেরিকান সোশ্যালিস্ট পার্টিতে যোগদান। সেখানেই থেমে থাকেননি তিনি। মার্কিন শ্রমিকদের হয়ে আমেরিকার বিভিন্ন জায়গায় বক্তৃতা করেন তিনি। যা নিয়ে ১৯১৩ সালে প্রকাশিত হয় ‘Out of the Darkness’ বইটি।

বলা বাহুল্য, এই গ্রন্থটির পিডিএফ গুগলে পাওয়া যায় না। অথচ এই বইটি না-পড়লে বোঝা যায় না হেলেন কেলারের রাজনৈতিক ভাবাদর্শের দিকটি। তিনি ছিলেন কট্টর সমাজতান্ত্রিক। মনে করতেন এই পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থার কারণেই প্রান্তিকায়িত হয়ে পড়ছেন প্রতিবন্ধকতা-যুক্ত মানুষেরা। তাঁরা এই ব্যবস্থায় প্রতিনিয়ত হচ্ছেন শোষিত। এক পত্রিকায় দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্টভাষায় জানিয়েছিলেন, এই সমাজব্যবস্থার উৎপাটন ছাড়া প্রতিবন্ধকতা-যুক্ত ব্যক্তিদের মুক্তি অসম্ভব। আর ঠিক এই কারণে রাশিয়ার বলশেভিক বিপ্লবকে সমর্থন করেছিলেন তিনি।

তিনি কট্টরপন্থী সমাজতান্ত্রিক হলেও তাঁর মূল সংগ্রাম ছিল প্রতিবন্ধকতা-যুক্ত মানুষের অধিকারের জন্য। পাশাপাশি তিনি সংগ্রাম করে গেছেন মহিলাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। ১৯২৪ সালে তিনি ‘আমেরিকান ফেডারেশন ফর ব্লাইন্ড’ নামক অন্ধদের প্রতিষ্ঠানে যোগ দেন। দীর্ঘ ৪০ বছর এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। যতদিন তিনি এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, ততদিন অন্ধদের মধ্যে শিক্ষাবিস্তারের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে গিয়েছেন তিনি। এই কাজকে তিনি তাঁর সমাজতান্ত্রিক চিন্তা-ভাবনা থেকে বিচ্যুত কোনও বিষয় হিসেবে দেখতেন না। প্রথম থেকেই তিনি মনে করতেন, এই পুঁজিবাদী ব্যবস্থার অন্যতম কুফল হল শিক্ষার আলোক থেকে সমাজের একটি শ্রেণিকে বঞ্চিত করে রাখা। বিভিন্ন জায়গায় তিনি বলেছেন এই কথা। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, তিনি এই শ্রেণির মধ্যে সফলভাবে শিক্ষার আলোক ছড়িয়ে দিতে পেরেছিলেন। এ একটা বিরাট বিপ্লব। গোটা ব্যবস্থাটার গালে এক প্রবল চপেটাঘাত। যা বুঝতে পেরেছিল বলেই আমেরিকা তাঁকে উপস্থাপন করেছিল অন্যভাবে। একটা সন্তসুলভ পোশাক পরিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল শিক্ষাবিস্তারে তাঁর ভূমিকার কথা। আর তাতে বিরাট ভূমিকা রেখেছিল আমেরিকান ফেডারেশন ফর ব্লাইন্ড। হেলেন কেলারের বিশ্বজনীন জনপ্রিয়তার কারণে এই সংস্থাকে আর্থিক সহায়তা দিতে বাধ্য হন হেনরি ফোর্ড, রকফেলার প্রমুখ ধনকুবেররা। পাঁচের দশকে ছবি করা হয় হেলেন কেলার আর অ্যানি সুলিভানকে নিয়ে। এই ছবিতে কেলারের সমাজতান্ত্রিক দিকটি উহ্য থাকে। তাঁকে দেখানো হয় সাধ্বী রূপে। উল্লেখ্য, হিটলারের জার্মানিতেও তাঁর সমাজতান্ত্রিক চিন্তা-ভাবনা সমন্বিত লেখাগুলি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এই সংগঠনটির চাপেই (আসলে ওই বিখ্যাত দাতাদের পরোক্ষ চাপে) সমাজতান্ত্রিক কথাবার্তা একেবারে ছেড়ে দেন হেলেন। আরও বেশি করে যুক্ত হন দৃষ্টিহীনদের মধ্যে শিক্ষাবিস্তারে। শিক্ষাব্রতী হিসেবে গোটা বিশ্বে নিজের আসনটি পাকা করে নেন তিনি।

কবি শুনিয়েছিলেন ‘আমি চিনি গো চিনি তোমারে’ গানটি।

বস্তুত এখনও সকল মানুষের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে আমরা পারিনি। পুঁজিবাদী ব্যবস্থা কখনওই তা পারে না। কিউবা সহ সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোতে শিক্ষার অধিকারকে দেশবাসীর মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকার করে নিলেও কোনও পুঁজিবাদী রাষ্ট্রে তা এখনও করা হয়নি। বরং এখন শিক্ষা থেকে যাতে প্রান্তিক পরিবারের সন্তানদের ব্রাত্য করে রাখা যায়, তার সবরকম চেষ্টা হচ্ছে। নতুন শিক্ষানীতিতে তো আরও বেশি চাপ এসেছে। জোর দেওয়া হচ্ছে অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থার ওপর। তুলে দেওয়া হচ্ছে সরকার পোষিত ও সরকারি বিদ্যালয়গুলি। বলতে গেলে কোনও স্কুলেই দৃষ্টিহীন ও অন্যান্য বিশেষভাবে সক্ষমদের পড়ানোর ব্যবস্থা নেই। ভাবখানা, এদের সবকিছু দেওয়া হবে শুধু শিক্ষা ছাড়া। অথচ বাস্তব হল, যতক্ষণ না সকল শিশুর শিক্ষা প্রদান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়, ততক্ষণ সমাজ পিছিয়েই থাকবে। আর হেলেনের আরব্ধ কাজ থেকে যাবে অসম্পূর্ণ।

এক পুঁজিবাদী রাষ্ট্রের ধনী পরিবারে জন্ম হেলেনের। অথচ তাঁর কাজ সমাজের পিছিয়েপড়া শ্রেণির শিশুদের মধ্যেই। বই পড়ে তিনি সমাজতান্ত্রিক হননি। তাঁর সমাজতান্ত্রিক মতাদর্শের প্রতি আস্থা বাস্তব থেকেই উৎপন্ন হয়েছিল। যা ছিল জীবনের শেষদিন পর্যন্ত অটুট। তবে গ্যালেলিও যেভাবে মেনে নিয়েছিলেন চার্চের সূর্য ঘোরার তত্ত্ব, হেলেনকেও মানতে হয়েছিল রকফেলারদের আবদার। কিন্তু তিনি অভিজ্ঞতার মাধ্যমে দৃঢ়ভাবে বুঝেছিলেন, সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে শিক্ষার আলোক ছড়ানো যাবে একমাত্র সমাজটার পরিবর্তন হলেই।

হেলেন কেলারের প্রতি সত্যিকারের শ্রদ্ধা দেখানো হবে এই অন্ধকার সমাজটার খোলনলচে পাল্টে ফেলে সকল স্তরের মানুষের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে পারলেই।

চিত্র: গুগল
4.5 2 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments

Recent Posts

সাবিনা ইয়াসমিন

শিলং ঘোরা

নদীর মাঝখানে একটা মস্ত পাথরের চাঁই। তারপরে সিলেট, বাংলাদেশের শুরু। কোনও বেড়া নেই। প্রকৃতি নিজে দাঁড়িয়ে দুই পারের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

আষাঢ়স্য প্রথম দিবস

পয়লা আষাঢ় বলতে অবধারিতভাবে যে কবিকে মনে না এসে পারে না, তিনি হলেন মহাকবি কালিদাস। তিনি তাঁর ‘মেঘদূত’ কাব্যে পয়লা আষাঢ়কে অমরত্ব দিয়ে গেছেন।

Read More »
উত্তম মাহাত

কল্পোত্তমের দুটি কবিতা

দশাধিক বছরের সূর্যোদয় মনে রেখে/ শিখেছি সংযম, শিখেছি হিসেব,/ কতটা দূরত্ব বজায় রাখলে শোনা যায়/ তোমার গুনগুন। দেখা যায়/
বাতাসের দোলায় সরে যাওয়া পাতার ফাঁকে/ জেগে ওঠা তোমার কৎবেল।// দৃষ্টি ফেরাও, পলাশের ফুলের মতো/ ফুটিয়ে রেখে অগুনতি কুঁড়ি/ দৃষ্টি ফেরাও সুগভীর খাতে/ বুঝিয়ে দাও/ তোমার স্পর্শ ছাড়া অসম্পূর্ণ আমার হাঁটাহাঁটি।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়: অনন্যতাসমূহ

বিভূতিভূষণ, বনফুল, সতীনাথ ভাদুড়ীর মতো তিনিও ডায়েরি লিখতেন। এ ডায়েরি অন্য এক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সামনে এনে দাঁড় করায়। মদ্যাসক্ত মানিক হাসপাতালে লুকিয়ে রাখছেন মদের বোতল। ডাক্তার-নার্সকে লুকিয়ে মদ খাচ্ছেন। আর বাঁচার আকুলতায় মার্ক্সবাদী মানিক কালীর নাম জপ করছেন! তবু যদি শেষরক্ষা হত! মধুসূদন ও ঋত্বিক যেমন, ঠিক তেমন করেই অতিরিক্ত মদ্যপান তাঁর অকালমৃত্যু ডেকে আনল!

Read More »
মধুপর্ণা বসু

মধুপর্ণা বসুর দুটি কবিতা

ভয় পেলে ভয়ংকর সত্যি ধারালো ছুরির মতো/ খুব সন্তর্পণে এফোঁড়ওফোঁড় তবুও অদৃশ্য ক্ষত,/ ছিঁড়ে ফেলে মধ্যদিনের ভাতকাপড়ে এলাহি ঘুম/ দিন মাস বছরের বেহিসেবি অতিক্রান্ত নিঃঝুম।/ গণনা থাক, শুধু বয়ে চলে যাওয়া স্রোতের মুখে/ কোনদিন এর উত্তর প্রকাশ্যে গাঁথা হবে জনসম্মুখে।/ ততক্ষণে তারাদের সাথে বুড়ি চাঁদ ডুবেছে এখন,/ খুঁজে নিতে পারঙ্গম দুদণ্ড লজ্জাহীন সহবাস মন।

Read More »
নন্দদুলাল চট্টোপাধ্যায়

ছোটগল্প: জমির বিষ

বিষয় মানেই বিষ। তালুকেরও হুল ছিল। বছরে দু’বার খাজনা দিতে হতো। আশ্বিন মাসে দুশ’ টাকা আর চত্তির মাসে শেষ কিস্তি আরো দুশ’ টাকা। এই চারশ’ টাকা খাজনার চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত। সে বছর বাবার ভীষণ অসুখ। বাতে একদম পঙ্গু, শয্যাশায়ী। অসুস্থ হয়ে জমিদারের ছুটি মিলল। কিন্তু খাজনা জমা দেবার ছুটি ছিল না। চত্তির মাসের শেষ তারিখে টাকা জমা না পড়লেই সম্পত্তি নিলাম হয়ে যেত।

Read More »