Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

পদ্ম: দুর্গাপুজোর অন্যতম উপাচার

দুর্গাপুজোর অন্যতম উপাচার পদ্মফুল। মা দুর্গার পুজোয় পদ্ম মাস্ট। রামচন্দ্র ১০৮টি নীল পদ্মফুল দিয়ে মায়ের পুজো করেছিলেন, তাই সেই প্রথা নাকি আজও চলছে। পুরাণের পাতায় চোখ রাখতে পেলাম দু’রকমের তথ্য। বাল্মিকী রামায়ণে রাম রাবণবধ হেতু মহামায়ার যে পুজো করেছিলেন তাতে পদ্মফুলের কোনও উল্লেখ পাওয়া যাচ্ছে না। তবে কৃত্তিবাসী রামায়ণে পদ্মের উল্লেখ পাওয়া যায়। বোধন, আমন্ত্রণ, অধিবাস করে রামচন্দ্র পুজো শুরু করেছিলেন ষষ্ঠীতে। তারপর সপ্তমী, অষ্টমী পুজো করে, নবমীতেও পুজো প্রায় সাঙ্গ, কিন্তু রামচন্দ্রের মনে কোনও আনন্দ নেই। এমন সময় বিভীষণ রামচন্দ্রকে বললেন: ‘তুষ্টিতে চণ্ডীরে এই করহ বিধান।/ অষ্টোত্তর-শত নীলোৎপল কর দান॥/ দেবের দুর্লভ পুষ্প যথা তথা নাই।/ তুষ্ট হবেন ভগবতী শুনহ গোঁসাই॥’

বিভীষণের এই পরামর্শে রামচন্দ্র ভাবলেন কোথায় পাবেন ১০৮টি নীলপদ্ম! মুশকিল আসান হনুমানকে বিভীষণ বলেন, ‘অবনীতে দেবীদহে নীলপদ্ম আছে।’ হনুমান চলে গেলেন নীলপদ্মের খোঁজে দেবীদহে এবং ১০৮টি নীলপদ্ম নিয়েও এলেন। কৃত্তিবাসী রামায়ণে এই গল্পের সঙ্গে আরও পাওয়া যায় যে, দেবীদুর্গা ওই ১০৮টি পদ্মের মধ্যে থেকে একটি পদ্মকে সরিয়ে রেখেছিলেন। সেই সময় রামচন্দ্র নিজের একটি চক্ষুকে (নীল-কমলাক্ষ বলে পরিচিত) মায়ের পায়ে নিবেদন করতে উদ্যত হলে, দেবী রামচন্দ্রের সামনে আবির্ভূতা হয়ে তাঁকে আশীর্বাদ করেন। আবার কালিকাপুরাণে রয়েছে, ‘যে ব্যক্তি ভক্তিযুক্ত হয়ে ১০৮টি রক্তপদ্ম মহাদেবীকে অর্পণ করে, সে মদীয় ধামে অসংখ্য কল্পবাস করে এবং শেষে পৃথিবীতে রাজা হয়ে জন্মগ্রহণ করে।’

সন্ধিপুজোয় ১০৮ পদ্ম কেন লাগে? কেন কম বা বেশি নয়? হিন্দু শাস্ত্র মতে, ১০৮ সংখ্যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। হিন্দু দেবতার থাকে অষ্টোত্তর শতনাম। ১০৮ পদ্ম, ১০৮ প্রদীপ। যোগের ক্ষেত্রেও ১০৮ সংখ্যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আয়ুর্বেদ মতে, আমাদের শরীরে ১০৮টি ‘পয়েন্ট’ আছে। হিন্দুশাস্ত্র যন্ত্রের পূজায় বিশ্বাস করে। শ্রীচক্র যন্ত্রে ৫৪টি করে কোনও পুরুষ ও প্রকৃতির মিলন হিসাবে দেখা হয়, যার থেকে সৃষ্টি, অর্থাৎ এখানেও ১০৮।

পাঁকে জন্ম নিয়েও পদ্ম নির্মল। তার সৌন্দর্য ও সুবাস অমলিন। জন্ম যেখানেই হোক কর্মই আসল পরিচয়। খারাপ জায়গায় জন্মেও ভাল কাজ করে নিজের দৃষ্টান্ত তৈরি করা যায়, পদ্মফুল সেই বার্তাই দেয়। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘কেউ কথা রাখেনি’ কবিতায় রয়েছে— ‘…বড় হও দাদাঠাকুর/ তোমাকে আমি তিন প্রহরের বিল দেখাতে নিয়ে যাবো/ যেখানে পদ্মফুলের মাথায় সাপ আর ভ্রমর/ খেলা করে’, অথবা ‘বিশ্বসংসার তন্ন তন্ন করে খুঁজে এনেছি একশ আটটা নীলপদ্ম’।

পদ্মফুল পবিত্র সৌন্দর্যের প্রতীক। এটি কন্দ জাতীয় বহু বষর্জীবী জলজ উদ্ভিদ। এই উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নাম Nelumbo nucifera, এটি Nelumbonaceae পরিবারের উদ্ভিদ। পদ্মফুলের বহু নাম রয়েছে, যেমন— কমল, শতদল, সহস্রদল, উৎপল, মৃণাল, পঙ্কজ, অম্বুজ, নীরজ, সরোজ, সরসিজ, রাজীব ইত্যাদি। সারা বছর জল থাকে এমন জায়গায় পদ্ম ভাল জন্মে। তবে খাল-বিল, হাওর, বাঁওড় ইত্যাদিতে এ উদ্ভিদ জন্মে। এর বংশ বিস্তার ঘটে কন্দের মাধ্যমে। পাতা জলের ওপরে ভাসলেও এর কন্দ জলের নিচে মাটিতে থাকে। জলের উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে গাছ বৃদ্ধি পেতে থাকে। পাতা বেশ বড়, পুরু, গোলাকার ও রং সবুজ। পাতার বোটা বেশ লম্বা, ভেতর অংশ অনেকটাই ফাঁপা থাকে। ফুলের ডাঁটার ভিতর অংশে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অসংখ্য ছিদ্র থাকে। ফুল আকারে বড় এবং অসংখ্য নরম কোমল পাপড়ির সমন্বয়ে সৃষ্টি পদ্ম ফুলের। ফুল ঊধ্বর্মুখী, মাঝে পরাগ অবস্থিত। ফুটন্ত তাজা ফুলে মিষ্টি সুগন্ধ থাকে। ফুল ফোটে রাত্রিবেলা এবং ভোর-সকাল থেকে রৌদ্রের প্রখরতা বৃদ্ধির পূর্ব পর্যন্ত প্রস্ফুটিত থাকে। রৌদ্রের প্রখরতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ফুল সংকুচিত হয়ে যায় ও পরবর্তীতে প্রস্ফুটিত হয়। ফুটন্ত ফুল এভাবে বেশ অনেক দিন ধরে সৌন্দর্য বিলিয়ে যায়।

ফুল ও ফলের ভেষজগুণ আছে। পদ্মের মূল, কাণ্ড, ফুলের বৃন্ত ও বীজ খাওয়া যায়। পুরাতন গাছের কন্দ এবং বীজের সাহায্যে এদের বংশবিস্তার হয়। তিন ধরনের পদ্ম ফুল রয়েছে, যেমন— শ্বেতপদ্ম, লাল পদ্ম ও নীল পদ্ম। পাতা বড় এবং গোলাকৃতি, কোনও কোনও পাতা জলে লেপটে থাকে, কোনটা উঁচানো। বর্ষাকালে ফুল ফোটে। হাওর-ঝিলবিল বা পুকুরে বিভিন্ন ফুলের ন্যায় শুভ্রতার প্রতীক সাদা পদ্ম ফুল ফোটে। ফুল বৃহৎ এবং বহু পাপড়িযুক্ত। সাধারণত বোঁটার উপর খাড়া, ৮-১৫ সেমি চওড়া। ফুলের রং লাল, গোলাপি ও সাদা, সুগন্ধিযুক্ত।

Advertisement

পদ্ম ফুল ও ফলের (পদ্ম চাক) ভিতরে থাকা বীজ বা বোঁটা আমাশয়সহ বিভিন্ন রোগের জন্য খুবই উপকারী। ঔষধী গুণ ছাড়াও পদ্ম চাক, বীজ ও বোটা সুস্বাদু খাবার। উদ্ভিদ বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলায় পুকুর-জলাশয়, লেক ও হাওর-বিলে গোলাপি পদ্ম সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে। সেই তুলনায় সাদা পদ্ম বা পদ্ম কমল অনেকটাই অপ্রতুল। আগে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা গেলেও জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কারণে বর্তমানে সাদা পদ্ম বিলুপ্তির পথে। সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা না হলে সাদা পদ্ম বিলুপ্ত হয়ে যাবে এমনটি অভিমত উদ্ভিদবিদদের। পদ্ম জলজ পরিবেশের উৎকৃষ্ট উপাদান। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পদ্মের ভূমিকা রয়েছে।

ইরান, চিন, জাপান, নিউ গায়েনা, বাংলাদেশ, ভারত ও অস্ট্রেলিয়াসহ পৃথিবীর বেশ কিছু দেশে পদ্ম জন্মে। সাদা পদ্মের উৎস স্থল জাপান ও নর্থ অস্ট্রেলিয়া। এটি এখন বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী, সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, মৌলভীবাজার জেলায় বিলুপ্তপ্রায় সাদা পদ্ম এখনও দেখা যায়। সাদা পদ্মের অনেক ঔষধী গুণ রয়েছে। পদ্ম ফলের বীজ হৃদপিণ্ড, চর্মরোগসহ বিভিন্ন রোগের ঔষধের উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং ডায়ারিয়া রোগ সারাতে এর বোটা কাঁচা খেলে উপকারে আসে। পদ্মফুলের পাপড়ি দিয়ে তৈরি লোটাস চা প্রতিদিন পান করলে গ্যাসট্রিক, ডায়েরিয়া ও হার্টের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। সেই সঙ্গে হাই ব্লাড সুগারও নিয়ন্ত্রণে থাকবে এছাড়াও এই চা স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে। এছাড়াও পদ্মের শুকনো মূল গুঁড়ো করে খেলে ফুসফস, কিডনি ও পরিপাকতন্ত্র ভাল থাকে।

ভারতের জাতীয় ফুল পদ্ম। বিখ্যাত রাজনৈতিক দলের চিহ্নও এই পদ্ম। পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাট, মেচেদা এবং পাঁশকুড়াতে পদ্মফুলের চাষ করা হয়। এছাড়া বীরভূম ও দুই দিনাজপুরের ফুলচাষিরাও পদ্মফুলের চাষ করেন। পূর্ব মেদিনীপুরের ঝিল ও মেদিনীপুরের খালে সবচেয়ে বেশি পদ্ম চাষ হয়। বীরভূমের বড় বড় জলাশয়ে বর্তমানে চাষ শুরু হয়েছে। চৈত্রমাসেই এই ফুলের বীজ রোপণ করা হয়, আষাঢ়-শ্রাবণে ফুল ফুটতে শুরু করে। এক বিঘের একটি ঝিলে একদিন অন্তর প্রায় ২০০-৩০০টি করে পদ্মফুল পাওয়া যায়।

চিত্র: গুগল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

12 + nine =

Recent Posts

মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

আমেরিকার স্বাধীনতা: আড়াইশো বছর

১৬০৭ থেকে ১৭৮৩ পর্যন্ত সময়কাল আমেরিকায় ব্রিটেনের ঔপনিবেশিক রাজত্ব। আজকের দিনে যে আমেরিকা, তা কিন্তু পুরোটা ব্রিটিশদের দখলে ছিল না। ছিল ভার্জিনিয়া, ম্যাসাচুসেটস, নিউ ইয়র্ক, পেনসিলভেনিয়া-সহ ১৩টি রাজ্য। আর কানাডার বেশ কিছু অঞ্চল। আমেরিকার অন্যান্য স্থানে ফরাসি, ডাচ, নরওয়েজিয়, সুইডিস উপনিবেশ-ও ছিল। তাছাড়া রাশিয়া আমেরিকার আলাস্কা থেকে ক্যালিফোর্নিয়া পর্যন্ত দখল করে। পরে সে আলাস্কা আমেরিকার কাছে বিক্রিও করে দেয়।

Read More »
অপরাজিতা মৈত্র

গোদাবরীর গোমুখে

গঙ্গার মর্ত্যে আগমন নিয়ে যেমন ভগীরথের গল্প, তেমনই গোদাবরীর উৎসস্থলে না এলে জানা যেত না, দক্ষিণের গঙ্গা নিয়েও আছে হাজার গল্প। যে গল্প জানাবে আজও এই অঞ্চলের মানুষ অনেক সময়েই কাছাকাছি আর কোনও পানীয়জল না পেয়ে কষ্ট করে হলেও এই উৎসস্থলে এসেই শীতল এই পানীয়জল নিয়ে যান নিজেদের কাজের জন্য। গঙ্গা বা অন্য নদী সে শুধু ধার্মিক আবেগের কারণে পবিত্র না, হাজার প্রাণীর ‘তৃষ্ণা’ মেটাবার জন্য সে হয়ে ওঠে ‘দেবী’ বা ‘পবিত্র’। সে পথে মিশে যায় হাজার গল্প-কষ্ট কিংবা দিনযাপনের চরম বাস্তবতা।

Read More »
রুহ

রুহের কবিতাগুচ্ছ

একই আলোকমালায় কাটিয়েছি/ বহুকাল দু’জনে…/ বলিনি কখনও।/ তারা খসা দেখেছি একসাথে, যদিও/ গোপন থেকেছে চাওয়া-পাওয়া।/ মাঝে বহুদিন, বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো/ একা… নীরবে বয়েছি যাতনা।/ আজ মিথ্যের নেই অবকাশ/ তোমাকে কি পড়েনি মনে/ কোনও মুহূর্ত বা ক্ষণে/ ভাবিনি কি একান্ত বন্ধু আমার—/ এতদিন পরে, পুনর্মিলনে বলেছ/ পাখি হতে চেয়েছিলে এ জীবনে

Read More »
কাজী তানভীর হোসেন

যুদ্ধ: বৈশ্বিক কসাইখানা, পুঁজির সংকট ও শ্রমের মুক্তি

অবিক্রীত পণ্যের পাহাড় যখন পুঁজির পুনরুৎপাদনকে বাধাগ্রস্ত করে, তখন পুঁজিপতিরা তীব্র আতঙ্কে ভোগে। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য তারা প্রতিযোগী পুঁজিপতির বাজার ও পণ্য ধ্বংস করতে চায়। আর এই ধ্বংসের বৈধ হাতিয়ার হিসেবে তারা রাষ্ট্র ও সামরিক বাহিনীকে ব্যবহার করে যুদ্ধ বাধিয়ে দেয়। অর্থাৎ, উদ্বৃত্ত পণ্য এবং অতিরিক্ত শ্রমকে ধ্বংস করে পুঁজির ভারসাম্য ফিরিয়ে আনাই বুর্জোয়া যুদ্ধের মূল উদ্দেশ্য। এই শোষণের প্রক্রিয়াকে আড়াল করতে রাষ্ট্র একদল বুদ্ধিজীবী ও নীতিবিদ লালন করে, যারা কৃত্রিম ‘দেশপ্রেম’ ও ‘জাতীয়তাবাদ’-এর আফিম খাইয়ে শ্রমিককে বিভ্রান্ত রাখে, যাতে তারা শোষক ও শোষিতের মধ্যকার মৌলিক শ্রেণি-পার্থক্য ভুলে যায়।

Read More »
প্রসেনজিৎ চৌধুরী

বিশ্বকাপ জৌলুসে আর্জেন্টিনা গণহত্যার বধ্যভূমি

বুয়েনস আইরেসের রিভার প্লেটের যে স্টেডিয়ামে তখন খেলা হত, তার মাত্র এক মাইল দূরে ছিল সামরিক সরকারের বন্দিশিবির নেভি স্কুল অব ম্যাকনিকস। সাংবাদিক ডেভিড কক্স ফুটবল বিশ্বকাপের খবর সংগ্রহ করতে গেছিলেন। তিনি ‘ডার্টি ওয়ার’ বইতে লিখেছিলেন, যখন স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার ম্যাচ চলত তখন ওই টর্চার সেল থেকে কান্নার শব্দ শোনা যেত। আর্জেন্টিনার ভুবনমোহিনী ফুটবলে লেগে আছে রক্ত।

Read More »
রাধাবল্লভ রায়

ধর্মযুদ্ধ

এই যে সংবাদমাধ্যমে প্রতিদিন শতমুখে বিদ্বেষ ছড়ানো হয়, এই যে ফেসবুক জুড়ে বিশেষ সম্প্রদায়কে চিহ্নিত করে সম্মানীয় নেতা-মন্ত্রীদের কুৎসিত ইঙ্গিত, হিংসার প্রদর্শনী— এর প্রতিক্রিয়া কোথায় গিয়ে ঠেকে তাঁরা কি জানেন? পাড়ায় পাড়ায়, রকের আড্ডায়, ক্লাবের আড্ডায়— সর্বত্র বয়োজ্যেষ্ঠদের নির্বোধ অসংযত উচ্চারণ কোন শিশুর হৃদয়ে কেমন ভাবে প্রোথিত হয় তাঁরা কি জানেন? ভেবে দেখেছেন কি এই বিদ্বেষিতার মধ্যে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে আগামী প্রজন্ম?

Read More »