Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

ছোটগল্প: ছবি ও প্রতিচ্ছবি

এত ভোরে দরজায় শব্দ? কে? চোখ কচলাতে কচলাতে দরজার সামনে এসে দাঁড়াল নন্দা। কে-এ-এ-এ? চাপা গলায় জিজ্ঞেস করল নন্দা।

আমি, নিরূপ।

দরজা ফাঁক করে নন্দা বলল, তুমি? এই সময়? কোথা থেকে? একসঙ্গে এতগুলো প্রশ্ন করে বাকি দরজাটি খুলে ধরলেই নিরূপ বাড়ির মধ্যে ঢুকে এল। তারপর বলল, আগে একগ্লাস জল দাও। ওষুধ খাব। তারপর বলছি?

জল আনতে যেতে যেতে জিজ্ঞেস করল নন্দা, কীসের ওষুধ?

নিরূপ উত্তর দিল না।

নন্দা তার দিকে অপলক চোখে তাকিয়ে আছে। বড়িটা মুখের মধ্যে ফেলে জিভ দিয়ে ভিতরে নাড়াচাড়া করে পেটের মধ্যে চালান করল। তারপর নন্দার দিকে তাকিয়ে বলল, খুব অবাক হয়েছ না? ভাবতেই পারনি আমি এসে হঠাৎ হাজির হব। জ্বালাতে আসব!

নন্দা বলল, ছাড়ো ওসব কথা, বলো কী হয়েছে?

কিছু না। পড়ে গিয়েছিলুম। গোড়ালিতে পেন। ঠিক হয়ে যাবে। আমি ক’দিন তোমার কাছে থাকতে পারি?

এখানে?

হাঁ।

মানে, ঠিক বুঝলাম না। তোমার কি কোনও কাজ আছে তাই থাকতে চাইছ?

না কাজ নেই বলে থাকব। থাকলে বলতাম না।

নন্দা বলল, হেঁয়ালি ছাড়ো। কেন?

আমি ক’দিন তোমার কাছে লুকিয়ে থাকতে চাই।

লুকোবে কেন? আর সে আমার কাছেই বা কেন? কিছুই বুঝতে পারছি না।

চা করো। তারপর কথা।

হুম, বলে রান্নাঘরের দিকে চলে গেল নন্দা।

সুকিয়া স্ট্রিটের একটি ওষুধের দোকান থেকে বেরিয়েছিল নিরূপ এক ভোরে। তখন কলকাতা শহরের ভোরের ঘোর কাটেনি। এই সময় কলকাতার চেহারায় মফস্বলের গন্ধ ছেয়ে থাকে। শহরের বাইরে থেকে সবজি ঢোকে, চালানি মাছ নামে, ডিমের ছোট ছোট টেম্পো
শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত ডিম সাপ্লাই করে। এই অঞ্চলে ওষুধের দোকানটি খোলা থেকে রাতভর। দিনের বেলা এর ঝাঁপি বন্ধ। তার সামনে কুকুরেরা বিশ্রাম নেয়। নিরূপ দোকান থেকে বেরিয়েই পাশের একটি গলির মধ্যে ঢুকে পড়েছিল। নন্দার বাসায়। যেতে যেতে সে বাঁ পায়ে চোরা টান অনুভব করল। আসলে পড়ে গেয়েছিল নিরূপ। সেই ঘটনাটা ঘটেছে সপ্তাহখানেক আগে। তখন সে অনন্তপুরে লুকিয়ে।

আস্তে দরজায় শব্দ করল নিরূপ। তার পরনে একটি পাজামা, গায়ে একটা ডোরা কাটা শার্ট, পায়ে চটি।

অনন্তপুর থেকে নিছক জেদের বসে একদিন কলকাতা শহরে চলে এসেছিল নন্দা। চোখে ছিল অভিনয়ের নেশা। নায়িকা হবার অদম্য আকাঙ্ক্ষা। কেউ ছিল না তার চেনাজানা এই শহরে। স্টুডিও থেকে স্টুডিও ঘুরে অডিশন দিত, সন্ধের ট্রেনে ফিরে যেত অনন্তপুর। সেই দিনগুলি ছিল চরম উত্তেজনার, হতাশার, আবার কোনও কোনও দিন তুমুল উৎসাহের। কোনও একদিন তার অডিশনের পর পরিচালক তাকে ডেকে বলত, ভাল হয়েছে, তোমার হবে। এই হবার দিনক্ষণের কোনও ঠিকানা ছিল না। যে কোনও দিন ডাক আসতে পারে। এই ভরসায় কলকাতা যাওয়া-আসা।

এমনই এক সন্ধেবেলা অনন্তপুর স্টেশনে সুদর্শন একটি ছেলেকে নামতে দেখল নন্দা। একমাথা ঝাঁকড়া চুল, গায়ের রং তামাটে, উজ্জ্বল দুটো চোখ। নিজেকে সামলাতে পারেনি নন্দা। যে কোনও সিরিয়ালের নায়ক করে দেওয়া যায়। জিজ্ঞেস করেছিল, আপনি অনন্তপুরে থাকেন?

অবাক চোখে তাকিয়ে নিরূপ বলেছিল, না, বন্ধুর বাড়ি যাব? আপনি?

আমি অনন্তপুরে থাকি। নন্দা। কলকাতা থেকে ফিরছি।

সেই আলাপ।

নিরূপকে প্রথমে খুব সপ্রতিভ মনে হয়নি নন্দার। কিন্তু কে তার এই অনন্তপুরে বন্ধু, সেটা জানার আগ্রহ গোপন করতে পারেনি সে। বলেছিল, অনন্তপুরে আপনার বন্ধু থাকে? কে?

নিরূপ বলেছিল, সজল। আপনি চেনেন?

সজল ব্যানার্জি?

হাঁ।

অল্পসল্প চিনি। বলে রিকশায় উঠে পড়েছিল নন্দা। বাকিটা তো পরে জেনে নেওযা যাবে এই ভেবে আর দেরি করেনি নন্দা। না হলে আর কিছুক্ষণ আলাপ চালিয়ে যাওয়া যেত। রিকশায় উঠে নন্দার মনে হল, আরে, সজলদার যে একজন বন্ধু আছে, সে আসবে, কই সে কথা বলেনি তো সজলদা? চেপে গেছে? আচ্ছা, দেখাচ্ছি। রিকশাটি মোড়ের মাথায় বাঁক নিল। দমকা ঠান্ডা হাওয়া এসে ঝাঁপিয়ে পড়ল তার গালে। কোথাও বৃষ্টি হচ্ছে। হাওয়ায় ভিজে ভিজে ভাব। অনন্তপুরে এই সময়টি মনোরম। এখানে বুকভরে নিশ্বাস নেওয়া যায়। কী করে ছেলেটি? সজলদার সঙ্গে পড়ে? পড়লে সে তো জানতে পারত। এই ক’দিন আগেও সজলদা সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টা কাটিয়েছে। নিরূপের কথা উচ্চারণ করেনি। তাহলে সে কেমন বন্ধু, যে বাড়িতে চলে এল। সজলদা তাকে কিছু বলল না। মাঝে মাঝে সজলদাকে তার রহস্যময় মনে হয়। কথাবার্তার নিচে কোথাও একটু তলানি থেকে যায়। বার বার জিজ্ঞেস করতে হয় নন্দাকে।

জিজ্ঞেস করে জানতে পেরেছিল, নিরূপ সজলের ইয়ারেই পড়ে। রাজনীতি করে। মাঝে মাঝে সজলের বাড়িতে থাকে। নন্দা বলেছিল, তুমি তো কোনও দিন বলোনি?

বলিনি, বলার মত নয় বলে। অন্য বন্ধুর মত। বন্ধু কে আসিস না বলতে তো পারি না।

কী করে? কোন দল।

সেটা বলা বারণ। আমিও জানি না। তবে ও গ্রামে গ্রামে কাজ করে ছুটির দিনে।

কী কাজ?

তাও জানি না। আমি ওর সঙ্গে কোনও দিন যাইনি।

আমাদের গ্রামে কী করে?

সজল বিরক্ত হয়ে বলেছিল, এত কেন জানতে চাইছ নিরূপের ব্যাপার? প্রেমে পড়ে গেছ নাকি?

পড়ার মতই দেখতে। বলে চালাক হাসি হেসেছিল নন্দা।

সজল বলেছিল, ঠিক আছে নিরূপকে বলব। তুমি ওর প্রেমে পড়েছ।

ধুর, তুমি একটা যা তা। কী ভাববে বলো তো?

আলোচনা থেমে গিয়েছিল। সজলের বাবার ফোন এসেছিল। কিছুক্ষণের মধ্যে বাড়ি ফিরতে বলেছিলেন। ঠাকুমা পড়ে গিয়ে আঘাত পেয়েছেন। ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে। তারপর সজল ক’দিন যোগাযোগ করেনি। কিন্তু নন্দা দেখেছিল সজলের মধ্যে এক ধীর পরিবর্তন। সজল এড়িয়ে যেতে লাগল নন্দাকে। নন্দা প্রথমে বুঝতে পারেনি, পরে বুঝতে পেরেছিল সজলদা আর তার কাছের মানুষ নেই। সে এক অন্য জগতের লোক। দেখা করতে গেলে নানান অজুহাত বলে, ফোন কেটে দেয়, একদিন নাম্বারটা ব্লক করে দিলে অভিমানে আর দেখা করেনি নন্দা। তার জেদ চেপে গিয়েছিল। তখন দু-একটি সিরিয়ালের দৌলতে সুকিয়া স্ট্রিটের একটি পুরনো বাড়ির এককামরার ঘর হয়েছে নন্দার। এক শনিবারে কাজের শেষে শিয়ালদায় নিরূপের সঙ্গে দেখা।

নন্দা আবার সেই অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিল নিরূপের দিকে। কাছে এসে নিরূপ বলেছিল, বাড়ি ফিরছেন?

হ্যাঁ, সাড়ে আটটার ট্রেন। আপনি যাবেন?

না, আপনাকে দেখে এগিয়ে এলাম। আমি রাতের ট্রেনে কলকাতার বাইরে যাব। আপনার ফোন নম্বর দেবেন, যদি আপত্তি না থাকে?

তা দিতে পারি। তবে কোথায় যাচ্ছেন তো বললেন না?

সমস্তিপুর।

সেখানে কে আছে?

কেউ নেই। কাজে।

তারপর নিরূপ অনেকবার দেখা করেছে নন্দার সঙ্গে। নন্দা তাকে জিজ্ঞেস করেছে, কী করেন?

কাজ।

কী কাজ?

Advertisement

গুছিয়ে বলতে পারেনি নিরূপ।

একদিন নিরূপকে বেশ কড়া গলায় বলল, আপনি কি খুব বড়লোকের ছেলে? কিছু না করেই বেশ ঘুরে বেড়ান?

বড়লোকের ছেলেরাই বুঝি ঘুরে বেড়ায়? গরিব ছেলেরা ঘুরে বেড়ায় না?

না। তারা আমার মত জীবনে লড়াই করে। দেখছেন না?

সোজাসুজি তাকিয়ে ছিল নিরূপ। হয়তো বোঝার চেষ্টা করছিল, নন্দা ঠিক কী বলতে চাইছে। নন্দা বলেছিল, দেখুন, আমি একটি সিরিয়ালে প্রতিবাদী গ্রামের মেয়ের রোল করছি। প্রতিনিয়ত অন্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কথা বলছি। আবার নিজের জীবনে দেখুন সংগ্রাম করছি পায়ের নীচে একটুকু মাটির জন্য। আর আপনি যে সব জীবনের কথা বলছেন মাথায় ঢুকছে না, আপনি বোধহয় ঠিক জানেন না আপনি কী করছেন। কিন্তু আমি জানি।

চুপ করে শুনেছিল নিরূপ। খুব শান্ত গলায় বলছিল, তোমার সঙ্গে তোমার বাড়িতে একদিন বসতে হবে। তুমি খুব ইন্টারেস্টিং। সেই তার প্রথম নন্দার এককামরার ঘরে আসা। দিনের বেলা। দু-একবার এসেছে। তারপর অনেক দিন কোনও যোগাযোগ নেই। রাতের বেলা থাকার
কথা বলেনি কোনও দিন। আজ সে কেন এখানে থাকার কথা বলছে?

দিনের বেলা লুকিয়ে থাকত নিরূপ। দিনের বেলা কোনও না কোনও পরিচিতর বাড়িতে। নন্দা তাই জানে।

কিন্তু কাল দিনটা ছিল অন্য রকম।

রাতের অন্ধকারে নিরূপ আর সজল গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়াত। সংগঠনের কাজে। নিরূপের সঙ্গে আলাপের পর সজল সরে এসেছিল নন্দার কাছ থেকে। কেননা কোনও না কোনও দিন এই খবর নন্দা জানতে পারবে। তখন এই সম্পর্কের পরিণতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। তার চেয়ে আগেই দূরত্ব তৈরি হলে নন্দা সয়ে নেবে অনেকটা।

গতকাল রাতে গোপন ডেরায় অনেকদিন পর সামনাসামনি হয়েছিল নিরূপ ও সজল। সেখানেই একটি পুরনো বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে দু’জনে। সজলের বক্তব্য ছিল, শ্রেণীশত্রু বলতে আমাদের জমিদারদের, ধনীদের খতম করতে হবে। নিরূপ মেনে নেয়নি। বলেছিল, না। সেই কাজে যারা আমাদের বাধা দেবে তারাও শ্রেণীশত্রু। এই নিয়ে তর্ক-বিতর্ককে উত্তেজনায় নিরূপ চালিয়ে দিয়েছিল সজলের তলপেটে তার শানানো ভোজালি। খুব সময় দেয়নি সজল। সে প্রাণ হারিয়েছে কয়েক মিনিটের মধ্যে। তারপর নিরূপ বেরিয়ে এসেছে ডেরা থেকে। একা অন্ধকারে। রাতে শিয়ালদা স্টেশনের শেষ বেঞ্চিতে চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়েছিল। ভোর হতেই সুকিয়া স্ট্রিট।

মুখ ধুয়ে নাও।

হাঁ। বলে বাথরুমের দিকে চলে গেল নিরূপ।

ফিরে এলে টেবিলে ধোঁয়া উঠা চায়ের কাপটি সামনে রেখে নন্দা জিজ্ঞেস করল, হঠাৎ আমার কথা মনে পড়ল, থাকবে বলছ? কী বাপ্যার?

কিছু না, ইচ্ছে হল।

আমার সিরিয়ালের কাজ আছে। কখন আসি আর কখন যাই তার ঠিক নেই। কে তোমাকে দেখবে?

দেখতে হবে না।

আমি এখানে একা থাকি। রাতে কোনও পুরুষের থাকা আমি চাই না।।

আমি তো তোমার বন্ধু।

মেয়েবন্ধু হলে কথা ছিল।

তাহলে থাকতে দেবে না বলছ?

না তা বলিনি। আমি কারণটা জানাতে চাইছি।

কোনও কারণ নেই।

তা কখনও হয়?

কী করে এসেছ, যে লুকবে? বলে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাল নন্দা। কিছু কি অন্যায় করেছে, ধরা পড়ার ভয়ে লুকিয়ে থাকতে চাইছ?

কোনও উত্তর দিচ্ছে না নিরূপ। তাকিয়ে আছে নন্দার দিকে।

নন্দা আবার জিজ্ঞে করল, কী, উত্তর দিচ্ছ না কেন?

পারছি না। কিছুতেই বলতে পারছি না।

পারছ না? কী করেছ যে বলতে পারছ না? নাকি আমি শুনলে আমি সহ্য করতে পারব না? রহস্যভরা চোখে তাকাল নন্দা।

দুটোই। সামলাতে পারবে না।

তবু বলতেই হবে। না বলে সময় নষ্ট কোরো না।

আমি খুন করেছি।

খুন? কাকে?

সজলকে।

কেন? কী করেছিল সজলদা?

আমার বিরুদ্ধে কাজ করছিল।

তার প্রমাণ তোমার কাছে আছে? চোখ ক্রমাগত গরম হচ্ছিল।

আছে। তলে তলে সে ষড়যন্ত্র করেছিল।

তার প্রমাণ তোমার কাছে আছে?

আছে।

তা বলে তুমি তাকে খুন করবে?

শ্রেণীশত্রুকে তো খতম করতেই হয়।

সজলদা তো তোমার বন্ধু। শ্রেণীশত্রু হতে যাবে কেন?

হাঁ সে তাই। বলে থামল নিরূপ।

নন্দা এক লাফে ঝাঁপিয়ে পড়ল নিরূপের ওপর। প্রথমে চুলের মুঠি ধরে মাটিতে আছড়ে ফেলে বুকের ওপর পা চেপে ধরল নন্দা। সজলদা আমার প্রেম। তুমি তাকে খুন করেছ। বলে একটা হাত সে নিরূপের মুখের ওপর চেপে দিল। মুখ দিয়ে গোঁ গোঁ শব্দ করতে করতে কিছু বলতে চেষ্টা করছিল নিরূপ। তারপর কলার ধরে তাকে দাঁড় করিয়ে দিল নন্দা। নিরূপের দিকে তেড়ে গিয়ে বলল, আমার কাছে এসেছ কেন? লোকে জানতে পারবে না বলে? আর লুকিয়ে কিছুদিন থেকে আবার পালাবে? ধরতে পারবে না কেউ, সন্দেহ করবে না কেউ?

ঘাড় নাড়ল নিরূপ।

এবার বেশ জোরে নিরূপের তলপেটের নিচে লাথি কষাল নন্দা। আঘাতে কঁকিয়ে উঠল নিরূপ। মারের চোটে তার নাক দিয়ে গলগল করে রক্ত ঝরছে। সারা শরীর ভেসে যাচ্ছে রক্তস্রোতে।

নিরূপ বলল, আমি আর পারছি না। এবার ছেড়ে দাও।

আর ঠিক সেই মুহূর্তে নন্দা সজোরে একটা ঘুষি মারল নিরূপের বুক লক্ষ করে। মাটিতে লুটিয়ে পড়ল নিরূপ। আর সঙ্গে সঙ্গে হাততালি দিয়ে উঠল কাকলি।

গতকাল অনেক রাতে শুটিং থেকে বাড়ি ফিরে টিভিটা চালিয়েই ঘুমিয়ে পড়েছিল সে। আজ ছুটির দিন। কোনও কাজ নেই। টানা ঘুম দিয়েছিল কাকলি। ঘুম ভাঙতে তাকিয়ে দেখল গতকালের এপিসোডটি শুরু হচ্ছে। রিপিট টেলিকাস্ট। গোটা এপিসোডটি দেখার পর মনে মনে বলল কাকলি, সিরিয়ালের গল্পটা খুব জোরালো না হলেও নন্দার ভূমিকায় অভিনয়টা সে মন্দ করেনি।

চিত্রণ: চিন্ময় মুখোপাধ্যায়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

15 − eight =

Recent Posts

মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

উত্তম উত্তম

বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কম মহা-অভিনেতা জন্মাননি। তাঁদের মধ্যে খুব সামান্য কয়েকজন আল পাচিনো, মার্লোন ব্র্যান্ডো, রবার্ট ডি নিরো, লরেন্স অলিভিয়ার, গ্রেগরি পেক, জিন-পল বেলমন্ডো, ব্রুস লি, ইনোকেন্তি স্মোকতুনভস্কি, জিন গ্যাবিন, মাইকেল কেইন প্রমুখ। কিন্তু কতজন মৃত্যুর প্রায় পঞ্চাশ বছর পরেও জনপ্রিয়তা বাড়িয়েই চলেছেন? সম্ভবত চার্লি চ্যাপলিনের পর একমাত্র উত্তম। এলিজাবেথ টেলর ‘নায়ক’ দেখে আপ্লুত হয়ে যে উত্তমের সঙ্গে ছবি করতে চেয়েছিলেন, উত্তমের অভিনয়ের এ-ও তো এক অনিবার্য স্বীকৃতি!

Read More »
সুজিত বসু

সুজিত বসুর চারটি কবিতা

কেন বন্ধ ঝরোকাটি, এভাবে কেন যে বন্ধ হয়ে গেল, আমি কি পাতক/ করেছি কোনও, আমি তো শুধুই মুছি স্নেহাতুর রুক্ষ হাতে হাঁসেদের ত্বক/ ধনুকেতে কেউ বুঝি তির জোড়ে প্রার্থনায়, ব্যর্থ যেন না হয় কিছুতে লক্ষ্যভেদ/ আমিও নিশ্চিত জানি এখানেও ব্যর্থ হব, অন্ধকারে মেলে ধরি চোখ/ আবছায়া আঁধারিতে কখন যে স্বর্ণবৃত্তে বিঁধে গেছে অব্যর্থ শায়ক।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

জন্মশতবর্ষে সুকান্ত ভট্টাচার্য

সুকান্ত তাঁর সামান্য খড়কুটোর মতো জীবনকে মহার্ঘ প্রতিভার মিনারের ওপর দাঁড় করিয়েছেন। তিনি যেন প্রতিভার এক বনসাই, সাহিত্যের কত না সম্ভার নিয়ে সুকান্তর কারুবাসনা! তিনি যদি সারস্বত সাধনার একটি সুচারু তোড়া স্বল্প-পরিসর জীবনে উপহার দিয়ে যান, আমরা লক্ষ্য করব, সেখানে রয়েছে গল্প, প্রবন্ধ, নাটক, গীতিনাট্য, কাব্যনাট্য, গান, ছড়া, কবিতার বৈভব। আছে তাঁর সম্পাদিত কবিতার বই, ‘আকাল’। তিনি অনুবাদক। এমনকী উপন্যাস রচনাতেও হাত দিয়েছিলেন তিনি। চার বন্ধু মিলে বারোয়ারী। অন্য বন্ধুদের অসহযোগিতায় তা সম্পূর্ণ হতে পারেনি। আবৃত্তিকার ও অভিনেতা, নাট্য-পরিচালক রূপেও দেখেছি তাঁকে। দৈনিক ‘স্বাধীনতা’ পত্রিকার ছোটদের পাতা ‘কিশোরসভা’-র সম্পাদনাসূত্রে সাংবাদিক-ও আবার, যে সভার পঁচিশ হাজারের ওপর সভ্য ছিল।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

বাইশে শ্রাবণ

রবীন্দ্রনাথ-ও কিন্তু আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন। যে কবি চির আশাবাদী, একটা সময় প্রখর বিষণ্নতা গ্রাস করেছিল তাঁকেও। ইউনানি মতে একবার নিজের চিকিৎসা করান তিনি। তাইতেই এমন মানসিক বিপর্যয়। অবসাদ, কান্না পাওয়া, আত্মহননেচ্ছা, সাময়িকভাবে এসব পেয়ে বসেছিল তাঁকে। পুত্র রথীন্দ্রনাথকে চিঠিতে জানাচ্ছেন তিনি, ‘দিনরাত্রি মরবার কথা এবং মরবার ইচ্ছা আমাকে তাড়না করছে। মনে হচ্ছে আমার দ্বারা কিছুই হয় নি এবং হবে না। আমার জীবন যেন আগাগোড়া ব্যর্থ।’ কবির এহেন অনুভব, ভাবা যায়? এন্ড্রুজকে লেখা চিঠিতেও এর সমর্থন আছে, ‘l feel that l am on the brink of a breakdown.’

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

মোহন রায়হান: এক সুহানা সফর

মোহন রায়হান জীবনযাপনেও দলছুট এক কবি, একলা চলার ব্রত ও অভীপ্সা নিয়ে তিনি পথ চলেন। সেজন্য কম প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়নি তাঁকে, এমনকী কারাবাস ও শারীরিক নির্যাতন, যে জন্য দীর্ঘ চিকিৎসার জন্য চেন্নাইয়ের হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল তাঁকে। ‘কবি ছাড়া আমাদের জয় বৃথা’, আপ্তবাক্যটি মোহন রায়হান নামের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। মোহন রায়হান কবিতায় সহসা আগন্তুক নন। তাঁর আছে পরম্পরা, ঐতিহ্য, পুরনো দশকসমূহের অনুবর্তিতা আর উত্তরাধিকার। একাত্তর, তার-ও আগের বাহান্নো, বা সাতচল্লিশ পূর্ববঙ্গ বা বাংলাদেশের কবিতায় যে রেখাপাত ঘটিয়েছে, আলো আর অন্ধকারের কলমকারিতে তার মহাগীত রচিত হয়ে আছে।

Read More »
সালমিন রহমান

বেলুচিস্তান সংকট মোকাবিলা কতটা সহজ

বেলুচিস্তানের সংকটকে কেবল বিচ্ছিন্নতাবাদ কিংবা কেবল নিরাপত্তা সমস্যার দৃষ্টিতে দেখলে পূর্ণ চিত্রটি বোঝা যায় না। এখানে ইতিহাস, জাতিগত পরিচয়, প্রাকৃতিক সম্পদ, উন্নয়ন বৈষম্য, মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং আঞ্চলিক শক্তির প্রতিযোগিতা— সবকিছু একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। স্বাধীন বেলুচিস্তান গঠিত হলে বহু মানুষের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা পূরণ হতে পারে। একই সঙ্গে একটি নতুন রাষ্ট্রের সামনে দাঁড়াবে নিরাপত্তা, অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং রাষ্ট্র পরিচালনার কঠিন বাস্তবতা। অন্যদিকে, পাকিস্তান, চীন, ভারত এবং সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।

Read More »