
সুতপন চট্টোপাধ্যায়ের ছোটগল্প
স্মৃতির প্রহরী মঙ্গলদা আমাদের ইস্কুলে ঘণ্টা বাজাত। ক্লাস শেষ হলে মঙ্গলদা হেডমাস্টারের অফিসের সামনে ঝোলানো ঘণ্টায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে জানিয়ে দিত ইস্কুল শুরু। দ্বারবাসিনী

স্মৃতির প্রহরী মঙ্গলদা আমাদের ইস্কুলে ঘণ্টা বাজাত। ক্লাস শেষ হলে মঙ্গলদা হেডমাস্টারের অফিসের সামনে ঝোলানো ঘণ্টায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে জানিয়ে দিত ইস্কুল শুরু। দ্বারবাসিনী

|| ভালভাষা উৎসব সংখ্যা ২০২৩ || আমার কানে বাংলাদেশে এই প্রথম একটি নতুন শব্দ সজোরে ধাক্কা মারল। আমরা আজীবন শুনে এসেছি বা বলে এসেছি, চিকেন বিরিয়ানি। রেস্তোরাঁয় খাবার অর্ডার দেবার সময় চিকেন কিংবা মাটন বিরিয়ানি বলতে অভ্যস্ত। কোনও দিন ‘মোরগ বিরিয়ানি’ বলিনি। তবে কি আমরা এমন একটি দেশে ঢুকছি, যেখানে প্রতিটি ইংরেজি শব্দের বাংলা প্রতিশব্দে কথা বলতে হবে? লিখেছেন সুতপন চট্টোপাধ্যায়।

India’s First Bengali Daily Magazine. নন্দা এক লাফে ঝাঁপিয়ে পড়ল নিরূপের ওপর। প্রথমে চুলের মুঠি ধরে মাটিতে আছড়ে ফেলে বুকের ওপর পা চেপে ধরল নন্দা। সজলদা আমার প্রেম। তুমি তাকে খুন করেছ। বলে একটা হাত সে নিরূপের মুখের ওপর চেপে দিল। মুখ দিয়ে গোঁ গোঁ শব্দ করতে করতে কিছু বলতে চেষ্টা করছিল নিরূপ। তারপর কলার ধরে তাকে দাঁড় করিয়ে দিল নন্দা। নিরূপের দিকে তেড়ে গিয়ে বলল, আমার কাছে এসেছ কেন?

India’s First Bengali Daily Magazine. লীলা দোতলায় উঠতে পারে না বেশ অনেক বছর। কীভাবে যে বইগুলো সাজিয়ে রেখে গেছিল আজ আর তা মনে পড়ে না অনুপমের। তবে তার স্পষ্ট মনে আছে প্রিয় রসায়নের বইগুলো একটি ধারে রাখা ছিল। সেগুলো কি আছে? ভেবে আলমারিটা খোলার চেষ্টা করতেই ঝরঝর করে একটি র্যাক ভেঙে পড়ল তার পায়ের কাছে। এই বইয়ের স্তূপের মধ্যে অনুপমের চোখে পড়ল একটি নীল খাম। মুহূর্তে সে ফিরে গেল অনেকগুলো বছর। খামটি তাড়াতাড়ি তুলে নিয়ে পকেটে পুরল অনুপম। এইখানে তার লুকনো ছিল তমালিকার চিঠি।

সত্যিকারের আমিলামিয়া আবার আমার স্মৃতিতে ফিরে এসেছে, আর আমি আবার— সম্পূর্ণ সুখী না হলেও সুস্থ বোধ করছি: পার্ক, জীবন্ত সেই শিশুটি, আমার কৈশোরের পঠনকাল— সব মিলিয়ে এক অসুস্থ উপাসনার প্রেতচ্ছায়ার ওপর জয়লাভ করেছে। জীবনের ছবিটাই বেশি শক্তিশালী। আমি নিজেকে বলি, আমি চিরকাল আমার সত্যিকারের আমিলামিয়ার সঙ্গেই বাঁচব, যে মৃত্যুর বিকৃত অনুকরণের ওপর জয়ী হয়েছে। একদিন সাহস করে আবার সেই খাতাটার দিকে তাকাই— গ্রাফ কাগজের খাতা, যেখানে আমি সেই ভুয়ো মূল্যায়নের তথ্য লিখে রেখেছিলাম। আর তার পাতার ভেতর থেকে আবার পড়ে যায় আমিলামিয়ার কার্ডটি— তার ভয়ানক শিশুসুলভ আঁকাবাঁকা লেখা আর পার্ক থেকে তার বাড়ি পর্যন্ত যাওয়ার মানচিত্র। আমি সেটা তুলে নিয়ে হাসি।

শ্রদ্ধেয় বসুর বইতে হোমিওপ্যাথি সম্পর্কিত অধ্যায়টি তথাকথিত বিজ্ঞানমনস্কদের, বিশেষ করে মুদ্রা-মূর্ছনায় মজে থাকা, বা রাজনীতিজ্ঞ হিসেবে স্বীকৃতির দাবেদার-ঘনিষ্ঠ চিকিৎসকদের বিরক্তিকর বা অপ্রীতিকরই মনে হবার কথা। কেননা, উল্লিখিত দুটি বিষয় নিয়ে তাদের মনের গহীন কোণে প্রোথিত বিজ্ঞানবাদিতার শেকড় ওপড়ানোর সম্ভাবনা নেই বলেই মনে হয়। প্রশ্ন হল, তাঁর উপরিউক্ত বইটির কারণে তথাকথিত বিজ্ঞানমনস্ক বন্ধুদের চোখে ব্রাত্য বলে চিহ্নিত হবেন না তো? হলে আমি অন্তত আশ্চর্যচকিত হব না। দাগিয়ে দেবার পুরনো অভ্যাস বা পেটেন্ট এই মহলের বাসিন্দাদের প্রধান অস্ত্র, তা ভুক্তভোগীরা হাড়ে হাড়ে জানেন।

১৯৫০ দশকে নেপালের রাজতন্ত্র ও রাজার মন্ত্রিগোষ্ঠী রানাশাহী শাসনের বিরুদ্ধে সফল সশস্ত্র বিদ্রোহ হয়েছিল। সেই বিদ্রোহে অংশ নিয়েছিলেন অনেক ভারতীয়। তাঁদের মধ্যে অনেকে বাঙালি। নেপালের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সেই প্রথম সংঘর্ষ সে-দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে মুক্তিযুদ্ধ হিসেবে চিহ্নিত। ভারত ও চীনের মধ্যে একফালি দেশ নেপালের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রাম সশস্ত্র ও নিরস্ত্র দুই পথ ধরে চলেছিল। ডান-বাম-অতিবাম— ত্রিমুখী রাজনৈতিক ঘাত-প্রতিঘাতের চূড়ান্ত সফলতা আসে ২০০৮ সালে রাজার শাসনের অবসানে।

আমরা ৮-ই মার্চের আন্তর্জাতিক নারীদিবসে আবহমান নারীবিশ্বকে সামান্য একটু ছুঁয়ে যেতে চাইলাম মাত্র। হাজার হাজার বছর ধরেই তাঁদের ওপর কড়া অনুশাসন, জবরদস্ত পরওয়ানা আর পুরুষতন্ত্রের দাপট। সে-সবের ফল ভুগতে হয়েছে আন্তিগোনে থেকে সীতা, দ্রৌপদী; জোয়ান অফ আর্ক থেকে আনারকলি, হাইপেশিয়া; রানি লক্ষ্মীবাঈ থেকে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, বেগম রোকেয়া; রোজা পার্কস থেকে মালালা ইউসুফজাই— তাঁদের মতো হাজারো নামহীন নারীকে।

প্রতিটি ভাষার নিজস্ব একটি আলো আছে, সে নিজের দীপ্তিতেই ভাস্বর। পৃথিবীতে আজ প্রায় সাত হাজার ভাষা আছে। ভাষাবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই শতাব্দীর শেষে তার অর্ধেকেরও বেশি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। এ তথ্য সত্যিই বেদনাদায়ক। একটি ভাষার মৃত্যু মানে কেবল কিছু শব্দের মৃত্যু নয়— সে মানে একটি জগৎদর্শনের অবলুপ্তি, একটি জাতির স্মৃতির চিরকালীন বিনাশ। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে তাই আমাদের অঙ্গীকার হোক বহুমাত্রিক। নিজের মাতৃভাষাকে ভালবাসা, তাকে চর্চায় রাখা, তার সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া। আর তার সাথে অন্য সমস্ত ভাষার প্রতি আরও বেশি করে শ্রদ্ধাশীল হওয়া।

শংকরের জনপ্রিয়তার একটি কারণ যদি হয় সাবলীল ও সহজ গতিচ্ছন্দময় ভাষা, অন্য আরেকটি কারণ হল, নিজ সময়কে করপুটে ধারণ করা। তার সঙ্গে মিশেছে আমাদের পরিকীর্ণ জগতের বহুকিছু, আমাদের নাগালের মধ্যেই আছে, অথচ আমরা এ-পর্যন্ত যার হদিশ পাইনি, তাকে পাঠকের দরবারে এনে হাজির করা। ১৯৫৫-তে যে উপন্যাসটি দিয়ে বাংলা-সাহিত্যে তাঁর আবির্ভাব, সেই ‘কত অজানারে’ হাইকোর্টের জীবনযাপন, সেখানকার আসামি-ফরিয়াদি, উকিল-ব্যারিস্টার প্রমুখের চিত্র। লেখকের নিজ অভিজ্ঞতাপ্রসূত রচনা এটি। তিনি প্রথম জীবনে হাইকোর্টের সঙ্গে চাকরিসূত্রে যুক্ত ছিলেন।