Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

ডব্লিউ এইচ অড্যেনের ইংরেজি কবিতার অনুবাদ

অন্ত্যেষ্টির সঙ্গীত

সমস্ত ঘড়ি থামিয়ে দাও
টেলিফোনের তার কেটে দাও
থামিয়ে দাও রসালো হাড়ের টুকরো নিয়ে
পথ-সারমেয়দের বিরক্তিকর চিৎকার।
স্তব্ধ করে দাও পিয়ানোর সুরেলা আওয়াজ।
এগিয়ে আসুক আচ্ছাদিত ঢাকের সাথে
কফিন এবং শোকার্ত মানুষেরা!

এরোপ্লেনকে মাথার ওপর আকাশে
চক্রাকারে ঘুরতে দিয়ো… সংবাদ ছড়িয়ে দিতে
‘সে মৃত!’
রাস্তার পায়রাগুলোর সাদা গলায়
ঝুলিয়ে দিয়ো ক্রেপের ব্যান্ড।
ট্র‍্যাফিক-পুলিশদের হাতে তুলে দিয়ো
কালো দস্তানা।

সে আমার উত্তর ছিল
আমার দক্ষিণ, পূর্ব পশ্চিমও!
আমার কর্মব্যস্ত সপ্তাহ এবং রবিবারের বিশ্রাম
আমার চাঁদ, আমার মধ্যরাত, আমার কথা ও গান!
ভেবেছিলাম…
ভালবাসা চিরকালের মতো থাকবে
ভুল ছিলাম আমি!

নক্ষত্রদের আর চাই না…
প্রত্যেককে বের করে নাও
চাঁদকে গুটিয়ে ফেলো আর
সূর্যকে ভেঙেচুরে দাও।
সমুদ্রকে সরিয়ে… ঝাড়ু মেরে
দূর করে দাও সবুজ বনানী।
এগুলোর আর প্রয়োজন নেই
এরা আর কোনও ভাল কাজে আসবে না!

(ফিউনারাল ব্লুজ)

*

আরও এক ভালবাসার মানুষ

আকাশের তারাদের দিকে তাকিয়ে
বেশ বুঝতে পারি
সবার জন্য তাদের ভাবনা।

আমি নরকেও যেতে পারি।
কিন্তু পৃথিবী বড় উদাসীন!
আমরা অত্যন্ত চিন্তাজনকভাবে
মানুষ থেকে পশুতে চলে আসি।

এটা কীভাবে ভাল লাগবে
তারাগুলো জ্বালিয়ে দেব…
সংবেদনার পরিবর্তে সংবেদননা জানাব না!
যদি সমান সমান না সম্ভব হয়
আরও বেশি ভালবাসার মানুষ পাশে থাকুক
প্রশংসা করুক আমি যা নিজেকে ভাবি
তার চেয়েও বেশি কিছু!

তারাগুলো সে-সব কিছু দেয় না।
এখন তাদের দেখতে পারি এবং বলতে পারি
ভীষণভাবে একজনকে সারাদিন মিস করেছি।
যেখানে নক্ষত্রেরা সব অদৃশ্য হয়ে যাবে
অথবা শেষ হয়ে যাবে… শূন্য আকাশের দিকে
তাকাতে শিখে যাব। সময় লাগলেও
অনুভব করব সম্পূর্ণ অন্ধকারের
অদ্ভুত সুন্দর পবিত্র নির্জনতা!

(দ্য মোর লাভিং ওয়ান)

*

আত্মপ্রতিকৃতি

সে তার অনুভবের সমস্ত ইন্দ্রিয় দিয়ে
লক্ষ্য করে রাজকুমারীর পদক্ষেপ,
শোনে… স্ত্রী এবং সন্তানদের সংলাপ।
হৃদয়ের পুরনো পিটারা খুলে জানতে চায়
কোন আইন অবমাননা করে
মানুষগুলো মৃত্যুবরণ করেছে!
এবং খুব নিশ্চিতভাবে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছায়
সমস্ত আরামচেয়ারে বসে থাকা
দার্শনিকরা এক বিশাল ভুল!

অন্যদেরকে ভালবাসা এক বিভ্রান্তি!
দয়া প্রদর্শনও শয়তানের কারসাজি।

ভাগ্য মেনে নিয়ে সফলতার শিখরে পৌঁছে
সমস্ত প্রাণীদের রাজা হয়েও…
এক শরৎ-রাতের দুঃস্বপ্নে সে
নিজেকে দেখতে পায়… শূন্য করিডরে
নিজেরই বিকৃত চেহারা…
যে কাঁদে, কাঁদতে কাঁদতে যন্ত্রণায় কুঁকড়ে ওঠে!

(দ্য কোয়েস্ট)

চিত্রণ: ক্রিস্তিনা সাহা

***

লেখক পরিচিতি

ব্রিটিশ-আমেরিকান কবি ডব্লিউ এইচ অড্যেন ১৯০৭ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ইউকে-তে ইওর্ক শহরে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৭৩ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ভিয়েনাতে প্রয়াত হন। তিনি তাঁর মেধা, মননশীলতা এবং রসবোধের জন্য বিখ্যাত ছিলেন। তাঁর কবিতা সুবিন্যস্ত, স্টাইলিশ, বিস্তৃত বিষয়সূচিতে সমৃদ্ধ। রাজনীতি, আদর্শবাদ, ধর্ম ও ভালবাসা ইত্যাদি নানা বিষয় তাঁর কবিতায় উঠে এসেছে। তাঁর কবিতাগুলি তাঁর গভীর অনুভবের ফসল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

15 + six =

Recent Posts

মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

নারী: এক দৈবী আখর

আমরা ৮-ই মার্চের আন্তর্জাতিক নারীদিবসে আবহমান নারীবিশ্বকে সামান্য একটু ছুঁয়ে যেতে চাইলাম মাত্র। হাজার হাজার বছর ধরেই তাঁদের ওপর কড়া অনুশাসন, জবরদস্ত পরওয়ানা আর পুরুষতন্ত্রের দাপট। সে-সবের ফল ভুগতে হয়েছে আন্তিগোনে থেকে সীতা, দ্রৌপদী; জোয়ান অফ আর্ক থেকে আনারকলি, হাইপেশিয়া; রানি লক্ষ্মীবাঈ থেকে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, বেগম রোকেয়া; রোজা পার্কস থেকে মালালা ইউসুফজাই— তাঁদের মতো হাজারো নামহীন নারীকে।

Read More »
তন্ময় চট্টোপাধ্যায়

মাতৃভাষা: অবিনাশী হৃৎস্পন্দন ও বিশ্বজনীন উত্তরাধিকার

প্রতিটি ভাষার নিজস্ব একটি আলো আছে, সে নিজের দীপ্তিতেই ভাস্বর। পৃথিবীতে আজ প্রায় সাত হাজার ভাষা আছে। ভাষাবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই শতাব্দীর শেষে তার অর্ধেকেরও বেশি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। এ তথ্য সত্যিই বেদনাদায়ক। একটি ভাষার মৃত্যু মানে কেবল কিছু শব্দের মৃত্যু নয়— সে মানে একটি জগৎদর্শনের অবলুপ্তি, একটি জাতির স্মৃতির চিরকালীন বিনাশ। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে তাই আমাদের অঙ্গীকার হোক বহুমাত্রিক। নিজের মাতৃভাষাকে ভালবাসা, তাকে চর্চায় রাখা, তার সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া। আর তার সাথে অন্য সমস্ত ভাষার প্রতি আরও বেশি করে শ্রদ্ধাশীল হওয়া।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

শংকর: বিচিত্র বিষয় ও আখ্যানের কথাকার

শংকরের জনপ্রিয়তার একটি কারণ যদি হয় সাবলীল ও সহজ গতিচ্ছন্দময় ভাষা, অন্য আরেকটি কারণ হল, নিজ সময়কে করপুটে ধারণ করা। তার সঙ্গে মিশেছে আমাদের পরিকীর্ণ জগতের বহুকিছু, আমাদের নাগালের মধ্যেই আছে, অথচ আমরা এ-পর্যন্ত যার হদিশ পাইনি, তাকে পাঠকের দরবারে এনে হাজির করা। ১৯৫৫-তে যে উপন্যাসটি দিয়ে বাংলা-সাহিত্যে তাঁর আবির্ভাব, সেই ‘কত অজানারে’ হাইকোর্টের জীবনযাপন, সেখানকার আসামি-ফরিয়াদি, উকিল-ব্যারিস্টার প্রমুখের চিত্র। লেখকের নিজ অভিজ্ঞতাপ্রসূত রচনা এটি। তিনি প্রথম জীবনে হাইকোর্টের সঙ্গে চাকরিসূত্রে যুক্ত ছিলেন।

Read More »
সুজিত বসু

সুজিত বসুর তিনটি কবিতা

তারপরে একদিন আকাশে মেঘের সাজ, মুখরিত ধারাবারিপাত/ রঙিন ছাতার নিচে দু’গালে হীরের গুঁড়ি, মন মেলে ডানা/ আরো নিচে বিভাজিকা, নিপুণ শিল্পীর হাতে গড়া দুই উদ্ধত শিখর/ কিছুটা অস্পষ্ট, তবু আভাসে ছড়ায় মায়া বৃষ্টিস্নাত নাভি/ তখনই হঠাৎ হল ভূমিকম্প, পাঁচিলের বাধা ভাঙে বেসামাল ঝড়/ ফেরা যে হবে না ঘরে মুহূর্তে তা বুঝে যাই, হারিয়েছি চাবি/ অনেক তো দিন গেল, অনেক ঘুরেছি পথে, বিপথে অনেক হল ঘোরা/ তাকে তো দেখেছি, তাই নাই বা পড়ুক চোখে অজন্তা ইলোরা।

Read More »
সর্বাণী বন্দ্যোপাধ্যায়

ছোটগল্প: ফাউ

গরমকালে ছুটির দিনে ছাদে পায়চারি করতে বেশ লাগে। ঠান্ডা হাওয়ায় জুড়োয় শরীরটা। আকাশের একপাশে আবির। সন্ধে হবে হবে। অন্যদিকে কাঁচা হলুদ। চায়ের ট্রে নিয়ে জমিয়ে বসেছে রুমা। বিয়ের পর কি মানুষ প্রেম করতে ভুলে যায়? নিত্যদিন ভাত রুটি ডালের গল্পে প্রেম থাকে না কোথাও? অনেকদিন রুমার সঙ্গে শুধু শুধু ঘুরতে যায়নি ও।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

নারীকে আপন ভাগ্য জয় করিবার…

মনু-পরাশর-বৃহস্পতি-কৌটিল্যদের অনুশাসন এসে নারী প্রগতির রাশ টেনে ধরল। নারীর শিক্ষালাভের ইতি ঘটল, অন্তঃপুরে বাস নির্দিষ্ট হল তাঁর জন্য। তাঁকে বাঁধা হল একের পর এক অনুশাসনে। বলা হল, স্বাধীনতা বলে কোনও পদার্থ থাকবে না তাঁর, ‘ন স্ত্রী স্বাতন্ত্র্যমর্হতি’! কুমারী অবস্থায় পিতা-মাতার অধীন থাকবে সে, বিয়ের পর স্বামীর, বার্ধক্যে সন্তানের। ধাপে ধাপে তাঁর ওপর চাপানো হতে লাগল কঠিন, কঠিনতর, কঠিনতম শাস্তি।

Read More »