Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

নুশান জান্নাত চৌধুরীর দুটি কবিতা

আর কোনও ছায়া ও বেদনার পৃথিবীতে

সময় গড়ায়, বলার মতো কত কিছু হারায়,
যাও-বা কিছু বাকি থাকে,
মুহুর্মুহু বিভাজনে, চোখ মেলে দেখে,
সে হৃদয় একদিন নিরাময় শেখে,
রাখে মানুষের হাতে মানুষেরই হাত

তাতে ক্ষতি ও শোকের দাগ
মোছে শত্রুর হাতে মিত্রের হাত; এইসব ধরা-ছোঁয়া,
কিছু জরা, কবিতারা, কিছু বেদনার রীতিনীতি,
লোকে যা দুঃখ ও ব্যথা বলে জানে,
যখন তা অনেক দূরের স্মৃতি,

তখন হঠাৎ সে জোছনায় ম্লান হয়ে যায়,
কোনও এক পাথরের খাঁজে,
অদৃশ্য পৃথিবীর ভাঁজে, হঠাৎ সে বিলাপের সুরে,
জীবিতের ময়দানে মাঠে ঘুরে,
এই বুঝি ভূত হয়ে হাঁটে…

এঁকেছিল চিহ্ন, জন্মের বিস্ময়
এঁকেছিল ধ্বংসের ছাঁটে—
এইসব কথা কেউ কয় না তো হায়,
প্রাচীন গানের মতো আজ ধূলিকণা সব,
তাহার গল্প লোটে পাথর-কাদায়

তবু তখনও বৃষ্টি চাদরে জড়ায়
নির্জনতম সেই মশগুল বুক—
বন্ধ গ্রন্থি থেকে ঝরে তার বায়ু জল মাটি আগুনের শ্লোক;
আর কোনও ছায়া ও বেদনার পৃথিবীতে
সে হৃদয়— যেন একফোঁটা মধু-ধুকপুক

§

কোথায় যে এক দুর্গম প্রেম রয়ে গেছে বাকি

সেই কবে একদিন ভোরের দিকে, দেখি:
মেঘ ভেসে আসছে আমার জানলার দিকে,
গাছের পাতারা নীরব হয়ে আছে,
পৃথিবীর শুরুর দিকে বুঝি এমন নীরবতা ছিল, ভেবে—
আমি চলে গেলাম ঘুমোতে আবার

এই সুযোগে ধীরে ধীরে জেগে উঠল মানুষ,
চারদিকে আলো ফেলল সকালের সূর্য,
দুপুর হতেই সে আলোয় সব যেন জ্বলজ্বল:
এতদিন কুয়াশায় যা ছিল অবগুণ্ঠিত, তার
সবটা উদ্ভাসিত হল, কী এক পুনর্জন্মের অপেক্ষায়

Advertisement

জানলার পাশের গাছগুলো আরও আরও আকাশের দিকে ঊর্ধ্বোন্মুখে
বলে উঠল, ‘আমরাও জেগে উঠছি এই সুযোগে’,
কুয়াশার ছদ্মবেশকে আলিঙ্গন করে যা ছিল এতদিন মূক ও বধির,
তার সব, এ কী ছন্দময় প্রবাহে স্পন্দিত হয় আজ,
চোখের পলকে এক ঝলকে জেগে ওঠে ওরা আমারই অজ্ঞাতে

আমার ঘুমের সুযোগে আজ এত কণ্ঠস্বর জেগে ওঠে
প্রশস্ত প্রেম নিয়ে ধুঁকেধুঁকে, ভাবিনি তো আগে!
আমি তো ভেবেছি— বালি আর জল থৈথৈ,
কোথায় এ জীবনের বোঝা সই!
মানুষের বোধে বুদ্ধিতে, উপলব্ধিতে, কই বা এক

বৃহত্তর বোঝাপড়া— আজও আছে বাকি
আমি তো ভেবেছি আমাদের, সব শুধু ফাঁকি
আমি তো ভেবেছি— গম্ভীর মুখ করে;
কোথায় যে এক দুর্গম প্রেম রয়ে গেছে,
পৃথিবীর তাবৎ প্রেমিক-প্রেমিকার থেকে দূরে

পাংশুটে বোধের বাইরে প্রসারিত, ভাষার বাইরে বিস্তৃত ঘুমের,
গভীর অন্ধকার এ পাথরভূমে, আমি মূক ও বধির হয়ে থাকি,
পীড়িত পললে ভিত গাঁথি, তোমাকে যে কতবার ডাকি—
কিন্তু তোমার রক্তরেখার ইতিহাসে,
কোথায় যে এক দুর্গম প্রেম রয়ে গেছে বাকি—

সকল আনন্দ উত্তাপ তাই চুকেবুকে, কোনও এক ঊষাকালে
পৃথিবীর শুরুর দিকটার মতো নীরবতা বুকে,
আমি চলে গেলাম ঘুমোতে আবার,
এই সুযোগে, এক বৃহত্তর বোঝাপড়ার রোখে, দ্যাখো, সব,
ওরা সব জেগে উঠল বারবার

চিত্রণ: চিন্ময় মুখোপাধ্যায়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 × 3 =

Recent Posts

প্রসেনজিৎ চৌধুরী

অগ্নিবীর: বন্দুকের মুখে ঈশ্বর

১৯৫০ দশকে নেপালের রাজতন্ত্র ও রাজার মন্ত্রিগোষ্ঠী রানাশাহী শাসনের বিরুদ্ধে সফল সশস্ত্র বিদ্রোহ হয়েছিল। সেই বিদ্রোহে অংশ নিয়েছিলেন অনেক ভারতীয়। তাঁদের মধ্যে অনেকে বাঙালি। নেপালের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সেই প্রথম সংঘর্ষ সে-দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে মুক্তিযুদ্ধ হিসেবে চিহ্নিত। ভারত ও চীনের মধ্যে একফালি দেশ নেপালের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রাম সশস্ত্র ও নিরস্ত্র দুই পথ ধরে চলেছিল। ডান-বাম-অতিবাম— ত্রিমুখী রাজনৈতিক ঘাত-প্রতিঘাতের চূড়ান্ত সফলতা আসে ২০০৮ সালে রাজার শাসনের অবসানে।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

নারী: এক দৈবী আখর

আমরা ৮-ই মার্চের আন্তর্জাতিক নারীদিবসে আবহমান নারীবিশ্বকে সামান্য একটু ছুঁয়ে যেতে চাইলাম মাত্র। হাজার হাজার বছর ধরেই তাঁদের ওপর কড়া অনুশাসন, জবরদস্ত পরওয়ানা আর পুরুষতন্ত্রের দাপট। সে-সবের ফল ভুগতে হয়েছে আন্তিগোনে থেকে সীতা, দ্রৌপদী; জোয়ান অফ আর্ক থেকে আনারকলি, হাইপেশিয়া; রানি লক্ষ্মীবাঈ থেকে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, বেগম রোকেয়া; রোজা পার্কস থেকে মালালা ইউসুফজাই— তাঁদের মতো হাজারো নামহীন নারীকে।

Read More »
তন্ময় চট্টোপাধ্যায়

মাতৃভাষা: অবিনাশী হৃৎস্পন্দন ও বিশ্বজনীন উত্তরাধিকার

প্রতিটি ভাষার নিজস্ব একটি আলো আছে, সে নিজের দীপ্তিতেই ভাস্বর। পৃথিবীতে আজ প্রায় সাত হাজার ভাষা আছে। ভাষাবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই শতাব্দীর শেষে তার অর্ধেকেরও বেশি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। এ তথ্য সত্যিই বেদনাদায়ক। একটি ভাষার মৃত্যু মানে কেবল কিছু শব্দের মৃত্যু নয়— সে মানে একটি জগৎদর্শনের অবলুপ্তি, একটি জাতির স্মৃতির চিরকালীন বিনাশ। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে তাই আমাদের অঙ্গীকার হোক বহুমাত্রিক। নিজের মাতৃভাষাকে ভালবাসা, তাকে চর্চায় রাখা, তার সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া। আর তার সাথে অন্য সমস্ত ভাষার প্রতি আরও বেশি করে শ্রদ্ধাশীল হওয়া।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

শংকর: বিচিত্র বিষয় ও আখ্যানের কথাকার

শংকরের জনপ্রিয়তার একটি কারণ যদি হয় সাবলীল ও সহজ গতিচ্ছন্দময় ভাষা, অন্য আরেকটি কারণ হল, নিজ সময়কে করপুটে ধারণ করা। তার সঙ্গে মিশেছে আমাদের পরিকীর্ণ জগতের বহুকিছু, আমাদের নাগালের মধ্যেই আছে, অথচ আমরা এ-পর্যন্ত যার হদিশ পাইনি, তাকে পাঠকের দরবারে এনে হাজির করা। ১৯৫৫-তে যে উপন্যাসটি দিয়ে বাংলা-সাহিত্যে তাঁর আবির্ভাব, সেই ‘কত অজানারে’ হাইকোর্টের জীবনযাপন, সেখানকার আসামি-ফরিয়াদি, উকিল-ব্যারিস্টার প্রমুখের চিত্র। লেখকের নিজ অভিজ্ঞতাপ্রসূত রচনা এটি। তিনি প্রথম জীবনে হাইকোর্টের সঙ্গে চাকরিসূত্রে যুক্ত ছিলেন।

Read More »
সুজিত বসু

সুজিত বসুর তিনটি কবিতা

তারপরে একদিন আকাশে মেঘের সাজ, মুখরিত ধারাবারিপাত/ রঙিন ছাতার নিচে দু’গালে হীরের গুঁড়ি, মন মেলে ডানা/ আরো নিচে বিভাজিকা, নিপুণ শিল্পীর হাতে গড়া দুই উদ্ধত শিখর/ কিছুটা অস্পষ্ট, তবু আভাসে ছড়ায় মায়া বৃষ্টিস্নাত নাভি/ তখনই হঠাৎ হল ভূমিকম্প, পাঁচিলের বাধা ভাঙে বেসামাল ঝড়/ ফেরা যে হবে না ঘরে মুহূর্তে তা বুঝে যাই, হারিয়েছি চাবি/ অনেক তো দিন গেল, অনেক ঘুরেছি পথে, বিপথে অনেক হল ঘোরা/ তাকে তো দেখেছি, তাই নাই বা পড়ুক চোখে অজন্তা ইলোরা।

Read More »
সর্বাণী বন্দ্যোপাধ্যায়

ছোটগল্প: ফাউ

গরমকালে ছুটির দিনে ছাদে পায়চারি করতে বেশ লাগে। ঠান্ডা হাওয়ায় জুড়োয় শরীরটা। আকাশের একপাশে আবির। সন্ধে হবে হবে। অন্যদিকে কাঁচা হলুদ। চায়ের ট্রে নিয়ে জমিয়ে বসেছে রুমা। বিয়ের পর কি মানুষ প্রেম করতে ভুলে যায়? নিত্যদিন ভাত রুটি ডালের গল্পে প্রেম থাকে না কোথাও? অনেকদিন রুমার সঙ্গে শুধু শুধু ঘুরতে যায়নি ও।

Read More »