Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

কুণাল বিশ্বাসের কবিতাগুচ্ছ

প্রহর

এই ঘাস শিশিরে সামিল
বিবরণী হলে শুধু ভোরটুকু লেখা
দেখা হবে প্যালেট সকালে
হাতে ব্রাশ নতমুখ তিনি বসা লোক
শাদায় সবুজ আর কুসুম হলুদ
জনারের ছবি আঁকবেন
মনে করে ছাদে ওঠা লতা
এবং সামান্য জলে উন্নাসিক লাল রং গুলে
পাতায় নিহত ফল, ডাল শিরীষের

কথা

আমার ভিতর কখন সে পাখি ডেকে উঠেছে যে উড্ডয়ন ভুল করে বারবার গাছ থেকে হেলে পড়ে যায়। বলে আমি পাখি নই, পাতা, শিরা নয়, কররেখা ধরে আছি যেন কতকাল। প্রকৃতির সূত্রগুলো মানি, কীটদষ্ট, মৃত্তিকায় মাটি হয়ে মিশি।

ডানাগুলো খেয়েছি রঙিন।

মিতালি

হে গভীর শ্বেত, পাঠাও হারানো লেখা
আমার জানালা ভাল নেই
ভোরের বদলে খাকি রোদের সকাল
দরজায় ফাঁকে

কে চায় ফলবিহীন গাছ
রৌদ্র, মেলে দেওয়া গামছায়
সব ঘাম থিতু হয়ে আছে

কে দেবে গোপন খামে লিখে
জলচিঠি, বিছে মেঘ, শেষ জুনিপার

অবসর

এভাবে সে যাবে চলে যে-কোনো দিকেই
খুঁজে নেবে তালশাঁস, ঝিল অভিমুখ
ছবির কথায় যেন রং ভারী হয়
যত ঘাট বুকে ঢেউ মেনে
ডুব দেয়, ভিজে ওঠে দেখায় অনেক
সকলের ডাকনাম স্নান
আড়ালে সে গড়েপিঠে জলের প্রবাদ

চাতক

অযথা নতুন করে পাথরের গুণ করো কেন
ছাতিফাটা দেশ তায় ঘাসগুলো জ্বলে
অসুখে অমিল পাতা, কবিরাজ মরে পুড়ে গেছে
ভাল শুধু এই জল উঠোন মুলুক
চারাগাছে ছিঁটেফোঁটা, বাকিটুকু ঢালি
ভেজা চুলে যতবার লাল মগ স্বয়ং শ্রাবণ

চিত্রণ: চিন্ময় মুখোপাধ্যায়
5 1 vote
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
2 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
কৌশিক ঘোষ
কৌশিক ঘোষ
2 years ago

এই কবিতার কাছে কবি বিশ্বস্ত, অন্তত এই পাঠকও তার অংশীদার। আপাত শান্ত শব্দগুলি আশ্বাস দিচ্ছে কোনও, ফিরে ফিরে নিজেদের পড়ে যাওয়ার প্রকৃত মিনতি রচিত, অন্তর্লীন আছে চোরাস্রোত, ও গভীর জলজ অন্য বাস্তবতা। ফিরে আসব আবার, এইসব শব্দের কাছে, নিজেকে যাচাই করতে, ফিরে পড়ব। সত্যিই, জীবন ও প্রকৃত কবিতার কাছেই, আজও কেন মনে হয়, আসল মায়া?

কুণাল বিশ্বাস
কুণাল বিশ্বাস
2 years ago

কৌশিকদা, এত যত্ন নিয়ে কবিতা পড়ার লোক কমে গেছে। অনেক ভালোবাসা তোমাকে।

Recent Posts

সাবিনা ইয়াসমিন

শিলং ঘোরা

নদীর মাঝখানে একটা মস্ত পাথরের চাঁই। তারপরে সিলেট, বাংলাদেশের শুরু। কোনও বেড়া নেই। প্রকৃতি নিজে দাঁড়িয়ে দুই পারের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

আষাঢ়স্য প্রথম দিবস

পয়লা আষাঢ় বলতে অবধারিতভাবে যে কবিকে মনে না এসে পারে না, তিনি হলেন মহাকবি কালিদাস। তিনি তাঁর ‘মেঘদূত’ কাব্যে পয়লা আষাঢ়কে অমরত্ব দিয়ে গেছেন।

Read More »
উত্তম মাহাত

কল্পোত্তমের দুটি কবিতা

দশাধিক বছরের সূর্যোদয় মনে রেখে/ শিখেছি সংযম, শিখেছি হিসেব,/ কতটা দূরত্ব বজায় রাখলে শোনা যায়/ তোমার গুনগুন। দেখা যায়/
বাতাসের দোলায় সরে যাওয়া পাতার ফাঁকে/ জেগে ওঠা তোমার কৎবেল।// দৃষ্টি ফেরাও, পলাশের ফুলের মতো/ ফুটিয়ে রেখে অগুনতি কুঁড়ি/ দৃষ্টি ফেরাও সুগভীর খাতে/ বুঝিয়ে দাও/ তোমার স্পর্শ ছাড়া অসম্পূর্ণ আমার হাঁটাহাঁটি।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়: অনন্যতাসমূহ

বিভূতিভূষণ, বনফুল, সতীনাথ ভাদুড়ীর মতো তিনিও ডায়েরি লিখতেন। এ ডায়েরি অন্য এক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সামনে এনে দাঁড় করায়। মদ্যাসক্ত মানিক হাসপাতালে লুকিয়ে রাখছেন মদের বোতল। ডাক্তার-নার্সকে লুকিয়ে মদ খাচ্ছেন। আর বাঁচার আকুলতায় মার্ক্সবাদী মানিক কালীর নাম জপ করছেন! তবু যদি শেষরক্ষা হত! মধুসূদন ও ঋত্বিক যেমন, ঠিক তেমন করেই অতিরিক্ত মদ্যপান তাঁর অকালমৃত্যু ডেকে আনল!

Read More »
মধুপর্ণা বসু

মধুপর্ণা বসুর দুটি কবিতা

ভয় পেলে ভয়ংকর সত্যি ধারালো ছুরির মতো/ খুব সন্তর্পণে এফোঁড়ওফোঁড় তবুও অদৃশ্য ক্ষত,/ ছিঁড়ে ফেলে মধ্যদিনের ভাতকাপড়ে এলাহি ঘুম/ দিন মাস বছরের বেহিসেবি অতিক্রান্ত নিঃঝুম।/ গণনা থাক, শুধু বয়ে চলে যাওয়া স্রোতের মুখে/ কোনদিন এর উত্তর প্রকাশ্যে গাঁথা হবে জনসম্মুখে।/ ততক্ষণে তারাদের সাথে বুড়ি চাঁদ ডুবেছে এখন,/ খুঁজে নিতে পারঙ্গম দুদণ্ড লজ্জাহীন সহবাস মন।

Read More »
নন্দদুলাল চট্টোপাধ্যায়

ছোটগল্প: জমির বিষ

বিষয় মানেই বিষ। তালুকেরও হুল ছিল। বছরে দু’বার খাজনা দিতে হতো। আশ্বিন মাসে দুশ’ টাকা আর চত্তির মাসে শেষ কিস্তি আরো দুশ’ টাকা। এই চারশ’ টাকা খাজনার চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত। সে বছর বাবার ভীষণ অসুখ। বাতে একদম পঙ্গু, শয্যাশায়ী। অসুস্থ হয়ে জমিদারের ছুটি মিলল। কিন্তু খাজনা জমা দেবার ছুটি ছিল না। চত্তির মাসের শেষ তারিখে টাকা জমা না পড়লেই সম্পত্তি নিলাম হয়ে যেত।

Read More »