
বিষ্ণুপদ বালার কবিতা
পেঁচান্বেষণে ফের যদি ভিনদেশে পাড়ি জমাই কাঞ্চনজঙ্ঘা কিংবা কালকা মেলে ভ্রমণবিলাসী নয়, কিংবা অন্য কোনও মৌতাত তির-ধনুক ছাড়াই স্রেফ পেঁচান্বেষণে… তুমি একদম পিছু ডাকবে না

পেঁচান্বেষণে ফের যদি ভিনদেশে পাড়ি জমাই কাঞ্চনজঙ্ঘা কিংবা কালকা মেলে ভ্রমণবিলাসী নয়, কিংবা অন্য কোনও মৌতাত তির-ধনুক ছাড়াই স্রেফ পেঁচান্বেষণে… তুমি একদম পিছু ডাকবে না

India’s First Bengali Daily Magazine. পাঁচতলা বিল্ডিংয়ের কার্নিশ থেকে/ একটি মানুষের পতন ঘটেছে/ ঠিক বায়ুশূন্য সিলিন্ডারে পতনশীল পালকের মতো…// তবে এখানে বিশ্বসিলিন্ডার তো/ ভরপুর বাতাস ছিল/ অপদার্থের মতো…// মাথা আগে এসেছিল/ নাকি পা/ ছবি ঘ্যাটাঘ্যাট…// দেয়ালের থেকে দূরত্ব কতটুকু/ ত্রিকোণমিতি/ পরিমিতি…

India’s First Bengali Story Portal. সমস্ত শাড়ি শুকিয়ে ঘরে ফেরে রাম। শুরু করে দেয় ছাপাকার্য। ঠিক এইমুহূর্তে তার কর্ণকুহরে নূপুরের ধ্বনি আঘাত মারে। সেই পার্কাশান তার বুকে গিয়ে লাগে। বন্ধ হয়ে যায় ছাপা কাজ। জানলার কাছে হেঁটে যায় তার পাদুটো। চোখদুটো জানলার রঙিন পর্দায় গিয়ে কম্প লাগায়। যেন সঙ্গীত তরঙ্গে আন্দোলিত হয়। হঠাৎ মালিকের পায়ের শব্দ কানে আসায় রংরেঙের ছাপাকাজ শুরু হয়ে যায় শাড়ির ওপর। কিন্তু তার মন-প্রাণ সবই পড়ে থাকে পর্দার ওপারে পা ও নূপুরের মধ্যে। অন্যমনস্কতায় ভুল ছেপে বসে রাম।

আজকের সকালটা কেমন গ্রিন স্যালাদের মত লাগছে।/ একটু আগে কি বৃষ্টি হয়ে গেছে নাকি?/ নাকি কচি জামপাতায় কেউ স্যালাদ-অয়েল দিয়েছে ছিটিয়ে/ মেয়োনিজ সসে ডুবিয়ে তোলা হয়েছে ঝুনো পাকা/ রয়েল ফল। এও কি রাশিয়ান স্যালাদ নাকি?/ বুলবুল পাখির মত চাক চাক কাঁচাপাকা টমেটো।/ কাটা গাজরের মত হলদে পাখির মেলা বসেছে সজনের ডালে…/ ঘ্রাণে নয়, দর্শনে আমার পরিপূর্ণ পেট ভরে যায়।

নবান্ন। এটি কেবল একটি ঋতুভিত্তিক পার্বণ নয়; এটি সেই বৈদিক পূর্ব কাল থেকে ঐতিহ্যের নিরবচ্ছিন্ন ধারায় (যা প্রাচীন পুথি ও পাল আমলের লোক-আচারে চিত্রিত) এই সুবিস্তীর্ণ বদ্বীপ অঞ্চলের মানুষের ‘অন্নময় ব্রহ্মের’ প্রতি নিবেদিত এক গভীর নান্দনিক অর্ঘ্য, যেখানে লক্ষ্মীদেবীর সঙ্গে শস্যের অধিষ্ঠাত্রী লোকদেবতার আহ্বানও লুকিয়ে থাকে। নবান্ন হল জীবন ও প্রকৃতির এক বিশাল মহাকাব্য, যা মানুষ, তার ধৈর্য, শ্রম এবং প্রকৃতির উদারতাকে এক মঞ্চে তুলে ধরে মানব-অস্তিত্বের শ্রম-মহিমা ঘোষণা করে।

বুদ্ধদেব বসুর অন্যতম অবদান যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলনামূলক সাহিত্য (Comparative Literature) বিষয়টির প্রবর্তন। সারা ভারতে বিশ্ববিদ্যালয়-মানে এ বিষয়ে পড়ানোর সূচনা তাঁর মাধ্যমেই হয়েছিল। এর ফল হয়েছিল সুদূরপ্রসারী। এর ফলে তিনি যে বেশ কয়েকজন সার্থক আন্তর্জাতিক সাহিত্যবোধসম্পন্ন সাহিত্যিক তৈরি করেছিলেন তা-ই নয়, বিশ্বসাহিত্যের বহু ধ্রুপদী রচনা বাংলায় অনুবাদের মাধ্যমে তাঁরা বাংলা অনুবাদসাহিত্যকে সমৃদ্ধ করে গেছেন। অনুবাদকদের মধ্যে কয়েকজন হলেন নবনীতা দেবসেন, মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, সুবীর রায়চৌধুরী প্রমুখ। এবং স্বয়ং বুদ্ধদেব।

দরজায় আটকানো কাগজটার থেকে চোখ সরিয়ে নিল বিজয়া। ওসব আইনের বুলি তার মুখস্থ। নতুন করে আর শেখার কিছু নেই। এরপর, লিফটের দিকে না গিয়ে সে সিঁড়ির দিকে পা বাড়াল। অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বেরিয়ে উঠে বসল গাড়িতে। চোখের সামনে পরপর ভেসে উঠছে স্মৃতির জলছবি। নিজের সুখের ঘরের দুয়ারে দাঁড়িয়ে ‘ডিফল্ট ইএমআই’-এর নোটিস পড়তে মনের জোর চাই। অনেক কষ্ট করে সে দৃশ্য দেখে নিচে নেমে আসতে হল বিজয়াকে।

তালিবান। জঙ্গিগোষ্ঠী বলেই দুনিয়াজোড়া ডাক। আফগানিস্তানের ঊষর মরুভূমি, সশস্ত্র যোদ্ধা চলেছে হননের উদ্দেশ্যে। মানে, স্বাধীন হতে… দিনান্তে তাঁদের কেউ কেউ কবিতা লিখতেন। ২০১২ সালে লন্ডনের প্রকাশনা C. Hurst & Co Publishers Ltd প্রথম সংকলন প্রকাশ করে ‘Poetry of the Taliban’। সেই সম্ভার থেকে নির্বাচিত তিনটি কবিতার অনুবাদ।

দূর পাহাড়ের গায়ে ডানা মেলে/ বসে আছে একটুকরো মেঘ। বৈরাগী প্রজাপতি।/ সন্ন্যাস-মৌনতা ভেঙে যে পাহাড় একদিন/ অশ্রাব্য-মুখর হবে, ছল-কোলাহলে ভেসে যাবে তার/ ভার্জিন-ফুলগোছা, হয়তো বা কোনও খরস্রোতা/ শুকিয়ে শুকিয়ে হবে কাঠ,/ অনভিপ্রেত প্রত্যয়-অসদ্গতি!

আরও উপযুক্ত, আরও আরও সাশ্রয়ী, এসবের টানে প্রযুক্তি গবেষণা এগিয়ে চলে। সময়ের উদ্বর্তনে পুরনো সে-সব আলোর অনেকেই আজ আর নেই। নিয়ন আলো কিন্তু যাই যাই করে আজও পুরোপুরি যেতে পারেনি। এই এলইডি আলোর দাপটের সময়কালেও।