অপেক্ষা
রাত-বিরেতে ডাকে না আমাকে
তুমি সেই পুরুষকে বুকে জড়িয়ে রেখেছ?
দরজাটা খোলা
আমি কোথায় যাব!
এ কী দেখছি! সারা শরীরে দাগ ছাড়া কিছু নেই!
তুমি আমি নেই সামান্যতম!
আমি হালচাষি—
ভেজা জামাকাপড়ে তোমার নাকে গন্ধ
আমার তবলা-হারমোনিয়াম কিছু নেই
নেই কোনও সরঞ্জাম
উত্তরের দিশাহীন বাবার জুতা ছাড়া
পায়ে সহস্র কড়া,
তবুও সেই পা মাড়িয়ে যায় উনুনের পাশে
খুঁড়িয়ে হাঁটা একটা বালক আমাকে টিউশন শেখায়
ঘামরক্তে জর্জরিত শরীর আত্মার কথা বোঝে না
সমস্ত মাতলামি মুছে বিনির্মাণ করো আমাকে
নগ্ন শরীর খসে পড়ুক আমার শীর্ষদেশে
চারিদিকে শুধু হাহাকার, খিদেরা ডাকছে আমায়
লাঙল মাটির কার্নিশ ছুঁয়ে গেঁথে নেয়
একমুঠো অধিকার আনব কঙ্কাল খুঁড়ে
ডায়েরির ফুসফুসে কবিতারা জন্ম নিচ্ছে
হেঁটে যাই অপরাহ্ন বেলা
উঠে এসো আরেকটি বার,
অনন্তকাল অপেক্ষায় আছি
যদি বলি, তোমার রক্তে আমার পাপ
তখন মাটির পুতুল হয়ে শ্মশানে জেগে উঠো
ধানজমিতে দেহের উপচে পড়া বিষ আমাকে ভাবিয়ে তোলে
পরাজিত হয়ে সফলতার সিঁড়ি বেয়ে চলেছি
কালস্রোতে আমার সভ্যতা হারিয়ে গেছে
স্পষ্ট দেখতে পাই, দাবা খেলায় আমার অসম্পূর্ণতা
শোকের হাঁড়িতে দুঃখ জ্বলছে অশৌচ চৌকাঠ পেরিয়ে
অন্ধকার ঘেঁষে মোমের ফোসকা আমার হাতেপায়ে
ঘরে তুলবে না আমাকে?
আমার কোনও কাকা জ্যোঠা নেই
কোনওদিন মিছিল-মিটিংয়ে যাইনি
গরম ভাতে মরিচ পোড়া আমার বাবার রোজগার
অট্টালিকা কাকে বলে জানি না
জানি না কীভাবে কাঁটা-চামচ ধরতে হয়
সেই থেকে তোমাকে চিনি এবং জানি
অথচ আমি একা দাঁড়িয়ে
ছোড়দির শেষ খাতায় লিখেছিলাম একটা কবিতা
শেষে ছুড়ে মেরেছে জামাইবাবু
কী দুঃসাহসিকতাই না দেখিয়েছিলাম সেদিন
মনে পড়ে না বুঝি কিছুই তোমার?
কাগজের সম্পাদকরা আমার লেখা ছাপাননি
কিন্তু ফোঁটা ফোঁটা রক্তে কবিতার জন্ম হয়েছে
কারও কোনও হুঁশ নেই
ফ্যাকাসে চামড়ার কবিতা বাবুয়ানার মতো কাজ করেনি
শুধুই নামজাদাদের প্রশংসা
যাকে বুকে রেখেছ তাকে ছুড়ে মারো
আমার অপমান তোমার সহ্য হয় কী করে?
একবার তাকাও এদিকে
আমি যে শুকিয়ে যাচ্ছি তা কি চোখ দেখে না?
তার বাক্যে আমার অস্থিচর্মসার,
একবার শোনো
তুমিই বুঝবে আমার ব্যথা
মাথা নত করেছি বহুবার
অক্ষম শরীর আর সয় না
তোমার একটুকরো হাসি আমার ক্যানভাস তৈরি করবে
ঘড়ি থেমে যাচ্ছে
নদীর তীর অপেক্ষায়
তবুও কি তুমি আসবে না?
সাজাবে না আমাকে!
তোমার নামে প্রেসে কবিতা জমা দিয়েছি
প্রতিটি পাণ্ডুলিপি তোমাকে দেব
চলে এসো তাকে ছেড়ে
সেখানে শুধুই মদ বিক্রি হয়
ওরা চায় না আমার অস্তিত্ব
সম্পাদকরা বিকিয়ে বসেছেন
আমার লেখা এখনও শেষ হয়নি
লিখছি আর লিখছি
তোমার ঘামের গন্ধ স্বপ্ন দেখায়
তিলে তিলে রক্ত চুষে খাচ্ছে
ছুড়ে মারছে এক একটা জুতা
আমি বসে আছি তোমার ঠোঁটের তিলে একটা বৃত্ত আঁকব
তুমি এখনও তাকেই আদর করছ?
আমার বুকে বজ্রাঘাতে ধ্বংস হচ্ছে সব
আকাশ আইলাইনার এঁকেছে
আমার অসহায় কাব্যগ্রন্থগুলো রেখে যাব তোমার জন্য
আমাকে ধ্বংস করে তার সুখ কিনেছ, তাতে আমার ক্ষতি নেই
আমার কবিতায় দাঁড়ি কমা বসিয়ো না
ওরা পেট মাটিতে পুঁতে খোলা মাঠে থাকবে
তাকে তুমি আগলে রেখো
আমি যদি পাই, ছিঁড়ে নিংড়ে মাংস বের করব
তখন তুমি কিছু বলতে এসো না
সবকিছুই আমার নিজস্ব
কান্না আমার সহ্য হয় না
গুপ্তধন আগলে আমি মুখস্থ করব
তোমার চিৎকার কখনও শুনব না
আমার ঠোঁটে তখন আর ঠোঁট লাগিয়ো না
বসন্তবিলাপ পছন্দ করি না
অচেনা এক টুকরো হাসির অপেক্ষায় থাকব।
চিত্রণ: ধৃতিসুন্দর মণ্ডল





