বাংলা চলচ্চিত্রের অবিসংবাদিত শ্রেষ্ঠ অভিনেতা উত্তমকুমার (০৩.০৯.১৯২৬—২৪.০৭.১৯৮০, প্রকৃত নাম অরুণ) শতবর্ষ অতিক্রম করলেন। তিন দশকের অভিনয়জীবনে দুশোর ওপর ছবিতে তিনি অভিনয় করে গেছেন। বাংলা ছাড়াও বেশ কয়েকটি হিন্দি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। তাঁর বিপরীতে পঞ্চাশজনের ওপরে নায়িকা! তাঁর অভিনীত ছবির কাহিনিকারের তালিকায় যেমন আছেন বিদ্যাসাগর (শেকসপিয়রের ‘Comedy of Errors’ অবলম্বনে বিদ্যাসাগরের ‘ভ্রান্তিবিলাস’), রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র, বিভূতিভূষণ, তারাশঙ্কর, শরদিন্দু, আশাপূর্ণা দেবী, বিমল কর, আশুতোষ মুখোপাধ্যায়, শঙ্কর প্রমুখ— তেমনই স্বয়ং সত্যজিৎ রায় কেবল তাঁর জীবনকাহিনির ওপর ভিত্তি করে লেখেন ‘নায়ক’। এ বড় কম আশ্চর্যের নয়। বিশ্বের বহু চলচ্চিত্র অভিনেতা-অভিনেত্রীর জীবনকে কেন্দ্র করে অনেকানেক ছবি তৈরি হয়েছে। কিন্তু ‘নায়ক’ ছবিটি ‘For Uttam, by Uttam and of Uttam!’ এ ঘটনা সম্ভবত নজিরবিহীন।
উত্তমকুমার প্রায় সব প্রথিতযশা পরিচালকের ছবিতেই অভিনয় করেছেন, একমাত্র ব্যতিক্রম ঋত্বিক ঘটকের ছবি। মৃণাল সেন, নির্মল দে, তপন সিনহা, অজয় কর, হরিদাস ভট্টাচার্য, সলিল সেন, অসিত সেন, অগ্রগামী, অগ্রদূত, আরও। তাঁর করা হিন্দি ছবির পরিচালকরা ছিলেন মনমোহন দেশাই, গুলজার, ভীমসেন খুরানা, শক্তি সামন্ত, আলো সরকার প্রমুখ। তিনি নিজেও একাধিক ছবি পরিচালনা করেছিলেন, ‘শুধু একটি বছর’, ‘বনপলাশীর পদাবলি’, ‘কলঙ্কিনী কঙ্কাবতী’ (আংশিক)।
উত্তম উত্তম গান জানতেন। নিদানবন্ধু বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে তিনি উচ্চাঙ্গসঙ্গীতের তালিম নেন। তাঁর সঙ্গীতজ্ঞান এতই প্রখর ছিল যে, ‘কাল তুমি আলেয়া’ ছবির সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন তিনি। ছবিতে তাঁর সঙ্গীত পরিচালনায় গান গেয়েছিলেন এমনকী আশা ভোসলের মতো বিখ্যাত শিল্পী। প্রথম জীবনে চক্রবেড়িয়া বিদ্যালয়ে গান শেখাতেন-ও। নাটক করেছেন ছোটবেলা থেকেই, স্কুলে, পাড়ায়, আর তাতে প্রাইজ-ও পেয়েছেন। তাঁর অভিনীত ‘শ্যামলী’ নাটকটির ৪৮৬ প্রদর্শনী হয়েছিল। পরবর্তীকালে যখন তিনি ব্যস্ততম অভিনেতা, বছরে একবার পাড়ার লোকজন নিয়ে যাত্রাভিনয় করতেন। নিয়মিত শরীরচর্চা, টেনিস খেলা, সিনেমার প্রয়োজনে ঘোড়ায় চড়া, ফেন্সিং শেখা, এসবে রপ্ত ছিলেন। ময়দানে গিয়ে প্রাতর্ভ্রমণ করেছেন দীর্ঘদিন। উচ্চারণে জড়তা কাটানোর জন্য সংস্কৃত আওড়াতেন। ইংরেজি উচ্চারণ শিখেছেন অ্যাংলো ইন্ডিয়ান শিক্ষক রেখে। এই সামগ্রিক প্রস্তুতি ও অধ্যবসায় উত্তমকুমারকে স্বমহিমায় প্রতিষ্ঠিত করেছে।
অধ্যবসায়, হ্যাঁ। যদি আমরা উত্তম-অভিনীত ছবিগুলি পূর্বাপরভাবে দেখি, তা হলে বুঝব, তিনি তাঁর অভিনয়ের মাত্রাকে কোন সাধারণ পর্যায় থেকে কোন উত্তুঙ্গ উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তাঁর প্রথম দিকের ছবি ‘বসু পরিবার’, ‘বউ ঠাকুরাণীর হাট, ‘বড়দিদি’ বা ‘খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন’-এ তিনি নিতান্ত সাধারণ মাপের অভিনেতা,— সাবলীল, চরিত্রানুগ, দর্শকপ্রিয়, এইটুকুই বলা যায়। কিন্তু অচিরেই তিনি ‘হারানো সুর’, ‘সপ্তপদী’ আর ‘মায়ামৃগ’ নিয়ে আবির্ভূত হলেন, করলেন ‘ঝিন্দের বন্দী’ ও ‘ভ্রান্তিবিলাস’-এ দ্বৈত চরিত্র, অভিনেতা থেকে নায়কে উত্তরণ ঘটল তাঁর। এই উত্তরণ অবশেষে ‘মহানায়ক’-এর অমরত্বে স্থাপিত করল তাঁকে। এসব এমনি এমনি হয়নি। এর জন্য লেগেছে অধ্যবসায়।
নিয়ত নিজেকে অতিক্রম করার আত্যন্তিক অভীপ্সা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা। সেজন্য দেখি, অতি নিকৃষ্ট মানের কাহিনি ও নিতান্ত অযোগ্য পরিচালকের ছবিতেও তিনি প্রত্যাশিত মাত্রায় অভিনয় করে ছবিকে বক্স অফিস সাফল্য এনে দিয়েছেন। এতে তাঁর প্রতিভার অপচয় ঘটেছিল বিপুলভাবে, তবুও উপায়হীন ভাবে তিনি তা করে গেছেন স্রেফ ইন্ডাস্ট্রির দিকে চেয়ে। চলচ্চিত্র-অভিনেতাদের এ এক ট্র্যাজেডি।
আজকাল ‘কিংবদন্তি’ শব্দটি যে-কারও নামের সঙ্গে কথায় কথায় ব্যবহৃত হয়। কিন্তু প্রকৃত কিংবদন্তি ক’জন-ই বা আর? এই পদবিতে উঠতে যথেষ্ট, এমনকী যথেষ্টের-ও বেশি যোগ্যতা লাগে। কী সেই যোগ্যতা? দু’টি উদাহরণ দেওয়া যাক। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় উত্তমের সঙ্গে ‘ঝিন্দের বন্দী’-তে অভিনয় করাকালীন একটি অভিজ্ঞতার কথা লিখেছেন। একদিন শ্যুটিং-শেষে উত্তম ছবির পরিচালক তপন সিনহাকে জানালেন, পুরো শ্যুটিংটা পরদিন রি-টেক করতে হবে। পরিচালক যত বলেন, তিনি সন্তুষ্ট, তবু উত্তম নাছোড়। অবশেষে তাঁর কথা রাখতেই পরদিন ফের ওই এক-ই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটানো হল। সৌমিত্রর মন্তব্য, উত্তম অভিনেতা নন, নায়ক। তাই পরিচালকের সন্তুষ্টি নয়, উত্তমের কাছে তাঁর সন্তুষ্টিটাই আসল।
দ্বিতীয় উদাহরণ সত্যজিৎ-উত্তম। ‘নায়ক’ ছবিতে যে স্বপ্নদৃশ্য রয়েছে, টাকার পাহাড় দিয়ে হেঁটে যাবেন উত্তম, সত্যজিৎ সেটির নির্দেশনা দেওয়ার পর উত্তম তাঁকে বলেছিলেন, তিনি নিজের মতো করে দৃশ্যটি কেমন ভাবছেন, করে দেখাতে চান। সেটির মহড়া দেখে সত্যজিৎ সানন্দে উত্তমের অভিনয়কেই মেনে নেন। একেই বলে Legend, কিংবদন্তি।
কিংবদন্তির আরও উদাহরণ হল, নায়ককে অনুকরণ করা। উত্তমের আগে-পরে বাংলায় আরও অনেক অভিনেতা এসেছেন,— অসিতবরণ, ধীরাজ ভট্টাচার্য, পাহাড়ী সান্যাল, ছবি বিশ্বাস, বা বসন্ত, সৌমিত্র, অনিল, শুভেন্দু প্রমুখ। কিন্তু প্রাক্-উত্তম একমাত্র প্রমথেশ বড়ুয়াকেই অনুকরণ করতে দেখা গেছে তাঁর প্রিয় দর্শকদের। বড়ুয়া কাট চুলের স্টাইল,আর বড়ুয়া কলার। তেমনই উত্তম-ছাট চুল, তার সঙ্গে পাঞ্জাবিতে বরাবরের গতানুগতিক মাঝখানে বোতামের ঘাট না রেখে তাকে একপাশে নিয়ে আসা, তাঁর মতো চাহনি ও সিগারেটে রিং ছোড়া, এসব উত্তমভক্তদের অনুকরণের বিষয় হয়ে উঠল। সেসময় প্রেম নিবেদনেও নাকি উত্তমের থেমে থেমে কথা বলা রপ্ত করত প্রেমিকেরা। রমেশচন্দ্র পাল সুচিত্রা সেনের মুখের আদলে দেবী দুর্গার মুখ গড়তেন। কার্তিককেও কোনও কোনও মৃৎশিল্পী উত্তমের আদলে গড়তেন। ঢাকায় বেশ কিছু সেলুনে এরকম সাইনবোর্ড চোখে পড়ত, ‘সুচিত্রা সেলুন। এখানে উত্তমরূপে চুল কাটা হয়’। মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন।
কিংবদন্তি শিল্পী বলেই তাঁর শবযাত্রায় এত লোকের ভিড় হয়েছিল যে, দক্ষিণ কলকাতার বহু রাস্তায় সেসময় গাড়ি চলাচল করতে পারেনি। বর্তমান প্রতিবেদক তার প্রত্যক্ষদর্শী। সত্যজিৎ রায়ের শেষযাত্রাতেও এত লোক হয়নি। শুনেছি একমাত্র ডাক্তার বিধানচন্দ্র রায়ের শোকযাত্রাতেই অনুরূপ ভিড় হয়। আর রবীন্দ্রনাথের।
কিংবদন্তির আর এক প্রকাশ গুজব রটনায়। উত্তম ও সুচিত্রাকে নিয়ে তা রচিত হয়েছিল ভূরি পরিমাণ। অন্য একাধিক নায়িকা ও নারী নিয়েও। আবার কিংবদন্তি বলেই ‘সপ্তপদী’ বা ‘গৃহদাহ’ ছবির অন্তিমে কাহিনি-অনুযায়ী উত্তম- সুচিত্রার ট্র্যাজেডি দেখানো হয়নি (সুচিত্রাও তো আর এক কিংবদন্তি!), দেখানো হয়েছে আলিঙ্গনাবদ্ধাবস্থা ও মিলন!
কিংবদন্তির আর এক মোক্ষম অভিজ্ঞান হল অভিনেতার নামের সঙ্গে ‘কুমার’ শব্দটির ব্যবহার। ভারতীয় চলচ্চিত্রে অশোককুমারকে দিয়ে এর সূত্রপাত। পরে দিলীপকুমার, রাজকুমার, কিশোরকুমার ও অন্যান্য। বলা বাহুল্য, এঁদের অনেকের-ই প্রকৃত নামের সঙ্গে ‘কুমার’ যুক্ত ছিল না। যেমন অশোককুমারের নাম তো ছিল কুন্দনলাল। বাংলায় অরুণ হয়ে গেলেন উত্তমকুমার। বাংলা ছবিতে আরও একাধিক ‘কুমার’ আছেন। কিন্তু সবাইকে কি আর সব মানায়? চাঁদের বলয় তাঁকেই সাজে।
সত্যজিৎ নিজে স্বীকার করেছেন, ‘নায়ক’ ছবির পরিচালনায় ক্ষেত্রে তাঁর নিজের কিছু ভুলচুক থাকলেও উত্তমের অভিনয় ছিল একেবারেই নির্ভুল। উত্তমের অভিনয়জীবনের শুরু থেকেই সত্যজিৎ তাঁর ছবি দেখে আসছিলেন, আর লক্ষ্য করেছেন অভিনয়ে উত্তমের সাবলীলতা। হলিউড-ছবির দর্শক উত্তম, তাঁর অভিনয় দেখে এ-ও মন্তব্য সত্যজিতের। গোড়ায় তো ঠিক ছিল সত্যজিৎ রবীন্দ্রনাথের ‘ঘরে বাইরে’-এর কাহিনি দিয়ে তাঁর চলচ্চিত্রযাত্রা শুরু করবেন। উত্তমকুমারকে তিনি সন্দীপ চরিত্রটি করতে বলেন, কিন্তু উত্তম রাজি হননি। অনেক পরে ছবিটি করেন সত্যজিৎ, সৌমিত্রকে ওই চরিত্রে এনে। বিদেশি দর্শকরা ‘নায়ক’-এর সুবাদেই উত্তমকুমারের ছবি দেখার সুযোগ পান। সত্যজিৎ ও উত্তম দু’জনেই বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবে যোগ দিয়েছিলেন ‘নায়ক’ নিয়ে। বিদেশী সমালোচকরাও এ-ছবিতে উত্তমের অভিনয়ে মুগ্ধ হন। উত্তমকুমারকে নিয়ে তাঁদের মন্তব্য, ‘An actor of supreme satiety and grace’। উল্লেখ্য, সত্যজিৎ-পরিচালিত চোদ্দোটি ছবিতে অভিনয় করেও সৌমিত্র এত সুখ্যাতি পাননি, যা ‘নায়ক’, ওই একটিমাত্র ছবিতে পেয়েছিলেন উত্তম। তাছাড়া ‘চিড়িয়াখানা’ ছবিতে অভিনয়ের সুবাদে তিনি সর্বভারতীয় স্তরে স্বীকৃত হন জাতীয় পুরস্কার লাভ করে। প্রথম ‘ভরত’ পুরস্কারে ভূষিত এই বাঙালি অভিনেতা, বাংলার মতো একটি আঞ্চলিক ভাষায় অভিনয় করে, যে সময় ভারতীয় চলচ্চিত্রে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন বোম্বের (অধুনা মুম্বই) অশোককুমার, দিলীপ কুমার, রাজ কাপুর, রাজকুমার, তামিল ছবিতে শিবানী গণেশন, এম জি রামচন্দ্রন, জেমিনি গণেশন, নাগেশ প্রমুখ।
পুরস্কার পেয়েছেন প্রচুর। আটবার পান কেবল বিএফজেএ পুরস্কার। ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পান ১৯৭৬ সালে, ‘অমানুষ’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য। এছাড়া তাঁর অভিনীত-প্রযোজিত ছবি, যেমন— ‘জতুগৃহ’, ‘সপ্তপদী’, ‘উত্তরফাল্গুনী’ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের মেধার স্বীকৃতি ও রাষ্ট্রপতির সার্টিফিকেট অফ মেরিট পায়।
তাঁর সবচেয়ে বড় পুরস্কার কিন্তু আসলে দর্শকের ভালবাসা। বছরের পর বছর তা কেবল অক্ষুণ্ণ-ই ছিল না, ছিল ক্রমবর্ধমান। একদা সারাবছর উত্তম-অনুরাগীরা অপেক্ষা করে থাকতেন তাঁর ছবি কবে মুক্তি পাবে, আর তারা সে-ছবির প্রথম শো দেখবেন (Opening day, opening show)! এজন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা নারী-পুরুষ সিনেমা হলের লাইনে দাঁড়িয়েছেন, নিদেনপক্ষে ব্ল্যাকে তিন টাকার টিকিট দশ টাকায় কিনেছেন (সেসময় তিন-সাড়ে তিন টাকাই ছিল সিনেমার টিকিটের সর্বোচ্চ দাম), তা-ও না পেলে হা-হুতাশ করে বাড়ি ফিরেছেন। এক-আধবার নয়, আট-দশবার করে উত্তমের একটি ছবি দেখেছেন, এমন দর্শকের-ও অভাব ছিল না।
মাসের পর মাস শহরে, শহরতলিতে, অজপাড়াগাঁয় ছবি হাউসফুল গেছে, বহু হলে রববার করে বিশেষ প্রদর্শনী হয়েছে তাঁর ছবির (Morning show)। এসব দিয়েও কিন্তু তাঁর জনপ্রিয়তাকে পরিমাপ করা যাবে না। তাঁর মৃত্যুর প্রায় পঁয়তাল্লিশ বছর পার হয়ে গেলেও আজকের প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা উত্তমকুমারের ছবি যে সমান আগ্রহ নিয়ে দেখে, সেখানেই খুঁজতে হবে তাঁর জনপ্রিয়তার মূল উৎসকে। তাছাড়া সিনেমার বক্স অফিসের চেয়েও, দূরদর্শনে প্রদর্শনের চেয়েও বহু, বহুগুণ বেশি চলেছে উত্তমকুমারের ছবি। কোথায়? কীভাবে? একদা গ্রাম, এমনকী শহরের বহু জায়গাতেও মাঠে প্যান্ডেল খাটিয়ে প্রদর্শিত হত তাঁর অভিনীত ছবি। বর্তমান লেখক-ও তার পাড়ায় এভাবে উনিশ পয়সার টিকিটে ‘শাপমোচন’ আর’ ‘শিল্পী’, ‘চাওয়া পাওয়া’ কিংবা ‘খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন’ দেখেছে। টিকিটের দাম উনিশ পয়সা ছিল কেন? কেননা ওর বেশি টিকিটের দাম রাখলে সরকারকে ট্যাক্স দিতে হত। সে সময় এইরকম সিনেমাকে ‘মেঠো হল’ (মেট্রো হলের আদলে) বলা হত। মূলত প্রাক্-দূরদর্শনের জমানা ছিল সেটা, ফলে এর জনপ্রিয়তা ছিল উত্তুঙ্গ।
না, উত্তমকুমারের মূল্যায়নের জন্য এ লেখা নয়। মহাকাল করবে তা। আমরা কেবল উত্তমের ছবি দেখব, আর বুঝতে চাইব, কোন সাধনায় তিনি ‘ফ্লপ মাস্টার’ থেকে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন মহানায়কে। আর তার পাশাপাশি উত্তমের গুণাবলির প্রতিও শ্রদ্ধানত হব,— বয়স্ক শিল্পীদের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা, দুঃস্থ শিল্পীদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়ানো, কলাকুশলীদের বিপদে পাশে এসে দাঁড়ানো, দেশে বন্যা, যুদ্ধ ইত্যাদি বিপন্ন সময়ে শিল্পীদের সঙ্ঘবদ্ধ করে অর্থ তুলে দেওয়া, আরও বহু কল্যাণজনক কাজের জন্য আলাদাভাবে মনে রাখতে হবে তাঁকে।
সুচিত্রা সেনকে বাদ দিয়ে কি উত্তমকুমারের কথা শেষ করা যায়? দু’জনের প্রয়াণ এক-ই আরোগ্যশালায়, শেষকৃত্য এক-ই শ্মশানে। তিরিশটি ছবি যৌথভাবে করেছেন দু’জনেই, যা বাঙালির নন্দনবিশ্বকে চিরন্তন ভরিয়ে রাখবে। এই যে উত্তমের মাত্র চুয়ান্ন বছর বয়সে চলে যাওয়া, এই যে সুচিত্রার প্রায় ওই বয়স থেকেই আড়ালে চলে যাওয়া, এই ভাল এই ভাল। নইলে জরদ্গব উত্তম, জড়তী সুচিত্রা আমাদের বেদনার কারণ হতেন। এঁরা যেন পুরাণের কোনও স্বর্গচ্যুত দেবদেবী।
আন্তর্জাতিকভাবে উত্তমকুমারকে তুলে ধরা হয়নি, আমাদের আক্ষেপ। তিনি মাঝেমাঝে তুলিত হয়েছেন মার্লন ব্র্যান্ডোর সঙ্গে, উভয়েই ‘Method acting’ (an acting technique where performers use their own personal memories, emotions and life experience to genuinely feel and experience a character’s state rather than just pretending.) অনুসরণ করার কারণে। একথার সত্যতা প্রমাণিত হয় উত্তম-অভিনীত একের পর এক ছবি বিশ্লেষণ করলে। আমাদের সুযোগ অল্প, তবু আমরা তাঁর দুটো ছবি বেছে নিচ্ছি,— ‘চৌরঙ্গী’ ও ‘এন্টনি ফিরিঙ্গী’। প্রথম ছবিতে যখন তিনি নিজ নাম ‘স্যাটা বোস’ বলে আত্মপরিচয় দেন তিনি, আর দ্বিতীয়টিতে গভীর অনুরাগে প্রেমিকা তনুজার দিকে তাকান (এই তনুজার সঙ্গেই ‘দেয়া নেয়া’ ছবিতে তাঁর কমেডি-অভিনয় একদম, একদম-ই আলাদা), তখন আমরা এই মাহাত্ম্যটি বুঝতে পারি। স্তানিস্লাভস্কির ‘Magic in’ তত্ত্ব অভিনেতাকে শেখায়, অভিনেতা অভিনীত চরিত্রের বাস্তবতার মধ্য দিয়ে গেলে তার যে অনুভূতি হত, সেটা ফুটিয়ে তোলাই একজন যথার্থ অভিনেতার কাজ। চরিত্রকে নকল করা নয়, বরঞ্চ চরিত্রের পরিস্থিতি নিজের মধ্যে অনুভব।
বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কম মহা-অভিনেতা জন্মাননি। তাঁদের মধ্যে খুব সামান্য কয়েকজন আল পাচিনো, মার্লোন ব্র্যান্ডো, রবার্ট ডি নিরো, লরেন্স অলিভিয়ার, গ্রেগরি পেক, জিন-পল বেলমন্ডো, ব্রুস লি, ইনোকেন্তি স্মোকতুনভস্কি, জিন গ্যাবিন, মাইকেল কেইন প্রমুখ। কিন্তু কতজন মৃত্যুর প্রায় পঞ্চাশ বছর পরেও জনপ্রিয়তা বাড়িয়েই চলেছেন? সম্ভবত চার্লি চ্যাপলিনের পর একমাত্র উত্তম। এলিজাবেথ টেলর ‘নায়ক’ দেখে আপ্লুত হয়ে যে উত্তমের সঙ্গে ছবি করতে চেয়েছিলেন, উত্তমের অভিনয়ের এ-ও তো এক অনিবার্য স্বীকৃতি!
অভিনেতা, পরিচালক, প্রযোজক, গায়ক, চিত্রনাট্যকার (দু’টি চিত্রনাট্য লিখেছিলেন তিনি), সঙ্গীত পরিচালক, সামান্যত লেখক, এসবের সমাহার তিনি। সুচিত্রা-উত্তম জুটি পৃথিবীতেই নেই, এ মন্তব্য স্বয়ং সত্যজিতের। উত্তম কিন্তু সুচিত্রার সঙ্গে নয়, সুপ্রিয়ার সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন। সুচিত্রার সঙ্গে তিরিশটি ছবিতে অভিনয় করলেও দ ‘জনের ডুয়েট গান মাত্র এটি, সপ্তপদী’-তে, ‘এই পথ যদি না শেষ হয়।’ দুজনেই গান জানতেন, রেকর্ড-ও বেরিয়েছিল দু’জনের। কিন্তু কোনও ছবিতেই তাঁরা নিজেদের কণ্ঠদান করলেন না। উত্তম ‘নবরাগ’ ছবিতে গেয়েছিলেন অবিশ্যি। সংযম!
উত্তমকুমার: স্মৃতিভারে আমি পড়ে আছি
আজ তেসরা সেপ্টেম্বর, দু’হাজার ছাব্বিশ। মহানায়ক উত্তমকুমারের শততম জন্মবার্ষিকী পূর্ণ হল। তিনি নেই আজ ছেচল্লিশ বছর। কিন্তু রয়ে গেছেন তাঁর সঙ্গে অভিনয় করা বহু নায়িকা। তাঁদের মধ্যে কেউ তাঁর চেয়ে এক দশকের ছোট, কেউ দুই, কেউ এমনতী তিন দশকের ছোট। হ্যাঁ, তিন দশকের ছোট উত্তমের সঙ্গে, তবু তাঁর নায়িকা, আছেন এমন-ও। আজ, এই স্মৃতিময় দিনটি কেমন করে কাটছে, কাটবে তাঁদের?
ধরা যাক সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের কথা। কথা, সে তো আজকে নয়, সে-ই ১৯৫০/৫১, ছিয়াত্তর বছর আগেকার, যখন প্রথম তাঁরা অভিনয় করলেন ‘সহযাত্রী’ ছবিতে। তারপর দু’জনে একের পর এক কত ছবিতেই না সহযাত্রী হন! মৃণাল সেন তাঁদের দু’জনকে নিয়েই তো তাঁর প্রথম ছবিটি করলেন, ‘রাতভোরে’। নাটকেও ছিলেন তাঁরা। প্রায় পাঁচশো রজনীর কাছাকাছি চলা ‘শ্যামলী’। তাছাড়া ‘কঙ্কাবতীর ঘাট’, ‘কানাগলি’। সিনেমাও কত, ‘নিশিপদ্ম’ ভোলা যায়? ‘ভ্রান্তিবিলাস’? অথবা ‘মরুতীর্থ হিঙলাজ? নব্বই ছুঁতে চলেছে বয়স, তবু এ মন তোমার জন্যই কুমারী রেখে দিয়েছি। নিউ আলিপুরের জানালার দিক থেকে পুবালি আকাশের দিকে তাকিয়ে কাকে দেখতে চাইছেন তিনি?
‘মাধু, মনে পড়ে তোর বিয়ের দিনটা? কনে পক্ষের আমি, বিপক্ষের, সেটাও!’ মনে পড়ে না আবার? ‘শঙ্খবেলা’-র নৌকোয় বসে সেই রোমান্টিক দৃশ্যটি নিয়ে আমার ফিল্মের ওপর গবেষণাকারী মেয়ে জানতে চাইল যেদিন, ‘মা, তুমি বাবার সঙ্গে কখনও কি এমন— ‘আমার এই বৃদ্ধ বয়সেও কুমারীর শত লজ্জা এসে ভিড় করেছিল আমায়। মেয়েকে বলেছিলাম, ‘এসব বাদ দিয়ে ‘বিরাজ বৌ’ দ্যাখ, আর নইলে আরও ভালো হয় ‘ছদ্মবেশী’ দেখলে।’ ‘বনপলাশীর পদাবলি’-র কী অক্ষয় স্মৃতি!
সন্ধ্যা রায়ের এখন কেবল স্মৃতিকাতরতা, কখনও অনুপকুমার, কখনও মহুয়া, কখনও তরুণ মজুমদারকে নিয়ে। সহসা কাল রাত থেকে একটি শব্দ তার দৈর্ঘ্য প্রস্থ বেধ সমেত, তার অনুভূমিক ও আলম্ব পথ জুড়ে অনুরণিত হচ্ছে। ‘পঞ্চতপা’। উত্তমদার সঙ্গে যখন এ ছবির নায়িকার ভূমিকায় অভিনয় করি, নিজেকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না, এমন সৌভাগ্য হবে। এর নাম কোন ভ্রান্তিবিলাস? কত কী স্বপ্ন ছিল উত্তমদাকে নিয়ে, ক-ত! হল না! তবু, তবু, আমৃত্যু আজীবন আপনি আমার মণিহার!
বিশ্বজিতের কাল রাত থেকেই মনে পড়ছে ‘চৌরঙ্গী’। ভয়ে ভয়ে ছিলাম, দাদার ওরকম পারফরমেন্স ফিল্মে, আমি নাটকে ও-চরিত্রটা করতে গিয়ে হাসির খোরাক না হই। দাদা অভয় দিয়েছেন, শিখিয়েছেন ছবিতে আর নাটকে অভিনয়ের তফাত। তাইতেই তো সাহস পেলাম! সেই বিশ্বরূপা! আগে নাটক করেছি রঙমহলে, তবে বিশ্বরূপা বলে কথা! ‘ক্ষুধা’ হয়ে গেছে এখানে, ‘সেতু’ পার করেছে হাজার রজনী। দাদার নামে নেমে পড়লাম, আর আমিও হাজার রজনী, ভাবা যায়! লোকে অবিশ্যি শেফালির ক্যাবারে নাচের কথা বলে। তবু— দাদা আমার জন্য ‘মায়ামৃগ’-র লিড রোলটা স্যাক্রিফাইস করায় আমি একে একে ‘মণিহার’, ‘সরি ম্যাডাম’, ‘কুহেলি’, মায় ‘বাবা তারকনাথ’ পর্যন্ত সন্ধ্যার সাথে জুটি। উত্তম-সুচিত্রার মতো আমাদের জুটিও তৈরি হচ্ছিল! মূর্খের ভাবনা। জুটি তো দুনিয়াতে যে একটি-ই, হ্যাঁ, ওই উত্তম-সুচিত্রা! নব্বই বছর বয়সে এসে বুঝতে পারি, দাদাকে মনে করে, ‘We live in deeds, not in years’। দাদা প্রমাণ করে গেছেন।
মৃত্যুতে মানুষের সৌন্দর্য বাড়ে? বিস্ময় রঞ্জিত মল্লিকের। উত্তমকুমারের শব বহনকারী গাড়িতে যেতে যেতে বারবার তাকাচ্ছিলেন ‘মৌচাক’-এ তাঁর দাদার ভূমিকাভিনেতার দিকে। বয়সের ফারাক উনিশ বছর
। এখন তো তাঁর চেয়েও অনেক ছোট লাগছে। মনে মনে ভাবতে মুখে কেন যেন হাসি চলে এল। আর অমনি— সে ছবি কাগজে বেরোতে কী হেনস্থা! কেউ জানে না, এই প্রয়াত মানুষটি আমার ঈশ্বর! প্রমাণ করব কী করে? জীবনে মৃণাল সেন-সত্যজিৎ-সুচিত্রা সেনকে পেয়েছি, সবার চেয়ে অধিক পেয়েছি তাঁকে। যে মানবে না, মানবে না, বয়েই গেল!
গনাদা। শালা একাই একশো। রিনাকে বলছিলাম, ও গ্ল্যামারাস রোল-ই হোক আর আন্ডারটোন অ্যাক্টিং, এ লোক স্তানিস্লাভস্কি আইজেনস্টাইন চ্যাপলিন ব্রেখট গুলে খেয়ে বসে আছে। নইলে উৎপল দত্তকে ‘অমানুষ’-এ কাত করে? অমিতাভকে ‘দেশপ্রেমী’-তে? ওঁর সঙ্গে দাপট দেখিয়ে অভিনয় করতে গিয়ে বুঝেছি, উত্তম উত্তম। নো, উত্তম ইজ আ জেম!
‘প্রেম করেছি, বেশ করেছি, করবই তো’! আরতি ভট্টাচার্য আজ ভারাক্রান্তমুখ। আমার কী বেদনা, তুমি জানো, ওগো সুদূরের মিতা! ‘স্ত্রী’ করতে গিয়ে মনে হয়েছিল, বন্ধুতা হলে হতে পারে এর সঙ্গেই। হাত ছড়ে গিয়েছিল কী করে যেন। উনি তাঁর দামি সুগন্ধী রুমাল ছিঁড়ে আমার ক্ষতস্থান বেঁধে দিয়েছিলেন। পরে, বহু পরে আমি আমার স্বামী কুণালের কাছ থেকে জেনেছি, শ্রীকৃষ্ণকে এভাবেই দ্রৌপদী তাঁর ক্ষতস্থান বেঁধে দিয়েছিলেন। কৃষ্ণ বলেছিলেন, এ উপকার ভুলবেন না। যখনি বিপদ আসবে— সেজন্যই তো দুর্বাসার অযুত শিষ্যের জন্য আতিথ্যদান ও আহার সম্ভব হয়েছিল, নইলে দুর্বাসার কোপে পড়ে— বস্ত্রহরণেও ভরসা— আমার ব্যাপারটা বিপরীত। সতাই তো ওরা পরস্পরের বন্ধু। কুণাল ভোজপুরি, কৃষ্ণকাহিনি ওর কণ্ঠস্থ। আফসোস হয়, ‘মৌচাক’টা কেন করতে পারলাম না ওঁর সাথে!
আক্ষেপ মিঠুর-ও, কেন, কেন, কেন তিনি এত তাড়াতাড়ি চলে গেলেন? হোটেল স্নো ফক্সটক্স নয়, যদি ‘স্বয়ংসিদ্ধা’ ছবিতে পেতেন তাঁকে! সব সাধ কি মেটে এক জীবনে?
দিল্লি নিবাসে এসেছিলেন উত্তমকুমার, আমার অতিথি হয়ে। ইচ্ছে ছিল হরিয়ানাতেও যাবেন একবার। হয়নি। শর্মিলা ঠাকুরের মনে গেঁথে আছে উত্তমের গলার গান। না, ব্রাহ্ম নন শর্মিলা, হিন্দু ছিলেন পূর্বপুরুষ, অবাক হয়ে শুনছিলেন উত্তম। ঠাকুর পরিবারের-ই আরেক। ক্ল্যান, প্রিন্স দ্বারকানাথের গিরীন্দ্রনাথেক অংশের। ‘অমানুষ’-এর দিনগুলিতে এভাবে থাকা, আটশো কোটি টাকার প্রাসাদ যার! সম্ভব, কেননা উত্তম আট লক্ষ কোটি মনের। ঈশ্বর আল্লাহ্!
উত্তমবাবু, সেই ভাল সেই ভাল, অপর্ণার মন বলে। ওরকম একটা মানুষ, কত আপন, অথচ কাছে থেকে দূর রচনা করে চলেন। আমার মতো প্রেসিডেন্সি লাগেনি ওঁর, বাবার মতো ফিল্ম সোসাইটিতে নেই, কলেজেও পড়াননি। ম্যাটিনি আইডল তবু, তবু জন ওয়াইসমুলার ফেলে আগে ওৗর ছবি দেখেছি। অভিনয়? না, লরেন্স অলিভিয়েরকে হার মানিয়েছেন ওথেলোর সামান্য অভিনয়টুকুতে।
আমাকে শিখিয়েছিলেন, কীভাবে পশ্চিমাস্য হয়ে নামাজ আদায় করতে হয়। হয়েছিল কী, কমার্স কলেজে পড়বার সময় ওখানকার স্যার শওকত ওসমানের প্রিয়পাত্র হয়ে ওঠেন উত্তম। পরে শওকত ওসমান ঢাকা চলে যান। নামী লেখক, স্বাধীনতা পদক পর্যন্ত পেয়েছেন। কলেজছাত্র উত্তম মাঝেমাঝে স্যারের বাড়ি যেতেন। নামাজ পড়া মনোযোগ দিয়ে দেখতেন।
শিখিয়ে দিয়েছিলেন আমাকে। মনে পড়ছিল গহরের। গহর, কি না ‘কমললতা’ ছবিতে নির্মলকুমার। মাধবী কাছে থাকলে দু’জনে মিলে স্মৃতিচারণ করা যেত। বেতারে চার পর্বে শ্রীকান্ত করেছিলাম। আমার অনুরোধে শত ব্যস্ততার মধ্যেও শুনেছে, প্রশংসা করেছে আমার। ‘ওই একটি মাধ্যমে কখনও অভিনয় করা হয়নি আমার’, আক্ষেপ ছিল।
অমিতাভ, জয়া। দু’জনেই অভিনয় করেছেন মহানায়কের সঙ্গে। মাঝেমাঝে তর্ক হয় দু’জনের। জয়া: সপ্তপদী, অমানুষ। অমিতাভ: নায়ক, কিতাব। অমিতাভ: ছদ্মবেশী, চৌরঙ্গী। ছবিটা দেখেছিলাম, ১৯৬৮-তে। পরের বছর কলকাতা ছাড়ি। আজ কোনও তর্ক-বিতর্ক নয়। দু’জনেই সম্মত, পৃথিবীর অন্যতম সেরা তিনি, ভারতে একনম্বর। ‘ভারত-বাংলাদেশ-পাকিস্তান মিলিয়ে’— জয়ার মধুর সংযোজন।






