Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

সম্পাদকীয়

দুর্গাপুজো সর্বদা শারদ নয়

পৃথিবীতে যত জনগোষ্ঠী আছে, প্রত্যেকের বার্ষিক ধর্মীয় আনন্দোৎসব আছে। বৌদ্ধদের বুদ্ধপূর্ণিমা, মুসলমানদের ইদ, খ্রিস্টানদের বড়দিন, তেমনই বাঙালি হিন্দুদের দুর্গাপুজো। এখানে মিল ও পার্থক্য দুটোই আছে। মিলটা তো বোঝা গেল, পার্থক্যটা? অন্য সব মহোৎসব সেই সেই ধর্মপ্রবক্তাদের কেন্দ্র করে। কিন্তু বাঙালি হিন্দুদের উদযাপন দেবতাকেন্দ্রিক। তাই তামিল হিন্দুরা তাঁদের সেরা উৎসবরূপে পালন করেন পোঙ্গল, পাঞ্জাবিরা বৈশাখী, অসমিয়ারা বিহু, গুজরাতের লোক নবরাত্রি, কেরালাবাসীরা ওনাম, মারাঠীরা গণেশচতুর্থী, বা তেলুগুভাষীরা য়ুগাদি।

বহু বিবর্তনের পথ বেয়ে আজ দুর্গাপুজো বাঙালির আপন হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে। বাল্মীকিতে ছিল না, কৃত্তিবাস দেবী দুর্গার অকালবোধন আনলেন। যা ছিল একদা কৃষকের শস্যকেন্দ্রিক যাপন, তা প্রথমে ধনীদের, পরে ‘সর্বজনীন’-রূপে আমজনতার আরাধ্য হয়ে উঠল। একচালা মূর্তির পরিবর্তন এল, লক্ষ্মী সরস্বতী গণেশ ও কার্তিককে আলাদা রেখে। আর এখন চলছে থিম পুজোর কাল। খুঁটিপুজো-ও নতুন সংযোজন।

বিবর্তন আসুক, স্বাগত তাকে। পুজোর ক’টি দিন আনন্দে আমোদে রঙিন হয়ে উঠুক মানুষ। প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ভিড় একদিকে, অন্যদিকে পুজোয় কাছে-দূরে বেড়াতে যাওয়া, চলুক। কানাডা থেকে ত্রিনিদাদ, জার্মানি থেকে কেনিয়ার বাঙালি আত্মপরিচয় লাভ করে নিজ সংস্কৃতির, করুক। শারদীয় পত্রপত্রিকার ঢল নামে এই শারদোৎসবকে কেন্দ্র করে, নামুক। সারা বছরের জীবনীশক্তি অর্জিত হয় উৎসবের মধ্যে দিয়ে। বাণিজ্য হয় কোটি কোটি টাকার, যার মূল্য নিতান্ত উপেক্ষণীয় নয়।

কলকাতা পুজোর ঠিক আগে বন্যায় ভাসল, করুণ মৃত্যু হল দশজনের, কলেজ স্ট্রিটের বইপাড়ায় কোটি কোটি টাকার বই জলে ভিজে প্রকাশকদের বিশাল ক্ষতি করে দিয়ে গেল। নাগরিক জনজীবন চূড়ান্ত বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল বেশ কয়েকদিন। বহু পুজো-প্যান্ডেল বিধ্বস্ত! তাইতে পুজো এবার সার্বিক আনন্দ দিতে পারবে না।

তবুও শারদলক্ষ্মী আসছেন প্রতি বছরের মতো। একটি সংশোধনী। দুর্গাপুজো কিন্তু সর্বদা শারদ নয়, কেন না একবছর তা আশ্বিনে হয়, পরের বছর কার্তিকে, অর্থাৎ হেমন্তে। তবু শারদীয়া পূজা! হ্যাঁ, আর্ষপ্রয়োগ এটা।

সকলের জন্য শারদীয় শুভেচ্ছা।

মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়, সম্পাদক, ভালভাষা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

1 × 3 =

Recent Posts

গৌতম চক্রবর্তী

দুই হুজুরের গপ্পো

১৯৩০ সালের ১৪ জুলাই, আলবার্ট আইনস্টাইন বার্লিনের উপকণ্ঠে নিজের বাড়িতে স্বাগত জানান ভারতীয় কবি, দার্শনিক ও সঙ্গীতজ্ঞ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে। তিনি ছিলেন প্রথম অ-ইউরোপীয় নোবেল বিজয়ী। তাঁদের এই সাক্ষাৎকারটি ইতিহাসের অন্যতম বুদ্ধিদীপ্ত ও মননশীল আলাপচারিতায় পরিণত হয়, যেখানে তাঁরা বিজ্ঞান ও ধর্মের চিরন্তন দ্বন্দ্ব নিয়ে আলোচনা করেন। “সায়েন্স অ্যান্ড দ্য ইন্ডিয়ান ট্রাডিশন: হোয়েন আইনস্টাইন মেট টেগোর” গ্রন্থে এই ঐতিহাসিক সাক্ষাতের বিবরণ পাওয়া যায়। এই বইতে বিশ শতকের শুরুতে ভারতের বৌদ্ধিক পুনর্জাগরণ এবং ভারতীয় ঐতিহ্য ও পাশ্চাত্য বৈজ্ঞানিক চিন্তার মেলবন্ধন তুলে ধরা হয়েছে।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

আশা ভোসলে ও তাঁর বাংলা গান

সুদীর্ঘ আট দশক ধরে তিনি তাঁর সঙ্গীতের সুধায় ভরিয়ে দিয়েছেন কেবল ভারত বা এই উপমহাদেশকেই নয়, বিশ্বকে। পরিণত বয়সেই মৃত্যু হয়েছে তাঁর, যেমন কয়েক বছর আগে হয়েছিল তাঁর স্বনামখ্যাত অগ্রজা লতা মঙ্গেশকরের। আশা ভোসলে তাঁর সমগ্র জীবনে বারো হাজার গান গেয়ে গিনেস বুকে স্থান পেয়েছেন। একদিকে ধ্রুপদী সঙ্গীত, অন্যদিকে লঘু, পপ, এমনকী চটুল গানেও তাঁর সমকক্ষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। সমসাময়িক কিংবদন্তি শিল্পীদের মধ্যে এজন্য অনায়াসে স্থান করে নিয়েছিলেন তিনি।

Read More »
গৌতম চক্রবর্তী

স্প্যানিশ ছোটগল্প: পুতুল রানি

সত্যিকারের আমিলামিয়া আবার আমার স্মৃতিতে ফিরে এসেছে, আর আমি আবার— সম্পূর্ণ সুখী না হলেও সুস্থ বোধ করছি: পার্ক, জীবন্ত সেই শিশুটি, আমার কৈশোরের পঠনকাল— সব মিলিয়ে এক অসুস্থ উপাসনার প্রেতচ্ছায়ার ওপর জয়লাভ করেছে। জীবনের ছবিটাই বেশি শক্তিশালী। আমি নিজেকে বলি, আমি চিরকাল আমার সত্যিকারের আমিলামিয়ার সঙ্গেই বাঁচব, যে মৃত্যুর বিকৃত অনুকরণের ওপর জয়ী হয়েছে। একদিন সাহস করে আবার সেই খাতাটার দিকে তাকাই— গ্রাফ কাগজের খাতা, যেখানে আমি সেই ভুয়ো মূল্যায়নের তথ্য লিখে রেখেছিলাম। আর তার পাতার ভেতর থেকে আবার পড়ে যায় আমিলামিয়ার কার্ডটি— তার ভয়ানক শিশুসুলভ আঁকাবাঁকা লেখা আর পার্ক থেকে তার বাড়ি পর্যন্ত যাওয়ার মানচিত্র। আমি সেটা তুলে নিয়ে হাসি।

Read More »
যদুনাথ মুখোপাধ্যায়

বিজ্ঞানমনস্কতা কারে কয়?

শ্রদ্ধেয় বসুর বইতে হোমিওপ্যাথি সম্পর্কিত অধ্যায়টি তথাকথিত বিজ্ঞানমনস্কদের, বিশেষ করে মুদ্রা-মূর্ছনায় মজে থাকা, বা রাজনীতিজ্ঞ হিসেবে স্বীকৃতির দাবেদার-ঘনিষ্ঠ চিকিৎসকদের বিরক্তিকর বা অপ্রীতিকরই মনে হবার কথা। কেননা, উল্লিখিত দুটি বিষয় নিয়ে তাদের মনের গহীন কোণে প্রোথিত বিজ্ঞানবাদিতার শেকড় ওপড়ানোর সম্ভাবনা নেই বলেই মনে হয়। প্রশ্ন হল, তাঁর উপরিউক্ত বইটির কারণে তথাকথিত বিজ্ঞানমনস্ক বন্ধুদের চোখে ব্রাত্য বলে চিহ্নিত হবেন না তো? হলে আমি অন্তত আশ্চর্যচকিত হব না। দাগিয়ে দেবার পুরনো অভ্যাস বা পেটেন্ট এই মহলের বাসিন্দাদের প্রধান অস্ত্র, তা ভুক্তভোগীরা হাড়ে হাড়ে জানেন।

Read More »
প্রসেনজিৎ চৌধুরী

অগ্নিবীর: বন্দুকের মুখে ঈশ্বর

১৯৫০ দশকে নেপালের রাজতন্ত্র ও রাজার মন্ত্রিগোষ্ঠী রানাশাহী শাসনের বিরুদ্ধে সফল সশস্ত্র বিদ্রোহ হয়েছিল। সেই বিদ্রোহে অংশ নিয়েছিলেন অনেক ভারতীয়। তাঁদের মধ্যে অনেকে বাঙালি। নেপালের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সেই প্রথম সংঘর্ষ সে-দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে মুক্তিযুদ্ধ হিসেবে চিহ্নিত। ভারত ও চীনের মধ্যে একফালি দেশ নেপালের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রাম সশস্ত্র ও নিরস্ত্র দুই পথ ধরে চলেছিল। ডান-বাম-অতিবাম— ত্রিমুখী রাজনৈতিক ঘাত-প্রতিঘাতের চূড়ান্ত সফলতা আসে ২০০৮ সালে রাজার শাসনের অবসানে।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

নারী: এক দৈবী আখর

আমরা ৮-ই মার্চের আন্তর্জাতিক নারীদিবসে আবহমান নারীবিশ্বকে সামান্য একটু ছুঁয়ে যেতে চাইলাম মাত্র। হাজার হাজার বছর ধরেই তাঁদের ওপর কড়া অনুশাসন, জবরদস্ত পরওয়ানা আর পুরুষতন্ত্রের দাপট। সে-সবের ফল ভুগতে হয়েছে আন্তিগোনে থেকে সীতা, দ্রৌপদী; জোয়ান অফ আর্ক থেকে আনারকলি, হাইপেশিয়া; রানি লক্ষ্মীবাঈ থেকে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, বেগম রোকেয়া; রোজা পার্কস থেকে মালালা ইউসুফজাই— তাঁদের মতো হাজারো নামহীন নারীকে।

Read More »