বলয়
সারি সারি গাছেদের মধ্য দিয়ে পথ
ঝরা পাতারা ছড়িয়েছিটিয়ে উড়ছে
আমার সারা শরীরে শব্দের ক্ষত
নগ্ন হয়ে হাঁটছি পথ ধরে টলোমলো
খুঁজছি কোনও গাছের উদার দৃষ্টি
এ বার অন্তত গাছ হয়ে যাই
বদলে ফেলি নিজের নাম, রক্তের রং
শরীরে নিই কার্বন ডাইঅক্সাইড
অপেক্ষা, কোনও নরম ডানার প্রজাপতির
কোনও পরাগ মিলনের, যাতে আসুক এমন বীজ
যা ধারণ করে আমিও হয়ে উঠি
তোমার মতো গর্ভধারিণী জননী
কমে আসছে গাছের সংখ্যা, মমতার শাখা
অক্সিজেন প্রদানকারী মা’র তাজা বায়ু সেবনে
অক্ষয় হয় জীবন, তৈরি হয় ক্ষতিকর গ্যাসের বিরুদ্ধে বলয়…
***
চিরবসন্ত শহরের চিঠি
সবুজ, হলুদ আর গেরুয়া পাতা মোড়া
যে-শহরে তুমি থাকো
প্রাকৃতিক নিয়মেই সারা বছর সেখানে
বসন্তকে ঠেলে নেই গ্রীষ্মের অনধিকার প্রবেশ
শীত দূর থেকে বিদায় নেয় মৃদু হাসি নিয়ে
তাপমাত্রার হঠাৎ ঠান্ডা লাগলে
বসন্ত জিজ্ঞাসা করে অভিমানের কারণ
আছে কিছু গ্রীষ্মসাধকের গোপন মদত আর আঁতাঁত
চকোলেটের মতো হৃদয়কে রেখেছি চিরবসন্ত শহরে
তাপমাত্রার ওঠাপড়া চকোলেট সহ্য করতে পারে না
খুব শীতলতায় যেভাবে পাথুরে হয়
বা চরম তাপে গলে যায় মোমের মতো
সে হৃদয় শুধু সতেজ থাকে চিরবসন্তের শহরে
আঠারোশো কিলোমিটার দূরে থেকেও
আমি কখনও ঘামি, কখনও কেঁপে উঠি…
***
আগুন নিয়ে খেলা
বেশ কিছু বসন্তের উপবাসে থাকা শরীরে
ফুল ফুটতে গিয়েও ঝরে গেছে
শরীরও হয়নি সাধন মন্দির
দেবীর বেদি থেকে গেছে শূন্য
শরীর থেকে বহুবার বিদায় চেয়েছে
তার আত্মা, ইচ্ছার অদৃশ্য কঙ্কালরা
শূন্য মন্দিরে জ্বলে থাকে প্রদীপ
মাঝেমধ্যে তাতে ঢালো বেখেয়ালি তেল
শিখার আগুন নিয়ে খেলা আমি
ফুল নেই, দেবী নেই, অথচ আছে
তীব্র কটাক্ষ, সমালোচনা ও অঙ্গুলিহেলনমন্ত্র
অসামাজিক যুক্তিহীন নিষেধ, শক্তি প্রদর্শন
মঙ্গলদীপের শিখা ক্রমশ বিদ্রোহী
লেলিহান হয়ে পরিণত হতে চায় দাবানলে
আগুন নিয়ে যে খেলছে আমার ভিতর
পুড়িয়ে ছারখার করতে চায় শ্বাসরোধী সংস্কার
পবিত্র হওয়ার শর্ত সে বুঝেছে ওই শিখার ছোঁয়ায়…
চিত্রণ: ক্রিস্তিনা সাহা





