Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

মালবিকা মল্লিকের গুচ্ছ কবিতা

দ্ব্যর্থার্থ

গহীনে এক মেঘলা আকাশ থাক
যে আকাশে আঁধার জুড়ে প্রেম
অন্য আকাশে আলোর রোশনাই
ভালবাসার হোক শহুরে লেনদেন।
ভ্রান্ত ব্যাকুল উষ্ণতারা ঠোঁট মাপে
পরিযায়ী কিছু পোশাকী বুনন বেচা
বিচিত্র এই সেলুকাসের দেশে…
মৃত সরোবরও বিশঙ্ক পাহাড়ি ঝোরা।

ক্ষুধা

একটু নিরালা খুঁজছে ওরা
কাফন সরিয়ে তাই ঠিক আমার পাশে
ব্যঙ্গ করছে জনান্তিকে
একটুকরো আবাদি জমিন চায় ওরা।

ফুটপাতে চলেছে সার বেঁধে কেনাবেচা
ওরা ওদের ভবিষ্যৎ বেচে বর্তমান কিনবে
হাইরোড ওদের পলস্তারা ছাড়ানো পোড়া কাঠের মত
তবু স্বপন বুনছে ওরা ইস্তাহারে।

যন্ত্র তন্ত্র মন্ত্রের গায়ে নামাবলি চাপিয়ে ওরা আজ দাফনে যাচ্ছে
পরিবর্তন হয়ে যায় সব
ভিটেমাটি, জাত, ধর্ম, অধর্ম
শুধু ক্ষুধার কোনও শ্রেণিবিন্যাস হয় না…
ভুখা পেটের কোনও নামান্তর নেই।

রক্ষাকবচ

আজ শুধু দিয়ে যাব কিছু
আঁজলাভরে পান করাব আলো
প্রদীপ শিখায় জ্বলন্ত তুবড়ি হয়ে
আকাশভেদী নক্ষত্র হয়ে জ্বলো।

দিকভ্রান্ত সঙ্গের শক্তি অনন্ত
সোমের বলয়ে লক্ষ্যভেদী অনুষঙ্গ
কামিনী কাঞ্চন মোহের জাল অমোঘ
তবু হায়, দানের নেশায় কণ্ঠ পিপাসার্ত।

কীসের আশা, এ প্রশ্ন নিশ্চিহ্ন
জননী, জায়া, কন্যা, কোন আসনে রমণী পূজ্য?
নিশ্ছিদ্র দুর্গ গড়ব চারিপাশ
প্রণয়ী হয়ে রক্ষাকবচ হব।
প্রণয়ী আমি, তোমার রক্ষাকবচ হব…

বেবুশ্যি সতী

অগ্নিপরীক্ষা প্রতিদিন, প্রতিরাতে
আমৃত্যু বেবুশ্যি
কত টাকায় কেনা যায় তোকে?
চোখের ইশারায়, দুটো মিঠে কথা, মস্করাতে…
ডাক দাও, দেখি একবার চেখে।
সাদা ধবধবে চাদরে হয়েছে পরীক্ষা, ঠকায়নি তো সোয়ামিটাকে?
তবু অগ্নিপরীক্ষা প্রতিদিন, প্রতিরাতে।

কার সাথে শাঠ হয়েছে তলে তলে
কালনাগিনী ঢুকেছিল কি কক্ষের ছিদ্রপথ বেয়ে?
লাগাও খোঁজ
কড়া করো প্রহরা যত
মনের কানাগলিতে পরাও লোহার শিকল বা আরও মজবুত কোন ধাতুতে
সূর্যের আলো যেন না ঢোকে কারাগারে
কেউ ছুঁয়ে ফেলেনি তো আলগোছে, চোখ দিয়ে, চাঁদের আলোতে?
মনে বাসা করেনি তো পরপুরুষে?

শত পরোপকারীর সহস্র জিজ্ঞাসু দৃষ্টি
তবু হাল ছাড়েনি, সে লাইনের মেয়ে
সকলের কাছে ছুটি নিয়ে হারিয়েছে সেদিনের মেয়ে
সতী মেয়ে তার সতী মায়ের কোলে…

পূজা ও প্রেম

না বলা কথাগুলো বইয়ের ভাঁজে ছটফট করে
মুক্তি দিতে চায় নিজেদের
কতিপয় হয়তো এ ভালবাসার স্পর্শ মাখবে
লাভ কী প্রকাশে!
তবু শীতঘুম বারংবার বিদ্রোহী হয়ে ওঠে।

একলা বাতাস ধীর গতি নিয়ে এগিয়ে আসে
উন্মুক্ত করে বন্ধ বইয়ের এক একটি পাতা
চমকে ওঠে
আবিষ্কার করে নিজেকে
প্রতিটি বর্ণ, প্রতিটি শব্দ, বাক্যে,
বইয়ের প্রতিটি পাতায় যে তারই ছবিই আঁকা!

বাতাসের আজ বইয়ের সাথে আলাপন
কথা তাদের বৃষ্টি হয়ে ঝরে অধর বেয়ে
শব্দরা ভাষা হয়ে আলোকসাজ পরে
এ মিলন সাক্ষ্য দেবে শুধু দেবলোকে

চিরপ্রেমের জোয়ার আহ্নিকগতিতে

চিত্রণ: চিন্ময় মুখোপাধ্যায়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fifteen + nine =

Recent Posts

মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

আমেরিকার স্বাধীনতা: আড়াইশো বছর

১৬০৭ থেকে ১৭৮৩ পর্যন্ত সময়কাল আমেরিকায় ব্রিটেনের ঔপনিবেশিক রাজত্ব। আজকের দিনে যে আমেরিকা, তা কিন্তু পুরোটা ব্রিটিশদের দখলে ছিল না। ছিল ভার্জিনিয়া, ম্যাসাচুসেটস, নিউ ইয়র্ক, পেনসিলভেনিয়া-সহ ১৩টি রাজ্য। আর কানাডার বেশ কিছু অঞ্চল। আমেরিকার অন্যান্য স্থানে ফরাসি, ডাচ, নরওয়েজিয়, সুইডিস উপনিবেশ-ও ছিল। তাছাড়া রাশিয়া আমেরিকার আলাস্কা থেকে ক্যালিফোর্নিয়া পর্যন্ত দখল করে। পরে সে আলাস্কা আমেরিকার কাছে বিক্রিও করে দেয়।

Read More »
অপরাজিতা মৈত্র

গোদাবরীর গোমুখে

গঙ্গার মর্ত্যে আগমন নিয়ে যেমন ভগীরথের গল্প, তেমনই গোদাবরীর উৎসস্থলে না এলে জানা যেত না, দক্ষিণের গঙ্গা নিয়েও আছে হাজার গল্প। যে গল্প জানাবে আজও এই অঞ্চলের মানুষ অনেক সময়েই কাছাকাছি আর কোনও পানীয়জল না পেয়ে কষ্ট করে হলেও এই উৎসস্থলে এসেই শীতল এই পানীয়জল নিয়ে যান নিজেদের কাজের জন্য। গঙ্গা বা অন্য নদী সে শুধু ধার্মিক আবেগের কারণে পবিত্র না, হাজার প্রাণীর ‘তৃষ্ণা’ মেটাবার জন্য সে হয়ে ওঠে ‘দেবী’ বা ‘পবিত্র’। সে পথে মিশে যায় হাজার গল্প-কষ্ট কিংবা দিনযাপনের চরম বাস্তবতা।

Read More »
রুহ

রুহের কবিতাগুচ্ছ

একই আলোকমালায় কাটিয়েছি/ বহুকাল দু’জনে…/ বলিনি কখনও।/ তারা খসা দেখেছি একসাথে, যদিও/ গোপন থেকেছে চাওয়া-পাওয়া।/ মাঝে বহুদিন, বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো/ একা… নীরবে বয়েছি যাতনা।/ আজ মিথ্যের নেই অবকাশ/ তোমাকে কি পড়েনি মনে/ কোনও মুহূর্ত বা ক্ষণে/ ভাবিনি কি একান্ত বন্ধু আমার—/ এতদিন পরে, পুনর্মিলনে বলেছ/ পাখি হতে চেয়েছিলে এ জীবনে

Read More »
কাজী তানভীর হোসেন

যুদ্ধ: বৈশ্বিক কসাইখানা, পুঁজির সংকট ও শ্রমের মুক্তি

অবিক্রীত পণ্যের পাহাড় যখন পুঁজির পুনরুৎপাদনকে বাধাগ্রস্ত করে, তখন পুঁজিপতিরা তীব্র আতঙ্কে ভোগে। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য তারা প্রতিযোগী পুঁজিপতির বাজার ও পণ্য ধ্বংস করতে চায়। আর এই ধ্বংসের বৈধ হাতিয়ার হিসেবে তারা রাষ্ট্র ও সামরিক বাহিনীকে ব্যবহার করে যুদ্ধ বাধিয়ে দেয়। অর্থাৎ, উদ্বৃত্ত পণ্য এবং অতিরিক্ত শ্রমকে ধ্বংস করে পুঁজির ভারসাম্য ফিরিয়ে আনাই বুর্জোয়া যুদ্ধের মূল উদ্দেশ্য। এই শোষণের প্রক্রিয়াকে আড়াল করতে রাষ্ট্র একদল বুদ্ধিজীবী ও নীতিবিদ লালন করে, যারা কৃত্রিম ‘দেশপ্রেম’ ও ‘জাতীয়তাবাদ’-এর আফিম খাইয়ে শ্রমিককে বিভ্রান্ত রাখে, যাতে তারা শোষক ও শোষিতের মধ্যকার মৌলিক শ্রেণি-পার্থক্য ভুলে যায়।

Read More »
প্রসেনজিৎ চৌধুরী

বিশ্বকাপ জৌলুসে আর্জেন্টিনা গণহত্যার বধ্যভূমি

বুয়েনস আইরেসের রিভার প্লেটের যে স্টেডিয়ামে তখন খেলা হত, তার মাত্র এক মাইল দূরে ছিল সামরিক সরকারের বন্দিশিবির নেভি স্কুল অব ম্যাকনিকস। সাংবাদিক ডেভিড কক্স ফুটবল বিশ্বকাপের খবর সংগ্রহ করতে গেছিলেন। তিনি ‘ডার্টি ওয়ার’ বইতে লিখেছিলেন, যখন স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার ম্যাচ চলত তখন ওই টর্চার সেল থেকে কান্নার শব্দ শোনা যেত। আর্জেন্টিনার ভুবনমোহিনী ফুটবলে লেগে আছে রক্ত।

Read More »
রাধাবল্লভ রায়

ধর্মযুদ্ধ

এই যে সংবাদমাধ্যমে প্রতিদিন শতমুখে বিদ্বেষ ছড়ানো হয়, এই যে ফেসবুক জুড়ে বিশেষ সম্প্রদায়কে চিহ্নিত করে সম্মানীয় নেতা-মন্ত্রীদের কুৎসিত ইঙ্গিত, হিংসার প্রদর্শনী— এর প্রতিক্রিয়া কোথায় গিয়ে ঠেকে তাঁরা কি জানেন? পাড়ায় পাড়ায়, রকের আড্ডায়, ক্লাবের আড্ডায়— সর্বত্র বয়োজ্যেষ্ঠদের নির্বোধ অসংযত উচ্চারণ কোন শিশুর হৃদয়ে কেমন ভাবে প্রোথিত হয় তাঁরা কি জানেন? ভেবে দেখেছেন কি এই বিদ্বেষিতার মধ্যে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে আগামী প্রজন্ম?

Read More »