Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

সুনীতিকুমার: ভাষার নাড়িনক্ষত্র ছিল তাঁর নখদর্পণে

‘শেষের কবিতা’ উপন্যাসের নায়ক অমিত রায় শিলংয়ে দেওদার গাছের ছায়ায় যে বইটি পড়ত, সেটি হল ‘সুনীতি চাটুজ্যের বাংলা ভাষার শব্দতত্ত্ব’। বইটি রবীন্দ্রনাথেরও খুব প্রিয় বই ছিল। তাই তাঁর উপন্যাসের নায়কের হাতেও তিনি সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের O.D.B.L. বা ‘The Origin and Development of the Bengali Language’ বইটি তুলে দিয়েছেন। ভাষাচার্য সুনীতিকুমার তাঁর সমগ্র জীবনে অনেক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ রচনা করেছেন। এর মধ্যে ৩ খণ্ডের O.D.B.L.-ই তাঁর প্রথম এবং প্রধান কীর্তি। এই বইটিই তাঁকে জগৎজোড়া খ্যাতি এনে দিয়েছিল। ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দে বইটি প্রথম প্রকশিত হয়।

পৃথিবীর সর্বকালের সবশ্রেষ্ঠ পণ্ডিতদের একজন ভাষাচার্য সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়। শুধু বাংলা ভাষাতেই নয়, পৃথিবীর সব ভাষাতেই ছিল তাঁর সমান উৎসাহ। ভাষার সমস্ত ব্যাকরণ, নাড়িনক্ষত্র ছিল তাঁর নখদর্পণে। রবীন্দ্রনাথের ভাষায়— ‘সকল প্রকার রচনাই স্বাভাবিক শক্তির অপেক্ষা করে। চিঠি-রচনাও তাই। আমাদের দলের মধ্যে আছেন সুনীতি। আমি তাঁকে নিছক পণ্ডিত বলেই জানতুম। অর্থাৎ, আস্ত জিনিসকে টুকরো করা ও টুকরো জিনিসকে জোড়া দেওয়ার কাজে তিনি হাত পাকিয়েছেন বলে আমার বিশ্বাস ছিল। কিন্তু এবারে দেখলুম, বিশ্ব বলতে যে ছবির স্রোতকে বোঝায়, যা ভিড় করে ছোটে এবং এক মুহূর্ত স্থির থাকে না, তাকে তিনি তালভঙ্গ না করে মনের মধ্যে দ্রুত এবং সম্পূর্ণ ধরতে পারেন আর কাগজে-কলমে সেটা দ্রুত এবং সম্পূর্ণ তুলে নিতে পারেন। এই শক্তির মূলে আছে বিশ্বব্যাপারের প্রতি তাঁর মনের সজীব আগ্রহ। তাঁর নিজের কাছে তুচ্ছ বলে কিছুই নেই, তাই তাঁর কলমে তুচ্ছও এমন একটি স্থান পায় যাতে তাঁকে উপেক্ষা করা যায় না। সাধারণত, এ-কথা বলা চলে যে শব্দতত্ত্বের মধ্যে যারা তলিয়ে গেছে শব্দচিত্র তাদের এলাকার সম্পূর্ণ বাইরে, কেননা চিত্রটা একেবারে উপরের তলায়। কিন্তু, সুনীতির মনে সুগভীর ভাসমান চিত্রকে ডুবিয়ে মারেনি এই বড় অপূর্ব। সুনীতির নিরন্ধ্র চিঠিগুলি তোমরা যথাসময়ে পড়তে পাবে— দেখবে এগুলো একেবারে বাদশাই চিঠি। এতে চিঠি ইম্পিরিয়ালিজম; বর্ণনাসাম্রাজ্য সর্বগ্রাহী, ছোট বড় কিছুই তার থেকে বাদ পড়েনি। সুনীতিকে উপাধি দেওয়া উচিত— লিপিবাচস্পতি কিংবা লিপিসার্বভৗম কিংবা লিপিচক্রবর্তী।’ (জাভাযাত্রীর পত্র)

সুনীতিকুমারের জন্ম ১৮৯০ সালের ২৬ নভেম্বর, হাওড়া জেলার শিবপুর পল্লিতে, আর মৃত্যু, ১১৭৭ সালের ২৯ মে, কলকাতায়। তাঁর মৃত্যুর পরে রমেশচন্দ্র মজুমদার লিখেছিলেন— ‘আজ বঙ্গদেশে তথা ভারতে সুনীতিবাবুর শ্রেণির মনীষী-সাহিত্যিক অতিশয় দুর্লভ— নাই বলিলেও অত্যুক্তি হইবে না।’

সুনীতিকুমার এন্ট্রাস পাশ করেন কলকাতার মোতিলাল শীল ফ্রি স্কুল থেকে। তারপর স্কটিশচার্চ কলেজ। এখান থেকে এফএ পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। ভর্তি হন প্রেসিডেন্সি কলেজে। ইংরেজি অনার্সে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে বিএ পাশ করেন। তারপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এমএ। এই পরীক্ষাতেও তিনি প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন। ১৯১৪ সালে সুনীতিকুমার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজির সহকারী অধ্যাপক নিযুক্ত হন।

১৯১৯ সালে ভাষাতত্ত্ব পড়ার জন্য তিনি ইউরোপে যান, Indo-Aryan Linguistics— Origin and Development of the Bengali Language বিষয়ে গবেষণা করে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি.লিট উপাধি পান। প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয়েও তিনি ভাষাতত্ত্ব বিষয়ে পাঠ গ্রহণ করেন। তারপর ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি ও গ্রিস ভ্রমণ শেষ করে দেশে ফিরে আসেন। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাতত্ত্ব এবং ধ্বনিতত্ত্বের খয়রা অধ্যাপক নিযুক্ত হন।

১৯২৭ সাল। রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে সুনীতিকুমার মালয়, সুমাত্রা, জাভা, বালি ও শ্যাম-দেশ পরিভ্রমণে বের হন। এর ওপরে তিনি গ্রন্থও রচনা করেন। নাম— ‘রবীন্দ্র-সংগমে দ্বীপময় ভারত ও শ্যাম-দেশ’। সুনীতিকুমার লিখেছেন— ‘‘১৯২৭ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে রবীন্দ্রনাথের সস্নেহ ও সানুগ্রহ আহ্বানে তাঁর সঙ্গে মালয়-দেশ, যবদ্বীপ ও বলিদ্বীপ আর শ্যাম-দেশ ভ্রমণের দুর্লভ সুযোগ আমার ঘটেছিল। ভারতের প্রাচীন ধর্ম ও সংস্কৃতির অভিনব প্রকাশ-ক্ষেত্র এই-সমস্ত দেশে, রবীন্দ্রনাথের ভ্রমণকে ‘মহাগুরু-বিজয়’ বা ‘রবীন্দ্র-বিজয়’ আখ্যা দিতে পারা যায়; আর, ‘রবীন্দ্র-সংগমে’, ‘দীন যথা যায় দূর তীর্থ দরশনে’, আমার পক্ষে এই পুণ্য-যাত্রা তীর্থ-যাত্রা হয়েছিল।’’

Advertisement

বিদ্যাচর্চাই ছিল তাঁর জীবনচর্যা। ভাষা-বিষয়ক তাঁর অন্তত ৯০০টি কাজের খোঁজ পেয়েছেন গবেষকরা। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রদত্ত ‘ভাষাচার্য’ উপাধিটি তাঁর নামের সঙ্গেই সুপ্রযুক্ত। সুনীতিকুমার সারা পৃথিবী পরিভ্রমণ করেছেন, এবং পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে অনুষ্ঠিত অসংখ্য ভাষাতত্ত্ব সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন ভারতের সাংস্কৃতিক দূত। সারা জীবনে তিনি এত বেশি লিখেছেন, যা কার্যত মুখে বলে শেষ করা যায় না। দেশ-বিদেশের নানা সম্মান, পুরস্কার এবং উপাধি লাভ করেছেন জীবনভর।

বাংলা ও ইংরেজিতে তাঁর লেখা বইয়ের তালিকাটি সুদীর্ঘ। তা সত্ত্বেও তাকে লিপিবদ্ধ করার লোভ সামলানো কঠিন। Bengali Phonetics (১৯২১), The Study of Kol (সেপ্টেম্বর ১৯২৩), The Origin and Development of the Bengali Language (১৯২৬), Bengali Self-Taught (১৯২৭), A Bengali Phonetic Reader (১৯২৮), ‘বাঙ্গালা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা’ (১৯২৯), Calcutta Hindustani: A study of a Jargon Dialect (১৯৩১), A Roman Alphabet for India (১৯৩৫), Purāṇa Legends and the Prakrit Tradition in New Indo-Aryan (১৯৩৬), Non-Aryan Elements in Indo-aryan (১৯৩৬), ‘পশ্চিমের যাত্রী’ (১৯৩৮), ‘ইউরোপ ভ্রমণ, জাতি সংস্কৃতি সাহিত্য’ (১৯৩৮), দ্বীপময় ভারত (১৯৪০), Indo-Aryan and Hindi (১৯৪২), Language and Linguistic Problems (১৯৪৩), ‘ভারত-সংস্কৃতি’ (১৯৪৪), ‘ভারতের ভাষা ও ভাষা সমস্যা’ (১৯৪৪), Kirāta-jana-kṛti: the Indo-Mongoloids; their contribution to the history and culture of India (১৯৫১), The Languages of the Adivasis (১৯৫৩), ভারত-সংস্কৃতি (১৯৫৭), Sukumar Sen (১৯৬০), Mutual Borrowing in Indo-Aryan (১৯৬০), Language and Literature of Modern India (১৯৬৩), Race Movements and Prehistoric Culture [(১৯৬৫) রমেশচন্দ্র মজুমদার সম্পাদিত], The People, Language, and Culture of Orissa (১৯৬৫), ‘রবীন্দ্র সঙ্গমে’ (১৯৬৫), ‘শ্যামদেশ’ (১৯৬৫), Balts and Aryans in Their Indo-European Background (১৯৬৮), India and Ethiopia: From the Seventh Century B.C. (১৯৬৮), The place of Assam in the history and civilisation of India (১৯৭০), World Literature and Tagore (১৯৭১), Ramayana: its Character, Genesis, History and Exodus: A Resume (১৯৭৮), On the development of Middle Indo-Aryan (১৯৮৩), Spoken Word in the Speech-lore of India: the Background [(১৯৮৪), বি. বি. রাজপুরোহিত সম্পাদিত], The Name ‘Assam-Ahom’ (১৯৮৬), The Word About Igor’s Folk (Slavo O Pulku Igoreve) As a Specimen of Old Slav and Indo-European Heroic Poetry (১৯৮৬), Two New Indo-Aryan Etymologies (১৯৮৯), বৈদেশিকী, পথ-চলতি, সাংস্কৃতিকী, বাঙ্গালা ভাষাপ্রসঙ্গে, ভাষা-প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ, Africanism: The African Personality, Indianism and the Indian Synthesis, Indianism and Sanskrit ইত্যাদি প্রভৃতি।

তাঁর অসমাপ্ত আত্মজীবনীর নাম ‘জীবন-কথা’। সেখানে শুরুতেই জীবনের তাৎপর্য সম্পর্কে বলতে গিয়ে আত্মজিজ্ঞাসা মেলে ধরছেন এই মহামনীষী: ‘‘জীবনের অন্তরালে কী আছে? কেন জগতে আমার এবং আমার মতন কোটি কোটি মানুষের আগমন হল, হচ্ছে, হবে— জীবন তো আমি কাটিয়ে দিলুম প্রায়, কিন্তু এর উদ্দেশ্য কী? সুদীর্ঘ জীবনের মধ্যে কত কিছু দেখে গেলুম, করে গেলুম— রবীন্দ্রনাথের ভাষাতেই প্রশ্ন আসে— কিন্তু কেন?— ‘এই প্রশ্নের উত্তর তো এল না।’’ অথচ জীবৎকালে সুনীতিকুমার ছিলেন একজন Moving Encyclopaedia বা চলমান বিশ্বকোষ।

সুনীতিকুমারের ভাষাচর্চার ব্যাপ্তি ভাবতে গিয়ে মহাকবি বাল্মীকির একটি শ্লোক মনে পড়ছে। ‘গগনং গগনাকারং সাগরঃ সাগরোপমঃ।/ রাম-রাবণয়োযুদ্ধং রাম-রাবণয়োরিব।।’ অর্থাৎ, ‘আকাশের সঙ্গে কেবল আকাশেরই তুলনা হয়, সাগরের সঙ্গে সাগরের। আর রাম-রাবণের যুদ্ধের সঙ্গে যেমন রাম-রাবণের যুদ্ধেরই তুলনা চলে।’ তেমনই সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের পাণ্ডিত্যের তুলনা সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় নিজেই।

চিত্র: লেখক কর্তৃক সংগৃহীত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 × 2 =

Recent Posts

তন্ময় চট্টোপাধ্যায়

মাতৃভাষা: অবিনাশী হৃৎস্পন্দন ও বিশ্বজনীন উত্তরাধিকার

প্রতিটি ভাষার নিজস্ব একটি আলো আছে, সে নিজের দীপ্তিতেই ভাস্বর। পৃথিবীতে আজ প্রায় সাত হাজার ভাষা আছে। ভাষাবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই শতাব্দীর শেষে তার অর্ধেকেরও বেশি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। এ তথ্য সত্যিই বেদনাদায়ক। একটি ভাষার মৃত্যু মানে কেবল কিছু শব্দের মৃত্যু নয়— সে মানে একটি জগৎদর্শনের অবলুপ্তি, একটি জাতির স্মৃতির চিরকালীন বিনাশ। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে তাই আমাদের অঙ্গীকার হোক বহুমাত্রিক। নিজের মাতৃভাষাকে ভালবাসা, তাকে চর্চায় রাখা, তার সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া। আর তার সাথে অন্য সমস্ত ভাষার প্রতি আরও বেশি করে শ্রদ্ধাশীল হওয়া।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

শংকর: বিচিত্র বিষয় ও আখ্যানের কথাকার

শংকরের জনপ্রিয়তার একটি কারণ যদি হয় সাবলীল ও সহজ গতিচ্ছন্দময় ভাষা, অন্য আরেকটি কারণ হল, নিজ সময়কে করপুটে ধারণ করা। তার সঙ্গে মিশেছে আমাদের পরিকীর্ণ জগতের বহুকিছু, আমাদের নাগালের মধ্যেই আছে, অথচ আমরা এ-পর্যন্ত যার হদিশ পাইনি, তাকে পাঠকের দরবারে এনে হাজির করা। ১৯৫৫-তে যে উপন্যাসটি দিয়ে বাংলা-সাহিত্যে তাঁর আবির্ভাব, সেই ‘কত অজানারে’ হাইকোর্টের জীবনযাপন, সেখানকার আসামি-ফরিয়াদি, উকিল-ব্যারিস্টার প্রমুখের চিত্র। লেখকের নিজ অভিজ্ঞতাপ্রসূত রচনা এটি। তিনি প্রথম জীবনে হাইকোর্টের সঙ্গে চাকরিসূত্রে যুক্ত ছিলেন।

Read More »
সুজিত বসু

সুজিত বসুর তিনটি কবিতা

তারপরে একদিন আকাশে মেঘের সাজ, মুখরিত ধারাবারিপাত/ রঙিন ছাতার নিচে দু’গালে হীরের গুঁড়ি, মন মেলে ডানা/ আরো নিচে বিভাজিকা, নিপুণ শিল্পীর হাতে গড়া দুই উদ্ধত শিখর/ কিছুটা অস্পষ্ট, তবু আভাসে ছড়ায় মায়া বৃষ্টিস্নাত নাভি/ তখনই হঠাৎ হল ভূমিকম্প, পাঁচিলের বাধা ভাঙে বেসামাল ঝড়/ ফেরা যে হবে না ঘরে মুহূর্তে তা বুঝে যাই, হারিয়েছি চাবি/ অনেক তো দিন গেল, অনেক ঘুরেছি পথে, বিপথে অনেক হল ঘোরা/ তাকে তো দেখেছি, তাই নাই বা পড়ুক চোখে অজন্তা ইলোরা।

Read More »
সর্বাণী বন্দ্যোপাধ্যায়

ছোটগল্প: ফাউ

গরমকালে ছুটির দিনে ছাদে পায়চারি করতে বেশ লাগে। ঠান্ডা হাওয়ায় জুড়োয় শরীরটা। আকাশের একপাশে আবির। সন্ধে হবে হবে। অন্যদিকে কাঁচা হলুদ। চায়ের ট্রে নিয়ে জমিয়ে বসেছে রুমা। বিয়ের পর কি মানুষ প্রেম করতে ভুলে যায়? নিত্যদিন ভাত রুটি ডালের গল্পে প্রেম থাকে না কোথাও? অনেকদিন রুমার সঙ্গে শুধু শুধু ঘুরতে যায়নি ও।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

নারীকে আপন ভাগ্য জয় করিবার…

মনু-পরাশর-বৃহস্পতি-কৌটিল্যদের অনুশাসন এসে নারী প্রগতির রাশ টেনে ধরল। নারীর শিক্ষালাভের ইতি ঘটল, অন্তঃপুরে বাস নির্দিষ্ট হল তাঁর জন্য। তাঁকে বাঁধা হল একের পর এক অনুশাসনে। বলা হল, স্বাধীনতা বলে কোনও পদার্থ থাকবে না তাঁর, ‘ন স্ত্রী স্বাতন্ত্র্যমর্হতি’! কুমারী অবস্থায় পিতা-মাতার অধীন থাকবে সে, বিয়ের পর স্বামীর, বার্ধক্যে সন্তানের। ধাপে ধাপে তাঁর ওপর চাপানো হতে লাগল কঠিন, কঠিনতর, কঠিনতম শাস্তি।

Read More »
স্বপনকুমার মণ্ডল

গরিব হওয়ার সহজ উপায়

এককালে পর্তুগিজ-মগরা আমাদের নিম্নবঙ্গ থেকে দাস সংগ্রহ করত মালয়-বার্মাতে শ্রমিকের কাজের জন্য, ইংরেজ সাহেবরাও কিনত গোলাম। আজ আবার মানুষ সস্তা হয়েছে। ঔপনিবেশিক শাসকের দরকার নেই। খোলাবাজারে নিজেরাই নিজেদের কিনছে দেশের মানুষ। মানুষ বিক্রির মেলা বসে এখন গ্রামগঞ্জের হাটে হাটে।

Read More »