অপেক্ষা
জানালার ধারে
সারা রাত একা বসে থাকেন
কবিষ্ক।
লেখেন।
তাঁর কাঁধের ওপরে কিছু নেই মেঘের মতো
শুধু অন্ধকার আকাশ…
. একটু দূরে বসে
সে এই দৃশ্য দেখে।
. মুণ্ডুহীন একা
তিনি লিখে চলেছেন।
‘‘হ’ল?’’
ভোররাতে সে প্রশ্ন রাখে প্রতিদিন।
তিনি কোনো উত্তর দেন না। ভোরের আলোয়
মিলিয়ে যান একটু একটু ক’রে…
আবার পরদিন রাতে
অন্ধকার জানালার ধারে
একটু একটু ক’রে ফুটে ওঠে তাঁর মুণ্ডুহীন ধড়…
. নিঃশব্দে
সেও অপেক্ষা করে।
***
চলাচল
জানালার ধার দিয়ে,
মুখে ডিম, সারিবদ্ধ পিঁপড়েরা
. সারাদিন কোথাও গিয়েছে।
আজ সারাদিন বৃষ্টি হয়েছে।
মাটি ধোয়া খরস্রোতা জল…
. সারাদিন কোথাও চলেছে
. সঙ্গে কয়েকটি মাছ, খড়কুটো…
জানালার পাশে বসে সারাদিন
এসব দেখতে দেখতেই
মনে হয়, কোনোখানে আমিও চলেছি…
***
বৃদ্ধ ও জানালা
প্রতি রাত্রে বন্ধ হয়, প্রতিদিন সকাল হলেই
খুলে দিয়ে দেখি ক্রমে ভোর হচ্ছে, অন্ধকার নেই।
বাইরে বসন্তকাল মৌমাছির মৃদু গুঞ্জরণে
কখনো বা ঝাপসা দূর আষাঢ়ে মেদুর বনে বনে
দেখি এ গবাক্ষ পথে ধেনুগুলি অবিশ্রান্ত ধারে
ভিজিতেছে… যদি অপি ব্যাকরণ কৌমুদী অনুসারে
গবাক্ষ গো যুক্ত অক্ষি– এই সন্ধি বিচ্ছেদের মানে
যে বৃদ্ধ জানালার ধারে বসে থাকে শুধু সেই জানে।
***
শেষ কবিতা
ভাবো কবি, ভাবো–
আর কবে
কবিতার শেষে মনে হবে
. আর নয়,
. এবার
কলম নামিয়ে রেখে চলে যাব
অন্য এক কবিতার দেশে।
চিত্রণ: মনিকা সাহা





