Search
Generic filters
Search
Generic filters

ছোটগল্প : জীবনসঙ্গিনী

‘দাদা, কত হল?’ প্রশ্ন করল মেঘনা।

রেস্তোরাঁর ওয়েটারটি বলল, ‘পাঁচ হাজার, ম্যাডাম।’

বিলের অঙ্ক শুনে মুখ শুকিয়ে গেল প্রত্যয়ের, তার ম্যানিব্যাগে ১০০ টাকার বেশি নেই। বারবার করে বলা সত্ত্বেও মেঘনা তাকে জোর করে রেস্তোরাঁয় ধরে নিয়ে এল। অবশ্য, এই ঘটনা নতুন কিছু নয় প্রত্যয়ের কাছে। তবুও, কেমন হীনমন্যতায় ভোগে সে। মেঘনা তার পার্স থেকে ক্রেডিট কার্ড বার করে বিলটা পেমেন্ট করে দেয়, তারপর বলে, ‘চলো। কী হল, কী ভাবছ?’

প্রত্যয়ের সম্বিত ফেরে, সে বলে, ‘হ্যাঁ, চলো।’ রেস্তোরাঁ থেকে বেরিয়ে পাশাপাশি হাঁটতে থাকে। হাঁটতে হাঁটতে মেঘনা প্রত্যয়ের হাতটা ধরে, আর বলে, ‘কালকের ইন্টারভিউয়ের কথাটা মনে আছে তো?’

প্রত্যয় ঘাড় নাড়ে। মেঘনার মুখে হাসি ফুটে ওঠে। এই হাসিটাই এক অজানা আত্মবিশ্বাস এনে দেয় প্রত্যয়কে। এই পাগলি মেয়েটা তার গোটা মন জুড়ে রয়েছে। মেঘনার সঙ্গে প্রত্যয়ের আলাপ হয় ক্লাস টেনে পড়ার সময় সুমনদার কোচিং ক্লাসে। যথারীতি, আর পাঁচজনের মতোই তাদের নোটসপত্র দেওয়া-নেওয়ার সূত্রে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। তারপর, কখন কীভাবে যে একে-অপরের মনের ঘরে ভালবাসার পাখি বাসা বাঁধল তারা জানতেই পারেনি। প্রত্যয় একটু সংকোচবোধ করত নিজের মনের কথা মেঘনাকে বলার জন্য। কারণ, মেঘনা একটি উচ্চবিত্ত পরিবারের মেয়ে। আর, প্রত্যয়ের বাবা সামান্য একজন কেরানির চাকরি করেন। ফলে, প্রত্যয়ের সংকোচবোধটা ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু, অপ্রত্যাশিতভাবে মেঘনাই একদিন নোটের খাতার ভিতরে চিঠি আর গোলাপ ফুল দিয়ে প্রত্যয়কে জানিয়েছিল তার মনের কথা। প্রত্যয় দারুণ চমকে গিয়েছিল মেঘনার এই সাহস দেখে। যাইহোক, নানা বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে তাদের এই সম্পর্কের পাঁচ বছর হতে চলল।

কিন্তু, প্রত্যয় কোনওদিন মেঘনাকে দামি কিছু কিনে দিতে পারে না। সামান্য ক’টা টাকা পায় টিউশনি করে। বাবা রিটায়ার করেছেন। তাই, তাঁর পেনশন আর প্রত্যয়ের টিউশনির টাকায় কোনওমতে সংসার চলে তাদের। বাড়িতে ছোট দুটো ভাই-বোন রয়েছে। তাদের পড়াশোনারও খরচ রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রত্যয় ইচ্ছা থাকলেও মেঘনাকে দামি কিছু দিতে পারে না। কিন্তু, আশ্চর্যভাবে পাগলিটা তার কাছে কিছু চায়ও না। তার দেওয়া ছোট-ছোট উপহারগুলো মেঘনা খুব খুশি হয়ে নেয়। এমনকি, এখনও প্রত্যয়ের হয়ে নিজের পরিবারের সঙ্গে লড়ে যাচ্ছে, যাতে তারা এই সম্পর্কটাকে মেনে নেয়। মেঘনার এই বিশ্বাসই প্রত্যয়কে জীবনযুদ্ধে লড়ার শক্তি দেয়।

হঠাৎ, প্রত্যয় দাঁড়িয়ে পড়ে। মেঘনা জিজ্ঞেস করে, ‘কী হল? দাঁড়িয়ে পড়লে কেন?’

প্রত্যয় মেঘনার হাতদুটো ধরে বলে, ‘আমি একটা অপদার্থ, মেঘনা। আজ, তোমার জন্মদিন। আজও তোমায় ভাল কিছু উপহার দিতে পারলাম না। রেস্টুরেন্টের বিলটাও তুমি মেটালে। আমি একটা অকর্মণ্য, আমি তোমার যোগ্য নই।’ বলতে বলতে কেঁদে ফেলে প্রত্যয়।

মেঘনা প্রত্যয়ের হাতটা ধরে বলে, ‘কীসব বলছ উল্টোপাল্টা? এত গোলাপ এনেছ, চকোলেট এনেছ। আর কী চাই! আমি আমার জন্মদিনে তোমাকে খাইয়েছি, কী হয়েছে তাতে?’

প্রত্যয় কান্নাভেজা গলায় বলে, ‘তুমি আমার জন্য কত করো, আমার খেয়াল রাখো, সবসময় আমার পাশে থাকো। আমার পরিবারের ভাল-মন্দেরও খোঁজ রাখো। আর, আমি তোমার জন্য কিছুই করতে পারি না। এতগুলো চাকরির ইন্টারভিউ দিলাম, একটাও চাকরি বাঁধাতে পারলাম না। আমার দ্বারা কিচ্ছু হবে না, কিচ্ছু হবে না মেঘনা।’

মেঘনা শক্ত করে প্রত্যয়ের হাত দুটো ধরে বলে, ‘কে বলল তুমি আমার জন্য কিছু করোনি? তুমি আমার জন্য যা করেছ যথেষ্ট। এর চেয়ে বেশি কিছু চাই না আমার। আর, কে বলল তুমি পারবে না? তুমিই পারবে, নিশ্চয় পারবে। আমার সে বিশ্বাস আছে তোমার ওপরে। নাও, এবার ওঠো। বুড়ো ছেলে, বাচ্চাদের মতো কাঁদছে!’

মেঘনার কথা শুনে হেসে ফেলে প্রত্যয়, বলে, ‘তুমি আমায় এতটা ভালবাসো মেঘনা? এতটা কনফিডেন্ট আমাকে নিয়ে?’

মেঘনা বলে, ‘হুম, মশাই। এতটাই ভালবাসি তোমাকে যে, তোমার জন্য গোটা পৃথিবীর সঙ্গে লড়তে পারি। সারাজীবন তোমার জন্য অপেক্ষা করতে পারি। এবার তো চলো। কাল, ইন্টারভিউ আছে তোমার।’

প্রত্যয় চোখের জল মুছে উঠে দাঁড়ায়। মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে মেঘনার বিশ্বাস, মেঘনার ভালবাসাকে সে হারতে দেবে না।

দেখতে দেখতে ১০ বছর পার হয়ে গেছে। মেঘনা এখন একজন স্কুল টিচার। সে এখন ভিক্টোরিয়ার সামনে দাঁড়িয়ে আছে, আর বারবার ঘড়ি দেখছে। আজ, সকালবেলায় একটা আননোন নাম্বার থেকে তার কাছে একটা ফোন আসে। ফোনটা জয়দীপ করেছিল। জয়দীপ প্রত্যয় আর মেঘনা দু’জনেরই খুব ভাল বন্ধু। কী একটা জরুরি দরকার আছে, মেঘনা যেন ঠিক ৩টের সময় ভিক্টোরিয়ার গেটের সামনে পৌঁছে যায়। আর, কিছুই সে বলেনি। মেঘনা অবাক হয়, কী দরকার রে বাবা। আজ, সন্ধ্যার ফ্লাইটে প্রত্যয় ১০ বছর পর কলকাতায় ফিরছে। সেইজন্য, সে খুবই ব্যস্ত আর উত্তেজিত। তবু, জয়দীপের কথা ফেলতে পারে না। তাই, সে ঠিক সময়ে পৌঁছে যায় ভিক্টোরিয়ার সামনে। অথচ, দেখো আধঘণ্টা হতে চলল, জয়দীপের পাত্তা নেই। ছেলেটা বরাবরই লেট লতিফ। অন্যদিন হলে না হয় একটা কথা ছিল, কিন্তু আজ দেরি করলে যে মেঘনার চলবে না। নিজের মনে মনেই বলে সে, ‘উফ! জয়টা চিরকালের কেয়ারলেস। জানে প্রত্যয় ফিরছে আজকে, ওকে এয়ারপোর্টে আনতে যাব, তবু দেখো যে কে সেই। আয় না একবার, তোর আমি ১২টা না বাজিয়েছি তো আমার নাম মেঘনা বসু নয়।’

হঠাৎ, দুটো হাত পিছন থেকে মেঘনার চোখদুটো চেপে ধরে। মেঘনা চমকে ওঠে। এই স্পর্শ যে তার খুব চেনা! তবু, দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে কাঁপা কাঁপা গলায় জিজ্ঞেস করে, ‘কে?’

পিছন থেকে চেনা গলায় উত্তর আসে, ‘সে কী! নিজের বিশ্বাস-কেই চিনতে পারছেন না মেঘা ম্যাডাম?’

মেঘনার হৃৎস্পন্দন কয়েক গুণ বেড়ে যায় উত্তেজনায়। সে পিছনে ঘোরে, ঘুরতেই আরও একবার চমকে যায়। সে কি স্বপ্ন দেখছে? এ যে প্রত্যয়!

প্রত্যয়কে মাঝে মাঝে মজার ছলে মেঘনা ‘বিশ্বাস’ বলে ডাকত, আর প্রত্যয় তাকে ডাকত মেঘা ম্যাডাম’ বলে। কিন্তু, প্রত্যয়ের তো সন্ধ্যাবেলায় আসার কথা ছিল? পিছন থেকে একটা হাসির শব্দ আসতেই মেঘনা ঘুরে জয়দীপকে দেখতে পায়। জয়দীপ হাসতে হাসতে বলে, ‘কী রে, কেমন দিলাম বল? দেখ, আগে থেকেই বলে রাখি যে, পুরো প্ল্যানটা কিন্তু প্রত্যয়ের ছিল। ও-ই আমাকে ফোন করে বলল যে, তোকে সারপ্রাইজ দিতে চায়, তাই সন্ধ্যায় নয়, দুপুরের ফ্লাইটে ও কলকাতায় আসছে। আর, আমি যেন ওকে একটু হেল্প করি। ব্যস! আমার কাজ শেষ, নাও এবার তোমরা দু’জনে মিলে তোমাদের প্রণয়ালাপ শুরু করো, আমি বরং আসি।’ এই বলে জয়দীপ প্রত্যয়ের দিকে একবার চোখ টিপে চলে যায়।

মেঘনা একটু অভিমানী স্বরে বলে, ‘জানাওনি কেন যে, তুমি দুপুরের ফ্লাইটে আসছ?’

প্রত্যয় বলে, ‘ওই যে সারপ্রাইজ দেব ভাবলাম, তাই আর জানাইনি।’ মেঘনার হাতদুটো ধরে বলে, ‘সব তোমার জন্য হয়েছে মেঘনা। তুমি যদি না বিশ্বাস করতে আমার ওপর, আমি কিছুই হয়তো করতে পারতাম না। আমি হারতে দিইনি তোমার বিশ্বাসকে, হারতে দিইনি তোমার ভালবাসাকে। ছিলাম একটা বেকার ছেলে, সেখান থেকে আজ দিল্লি ইউনিভার্সিটির ইতিহাস ডিপার্টমেন্টের হেড ড. প্রত্যয় সেনগুপ্ত। তুমি আমার পাশে না থাকলে আমি এতদূর যেতে পারতাম না।’

মেঘনা মুচকি হেসে বলে, ‘আমি জানতাম তুমি পারবে। তোমার রিসার্চ পেপারের সাফল্যের কথা আমি খবরের কাগজে পড়েছি। তোমার মধ্যে সম্ভাবনা ছিল। তাই, তুমি পেরেছ।’

প্রত্যয় বলে, ‘আর, তুমি ছিলে আমার শক্তি।’

মেঘনা মুখ নামিয়ে বলে, ‘ধ্যাৎ! এইবার কিন্তু আমার খুব লজ্জা করছে।’

এরপর, প্রত্যয় যেটা করল, সেটা মেঘনার কাছে স্বপ্ন মনে হল। হাঁটু গেড়ে বসে কোটের পকেট থেকে একটা গোলাপ ফুলের মতো দেখতে আংটির বাক্স বার করে প্রত্যয়। তারপর, বাক্সটা খুলে আংটিটা বার করে মেঘনার দিকে তুলে ধরে বলে, ‘দশ বছর আগে তুমি আমায় প্রপোজ করেছিলে। উত্তরে শুধু ‘হ্যাঁ’ ছাড়া আর কিছুই বলার সাহস সেদিন আমার ছিল না। আজ, সেই কথাটা বলছি। তুমি কি আমার জীবনসঙ্গিনী হবে?’

মেঘনার চোখে জল এসে যায়। এই দিনটার জন্যই সে দশ বছর ধরে অপেক্ষা করছিল। সে হাত বাড়িয়ে দেয় প্রত্যয়ের দিকে, প্রত্যয় আংটিটা পরিয়ে দেয়। তারপর, মেঘনা আর প্রত্যয় একসঙ্গে অনেকটা সময় কাটায়। বিকেল গড়িয়ে আসে। বিকেলের নরম আলো মেঘনার মুখে এসে পড়ে, প্রত্যয় তন্ময় হয়ে দেখতে থাকে তাকে।

মেঘনা জিজ্ঞেস করে, ‘কী দেখছ?’

প্রত্যয় উত্তর দেয়, ‘কনে দেখা আলোয় আমার কনেকে দেখছি।’

মেঘনা লজ্জা পেয়ে যায় আবার, প্রত্যয়ের কাঁধে মাথা রেখে সে বলে, ‘তুমি এইরকমই থেকো সারাজীবন।’

প্রত্যয় বলে, ‘তুমিও।’

তারপর, দুজনের হাতে হাত রেখে সূর্যাস্তের মোহময় রূপ দেখতে থাকে। প্রকৃতি যেন সাক্ষী হয় একটি সম্পর্কের পরিণতি পাওয়ার দিনে।

চিত্রণ: মুনির হোসেন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

seventeen + two =

Recent Posts

মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

নারায়ণগঞ্জের দুর্গাপুজো

বাংলাদেশের নানা জেলার‌ রামকৃষ্ণ মিশনে ঘোরার অভিজ্ঞতায় দেখেছি, সব জায়গাতেই আচারপরায়ণ মহারাজ ও ব্রহ্মচারীদের সুমধুর ব্যবহার। এখানে এসেই যখন এখানকার অধ্যক্ষ মহারাজ স্বামী একনাথানন্দজির সঙ্গে আলাপ হল, মুহূর্তের মধ্যেই তিনি অন্তরঙ্গ হয়ে উঠলেন। আমাকে পূজামণ্ডপে নিয়ে তাঁর কাছে বসালেন। ষষ্ঠীর রাতে নববস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠান‌ ছিল। আমাকে দিয়েও বস্ত্রদান করালেন। এই যে আচরণ, এতে করে আমি যে কী পরিমাণ সম্মানিত বোধ করলাম, তা বলার‌ নয়। কেবল‌ তাই নয়, সমবেত দর্শক-শ্রোতার সামনে আমাকে কিছু বলার আমন্ত্রণ-ও জানালেন। আমাকে আপ্লুত করল তাঁর এই আহ্বান।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

দুর্গাপূজা ও প্রসঙ্গত

এতদিন ধরে অন্য কোনও দেবদেবীর পুজো কোথাও হয় না। দুর্গাপুজোর এটি একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য। আরও একটি বৈশিষ্ট্য, এই পুজো উপলক্ষে কত যে পত্রপত্রিকা বেরোয়, তার কোনও সীমা নেই। কলকাতা যেহেতু এ-পুজোর প্রাণকেন্দ্র, স্বভাবতই এখান থেকে সবচেয়ে বেশি পুজোসংখ্যা পত্রিকা বেরোয়। প্রতিটি দৈনিক পত্রিকা বিরাট আকারে পুজোর অর্ঘ্য সাজায়। প্রসঙ্গত, সত্যজিৎ রায় তাঁর যে দু’টি ভিন্নধারার লেখার মাধ্যমে দীর্ঘ পঞ্চাশ বছরের ওপর জনপ্রিয়তার শীর্ষে, তা কিন্তু এই পুজোর ‘দেশ’ আর’ আনন্দমেলা’-র সূত্রেই।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

মহালয়া

এই চণ্ডীপাঠকে অভাবিত মাত্রা দিয়েছে কলকাতার আকাশবাণী কেন্দ্র। ১৯২৭ সালে স্থাপিত হওয়া এই বেতার প্রচারকেন্দ্র থেকে (তখন নাম ছিল ‘Indian State Broadcasting Service’) ১৯৩১-এর ১১-ই অক্টোবর সর্বপ্রথম মহালয়ার অনুষ্ঠান প্রচারিত হয়। স্তোত্রপাঠে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র। পরিকল্পনা বাণীকুমার, প্রকৃত নাম বৈদ্যনাথ ভট্টাচার্য। সঙ্গীত পরিচালনায় রাইচাঁদ বড়াল ও পঙ্কজকুমার মল্লিক। অচিরেই এটি তুমুল জনপ্রিয় হয়। অদ্যাপি, প্রায় শতবর্ষ হতে চলল, অনুষ্ঠানটির জনপ্রিয়তায় বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে শিল্পীর পরিবর্তন হয়েছে, মহালয়ার প্রাক্-সূর্যোদয়ে এখনও কী কলকাতা, কী কানপুর-ঢাকা-ম্যাসাচুসেটস-আগরতলা-আন্দামান-মেহেরপুর-টোকিওর বাঙালি এটা শুনতে ভোলেন না।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

চিরজীবী বিদ্যাসাগর

বিদ্যাসাগর ‘বর্ণপরিচয়’ লেখার মাধ্যমে শিশুশিক্ষার ক্ষেত্রে এক বিরাট ভূমিকা রেখেছিলেন। ১৮৫৫-র ১৪-ই এপ্রিল, অর্থাৎ ১২৬২-র পয়লা বৈশাখ এর প্রথম খণ্ড, ও সে বছরের-ই পয়লা আষাঢ় বইটির দ্বিতীয় খণ্ড বেরোয়। এর আগেও শিশুদের অক্ষর পরিচয় ও বাক্যগঠনের বেশ কিছু বই থাকলেও বিদ্যাসাগরের ‘বর্ণপরিচয়’ উপযোগিতার দিক দিয়ে সেগুলিকে, ও পরবর্তীকালে রবীন্দ্রনাথের ‘সহজপাঠ’-কে বহুগুণে ছাড়িয়ে গিয়েছে। তাঁর জীবিতকালেই বইটির ১৫০-এর ওপর সংস্করণ হয়, আর ছাপা হয়েছিল তিরিশ লাখের-ও বেশি। এখন-ও ও বইটির উপযোগিতা শেষ হয়ে যায়নি।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

অজানা বিভূতিভূষণ

নিতান্ত দারিদ্র্যের মধ্য থেকে তিনি উঠে এসেছিলেন বলে দারিদ্র্য ও প্রতিকূলতা নিয়ে তাঁর নিজস্ব এক দর্শন ছিল। তাই দেখি, ডায়েরির এক জায়গায় তিনি লিখছেন, ‘দুঃখ জীবনের বড় সম্পদ, দারিদ্র্য, ব্যর্থতা বড় সম্পদ— Sadness ভিন্ন profundity আসে না।’ অতীত দারিদ্র্যময় জীবনের কথা মনে করে নিজে সপ্তাহে একদিন শুধু নুন আর ভাত খেতেন।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

উত্তম উত্তম

বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কম মহা-অভিনেতা জন্মাননি। তাঁদের মধ্যে খুব সামান্য কয়েকজন আল পাচিনো, মার্লোন ব্র্যান্ডো, রবার্ট ডি নিরো, লরেন্স অলিভিয়ার, গ্রেগরি পেক, জিন-পল বেলমন্ডো, ব্রুস লি, ইনোকেন্তি স্মোকতুনভস্কি, জিন গ্যাবিন, মাইকেল কেইন প্রমুখ। কিন্তু কতজন মৃত্যুর প্রায় পঞ্চাশ বছর পরেও জনপ্রিয়তা বাড়িয়েই চলেছেন? সম্ভবত চার্লি চ্যাপলিনের পর একমাত্র উত্তম। এলিজাবেথ টেলর ‘নায়ক’ দেখে আপ্লুত হয়ে যে উত্তমের সঙ্গে ছবি করতে চেয়েছিলেন, উত্তমের অভিনয়ের এ-ও তো এক অনিবার্য স্বীকৃতি!

Read More »