Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

সুজিত বসুর কবিতাগুচ্ছ

টুপিতে আমার পাথরের ফলা

‘লালচক থেকে ঘুরে আসি চলো’ মন্দ্র আদেশ:
মন্ত্রোচ্ছার! ঘন বিস্তার! বৃষ্টি অঝোর
মস্কোর পথে ঝরে অবিরল, বন্ধুর বেশ
কোনো বন্ধুর সর্পিলতায়, দৃষ্টির ঘোর
ছন্ন ছাড়ানো অঞ্জনময় জটিলতা ভরা;
টুপিতে আমার পাথরের ফলা, রেনকোটময়
বর্শা শাণিত ধাতব তুহিন, বড় অসময়
মৃগয়ার কাল রেড স্কোয়ারের ভিজে চত্বরে:
হরিণী হারানো অস্থিরতায় দুর্গ যে গড়া
ভগ্ন যা হবে প্রতি মুহূর্তে, কী যে পথ ধরে
চলেছি কেন যে জানি না, সহসা ভঙ্গুরতায়
কত বৃত হবে অস্ত্র আমার, গলার নিচেই
টাই হয়ে দোলে ফাঁসের বদ্বীপ, আমি যেন সেই
মেট্রোর দ্বারে চক্রে জড়ানো বন্দি কারায়।

*

সিংহনাদে বাজো না কেন

সজ্জা শেষে বাসে চড়েছি, পাঁচ কোপেকি মুদ্রা
ফেলব যেই মেশিনে, কেউ চকিত বেগে ঝাপটা
মেরেছে ঘন সোনালি চুলে, বনজ ভূমি তুন্দ্রা
উদ্বেলিত স্তনযুগলে, ত্রিকোণ প্রতিবিম্বে
শীতের জড় পাষাণ ভেঙে, এমন সময় সাপটা
শিথিলতাতে হিসিয়ে ওঠে, ‘সুজিত শোনো কিনবে
বিদেশি কিছু ধাতব গুলি, এবার থেকে, শোনোনি
বাষ্পধূমে কিছুটা মরে, কিছুটা প্রতিধ্বনিতে
শরীরে যত শত্রুগুলি, তীব্র কোনো অরণি
নাও না কেন মৃগয়াকালে, শিকারী তুমি কবে যে
দক্ষ হবে! লোহিত বিষ এভাবে তবে শোণিতে
জমানো কেন অহংকারী, একটু পরে স্টপেজে
নেমে তো যাবে পাতালে, তবে লম্বা চুলে কেশরে
সিংহনাদে বাজো না কেন, একটুখানি হাসি বা
জমাতে যদি পুরু অধরে, নখরে যদি ঝিকোনো
ছুরির ধার, সুজিত তাকে লুকিয়ে তুমি কি কোনো
ধন্যবাদে মুখর হবে, রুশভাষাতে ‘স্পাসিবা’!

*

কী যেন প্রহেলিকা

নেমেছি বাস থেকে, সন্ধানী দৃষ্টি
মস্কো নগরীর পাতালের সমুখে
তীক্ষ্ণ গম্ভীর, চারদিকে বৃষ্টি
মেট্রো দুয়ারেও, কুয়াশার ফোয়ারা
ঝরেছে গুঞ্জনে, সঙ্গের ধনুকে
কী যেন প্রহেলিকা, শিকারীও বুঝি বা
কেঁপেছে শঙ্কায়, সামনের দোহারা
মায়াবী বিভ্রম, ছলনায় গুপ্ত
চলেছে নিস্তেজ, এ কি তার পুঁজি বা
লব্ধ শান্তির বিতরণ! মহিমা!
হরিণী অদ্ভুত দেখাও কি লুপ্ত
তোরণ দম্ভের, ধ্বংস হিরোশিমা
অথচ পিছনে নিশ্চল শিকারী
কোমল কীরকম, কতখানি লিপ্ত
বৃষ্টির ছলনায়, অথবা এ বিকারই
জ্বরের, দাঁড়িয়েছি তাই বিক্ষিপ্ত।

Advertisement

*

পাতাল থেকে আরোহণ

পাতাল থেকে বেরিয়ে দেখি ভীষণ উঁচু এস্কালেটার
চলনবলন পোশাকআশাক, অস্ত্রগুলো ঠিক করে নিই
বিঘূর্ণিত ছিটকে যাব, এই রকমে স্বর্গসিঁড়ি
আমায় টানে নির্বিচারে, রেডস্কোয়ারে শেষকালে দ্বার
খুলবে হঠাৎ আমন্ত্রণে, সত্যি বুঝি তাই পোড়েনি
অগ্নিশিখায় চর্মকেশর, ক্রেমলিনের রক্ততারা
নিষেধ আলোয় জড়াও শরীর, দূরের বড় হোটেল থেকে
তীব্র শিহর বিজলিবাতি, লম্বা নখে একটু ছিঁড়ি
তন্তুজালের বিহ্বলতা, রিস্টওয়াচে প্রহর গোনা
হরিণীদের প্রহর গোনা, ধনুক হাতে মৃগয়া কে
করতে পারো লক্ষ্যভেদী, মস্কো নদী জলের লহর
বাজাও এত সর্বনাশা, শরীর জুড়ে এ যন্ত্রণা
আমায় বড় ব্যাকুল করে, হাতের থেকে ধাতুর গুলি
ছিটকে পড়ে আত্মঘাতে, সুজিত তুমি একটু কি জোর
দিচ্ছ আমায় সমর্থনে, শিকারটুকু গুছিয়ে তুলি।

চিত্রণ: চিন্ময় মুখোপাধ্যায়

One Response

  1. ভালভাষাকে ধন্যবাদ; তাঁরা নিয়মিত কবি সুজিত বসুর কবিতা আমাদের মতো উন্মুখ পাঠককে উপহার দিচ্ছেন। এই কবিতা গুচ্ছে আষ্টেপৃষ্ঠে কবির যৌবনের স্মৃতিময়তার মুগ্ধ প্রকাশ।‌‌ কবিতার শরীর জুড়ে ভিন্ন দেশের অনুসঙ্গ কী অনায়াসে দেশ-কালের সীমা ভেঙেচুরে সার্বজনীন হয়ে ওঠে! এখানেই কবির কবিতার ম্যাজিক, সুজিত বসুর মুন্সিয়ানা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eleven + eleven =

Recent Posts

প্রসেনজিৎ চৌধুরী

অগ্নিবীর: বন্দুকের মুখে ঈশ্বর

১৯৫০ দশকে নেপালের রাজতন্ত্র ও রাজার মন্ত্রিগোষ্ঠী রানাশাহী শাসনের বিরুদ্ধে সফল সশস্ত্র বিদ্রোহ হয়েছিল। সেই বিদ্রোহে অংশ নিয়েছিলেন অনেক ভারতীয়। তাঁদের মধ্যে অনেকে বাঙালি। নেপালের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সেই প্রথম সংঘর্ষ সে-দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে মুক্তিযুদ্ধ হিসেবে চিহ্নিত। ভারত ও চীনের মধ্যে একফালি দেশ নেপালের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রাম সশস্ত্র ও নিরস্ত্র দুই পথ ধরে চলেছিল। ডান-বাম-অতিবাম— ত্রিমুখী রাজনৈতিক ঘাত-প্রতিঘাতের চূড়ান্ত সফলতা আসে ২০০৮ সালে রাজার শাসনের অবসানে।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

নারী: এক দৈবী আখর

আমরা ৮-ই মার্চের আন্তর্জাতিক নারীদিবসে আবহমান নারীবিশ্বকে সামান্য একটু ছুঁয়ে যেতে চাইলাম মাত্র। হাজার হাজার বছর ধরেই তাঁদের ওপর কড়া অনুশাসন, জবরদস্ত পরওয়ানা আর পুরুষতন্ত্রের দাপট। সে-সবের ফল ভুগতে হয়েছে আন্তিগোনে থেকে সীতা, দ্রৌপদী; জোয়ান অফ আর্ক থেকে আনারকলি, হাইপেশিয়া; রানি লক্ষ্মীবাঈ থেকে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, বেগম রোকেয়া; রোজা পার্কস থেকে মালালা ইউসুফজাই— তাঁদের মতো হাজারো নামহীন নারীকে।

Read More »
তন্ময় চট্টোপাধ্যায়

মাতৃভাষা: অবিনাশী হৃৎস্পন্দন ও বিশ্বজনীন উত্তরাধিকার

প্রতিটি ভাষার নিজস্ব একটি আলো আছে, সে নিজের দীপ্তিতেই ভাস্বর। পৃথিবীতে আজ প্রায় সাত হাজার ভাষা আছে। ভাষাবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই শতাব্দীর শেষে তার অর্ধেকেরও বেশি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। এ তথ্য সত্যিই বেদনাদায়ক। একটি ভাষার মৃত্যু মানে কেবল কিছু শব্দের মৃত্যু নয়— সে মানে একটি জগৎদর্শনের অবলুপ্তি, একটি জাতির স্মৃতির চিরকালীন বিনাশ। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে তাই আমাদের অঙ্গীকার হোক বহুমাত্রিক। নিজের মাতৃভাষাকে ভালবাসা, তাকে চর্চায় রাখা, তার সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া। আর তার সাথে অন্য সমস্ত ভাষার প্রতি আরও বেশি করে শ্রদ্ধাশীল হওয়া।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

শংকর: বিচিত্র বিষয় ও আখ্যানের কথাকার

শংকরের জনপ্রিয়তার একটি কারণ যদি হয় সাবলীল ও সহজ গতিচ্ছন্দময় ভাষা, অন্য আরেকটি কারণ হল, নিজ সময়কে করপুটে ধারণ করা। তার সঙ্গে মিশেছে আমাদের পরিকীর্ণ জগতের বহুকিছু, আমাদের নাগালের মধ্যেই আছে, অথচ আমরা এ-পর্যন্ত যার হদিশ পাইনি, তাকে পাঠকের দরবারে এনে হাজির করা। ১৯৫৫-তে যে উপন্যাসটি দিয়ে বাংলা-সাহিত্যে তাঁর আবির্ভাব, সেই ‘কত অজানারে’ হাইকোর্টের জীবনযাপন, সেখানকার আসামি-ফরিয়াদি, উকিল-ব্যারিস্টার প্রমুখের চিত্র। লেখকের নিজ অভিজ্ঞতাপ্রসূত রচনা এটি। তিনি প্রথম জীবনে হাইকোর্টের সঙ্গে চাকরিসূত্রে যুক্ত ছিলেন।

Read More »
সুজিত বসু

সুজিত বসুর তিনটি কবিতা

তারপরে একদিন আকাশে মেঘের সাজ, মুখরিত ধারাবারিপাত/ রঙিন ছাতার নিচে দু’গালে হীরের গুঁড়ি, মন মেলে ডানা/ আরো নিচে বিভাজিকা, নিপুণ শিল্পীর হাতে গড়া দুই উদ্ধত শিখর/ কিছুটা অস্পষ্ট, তবু আভাসে ছড়ায় মায়া বৃষ্টিস্নাত নাভি/ তখনই হঠাৎ হল ভূমিকম্প, পাঁচিলের বাধা ভাঙে বেসামাল ঝড়/ ফেরা যে হবে না ঘরে মুহূর্তে তা বুঝে যাই, হারিয়েছি চাবি/ অনেক তো দিন গেল, অনেক ঘুরেছি পথে, বিপথে অনেক হল ঘোরা/ তাকে তো দেখেছি, তাই নাই বা পড়ুক চোখে অজন্তা ইলোরা।

Read More »
সর্বাণী বন্দ্যোপাধ্যায়

ছোটগল্প: ফাউ

গরমকালে ছুটির দিনে ছাদে পায়চারি করতে বেশ লাগে। ঠান্ডা হাওয়ায় জুড়োয় শরীরটা। আকাশের একপাশে আবির। সন্ধে হবে হবে। অন্যদিকে কাঁচা হলুদ। চায়ের ট্রে নিয়ে জমিয়ে বসেছে রুমা। বিয়ের পর কি মানুষ প্রেম করতে ভুলে যায়? নিত্যদিন ভাত রুটি ডালের গল্পে প্রেম থাকে না কোথাও? অনেকদিন রুমার সঙ্গে শুধু শুধু ঘুরতে যায়নি ও।

Read More »