গৌতম ঘোষ
ভারতের বিশিষ্ট চলচ্চিত্রকার গৌতম ঘোষ ১৯৫০ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা সমাপ্ত করেন। ১৯৭৩ সালে তিনি তথ্যচিত্র নির্মাণ শুরু করেন। একই সময়ে কলকাতার গ্রুপ থিয়েটার আন্দোলনের সঙ্গেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। কিছুদিন চিত্রসাংবাদিক হিসেবেও কাজ করেছেন। ১৯৭৩ সালে তিনি তাঁর প্রথম তথ্যচিত্র ‘নিউ আর্থ’ তৈরি করেন। এরপর তৈরি করেন ‘হাংরি অটাম’, যা তাঁকে ওবারহাউজেন চলচ্চিত্র উৎসবে প্রধান পুরস্কার এনে দেয়। এরপর তিনি একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ পূর্ণদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। এর মধ্যে রয়েছে ‘মা ভূমি’, ‘দখল’, ‘পার’, ‘অন্তর্জলী যাত্রা’, ‘পদ্মা নদীর মাঝি’, ‘পতঙ্গ’, ‘গুড়িয়া’, ‘দেখা’, ‘আবার অরণ্যে’, ‘যাত্রা’, ‘কালবেলা’, ‘মনের মানুষ’, ‘শূন্য অঙ্ক’ এবং ‘শঙ্খচিল’। তিনি বহু উল্লেখযোগ্য তথ্যচিত্রও তৈরি করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে উস্তাদ বিসমিল্লাহ খানের উপর ‘মিটিং আ মাইলস্টোন’, ‘বিয়ন্ড দ্য হিমালয়াস’, ‘ল্যান্ড অব স্যান্ড ডিউনস’, সত্যজিৎ রায়কে নিয়ে ‘রায়’ এবং দালাই লামাকে নিয়ে ‘ইমপারম্যানেন্স’। গৌতম ঘোষ তাঁর কাজের জন্য ১৮টি জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন। এছাড়াও তিনি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে নঁত চলচ্চিত্র উৎসবের সিলভার বেলুন, কান চলচ্চিত্র উৎসবের ইউনেস্কো পুরস্কার, তাশখন্দ চলচ্চিত্র উৎসবের গ্রাঁ প্রি—গোল্ডেন সেমার্গ, ভেনিসের ইউনেস্কো পুরস্কার, ফিপ্রেসি পুরস্কার, ভেরোনা চলচ্চিত্র উৎসবের রেড ক্রস পুরস্কার এবং ভারতের আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের গোল্ডেন পিকক। তিনি একমাত্র ভারতীয়, যিনি ইতালির সম্মানজনক ভিত্তোরিও দে সিকা পুরস্কার পেয়েছেন। ২০০৬ সালের জুলাই মাসে ইতালি সরকার তাঁকে ‘নাইটহুড অব দ্য স্টার অব ইতালিয়ান সলিডারিটি’ সম্মানে ভূষিত করে। তাঁর নির্মিত সব ছবির চিত্রগ্রাহকের দায়িত্বও তিনি নিজেই পালন করেছেন। কৈশোর থেকেই ছবি তোলার ব্যাপারে তিনি অত্যন্ত উৎসাহী এবং একজন দক্ষ আলোকচিত্রী হিসেবেও পরিচিত।