
ভালবাসা একপ্রকার খাদ্য
‘আমার উত্থান নেই ঘুম ভাঙতে সাড়ে দশটা বেজে যায়’। সুনীল লিখেছিলেন সেই কোন কালে, আমি পরখ করি আজ। মন ভাল নেই। মনের মালিক যে দেহ,

‘আমার উত্থান নেই ঘুম ভাঙতে সাড়ে দশটা বেজে যায়’। সুনীল লিখেছিলেন সেই কোন কালে, আমি পরখ করি আজ। মন ভাল নেই। মনের মালিক যে দেহ,

India’s First Bengali Daily Magazine. চৌত্রিশ বছর ধরে নিজেকে রক্তাক্ত করেছি/ তুমি এলে/ ভাবলাম পরিবর্তন এল/ নিয়ত ভালবেসে গঙ্গা জুড়ে টেমস্ রচনা হল/ তবু এই অবহেলার বিকেলে/ নিজেকে বড় বেশি কলকাতা বলে মনে হয়/ সেতু ভাঙছে একের পর এক/ বুকের সুড়ঙ্গে আত্মহত্যা ক্রমবর্ধমান// বিরহী শহরে

India’s First Bengali Daily Magazine. ক্যাফে ল্যাটের মোহময় ধোঁয়া ও অপার বিস্বাদ তিতকুটে বস্তুটির প্রতি গোটা পৃথিবীর অভিজাত প্রীতি লক্ষণীয়। মোটামুটিভাবে ১৯০১ থেকে জনপ্রিয় হওয়া এই বেভারেজটি বেস ভ্যারিয়েন্ট ও লাক্সারি ভ্যারিয়েন্টে মজিয়ে রেখেছে আমাদের স্বাদকোরকগুলি। অথচ ১৬১৫ বা তৎপূর্বে বস্তুটির অস্তিত্ব সম্পর্কে সমর্থিত তথ্য বিরল। অর্থাৎ ধরে নিতে পারি, শেক্সপিয়্যর কফি খাননি, সক্রেটিস খাননি, অ্যারিস্টটল খাননি। আর্কিমিডিস তাঁর প্লবতার শরীর ক্যাফে মোকায় ভাসাননি, আলেকজান্ডার দি গ্রেটের বিশ্বজয় করবার জন্য বা জুলিয়াস সিজারের বিরাট সাম্রাজ্য পত্তনের জন্য একচুমুকও কফির প্রয়োজন পড়েনি। এমনকি ক্লিওপেট্রা বা মার্ক অ্যান্টনির চুমুতে একটুও ক্যাফে ম্যাকিয়াটোর গন্ধ ছিল না।

প্রতিটি ভাষার নিজস্ব একটি আলো আছে, সে নিজের দীপ্তিতেই ভাস্বর। পৃথিবীতে আজ প্রায় সাত হাজার ভাষা আছে। ভাষাবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই শতাব্দীর শেষে তার অর্ধেকেরও বেশি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। এ তথ্য সত্যিই বেদনাদায়ক। একটি ভাষার মৃত্যু মানে কেবল কিছু শব্দের মৃত্যু নয়— সে মানে একটি জগৎদর্শনের অবলুপ্তি, একটি জাতির স্মৃতির চিরকালীন বিনাশ। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে তাই আমাদের অঙ্গীকার হোক বহুমাত্রিক। নিজের মাতৃভাষাকে ভালবাসা, তাকে চর্চায় রাখা, তার সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া। আর তার সাথে অন্য সমস্ত ভাষার প্রতি আরও বেশি করে শ্রদ্ধাশীল হওয়া।

শংকরের জনপ্রিয়তার একটি কারণ যদি হয় সাবলীল ও সহজ গতিচ্ছন্দময় ভাষা, অন্য আরেকটি কারণ হল, নিজ সময়কে করপুটে ধারণ করা। তার সঙ্গে মিশেছে আমাদের পরিকীর্ণ জগতের বহুকিছু, আমাদের নাগালের মধ্যেই আছে, অথচ আমরা এ-পর্যন্ত যার হদিশ পাইনি, তাকে পাঠকের দরবারে এনে হাজির করা। ১৯৫৫-তে যে উপন্যাসটি দিয়ে বাংলা-সাহিত্যে তাঁর আবির্ভাব, সেই ‘কত অজানারে’ হাইকোর্টের জীবনযাপন, সেখানকার আসামি-ফরিয়াদি, উকিল-ব্যারিস্টার প্রমুখের চিত্র। লেখকের নিজ অভিজ্ঞতাপ্রসূত রচনা এটি। তিনি প্রথম জীবনে হাইকোর্টের সঙ্গে চাকরিসূত্রে যুক্ত ছিলেন।

তারপরে একদিন আকাশে মেঘের সাজ, মুখরিত ধারাবারিপাত/ রঙিন ছাতার নিচে দু’গালে হীরের গুঁড়ি, মন মেলে ডানা/ আরো নিচে বিভাজিকা, নিপুণ শিল্পীর হাতে গড়া দুই উদ্ধত শিখর/ কিছুটা অস্পষ্ট, তবু আভাসে ছড়ায় মায়া বৃষ্টিস্নাত নাভি/ তখনই হঠাৎ হল ভূমিকম্প, পাঁচিলের বাধা ভাঙে বেসামাল ঝড়/ ফেরা যে হবে না ঘরে মুহূর্তে তা বুঝে যাই, হারিয়েছি চাবি/ অনেক তো দিন গেল, অনেক ঘুরেছি পথে, বিপথে অনেক হল ঘোরা/ তাকে তো দেখেছি, তাই নাই বা পড়ুক চোখে অজন্তা ইলোরা।

গরমকালে ছুটির দিনে ছাদে পায়চারি করতে বেশ লাগে। ঠান্ডা হাওয়ায় জুড়োয় শরীরটা। আকাশের একপাশে আবির। সন্ধে হবে হবে। অন্যদিকে কাঁচা হলুদ। চায়ের ট্রে নিয়ে জমিয়ে বসেছে রুমা। বিয়ের পর কি মানুষ প্রেম করতে ভুলে যায়? নিত্যদিন ভাত রুটি ডালের গল্পে প্রেম থাকে না কোথাও? অনেকদিন রুমার সঙ্গে শুধু শুধু ঘুরতে যায়নি ও।

মনু-পরাশর-বৃহস্পতি-কৌটিল্যদের অনুশাসন এসে নারী প্রগতির রাশ টেনে ধরল। নারীর শিক্ষালাভের ইতি ঘটল, অন্তঃপুরে বাস নির্দিষ্ট হল তাঁর জন্য। তাঁকে বাঁধা হল একের পর এক অনুশাসনে। বলা হল, স্বাধীনতা বলে কোনও পদার্থ থাকবে না তাঁর, ‘ন স্ত্রী স্বাতন্ত্র্যমর্হতি’! কুমারী অবস্থায় পিতা-মাতার অধীন থাকবে সে, বিয়ের পর স্বামীর, বার্ধক্যে সন্তানের। ধাপে ধাপে তাঁর ওপর চাপানো হতে লাগল কঠিন, কঠিনতর, কঠিনতম শাস্তি।

এককালে পর্তুগিজ-মগরা আমাদের নিম্নবঙ্গ থেকে দাস সংগ্রহ করত মালয়-বার্মাতে শ্রমিকের কাজের জন্য, ইংরেজ সাহেবরাও কিনত গোলাম। আজ আবার মানুষ সস্তা হয়েছে। ঔপনিবেশিক শাসকের দরকার নেই। খোলাবাজারে নিজেরাই নিজেদের কিনছে দেশের মানুষ। মানুষ বিক্রির মেলা বসে এখন গ্রামগঞ্জের হাটে হাটে।