
ভ্রমণ লেখার অ-শরীরী সারজল
ভ্রমণ সম্পর্কে সবচেয়ে রোমান্টিক ও সংক্ষিপ্ত সংলাপটি শতবর্ষ পেরিয়ে গড়িয়ে গেল আরও দুটো বছর। ‘‘বিকজ ইট’স দেয়ার।’’— তিনটি শব্দের সমাহারে গড়ে ওঠা আপাতনিরীহ বাক্যটি তার

ভ্রমণ সম্পর্কে সবচেয়ে রোমান্টিক ও সংক্ষিপ্ত সংলাপটি শতবর্ষ পেরিয়ে গড়িয়ে গেল আরও দুটো বছর। ‘‘বিকজ ইট’স দেয়ার।’’— তিনটি শব্দের সমাহারে গড়ে ওঠা আপাতনিরীহ বাক্যটি তার

ভালভাষা উৎসব সংখ্যা ২০২৩। এসে গেছি লিংকন সিটি বিচে! তাকে চেনা যাচ্ছে সেখানে ওড়া ঘুড়ির সমারোহ দেখে। আজ এখানেই কাইট ফেস্টিভ্যাল। খালের মতো ডি নদী এখানে বিশাল ডেভিলস লেকের সঙ্গে সমুদ্রকে যুক্ত করেছে। গিনেসের রেকর্ডে ডি নদী একসময় পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম নদীর শিরোপা পেয়েছিল। লিখেছেন ভাস্কর দাস।

India’s First Bengali Daily Magazine. যেখানে সাক্ষর মানুষের সংখ্যা একশো শতাংশ, মাথাপিছু আয়ে যারা পৃথিবীতে প্রথম তিন দেশের এক দেশ, যেখানে প্রতি দশজন মানুষের একজন অন্তত একটি বইয়ের লেখক, যারা বড়দিন উদ্যাপন করে বন্ধু ও প্রতিবেশীকে বই উপহার দিয়ে, বেশ্যাবৃত্তি যেখানে একটি প্রায় অশ্রুত শব্দ, টহলদার পুলিশের হাতে একটি লাঠিও থাকে না, আর বাজেটে সেনাবাহিনীর জন্য বরাদ্দ অর্থের পরিমাণ শূন্য, কারণ এ দেশে কোনও সেনাবাহিনীই নেই। দেশের সংশোধনাগারগুলি বন্ধের মুখে, কারণ রাখার মত অপরাধী খুঁজে পাওয়া ক্রমশই দুষ্কর হয়ে পড়ছে।

India’s First Bengali Story Portal. নীলবর্ণ ভিন্টেজ স্টিম-ইঞ্জিনের বেলাগাম হুইশিল বাজে। অনভ্যস্ত কানে তার অভিঘাত বাল্যকালের আঁতুড়ঘর থেকে হাফ প্যান্ট বালকের স্মৃতি বয়ে আনে। ভক্ ভক্ কালো ধোঁয়ার সঙ্গে নানা মাপের ফুটো থেকে নির্গত সাদা বাষ্পের ত্রিকোণ অবয়ব মেশে দার্জিলিংয়ের হিমেল কুয়াশার বিষণ্ণতায়। নড়ে ওঠে কামরা, প্রভূত শব্দ উৎপাদন করে ট্রেন ছাড়ে। তার আগাগোড়া যাত্রায় আওয়াজ যত গর্জায়, বেগ তত বর্ষায় না। ঢিমে তেতালার আবেগী যাত্রা ছুঁয়ে যায় গৃহস্থের উঠোন, কাঠগোলাপের ঝোপে ঢাকা পাঁচিলের কানা। টয়ট্রেনের ‘হেরিটেজ’ তকমা সার্থক হতে থাকে।

বিদ্যাসাগর ‘বর্ণপরিচয়’ লেখার মাধ্যমে শিশুশিক্ষার ক্ষেত্রে এক বিরাট ভূমিকা রেখেছিলেন। ১৮৫৫-র ১৪-ই এপ্রিল, অর্থাৎ ১২৬২-র পয়লা বৈশাখ এর প্রথম খণ্ড, ও সে বছরের-ই পয়লা আষাঢ় বইটির দ্বিতীয় খণ্ড বেরোয়। এর আগেও শিশুদের অক্ষর পরিচয় ও বাক্যগঠনের বেশ কিছু বই থাকলেও বিদ্যাসাগরের ‘বর্ণপরিচয়’ উপযোগিতার দিক দিয়ে সেগুলিকে, ও পরবর্তীকালে রবীন্দ্রনাথের ‘সহজপাঠ’-কে বহুগুণে ছাড়িয়ে গিয়েছে। তাঁর জীবিতকালেই বইটির ১৫০-এর ওপর সংস্করণ হয়, আর ছাপা হয়েছিল তিরিশ লাখের-ও বেশি। এখন-ও ও বইটির উপযোগিতা শেষ হয়ে যায়নি।

নিতান্ত দারিদ্র্যের মধ্য থেকে তিনি উঠে এসেছিলেন বলে দারিদ্র্য ও প্রতিকূলতা নিয়ে তাঁর নিজস্ব এক দর্শন ছিল। তাই দেখি, ডায়েরির এক জায়গায় তিনি লিখছেন, ‘দুঃখ জীবনের বড় সম্পদ, দারিদ্র্য, ব্যর্থতা বড় সম্পদ— Sadness ভিন্ন profundity আসে না।’ অতীত দারিদ্র্যময় জীবনের কথা মনে করে নিজে সপ্তাহে একদিন শুধু নুন আর ভাত খেতেন।

বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কম মহা-অভিনেতা জন্মাননি। তাঁদের মধ্যে খুব সামান্য কয়েকজন আল পাচিনো, মার্লোন ব্র্যান্ডো, রবার্ট ডি নিরো, লরেন্স অলিভিয়ার, গ্রেগরি পেক, জিন-পল বেলমন্ডো, ব্রুস লি, ইনোকেন্তি স্মোকতুনভস্কি, জিন গ্যাবিন, মাইকেল কেইন প্রমুখ। কিন্তু কতজন মৃত্যুর প্রায় পঞ্চাশ বছর পরেও জনপ্রিয়তা বাড়িয়েই চলেছেন? সম্ভবত চার্লি চ্যাপলিনের পর একমাত্র উত্তম। এলিজাবেথ টেলর ‘নায়ক’ দেখে আপ্লুত হয়ে যে উত্তমের সঙ্গে ছবি করতে চেয়েছিলেন, উত্তমের অভিনয়ের এ-ও তো এক অনিবার্য স্বীকৃতি!

কেন বন্ধ ঝরোকাটি, এভাবে কেন যে বন্ধ হয়ে গেল, আমি কি পাতক/ করেছি কোনও, আমি তো শুধুই মুছি স্নেহাতুর রুক্ষ হাতে হাঁসেদের ত্বক/ ধনুকেতে কেউ বুঝি তির জোড়ে প্রার্থনায়, ব্যর্থ যেন না হয় কিছুতে লক্ষ্যভেদ/ আমিও নিশ্চিত জানি এখানেও ব্যর্থ হব, অন্ধকারে মেলে ধরি চোখ/ আবছায়া আঁধারিতে কখন যে স্বর্ণবৃত্তে বিঁধে গেছে অব্যর্থ শায়ক।

সুকান্ত তাঁর সামান্য খড়কুটোর মতো জীবনকে মহার্ঘ প্রতিভার মিনারের ওপর দাঁড় করিয়েছেন। তিনি যেন প্রতিভার এক বনসাই, সাহিত্যের কত না সম্ভার নিয়ে সুকান্তর কারুবাসনা! তিনি যদি সারস্বত সাধনার একটি সুচারু তোড়া স্বল্প-পরিসর জীবনে উপহার দিয়ে যান, আমরা লক্ষ্য করব, সেখানে রয়েছে গল্প, প্রবন্ধ, নাটক, গীতিনাট্য, কাব্যনাট্য, গান, ছড়া, কবিতার বৈভব। আছে তাঁর সম্পাদিত কবিতার বই, ‘আকাল’। তিনি অনুবাদক। এমনকী উপন্যাস রচনাতেও হাত দিয়েছিলেন তিনি। চার বন্ধু মিলে বারোয়ারী। অন্য বন্ধুদের অসহযোগিতায় তা সম্পূর্ণ হতে পারেনি। আবৃত্তিকার ও অভিনেতা, নাট্য-পরিচালক রূপেও দেখেছি তাঁকে। দৈনিক ‘স্বাধীনতা’ পত্রিকার ছোটদের পাতা ‘কিশোরসভা’-র সম্পাদনাসূত্রে সাংবাদিক-ও আবার, যে সভার পঁচিশ হাজারের ওপর সভ্য ছিল।

রবীন্দ্রনাথ-ও কিন্তু আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন। যে কবি চির আশাবাদী, একটা সময় প্রখর বিষণ্নতা গ্রাস করেছিল তাঁকেও। ইউনানি মতে একবার নিজের চিকিৎসা করান তিনি। তাইতেই এমন মানসিক বিপর্যয়। অবসাদ, কান্না পাওয়া, আত্মহননেচ্ছা, সাময়িকভাবে এসব পেয়ে বসেছিল তাঁকে। পুত্র রথীন্দ্রনাথকে চিঠিতে জানাচ্ছেন তিনি, ‘দিনরাত্রি মরবার কথা এবং মরবার ইচ্ছা আমাকে তাড়না করছে। মনে হচ্ছে আমার দ্বারা কিছুই হয় নি এবং হবে না। আমার জীবন যেন আগাগোড়া ব্যর্থ।’ কবির এহেন অনুভব, ভাবা যায়? এন্ড্রুজকে লেখা চিঠিতেও এর সমর্থন আছে, ‘l feel that l am on the brink of a breakdown.’