Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায়ের ছোটগল্প

পালিয়ে যাওয়া বন্ধু

আজ সুপ্রভাদের আসবার কথা। কমলিনী সে কারণে খুবই উত্তেজিত। সকাল থেকেই বাড়ি পরিষ্কারে মেতে উঠেছে। ঋষি ঘুম থেকে উঠে বিছানা না ছেড়েই হাতে ফোন তুলে নিয়েছে। কমলিনী রেগে গেল। সে বলল, ‘আরে। ওঠো ওঠো। উঠেই হাতে ফোন নিয়ে বসে পড়লে!’

ঋষি বলল, ‘আরে। দাঁড়াও। দাঁড়াও। খুব ইন্টারেস্টিং বিষয়।’

‘রাখো তোমার ইন্টারেস্টিং বিষয়। উঠে পড়ো। ঘর পরিষ্কার করতে দাও।

ঋষি বলল, ‘এত তাড়া দিচ্ছ কেন? ছুটির দিন।’

‘মনে নেই আজ সুপ্রভারা আসবে।’

ঋষির মনে পড়ল। সে উঠে পড়ল বিছানা থেকে। বাথরুম থেকে মুখে ব্রাশ নিয়ে সে জিজ্ঞেস করল, ‘ওরা কোথায় থাকে যেন?’

কমলিনী বলল, ‘রানাঘাটের দিকে।’

ঋষি বলল, ‘কী করে সুপ্রভা?’

কমলিনী বলল, ‘সুপ্রভা বোধহয় কিছু করে না। ওর বরের  কাপড়ের দোকান।’

‘তা হঠাৎ আসতে চাইছে কেন?’

কমলিনী মুখ তুলে তাকাল। সে বলল, ‘কী আশ্চর্য? বন্ধুর বাড়ি বন্ধু আসবে না?’

ঋষি মুখ ধুচ্ছে। শব্দ করে মুখ ধোয়া কমলিনীর খারাপ লাগে। অনেকবার বলেও তা পাল্টাতে পারেনি। মুখ ধোয়ার পর ঋষি হেলতেদুলতে বলল, ‘বন্ধু তো তোমার অনেক আছে, সুপ্রভার নাম বলেছিলে কিন্তু কোনওদিনও আগে চোখে দেখিনি।’

কমলিনী বলল, ‘দেখবে কী করে? আমার বিয়ের আগেই সুপ্রভা পালিয়েছিল। তারপর বহু বছর পর হঠাৎ ফেসবুকে আবার ওকে পেলাম। ওই একদিন বলল আসবে? আমি কি না করতে পারি?’

ডানদিকে একটা ছোট বারান্দা আছে। ঋষি সেখানে গিয়ে গ্রিলের কাছে দাঁড়াল। সিগারেট বার করে ধরিয়ে ও বলল, ‘যাই বলো, এতদিন পরে হঠাৎ আসছে মানে কিছু একটা ব্যাপার। তুমি তো আবার সাদাসিধে  আছ। টাকাপয়সা চাইলে আবার রাজি হয়ো না।’

বিছানার চাদর পাল্টাল কমলিনী। ঋষির কথা শুনে তার সামান্য অস্বস্তি হল।

সুপ্রভা যখন আসবার কথা বলল, কমলিনী ওর প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার কথা ভেবেছিল। কিন্তু তার একটাই মুস্কিল। সে দুম করে না বলতে পারে না। ঋষি যেমন দিব্বি মিথ্যে বানাতে পারে। কাটিয়ে দিতে চাইলে ঋষি বেমালুম বলে দিত, ও বাড়িতে থাকছে না সেইদিন। কোথাও একটা মিটিং আছে। কমলিনী এ কথা বলতে পারে না। তার অভ্যেস নেই। সে কারণে সুপ্রভার কথা শুনে সায় দিয়ে বলেছিল, ‘আসবি। আয়। রবিবার দেখে আসিস।’

ঋষির দিকে চোখ রাখল কমলিনী। আয়েস পেলে ও কিছু চায় না। বারান্দায় দিব্বি বসে চারপাশে চোখ বোলাচ্ছে। সে বলল, ‘যাও যাও ওঠো। চিকেন-ফিকেন আনো।’

ঋষি বলল, ‘দুর বাবা। চালিয়ে নাও না। আবার যেতে হবে।’

কমলিনী বলল, ‘না। যেতে হবে।’

‘কেন? সবই তো সন্তোষরা দিয়ে যায়।’

এখন দুয়ারে বাজার। কমলিনীর সুবিধাই হয়েছে। রাতদিন ঋষিকে বলার কিছু নেই। নিজেই সুবিধামতো কিছু জিনিস কিনে নেয়। বিকেলের দিকে নিজেও সে মার্কেটে যায়। নিয়ে আসে সবকিছু। কিন্তু আজ সুপ্রভারা আসবে। একটু মাংস না করলে চলে। সে বলল, ‘আমি রতনকে বলে রাখছি। তুমি আধঘণ্টা পরে যেয়ো। কেমন?’

ঋষি মাথা নাড়ল।

কমলিনী রতনকে ফোন করে জানিয়ে দিল সব। ঋষি বারান্দা থেকে একবার চিৎকার করে বলল, ‘চা দিলে না।’

‘দিচ্ছি।’

চা নিয়ে এসে ঋষিকে দিতে ও বলল, ‘শোনো।’

কমলিনী বলল, ‘এখন আর বসব না। মেয়েকেও একবার ডাকি। ও বলছিল কোথায় একটা যাবে?’

ঝিলিকের উনিশ বছর বয়স। সদ্য কলেজে ভর্তি হয়েছে। সারারাত প্রায় জেগে থাকে, এখনকার ছেলেমেয়েদের বেশিরভাগ স্বভাবই তাই। ভোর বা সকাল কাকে বলে তারা বুঝল না।

কমলিনী ভোরের অভ্যেস জারি রেখেছে। সকাল ছ’টার মধ্যে সে ঘুম থেকে উঠে পড়ে। পাড়ার মোড়ে  আবালসিদ্ধি থেকে সনাতন আসে। ওর কাছ থেকে সে গিয়ে ফুল কিনে আনে। ঠাকুরঘরে কিছুক্ষণ বসে নিজের মতো পুজো করে। এসব কাজগুলো ঋষি আর ঝিলিকের ঘুম থেকে ওঠার আগেই হয়ে যায়।

ঋষি বলল, ‘থাক। ঘুমাচ্ছে। একটু পরে ডেকো।’

কমলিনী কিছু বলতে যাচ্ছিল। তার আগেই পরের প্রশ্নটা করল ঋষি। বলল, ‘সুপ্রভা তোমার কেমন বন্ধু ছিল?’

কমলিনী বলল, ‘আমরা দুজনে বারো ক্লাস পর্যন্ত একসঙ্গে পড়েছি। পাশাপাশি বসতাম।’

ঋষি বলল, ‘যার সঙ্গে পালাল, চিনতে?’

‘চিনব না কেন? বুলবুলদা। ও তো আমাদের পাড়ার ছেলেই তো। সুপ্রভার বাবা মানে কাকা ছিলেন মাস্টারমশাই। সম্পর্কটা মেনে নেননি। ওরা তাই দুজনে পালিয়ে গেছিল।’

‘তারপর আর খবর পাওনি?’

কমলিনী ওর দিকে একবার তাকাল। সে বুঝতে পারছে, ওদের আসাটা ঋষি ঠিক মেনে নিতে পারছে না। ঋষি কোনও ব্যাপারে বাধা দেয় না ঠিকই, কিন্তু কমলিনীর নিজেরও কেমন স্বস্তি হচ্ছে না।

হিসেব করলে প্রায় বাইশ-তেইশ বছর হয়ে গেছে। সুপ্রভার সঙ্গে তার যোগ নেই। এখন এসব ভাবলে  কমলিনীর অস্বস্তি হয়।

Advertisement

ঋষি উঠে দাঁড়াল। আড়মোড়া ভেঙে বলল, ‘যাই। ঘুরে আসি। আর কী আনতে হবে তোমার বন্ধুর জন্য?’

‘হুম। বলছি।’

ঋষি বাজার যাওয়ার আগে বলল, ‘শোনো। এইসব বন্ধুদের বেশি পাত্তা দিয়ো না। সুযোগ দিলে কিন্তু গেঁড়ে বসবে। আমি ভাবতাম তোমার একটা স্ট্যান্ডার্ড আছে। পালিয়ে যাওয়া বন্ধু। ধ্যাত।’

কমলিনী কিছু বলতে পারল না।

ঝিলিক ঘুম থেকে উঠেছে। কমলিনী তাড়াতাড়ি ওর ঘরে গেল। বিছানা ঘর পরিষ্কার করল। সুপ্রভারা কখন আসবে ঠিক নেই। তবু পরিষ্কার করে রাখা ভাল। ঝিলিক বলল, ‘কে আসবে মা। তোমার বন্ধু? চিনি?’

‘তোর চিনে লাভ নেই। তুই বেরোবি কখন? কী খেয়ে যাবি? ম্যাগি করে দিই?’

ঝিলিক এমন মুখ করল, খেলেও হয় না খেলেও হয়।

কমলিনী রান্নাঘরে গেল। চটজলদি একটা খাবার বানাল, মেয়ের মুখে রুচলে হয়, ঝিলিক বাইরে চলে গেলে তার স্বস্তি। বাড়িটা ফাঁকা হলে সে আর সুপ্রভা কথা বলতে পারবে। রান্না করতে করতে সে ভাবল সুপ্রভা বাড়ি চিনতে পারবে তো।

সকাল পেরিয়ে দুপুর। দুপর পেরিয়ে সন্ধে। সুপ্রভার আসবার নাম নেই। কমলিনী ঘরবার করেছে। সে ফোন করেছে ওকে। মেসেঞ্জারে কল করেছে। সুপ্রভার কোনও পাত্তা নেই। ঋষি সারাদিন বাড়ি ছিল। শেষে বিরক্ত হয়ে সে উঠে পড়েছে। বলে গেছে, ক্লাবে গেলাম। ওরা এলে ডেকো।’

কমলিনী বুঝতে পারছে সুপ্রভাদের সমস্যা হয়েছে। নইলে ওরা চলে আসত। কমলিনী ওদের জন্য রান্নাও করে রেখেছিল, সেগুলোও নষ্ট হতে চলল। সন্ধের দিকে বেল বাজতে ও ছুটে গেল। মেয়ে ফিরেছে কোচিং থেকে। ও জিজ্ঞেস করল, ‘কী গো, তোমার বন্ধুরা এসেছে?’

কমলিনী বলল, ‘না।’

‘যাহ। কেন?’

‘কী জানি? যোগাযোগ  করতে পারছি না।’

মেয়ে বলল, ‘অদ্ভুত।’

ঘরে ঢুকে আবার ফোন দেখল কমলিনী। না। হোয়াটসঅ্যাপ, ফেবু সবকিছুতেই সুপ্রভা নিশ্চুপ। ওর কি কোনও বিপদ হল? কমলিনী বুঝতে পারছে না।

ঘণ্টাচারেক বাদে ঋষি ফিরে এসে জিজ্ঞেস করল, ‘খারাবদাবার সব ফ্রিজে রেখেছ তো? অনেক কিছু করেছিলে? নষ্ট হয়ে যাবে তো?’

কমলিনী বলল, ‘একটু হেল্প করো না। একা একা পারছি না।’

ঋষি বলল, ‘ওকে, চলো।’

সবকিছু তোলা হয়ে গেল। ঋষি বলল, ‘অনেক কিছু করেছিলে দেখছি?’

‘সকালেই তো দেখলে। মনে নেই?’

‘অত খেয়াল নেই।’

‘মন কোথায় পড়ে থাকে বুঝি না।’

ঋষি বাথরুমে গেল। একটু ফ্রেশ হয়ে নিল। ফিরে আসার পর সে দেখল কমলিনী মুখ ভার করে বসে আছে। দেখে খুব খারাপ লাগল। সে বলল, ‘আরে, ছাড়ো। দেখো কোনও অসুবিধেতে পড়েছে।’

‘তা বলে জানাবে না?’

আর কী করা যাবে। চলো। খেতে দাও।’

কমলিনী উঠল।

দুদিন নিপাত্তা হওয়ার পর সুপ্রভাকে অনলাইন দেখতে পেল কমলিনী। সে একটা পোস্ট করেছে। সুপ্রভা লিখেছে, ‘‘গতকাল আমার জীবনে একটা সাঙ্ঘাতিক অভিজ্ঞতা হল। আমার ছোটবেলার এক বন্ধুকে আমি ফেবুতে খুঁজে পেয়েছিলাম। স্বাভাবিক খুব খুশি হলাম। কথাবার্তা চলতে লাগল। তারপর ছ’মাস যেতে না যেতে কমলিনী আমাকে একদিন ওর বাড়ি নেমতন্ন করল। আমি তা গ্রহণ করলাম। একেবারে সপরিবারে নেমতন্ন।

এরপরেই আমার চরম অভিজ্ঞতা ঘটল। কমলিনী আমাদের ঠিকানা দিয়েছিল। হাওড়া। আমরা থাকি  রানাঘাটে। সকাল সকাল বেরিয়েছিলাম, বুঝতেই পারছেন পথ অনেকটাই।

সেই ঠিকানায় পৌঁছে আমরা স্তম্ভিত হয়ে গেলাম। কমলিনী বলে কেউ সে অঞ্চলে থাকে না। আমাদের মনে হল কোথাও ভুল হচ্ছে। কমলিনী নিশ্চয় এখানে আছে। সেই মুহূর্ত থেকেই ওকে ফোন করলাম। ফোন বেজে গেল। মেসেঞ্জার করলাম। কমলিনী সিন করল, কিন্তু কোনও উত্তর পেলাম না। বুঝে গেলাম আমি চূড়ান্ত ঠকে গেছি।

আমি জানি না ওর কী ক্ষতি করেছি। ওকে কোনওদিন ক্ষমা করব না। ওর ছবি দিতে পারলাম না। কমলিনীর প্রোফাইলে এখন কোনও ছবি পাচ্ছি না। মনে হয় সব সরিয়ে দিয়েছে।’’

পোস্ট করে একটা ছবিও দিয়েছে সুপ্রভা। সে, বুলবুলদা, আর ওদের ছেলে। একটা রাস্তার সামনে উদ্ভ্রান্ত হয়ে দাঁড়িয়ে।

কমলিনী পড়ে খিলখিল করে হাসতে শুরু করল। কী ভেবেছিল সুপ্রভা? সে তাকে খাতির করে ঘরে বসাবে? ও মনে করে দেখুক কী ক্ষতি করেছিল? বুলবুলদাকে তার কাছ থেকে সরিয়ে নিয়ে গেছিল। হঠাৎ এক রাতের ব্যবধানে সে জেনেছিল বুলবুলদা তার নয়, সুপ্রভার হাত ধরে সে চলে গেছে! কোথায় গেছে তার   ঠিক নেই।

তা কী করে ভোলে কমলিনী? হ্যাঁ। সেদিন তার খরচ অনেক হয়েছে। ইচ্ছে করেই তা করেছিল। সবই তো যত্ন করে ফ্রিজে তোলা আছে। কিছু নষ্ট হবে না। ঋষিদের কাছে এ অভিনয় না করলে মজাটাই সে পেত না।

সুপ্রভা তার জীবনে স্থায়ী ক্ষত করে দিয়ে গেছে, সে তো মোটে একদিন!

চিত্রণ: ধৃতিসুন্দর মণ্ডল

One Response

  1. অদ্ভুত মনস্তাত্বিক গল্প। খুব ভালো লাগলো।।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

10 + 3 =

Recent Posts

মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল ও দুই বিখ্যাত বাঙালি

কী অসাধারণ শিক্ষাই না আমরা পেতে পারি, উৎসাহিত হয়ে পারি খেলোয়াড়দের থেকে! একটি উদাহরণ: প্রথম বিশ্বকাপে সোনাজয়ী উরুগুয়ে দলে ছিলেন হেক্টর কাস্ত্রো। তেরো বছর বয়সে মেশিনে তাঁর ডানহাত কাটা পড়েছিল। অদম্য উৎসাহে তিনি ফুটবল খেলেছেন, জাতীয় দলে স্থান করে নিয়েছেন, আর ফাইনালে জয়সূচক গোলটিও তাঁর-ই করা! তাঁর স্বদেশবাসী তাঁকে ডাকতেন— ‘এল ডিভিনো মানকো’, অর্থাৎ একহাত-বিশিষ্ট ঈশ্বর।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

আমেরিকার স্বাধীনতা: আড়াইশো বছর

১৬০৭ থেকে ১৭৮৩ পর্যন্ত সময়কাল আমেরিকায় ব্রিটেনের ঔপনিবেশিক রাজত্ব। আজকের দিনে যে আমেরিকা, তা কিন্তু পুরোটা ব্রিটিশদের দখলে ছিল না। ছিল ভার্জিনিয়া, ম্যাসাচুসেটস, নিউ ইয়র্ক, পেনসিলভেনিয়া-সহ ১৩টি রাজ্য। আর কানাডার বেশ কিছু অঞ্চল। আমেরিকার অন্যান্য স্থানে ফরাসি, ডাচ, নরওয়েজিয়, সুইডিস উপনিবেশ-ও ছিল। তাছাড়া রাশিয়া আমেরিকার আলাস্কা থেকে ক্যালিফোর্নিয়া পর্যন্ত দখল করে। পরে সে আলাস্কা আমেরিকার কাছে বিক্রিও করে দেয়।

Read More »
অপরাজিতা মৈত্র

গোদাবরীর গোমুখে

গঙ্গার মর্ত্যে আগমন নিয়ে যেমন ভগীরথের গল্প, তেমনই গোদাবরীর উৎসস্থলে না এলে জানা যেত না, দক্ষিণের গঙ্গা নিয়েও আছে হাজার গল্প। যে গল্প জানাবে আজও এই অঞ্চলের মানুষ অনেক সময়েই কাছাকাছি আর কোনও পানীয়জল না পেয়ে কষ্ট করে হলেও এই উৎসস্থলে এসেই শীতল এই পানীয়জল নিয়ে যান নিজেদের কাজের জন্য। গঙ্গা বা অন্য নদী সে শুধু ধার্মিক আবেগের কারণে পবিত্র না, হাজার প্রাণীর ‘তৃষ্ণা’ মেটাবার জন্য সে হয়ে ওঠে ‘দেবী’ বা ‘পবিত্র’। সে পথে মিশে যায় হাজার গল্প-কষ্ট কিংবা দিনযাপনের চরম বাস্তবতা।

Read More »
রুহ

রুহের কবিতাগুচ্ছ

একই আলোকমালায় কাটিয়েছি/ বহুকাল দু’জনে…/ বলিনি কখনও।/ তারা খসা দেখেছি একসাথে, যদিও/ গোপন থেকেছে চাওয়া-পাওয়া।/ মাঝে বহুদিন, বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো/ একা… নীরবে বয়েছি যাতনা।/ আজ মিথ্যের নেই অবকাশ/ তোমাকে কি পড়েনি মনে/ কোনও মুহূর্ত বা ক্ষণে/ ভাবিনি কি একান্ত বন্ধু আমার—/ এতদিন পরে, পুনর্মিলনে বলেছ/ পাখি হতে চেয়েছিলে এ জীবনে

Read More »
কাজী তানভীর হোসেন

যুদ্ধ: বৈশ্বিক কসাইখানা, পুঁজির সংকট ও শ্রমের মুক্তি

অবিক্রীত পণ্যের পাহাড় যখন পুঁজির পুনরুৎপাদনকে বাধাগ্রস্ত করে, তখন পুঁজিপতিরা তীব্র আতঙ্কে ভোগে। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য তারা প্রতিযোগী পুঁজিপতির বাজার ও পণ্য ধ্বংস করতে চায়। আর এই ধ্বংসের বৈধ হাতিয়ার হিসেবে তারা রাষ্ট্র ও সামরিক বাহিনীকে ব্যবহার করে যুদ্ধ বাধিয়ে দেয়। অর্থাৎ, উদ্বৃত্ত পণ্য এবং অতিরিক্ত শ্রমকে ধ্বংস করে পুঁজির ভারসাম্য ফিরিয়ে আনাই বুর্জোয়া যুদ্ধের মূল উদ্দেশ্য। এই শোষণের প্রক্রিয়াকে আড়াল করতে রাষ্ট্র একদল বুদ্ধিজীবী ও নীতিবিদ লালন করে, যারা কৃত্রিম ‘দেশপ্রেম’ ও ‘জাতীয়তাবাদ’-এর আফিম খাইয়ে শ্রমিককে বিভ্রান্ত রাখে, যাতে তারা শোষক ও শোষিতের মধ্যকার মৌলিক শ্রেণি-পার্থক্য ভুলে যায়।

Read More »
প্রসেনজিৎ চৌধুরী

বিশ্বকাপ জৌলুসে আর্জেন্টিনা গণহত্যার বধ্যভূমি

বুয়েনস আইরেসের রিভার প্লেটের যে স্টেডিয়ামে তখন খেলা হত, তার মাত্র এক মাইল দূরে ছিল সামরিক সরকারের বন্দিশিবির নেভি স্কুল অব ম্যাকনিকস। সাংবাদিক ডেভিড কক্স ফুটবল বিশ্বকাপের খবর সংগ্রহ করতে গেছিলেন। তিনি ‘ডার্টি ওয়ার’ বইতে লিখেছিলেন, যখন স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার ম্যাচ চলত তখন ওই টর্চার সেল থেকে কান্নার শব্দ শোনা যেত। আর্জেন্টিনার ভুবনমোহিনী ফুটবলে লেগে আছে রক্ত।

Read More »