সেতুর উপর গালিয়া
মস্কো নদীর সেতুর উপর হঠাৎ হল সাক্ষাৎকার
নদী তখন সূর্য-তেজে গলন্ত এক দীপ্ত ধাতু
ফাল্গুন না চৈত্র মাস ঠিক মনে নেই এখন আমার
উরালদেশি আধো আধো মিষ্টি রুশি উচ্চারণে
মনের ভিতর কুয়াশানীল, চোখেও কী আশ্চর্য জাদু
গলার রুমাল ঘোমটা হল, কপালে টিপ কী বিভ্রমে
হঠাৎ সিঁদুর, বেলাশেষের ক্লান্ত আলো এক ঝলকে
স্নিগ্ধ শিথিল জ্যোৎস্না যেন রূপান্তরে অকারণে
পার্কে তুমি ভ্রূক্ষেপও তো করলে না কী বলল লোকে
আমার যত দর্শনকে অনায়াসে বিনাশ্রমে
বন্ধ করে ধরলে তুলে উন্মুখ ঠোঁট পদ্মকলি
অতীত কাল ভবিষ্যৎ আর বর্তমানকে জলাঞ্জলি
সঙ্গে সঙ্গে দিয়েছিলাম, জীবন থেকে চারখানি দিন
হারিয়ে গেল, যেমন হারায় মোহনাতে খরস্রোতা
নদী এবং আমিও যদি পালিয়ে যেতাম সন্ধানী তিন
চোখগুলোকে ফাঁকি দিয়ে, তবে কি আর যন্ত্রদানব
অপহরণ করে তাকে, নিয়ে পালায় সেই গালিয়া
‘সর্বস্ব গেল গেল’ বলে তবে বিলাপ সরব
করি না আর, অশ্রু মুছে বলি না দাসভিদানিয়া
সেই তো আমার ভাগ্য, তবু, সেই তো আমার বিষণ্ণতা।
*
স্বর্ণবৃত্তে শায়ক
অন্ধকারে বসে থাকি নিরালায় স্থাণু হয়ে ভাঙা এক চারপায়া চেয়ারে
আবছায়া আঁধারিতে মুঠো মুঠো বাতাসেরা কত যে স্বপ্নের গান গায়
দুর্বোধ্য ভাষায় কিন্তু, তাই তা না শুনে আমি মনোযোগ দিয়ে দেখি কে হারে
অসম দ্বৈরথ যুদ্ধে, অস্বচ্ছ জলের মতো যেটি চলে গোলঘরে ছায়ায় ছায়ায়
উৎসেরও অবনতি! আঙিনায় মেলে দেওয়া আলোগুলি পরী হয়ে যেন উড়ে যায়
রাস্তার বিদ্যুৎবাতি শুধুই বিদ্রূপ করে উপহাসে, ক্রোধে ক্ষিপ্ত হয়ে ভাবি মনে
বাহিরে রুপোর থালা চাঁদ আছে, ব্যর্থ তাই ক্রুর ফাঁদ, মুখ শুধু রাখি ঝরোকায়
জলপাই পাতা দিয়ে আলপনা এঁকে দেওয়া বাতায়ন বন্ধ হয় হাওয়ার গর্জনে
ব্যাকুল এখন হই এবং ভয়ও পাই, কপাল গালের থেকে ঝরে পড়ে বিন্দু বিন্দু স্বেদ
কেন বন্ধ ঝরোকাটি, এভাবে কেন যে বন্ধ হয়ে গেল, আমি কি পাতক
করেছি কোনও, আমি তো শুধুই মুছি স্নেহাতুর রুক্ষ হাতে হাঁসেদের ত্বক
ধনুকেতে কেউ বুঝি তির জোড়ে প্রার্থনায়, ব্যর্থ যেন না হয় কিছুতে লক্ষ্যভেদ
আমিও নিশ্চিত জানি এখানেও ব্যর্থ হব, অন্ধকারে মেলে ধরি চোখ
আবছায়া আঁধারিতে কখন যে স্বর্ণবৃত্তে বিঁধে গেছে অব্যর্থ শায়ক।
*
বিজ্ঞাপন
টিভি খুললেই বিনোদনে ছেদ ঘটায় বিজ্ঞাপন
কত রকমের সাবান রয়েছে ফিরিস্তি শোনা তার
নিকুচি করেছে এবার আমিও দৃঢ়তায় করি পণ
নানা পণ্যের বিবিধ গুণের ছাপাব ইস্তাহার
কফিতে সুখের অমৃতধারা, ফ্রিজে দুঃখের জ্বালা
জুড়োবে, সাবান ঘোচাবে মনের কলঙ্ক নাগপাশ
কিছু না কিনেও চাইলে পাবেন শান্তির ফুলমালা
না হলে থাকুন বিজ্ঞাপনের চিরকাল ক্রীতদাস।
*
কলঙ্ক
বাসন জুড়ে কলঙ্ক ছাপ কালো
সাবান গুঁড়ো ঢেলেও পরিষ্কার
হয় না দেখে মানুষ করে সাবান আরো ভাল
কলঙ্ক নিশ্চিহ্ন করার জন্য আবিষ্কার
মনের মধ্যে কলঙ্ক যা কোন সাবানে তার
শুদ্ধি হবে, এই জীবনে শোনা
হয়নি, শুধুই গালের কালো তিলে প্রতিমার
কলঙ্ককে সবাই করে প্রণাম আরাধনা।





