Search
Generic filters
Search
Generic filters

দেশেবিদেশে রবীন্দ্র আদর্শ সম্প্রসারণের দায় নিয়েছিলেন

বসন্তোৎসবের দিনে তিনি চলে গেলেন। তিনি আমাদের শিক্ষক সোমেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়।

কতদিন তাঁর পায়ে আবীর দিয়েছি। সেই পাখানি স্পষ্ট চোখে ভাসে। আঁকাবাঁকা গিরিখাতের চিহ্নযুক্ত, বহু অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ তাঁর ধবধবে সাদা পা, অথচ একবিন্দু নোংরা-মালিন্য নেই তাতে। হ্যাঁ, অবাক হয়েছিলাম।

ষোলো বছর বয়সে বাবার হাত ধরে প্রথম সোমেনদার বাড়ি যাই। বাবা খুবই শ্রদ্ধা করতেন তাঁকে। বাঁকুড়ার লোক বলে বাবার বাড়তি একরকম ভাললাগাও ছিল। আমার প্রথম শান্তিনিকেতন যাওয়া আর সোমেনদার বাড়ি যাওয়া একসঙ্গেই ঘটেছিল। তাঁকে প্রথম দেখা আর শান্তিনিকেতনকে প্রথম অনুভব করা আমার একযোগেই। তাঁর স্বল্পায়তন বাসস্থানের গৃহসজ্জা, আসবাবের বিশিষ্টতা, তাঁর বাগানবিলাস, এমনকী তাঁর ব্যবহারের নিজস্বতা আমাকে প্রথম শান্তিনিকেতনের মূল সুরটি চিনিয়ে দেয়। শান্তিনিকেতনী ধারায় যদি কোনও যাপন সম্ভব হয়ে থাকে, তবে তাকে তিনি জীবন দিয়ে রক্ষা করেছেন। মনে পড়ছে, প্রথমদিনে রবীন্দ্রনাথের আঁকা ছবির একটি পিকচার পোস্টকার্ড উপহার পেয়েছিলাম তাঁর কাছ থেকে।

বাংলা বিভাগে পড়ার সুবাদে তাঁর কাছে পাঠগ্রহণ করার মহাসুযোগ পেয়েছিলাম। কিন্তু অল্পবয়সে মতিস্থির থাকে না। পরে আফসোস হয়, যতটা নেবার কথা ততটা নিতে পারিনি বলে। সোমেনদা চার দেয়ালের মধ্যে পড়াতে পছন্দ করতেন না। তিনি আমাদের নিয়ে নানা জায়গায় ক্লাস নিতেন। আমরা তাঁর পিছুপিছু উত্তরায়ণে চলে যেতাম। তারপর কখনও কোনার্ক, কখনও পুনশ্চ, কখনও শ্যামলীর বারান্দায় বসে ক্লাস করতাম। এই পরিবেশ-রচনাটি আমাদের মনের ওপর গভীরভাবে প্রভাব ফেলত। তিনি আমাদের পড়ানোর সময় কতভাবে যে গুরুদেবের জীবন ও তাঁর শান্তিনিকেতনে ব্রহ্মচর্যাশ্রম গড়ার কাহিনিগুলো বলে যেতেন! শান্তিনিকেতনের শিক্ষা, তাঁর আদর্শকে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে গভীরভাবে অনুপ্রবেশ করানোর চেষ্টা করে গেছেন তিনি।

দেশে ও বিদেশে রবীন্দ্র আদর্শ সম্প্রসারণের দায় সোমেনদা নিয়েছিলেন। বিদেশিদের তিনি বাংলা পড়াতেন শুধু নয়, শান্তিনিকেতনের রেওয়াজ মেনেই সেই ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে ছিল তাঁর নিবিড় পারিবারিক সম্পর্ক। আমাদের কত বিদেশের গল্প বলেছেন। গল্প শুনে মনে হত— জাপান বোধ হয় তাঁর খুব প্রিয় দেশ।

সোমেনদার বাবা গভর্নমেন্ট আর্ট কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন। সোমেনদাও ছবি আঁকতেন। রবীন্দ্রনাথের চিত্রকলা বিষয়ক তাঁর দীর্ঘ গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা রয়েছে। তাঁর গ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য ও চিত্রকে বোঝার একটি সেতুবিশেষ। রামকিঙ্করের ওপরও তিনি কাজ করেছেন। আপাতদৃষ্টিতে সোমেনদার পারিপাট্য রামকিঙ্করের বাহ্যিক আচারের বিপরীত হলেও শিল্পসাধকের ধর্মের দিক দিয়ে ভেতরে ভেতরে তাঁদের মিল ছিল। তাই তাঁর কাছে রামকিঙ্কর গভীরভাবে ধরা দিয়েছিলেন।

সোমেনদার কাছে শুনেছিলাম, তিনি কলাভবনের ইতিহাস নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। আমাদের অনুযোগ ছিল, অতি নিঁখুত কাজ করার জন্য তিনি অতিরিক্ত সময় নেন বলে। জানি না, সে কাজ কতদূর এবং তা প্রকাশ করার মত অবস্থায় আছে কিনা! তবে তা পড়তে ইচ্ছে করে।

আজ কত কথা মনে পড়ছে। সোমেনদা আমাদের আসানসোলের বাড়িতে এসেছিলেন। আমাদের পৈতৃক বাড়ি সোনামুখিতেও গিয়েছেন পারিবারিক দুর্গাপুজোর সময়। সেসময় অবশ্য আমি তাঁকে পেতাম না। বড়দের সঙ্গেই কথা বলতেন, যেহেতু তখন তাঁর আসা বাবার ডাকে।

তবে আমাদের ডাকে তিনি আমাদের কলেজে রবীন্দ্র চিত্রকলা নিয়ে বলতে এসেছেন। স্লাইড দেখিয়ে দেখিয়ে তিনি সম্পূর্ণ অপরিচিত রবীন্দ্র চিত্রকলাকে অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক উপায়ে পরিবেশন করে ছাত্র এবং শিক্ষকদের আগ্রহ ও বিস্ময় উৎপাদন করেছেন। সোমেনদার বাচনভঙ্গী, ঋজু দৈহিক গঠন, সুশোভিত ধুতি-পাঞ্জাবি, হাই পাওয়ারের চশমা সবই দর্শক-শ্রোতাদের কাছে আকর্ষণের বিষয় ছিল। সোমেনদা খুব ভাল ইংরেজি জানতেন, ইংরেজ ঘরানার উচ্চারণ ছিল তাঁর। তবু যখন বাংলায় বক্তৃতা দিতেন তখন একটাও ইংরেজি শব্দ ব্যবহার করতেন না। এমনই ছিল তাঁর ভাষার ওপর অধিকার। তিনি খুবই গভীর কথা বলতেন, বলতেন কিছুমাত্র গরিমা প্রকাশ না করেই, যাঁদের বলছেন, তাঁরা সর্ব অর্থে ছোট হলেও সর্বদা তাঁদের মান্যতা দিতে আমি দেখেছি।

শান্তিনিকেতনে আমাদের কলেজের ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষাকেন্দ্রিক ভ্রমণে নিয়ে গেছি। সেখানেও সোমেনদাকে টেনে নিয়ে এসেছি। রবীন্দ্রভবনে কিংবা জহরবেদিতে বসে তিনি আমাদের ছাত্রছাত্রীদের রবীন্দ্রনাথকে চেনার পথগুলি নির্দেশ করেছেন।

কত গল্প শুনেছি। কয়েকটা কথা অদ্ভুতভাবে মনে আছে। খুব বলতেন, শান্তিনিকেতন পরিচালনার সময় রবীন্দ্রনাথের দারিদ্র্য নিয়ে। বলতেন, রবীন্দ্রনাথ তখন একবেলা খেতেন। জামাকাপড়ও তাঁর বিশেষ ছিল না। শিক্ষকদের মাইনে দিতে পারতেন না। সোমেনদা এসব শুনেছিলেন তাঁর পারিবারিক সূত্র থেকে। তাঁর পূর্বপুরুষ আশ্রমের কোষাধ্যক্ষ ছিলেন। আর একবার রাজনীতি প্রসঙ্গে নেতাজি সুভাষচন্দ্রের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের গভীর অন্তরঙ্গ সম্পর্কের কথা বলতে বলতে দুঃখ করছিলেন। বলছিলেন, রবীন্দ্রভবনে কী করে নেতাজি সম্পর্কে সব ফাইল লোপাট হয়ে গেছে, এমনকী সব তথ্য কালি দিয়ে এমন করে কেউ কেটে দিয়েছে, যাতে কিছু না বোঝা যায়।

দূরে চাকরি করি। বেশিরভাগ সময়ে ট্রেনেবাসে সময় চলে যায়। তাছাড়া, আমার চরিত্রের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল, যাঁকে শ্রদ্ধেয় ভাবি, তাঁর নিকটে সহজে যেতে পারি না। কেবলই ভাবি, এতে তাঁকে বুঝি বিরক্ত করা হয়। এই কারণে তাঁকে যতটা পাবার কথা ছিল, ততটা পাই না। সোমেনদাকেও যতটা পেতে পারতাম, ততটা পাইনি।

তবে এখনও তীব্র রোদে বের হলে সোমেনদার কথা মনে হয়। ভরদুপুরে ক্লাস শেষ করে তিনি প্রবল রোদের মধ্যে দিয়ে ঘরে ফিরতেন। একবার বললেন, রোদকে চাঁদের আলো ভাবলেই আর কষ্ট থাকে না। বলেই হা হা করে হাসি। এখনও যেন মাঝেমাঝেই তাঁর সেই হা হা করে ঘর কাঁপানো হাসি শুনতে পাই। মনে হয় খোলা মন ছাড়া অমন খোলা হাসিও সম্ভব নয়।

পরিশেষে একটি কথা মনে হলে ব্যথায় কাতর হই। একদিন ফোনে বললেন, তোমার শান্তিনিকেতনের বাড়িতে একবার যেতে চাই। তোমার পছন্দের সঙ্গে আমার খুব মিল আছে। এছাড়া আমার পরিচিত কয়েকজনের কাছেও তিনি এই ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

এই স্নেহবচনটি আমার পরম পাওয়া ঠিকই। তিনিই তো আমার দীক্ষাগুরু। তারপরই মনে হয়, শেষপর্যন্ত তাঁকে আমি আমার গৃহাঙ্গনে নিয়ে আসতে পারিনি। এ বেদনা আমার সারা জীবনেও যাবার নয়। তবে তিনি আমার মধ্যে, আমার মত হাজার ছাত্রছাত্রীর মধ্যে নানাভাবে নিশ্চিত থেকে গেলেন। সোমেনদা আশীর্বাদ করুন, এই থাকাকে যেন প্রকৃত শ্রদ্ধার সঙ্গে, সত্যের সঙ্গে বহন করতে পারি।

চিত্র: গুগল

One Response

  1. সাল ১৯৮৯। আমার ননদের হবে বিয়ে হয়েছে। শান্তিনিকেতন গিয়ে ওঁর বাড়িতে যাই। ননদের পিসেশ্বশুর তিনি। আমরা ছজন কমবয়সী। হট্টগোল চলছে। আমি সেই অবসরে ওঁর কাছে বসি। উনি বলছিলেন আমি শুনছিলাম। বলতে বলতে একটা কথা বলেছিলেন আজও ভুলিনি। বলেছিলেন, মনটা যদি বৃহতের সঙ্গে যুক্ত থাকে তবে জীবনের অশেষ ক্ষুদ্রতাকে অনায়াসে পেরিয়ে যাওয়া যায়। তারপর এভাবে আর বসা হয়নি। কিন্তু মনে আছে সেদিনের স্মৃতি। 🙏 প্রণাম জানাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 × two =

Recent Posts

মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

নারায়ণগঞ্জের দুর্গাপুজো

বাংলাদেশের নানা জেলার‌ রামকৃষ্ণ মিশনে ঘোরার অভিজ্ঞতায় দেখেছি, সব জায়গাতেই আচারপরায়ণ মহারাজ ও ব্রহ্মচারীদের সুমধুর ব্যবহার। এখানে এসেই যখন এখানকার অধ্যক্ষ মহারাজ স্বামী একনাথানন্দজির সঙ্গে আলাপ হল, মুহূর্তের মধ্যেই তিনি অন্তরঙ্গ হয়ে উঠলেন। আমাকে পূজামণ্ডপে নিয়ে তাঁর কাছে বসালেন। ষষ্ঠীর রাতে নববস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠান‌ ছিল। আমাকে দিয়েও বস্ত্রদান করালেন। এই যে আচরণ, এতে করে আমি যে কী পরিমাণ সম্মানিত বোধ করলাম, তা বলার‌ নয়। কেবল‌ তাই নয়, সমবেত দর্শক-শ্রোতার সামনে আমাকে কিছু বলার আমন্ত্রণ-ও জানালেন। আমাকে আপ্লুত করল তাঁর এই আহ্বান।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

দুর্গাপূজা ও প্রসঙ্গত

এতদিন ধরে অন্য কোনও দেবদেবীর পুজো কোথাও হয় না। দুর্গাপুজোর এটি একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য। আরও একটি বৈশিষ্ট্য, এই পুজো উপলক্ষে কত যে পত্রপত্রিকা বেরোয়, তার কোনও সীমা নেই। কলকাতা যেহেতু এ-পুজোর প্রাণকেন্দ্র, স্বভাবতই এখান থেকে সবচেয়ে বেশি পুজোসংখ্যা পত্রিকা বেরোয়। প্রতিটি দৈনিক পত্রিকা বিরাট আকারে পুজোর অর্ঘ্য সাজায়। প্রসঙ্গত, সত্যজিৎ রায় তাঁর যে দু’টি ভিন্নধারার লেখার মাধ্যমে দীর্ঘ পঞ্চাশ বছরের ওপর জনপ্রিয়তার শীর্ষে, তা কিন্তু এই পুজোর ‘দেশ’ আর’ আনন্দমেলা’-র সূত্রেই।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

মহালয়া

এই চণ্ডীপাঠকে অভাবিত মাত্রা দিয়েছে কলকাতার আকাশবাণী কেন্দ্র। ১৯২৭ সালে স্থাপিত হওয়া এই বেতার প্রচারকেন্দ্র থেকে (তখন নাম ছিল ‘Indian State Broadcasting Service’) ১৯৩১-এর ১১-ই অক্টোবর সর্বপ্রথম মহালয়ার অনুষ্ঠান প্রচারিত হয়। স্তোত্রপাঠে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র। পরিকল্পনা বাণীকুমার, প্রকৃত নাম বৈদ্যনাথ ভট্টাচার্য। সঙ্গীত পরিচালনায় রাইচাঁদ বড়াল ও পঙ্কজকুমার মল্লিক। অচিরেই এটি তুমুল জনপ্রিয় হয়। অদ্যাপি, প্রায় শতবর্ষ হতে চলল, অনুষ্ঠানটির জনপ্রিয়তায় বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে শিল্পীর পরিবর্তন হয়েছে, মহালয়ার প্রাক্-সূর্যোদয়ে এখনও কী কলকাতা, কী কানপুর-ঢাকা-ম্যাসাচুসেটস-আগরতলা-আন্দামান-মেহেরপুর-টোকিওর বাঙালি এটা শুনতে ভোলেন না।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

চিরজীবী বিদ্যাসাগর

বিদ্যাসাগর ‘বর্ণপরিচয়’ লেখার মাধ্যমে শিশুশিক্ষার ক্ষেত্রে এক বিরাট ভূমিকা রেখেছিলেন। ১৮৫৫-র ১৪-ই এপ্রিল, অর্থাৎ ১২৬২-র পয়লা বৈশাখ এর প্রথম খণ্ড, ও সে বছরের-ই পয়লা আষাঢ় বইটির দ্বিতীয় খণ্ড বেরোয়। এর আগেও শিশুদের অক্ষর পরিচয় ও বাক্যগঠনের বেশ কিছু বই থাকলেও বিদ্যাসাগরের ‘বর্ণপরিচয়’ উপযোগিতার দিক দিয়ে সেগুলিকে, ও পরবর্তীকালে রবীন্দ্রনাথের ‘সহজপাঠ’-কে বহুগুণে ছাড়িয়ে গিয়েছে। তাঁর জীবিতকালেই বইটির ১৫০-এর ওপর সংস্করণ হয়, আর ছাপা হয়েছিল তিরিশ লাখের-ও বেশি। এখন-ও ও বইটির উপযোগিতা শেষ হয়ে যায়নি।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

অজানা বিভূতিভূষণ

নিতান্ত দারিদ্র্যের মধ্য থেকে তিনি উঠে এসেছিলেন বলে দারিদ্র্য ও প্রতিকূলতা নিয়ে তাঁর নিজস্ব এক দর্শন ছিল। তাই দেখি, ডায়েরির এক জায়গায় তিনি লিখছেন, ‘দুঃখ জীবনের বড় সম্পদ, দারিদ্র্য, ব্যর্থতা বড় সম্পদ— Sadness ভিন্ন profundity আসে না।’ অতীত দারিদ্র্যময় জীবনের কথা মনে করে নিজে সপ্তাহে একদিন শুধু নুন আর ভাত খেতেন।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

উত্তম উত্তম

বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কম মহা-অভিনেতা জন্মাননি। তাঁদের মধ্যে খুব সামান্য কয়েকজন আল পাচিনো, মার্লোন ব্র্যান্ডো, রবার্ট ডি নিরো, লরেন্স অলিভিয়ার, গ্রেগরি পেক, জিন-পল বেলমন্ডো, ব্রুস লি, ইনোকেন্তি স্মোকতুনভস্কি, জিন গ্যাবিন, মাইকেল কেইন প্রমুখ। কিন্তু কতজন মৃত্যুর প্রায় পঞ্চাশ বছর পরেও জনপ্রিয়তা বাড়িয়েই চলেছেন? সম্ভবত চার্লি চ্যাপলিনের পর একমাত্র উত্তম। এলিজাবেথ টেলর ‘নায়ক’ দেখে আপ্লুত হয়ে যে উত্তমের সঙ্গে ছবি করতে চেয়েছিলেন, উত্তমের অভিনয়ের এ-ও তো এক অনিবার্য স্বীকৃতি!

Read More »