Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

নজরুল-রচিত ইসলামি সঙ্গীতের প্রাসঙ্গিকতা

নজরুল-প্রতিভা নিজেকে উজাড় করে দিয়েছে গানের রাজ্যে— এনেছে বহু নতুনত্ব। বাংলা ভাষায় ইসলামি গান রচনা তারই একটি নমুনা। ইসলামি গানের এক নতুন ধারা প্রবর্তন করে নজরুল সঙ্গীতের প্রতি বিমুখ বাংলার মুসলমান সমাজকে এক নতুন ভাব-বন্যায় ভাসিয়েছিলেন। ‘এত মধুর এত মনোরম করে তিনি এ গানগুলো লিখেছেন যে, ধর্মে যাদের আস্থা নেই তাদের মনেও এ গান ক্ষণিকের জন্য ধাক্কা দেয়।’ কিন্তু দুঃখের বিষয়, নজরুলের জন্মভূমি পশ্চিমবঙ্গে এই গানগুলির কোনও প্রচার নেই, চর্চা নেই। নজরুল-প্রতিভার এই দিকটি অনালোচিত রয়ে গেছে বললে একটুও অত্যুক্তি করা হয় না। সংখ্যায় ‘বহু ও দেদার’ ইসলামি গানের মধ্য দিয়ে নজরুল-প্রতিভার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য প্রকাশিত হয়েছে। সেগুলি না জানলে এই প্রতিভাকে জানা ও বোঝা সম্পূর্ণ হয় না। যাঁরা নজরুল-রচিত শ্যামসঙ্গীত শুনেছেন তাঁরা যদি তাঁর ইসলামি গানের সঙ্গে পরিচিত না হন তা হলে তাঁর প্রতিভার সম্যক পরিচয় লাভে ব্যর্থ হবেন।

শ্যামাসঙ্গীতের পাশাপাশি ইসলামি গান শুনলে— তবেই বোঝা যায় নজরুল-প্রতিভা কতখানি ‘বিচিত্র ও অদ্ভুত প্রতিভা’। হিন্দু-মুসলমানের দুটি ভিন্ন ধর্মীয় ভাবধারাকে তিনি কীভাবে আপনার মধ্যে একস্রোতে বইয়েছিলেন— বড় আশ্চর্য! যে হাত লিখেছে— ‘বল্ রে জবা বল।/ কোন্ সাধনায় পেলি শ্যামা মায়ের চরণতল।।’ সেই একই হাতে লেখা হয়েছে— ‘ফুলে পুছিনু ‘‘বলো, বলো ওরে ফুল—/ কোথা পেলি এ সুরভি, রূপ এ অতুল।”/ “যাঁর রূপে উজালা দুনিয়া”, কহে ফুল,/ ‘‘দিল সেই মোরে রূপ এই, এই খোশবু, আল্লাহু, আল্লাহু।।” আপন সত্তার মধ্যে দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ধর্মভাবকে উপলব্ধি করে গানের মাধ্যমে তা প্রকাশ করে তিনি চির বিবদমান এই দুই ধর্মসম্প্রদায়কে মেলাতে চেয়েছিলেন। সম্প্রীতি-সাধনের আহ্বান জানিয়েছিলেন। একই প্রাণ শ্যামা মায়ের জন্য কাতর, আবার আল্লার প্রেমেও মশগুল— নজরুলই এই অসম্ভবকে সম্ভব করতে পেরেছিলেন! অথচ, তাঁর দেশবাসী তাঁকে তাঁর অখণ্ডরূপে নিতে পারেনি। তাঁর শ্যামাসঙ্গীত প্রচারলাভ করেছে, কিন্তু ইসলামি গান অবহেলিত। নজরুল-প্রতিভার এই খণ্ড-জ্ঞান আমাকে পীড়িত করে— তাই এ-লেখা। বিশেষত সকল প্রকার সম্প্রীতি-চেতনার ধ্বংসসাধনের প্রচেষ্টা যখন আজ ভয়াবহ রূপ নিতে চলেছে।

বিষয়বস্তুর দিক থেকে নজরুলের ইসলামি গানকে কয়েকটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়— (১) বিশ্বস্রষ্টা আল্লার মহিমা প্রকাশক, (২) নবী হজরত মহম্মদের প্রশস্তিসূচক ও (৩) মুসলমান সম্প্রদায়ের বিভিন্ন উৎসবের তাৎপর্য বিষয়ক। তথাপি একথা অনস্বীকার্য যে, তাঁর লেখা ইসলামি সঙ্গীতগুলি মানবতা বিষয়ক এবং সেটা সেপথেও তিনি দেশবাসীকে সম্প্রীতি-চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে চেয়েছেন।

আল্লার মহিমা প্রকাশক গানগুলির মধ্যে অন্যতম একটি গান হল—

এই সুন্দর ফুল সুন্দর ফল মিঠা নদীর পানি (খোদা) তোমার মেহেরবাণী।।
শস্য শ্যামল ফসল ভরা মাটির ডালিখানি (খোদা) তোমার মেহেরবাণী।।
তুমি কতই দিলে রতন ভাই বেরাদর পুত্র স্বজন
ক্ষুধা পেলেই অন্ন জোগাও মানি চাই না মানি।।

যে দেশের সাধারণ মানুষ জানত গানবাজনা ইসলাম ধর্মে নিষেধ, সেই দেশের সাধারণ মানুষের প্রাণের কথা দিয়ে সাজালেন এমন গান যে নজরুল, সেই নজরুলকে এই বাংলায় জানল না অধিকাংশ মানুষ— এই ভুল দেশবাসীর পক্ষে ক্ষতিকারক। ক্ষুধার অন্ন জোটাতেই এ দেশের মানুষের দিন কেটে যায়— এই খাঁটি কঠিন সত্যকে গানের সুরে বেঁধে দিলেন যে অসামান্য প্রতিভা তাঁর যথার্থ মূল্যায়নের একান্ত প্রয়োজন। এই গান একজন মুসলমানের যেমন প্রাণের কথা, তেমন একজন মানুষেরও। এই গান ভিন্ন ধর্মাবলম্বীকে দূরে সরিয়ে দেয় না, আরও কাছে টানে।

সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি নজরুল। ইসলামি গানের প্রতি ছত্রে তার প্রকাশ। সাধারণ মানুষ ঈশ্বরকেই একমাত্র সহায় ভাবে। তার মনের কথা বুঝে নজরুল গেয়েছেন—

কারো ভরসা করিসনে তুই, এক আল্লার ভরসা কর।
আল্লা যদি সহায় থাকেন ভাবনা কিসের, কিসের ডর।।
রোগে শোকে, দুঃখে ঋণে নাই ভরসা আল্লা বিনে
(তুই) মানুষের সহায় মাগিস (তাই) পাসনে খোদার নেক্ নজর।।

স্রষ্টা ও মানুষের সম্পর্ক কী সহজ ভাষায় বুঝিয়েছেন গানের কথা দিয়ে নজরুল। যার কেউ নেই তার আছে ঈশ্বর— যে কোনও ধর্মের এই সারকথাকে গেঁথে দিলেন গানের সুরে। নজরুল একজন সাধারণ মানুষের চাওয়া-পাওয়াকে প্রকাশ করেছেন তাঁর ইসলামি গানে। খোদার কাছে তাই তাঁর প্রার্থনা—

খোদা এই গরিবের শোনো শোনো মোনাজাত।
দিও তৃষ্ণা পেলে ঠাণ্ডা পানি, ক্ষুধা পেলে লবণ ভাত।।
মাঠে সোনার ফসল দিও, গৃহ-ভরা বন্ধু প্রিয়
আমার হৃদয় ভরা শান্তি দিও সেই আমার আবহায়াত।।

ঠান্ডা নরম সুরের আকুতি আর কথার বিনম্র নিবেদন— দুয়ের সংমিশ্রণে গানটি সব মানুষের চোখে অশ্রু এনে দিতেই যেন রচিত হয়েছে। প্রার্থনার ভঙ্গিতে প্রকাশিত গানটিতে সাধারণ মানুষের প্রাণের কথা। এই গানের প্রভাবে নিরীশ্বরবাদীও ঈশ্বরপ্রেমিক হয়ে উঠতে পারেন— এ কথা একটুও অতিশয়োক্তি নয়। কলহপ্রেমিক হিন্দু-মুসলমান একসঙ্গে গলা মিলিয়ে এ গান গাইলে হিংসা-দ্বেষ ভুলে যাবে— তাই তো এগুলির প্রচার প্রয়োজন।

নজরুলের ইসলামি গানের অধিকসংখ্যক হজরত মহম্মদের প্রশস্তিসূচক। এই গানগুলির রচয়িতা যে একই নজরুল যিনি শ্যামা মেয়ের পায়ের তলায় আলোর নাচন দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন— সাধারণ বিচারে এ সত্য বুদ্ধির অগম্য।

হজরত মহম্মদের প্রতি তাঁর অঅবেগ বাধাবন্ধনহীন। তিনি যেন মাতোয়ারা। তাই তিনি গেয়ে ওঠেন—

মোহাম্মদ মোর নয়নমণি মোহাম্মদ মোর জপমালা।
ঐ নামে মিটাই পিপাসা ও নাম কওসরের পিয়ালা।।
মোহাম্মদ নাম শিরে ধরি, মোহাম্মদ নাম গলায় পরি,
ঐ নামের রওশনীতে আঁধার এ মন রয় উজালা।।

‘রসুলের প্রেমিক’ নজরুল নবীর প্রেমে দিওয়ানা। শ্যামাভক্ত নজরুলের এই প্রেম বিস্ময়কর, তবু সত্য। অশ্রুভেজা চোখে তিনি বলেন—

যে রসুল বলতে নয়ন ঝরে সেই রসুলের প্রেমিক আমি।
চাহে আমার হৃদয়-লায়লী সে মজনুরে দিবস-যামী।।
ফরহাদ সে, আমি শিরী, ওই নামের প্রেমে পথে ফিরি—
ঈমান আমার রইল কি না জানেন তিনি অন্তর্যামী।।

নজরুলের এই দিওয়ানা রূপ অনেকে পছন্দ করেননি। ওদুদের ভাষায়— ‘‘এক শ্রেণীর সুফীর যে উৎকট গুরুভক্তি, মুখ্যত তাই রূপ পেয়েছে এই সব গানে। ভাব-বিলাসিতাও এ-সবে প্রচুর। কিন্তু মনে হয় ধর্ম সম্পর্কে ভাববিলাসিতার দিন উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। এর চাইতে হজরত মোহম্মদের সবল কাণ্ডজ্ঞান, চরিত্র মাহাত্ম্য, এসব কেন্দ্র করে যদি গান রচনা সম্ভবপর হতো তবে তার সার্থকতা হতো অনেক বেশি।” খুবই যথার্থ এই মন্তব্য। যথার্থ ধর্মবিচারে ইসলামে গুরুবাদ স্বীকৃত নয়। নজরুলের নবীপ্রেমে আল্লাকেও ভুলিয়ে দেওয়ার মত উন্মাদনা— মানব মানবীর প্রেমের মত, যা কোনও মতেই সমর্থন পেতে পারে না ইসলাম ধর্মে। তবু এই-ই নজরুলের প্রকৃতি— বাঁধন হারা। তবে ওদুদের অভিযোগ সর্বাংশে সত্য নয়। হজরত মহম্মদের চরিত্র-মাহাত্ম্যও ফুটে উঠেছে তাঁর রচিত অনেক গানে—

সকল জাতির সব মানুষের বন্ধু হে মোহসীন
এ যুগে তুমিই শোধ করিয়াছ এক আল্লার ঋণ।।
ভোগ করনিক’ বিপুল বিত্ত পেয়ে,
ভিখারী হইলে শুধু আল্লারে চেয়ে;
মহাধনী হলে আল্লার কৃপা পেয়ে, দুনিয়ায়
তাই রহিলে কাঙাল দীন।।

মুসলমানের যে ছবি পশ্চিমবঙ্গবাসী অমুসলমানের চোখে ফোটে, সে কি এই মুসলমান? নবীর শিক্ষা কী ছিল আর কী হয়েছে তা বুঝতে একটুও অসুবিধা হয় না এই গানের কথাগুলি পড়লে। অর্থ ও লোভের বশীভূত মানুষ মুসলমান নয়— এ ধর্মশিক্ষা ক’জন মুসলমান গ্রহণ করতে পেরেছে? নবীজির আদর্শ ক’জন আপন হৃদয়ে উপলব্ধি করে জীবনে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করে? নজরুল সে দিকে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন গানের কথা ও সুর দিয়ে। এই রকম গানের সংখ্যা খুব নগণ্য নয়। উদাত্তকণ্ঠে তিনি বলেছেন—

তোমার বাণীরে করিনি গ্রহণ, ক্ষমা করো হজরত।
ভুলিয়া গিয়াছি তব আদর্শ, তোমার দেখানো পথ।
ক্ষমা করো হজরত।।
বিলাস বিভব দলিয়াছ পায়ে, ধূলিসম তুমি প্রভু,
আমরা হইব বাদশা-নওয়াব, তুমি চাহ নাই কভু।
এই ধরণীর ধন সম্ভার সকলের এতে সম-অধিকার,
তুমি বলেছিলে, ধরণীতে সবে সমান পুত্রবৎ।।

কত দিন আগে লেখা এই গানের কথা আজও বড় মর্মান্তিকভাবে সত্য। ধর্মান্ধতা আজ মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের ছাড়িয়ে অন্য সম্প্রদায়েও প্রভাব ফেলেছে। এই গান তাই কেবল মুসলমানের জন্য নয়, সব মানুষের জন্য! নির্মম সত্য এর প্রতিটি কথা। এই একটি গানই ওদুদের অভিযোগের সঠিক জবাব বলে গণ্য হতে পারে।

মুসলমান সম্প্রদায়ের উৎসব ঈদল-ফিতর, ঈদুজ্জোহা ইত্যাদির মূল কথা মুসলমানও সঠিক জানে না। এই উৎসবগুলির তাৎপর্য বোঝাতে গানের সাহায্য নিয়েছেন নজরুল। সহজ কথায় মন-মাতানো সুরে মানুষের মনের তারে ঝঙ্কার তুলে শেখালেন ঈদ উৎসবের মর্মবাণী—

ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এল খুশির ঈদ।
তুই আপনাকে আজ বিলিয়ে দে শোন্ আসমানী তাকিদ।।

ঈদ-উদ-জোহা, মহরম ইত্যাদি উপলক্ষ করে লেখা তাঁর গানের উদ্ধৃতি স্থানাভাবে দেওয়া সম্ভব হল না। একটি লাইন কেবল বলি— ঈদ-উদ-জোহার দিনে তিনি গাইছেন:

‘মনের মাঝে পশু যে তোর আজকে তা’রে কর জবেহ্’

প্রশ্ন হল, সমগ্র মুসলিম জাহান এই ধর্মকথা মনে রেখে ঈদ-উদ-জোহা পালন করে? এই বার্তা কি সমগ্র দেশবাসীর জন্যেও আজও প্রাসঙ্গিক নয়?

চিত্রণ:  গুগল
5 1 vote
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

Recent Posts

সুজিত বসু

সুজিত বসুর গুচ্ছকবিতা

বিলাপ অভিসার জল আনতে চল রে সখী, জল আনতে চল নিভু নিভু আলোর সাজে সূর্য অস্তাচলে শেষবিকেলের রশ্মিমালায় বুকে ব্যথার ঢল লজ্জা আমার আবির হয়ে

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

যত মত তত পথ

বহুদিক দিয়েই একজন স্বতন্ত্র মননের ধর্মীয় সাধক। তাঁর অনুগামীর সংখ্যা ধারণাতীত, আর তা কেবল তাঁর স্বদেশ বা এই উপমহাদেশেই সীমাবদ্ধ নয়, সারা বিশ্বব্যাপী। এবং দিনের পর দিন তাঁর অনুগামীর সংখ্যা বাড়ছে। শ্রীরামকৃষ্ণ এবং সারদামণি ও স্বামী বিবেকানন্দকে কেন্দ্র করে যে ভাব-আন্দোলন, তার ফলশ্রুতিতে তাঁদের নিয়ে নিয়ত চর্চা ও গবেষণা হয়ে চলেছে। পৃথিবীব্যাপী দুশোর ওপর রামকৃষ্ণ মিশনের কার্যাবলি প্রমাণ করে (প্রতিবছর এর সংখ্যা বাড়ছে), আজকের এই অশান্ত বিশ্বে তাঁরা মানুষের কতখানি আশ্রয়।

Read More »
ড. সোমা দত্ত

রবীন্দ্রনৃত্যভাবনা: প্রেক্ষিত ও চলন [পর্ব ছয়]

রবীন্দ্রভাবনায় যে নৃত্যধারা গড়ে উঠল তা দেশিবিদেশি নৃত্যের সমন্বয়ে এক মিশ্র নৃত্যধারা, তৎকালীন শিক্ষিত শহুরে বাঙালির সংস্কৃতিতে যা নতুন মাত্রা যোগ করল। নাচের প্রতি একরকম আগ্রহ তৈরি করল, কিছু প্রাচীন সংস্কার ভাঙল, মেয়েরা খানিক শরীরের ভাষা প্রকাশে সক্ষম হল। এ কম বড় পাওনা নয়। আরও একটি লক্ষ্যনীয় বিষয় হল, শিল্পক্ষেত্রে ভাবের সাথে ভাবনার মিল ঘটিয়ে নতুন কিছু সৃষ্টির প্রচেষ্টা। গতে বাঁধা প্র্যাক্টিস নয়। নিজের গড়ে নেওয়া নাচ নিজের বোধ অনুযায়ী।

Read More »
ড. সোমা দত্ত

রবীন্দ্রনৃত্যভাবনা: প্রেক্ষিত ও চলন [পর্ব পাঁচ]

বাংলার মাটি থেকে একদা এই সুদূর দ্বীপপুঞ্জে ভেসে যেত আসত সপ্তডিঙা মধুকর। আর রবীন্দ্রনাথের পিতামহ, যাঁর কথা তিনি কোথাও প্রায় উল্লেখই করেন না, সেই দ্বারকানাথ-ও বাংলার তৎকালীন ব্যবসায়ীকুলের মধ্যে প্রধান ছিলেন। শুধু তাই-ই নয়, একদা তাঁর প্রিয় জ্যোতিদাদাও স্টিমারের ব্যবসা করতে গিয়ে ডুবিয়েছেন ঠাকুর পরিবারের সম্পদ। নিজে রবীন্দ্রনাথ বাণিজ্য সেভাবে না করলেও, জমির সম্পর্কে যুক্ত থাকলেও একদা বাংলার সাম্রাজ্য বিস্তার, বাণিজ্য-বিস্তার কী তাঁরও মাথার মধ্যে ছাপ ফেলে রেখেছিল? তাই ইউরোপ থেকে আনা বাল্মিকী প্রতিভার ধারাকে প্রতিস্থাপন করলেন জাভা বালির কৌমনৃত্য দিয়ে?

Read More »
ড. সোমা দত্ত

রবীন্দ্রনৃত্যভাবনা: প্রেক্ষিত ও চলন [পর্ব চার]

তৎকালীন দেশের বাস্তব সত্যের সঙ্গে মিলছে না বর্ণবাদ, উগ্র হিন্দু জাতীয়তাবাদ, মিলছে না পিকেটিং ও বিদেশি দ্রব্য পোড়ানোর আন্দোলন। রবীন্দ্রনাথ দেখতে পাচ্ছেন গ্রামে গ্রামে গরিব মানুষের খাওয়া নেই, নেই বেশি দাম দিয়ে দেশি ছাপ মারা কাপড় কেনার ক্ষমতা। দেখছেন পিকেটিংয়ের নামে গরিব মুসলমানের কাপড়ের গাঁঠরি পুড়ে যাচ্ছে যা দিয়ে সে তার পরিবার প্রতিপালন করে। রবীন্দ্রনাথ প্রতিবাদ করছেন তাঁর লেখায়। ‘গোরা’ ও ‘ঘরে বাইরে’ এমনই দু’টি উপন্যাস। গোরা ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয় প্রবাসী পত্রিকায়। পরে গ্রন্থাকারে প্রকাশ ১৯১০ সালে। ঘরে বাইরের প্রকাশকাল ১৯১৬।

Read More »
ড. সোমা দত্ত

রবীন্দ্রনৃত্যভাবনা: প্রেক্ষিত ও চলন [পর্ব তিন]

সনাতন হিন্দুত্বের কাঠামোয় মেয়েদের অবস্থান কী, তা নিশ্চিত অজানা ছিল না তাঁর। সে চিত্র তিনি নিজেও এঁকেছেন তাঁর গল্প উপন্যাসে। আবার ব্রাহ্মধর্মের মেয়েদের যে স্বতন্ত্র অবস্থান খুব ধীরে হলেও গড়ে উঠেছে, যে ছবি তিনি আঁকছেন গোরা উপন্যাসে সুচরিতা ও অন্যান্য নারী চরিত্রে। শিক্ষিতা, রুচিশীল, ব্যক্তিত্বময়ী— তা কোনওভাবেই তথাকথিত সনাতন হিন্দুত্বের কাঠামোতে পড়তেই পারে না। তবে তিনি কী করছেন? এতগুলি বাল্যবিধবা বালিকা তাদের প্রতি কি ন্যায় করছেন তিনি? অন্তঃপুরের অন্ধকারেই কি কাটবে তবে এদের জীবন? বাইরের আলো, মুক্ত বাতাস কি তবে কোনওদিন প্রবেশ করবে না এদের জীবনে?

Read More »