Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

ফরহাদ মেঘনাদের গুচ্ছ কবিতা

এইসব নির্ভুল পথ

এইসব নির্ভুল পথ চলে গেছে
আত্মহত্যা ধরে কখনও নোনায়
কখনও হাতঘড়িটা মাঠে রুপে দিয়ে
মূলত সহজে মাতা ভ্রমণপনায়

মূলত সহজ এক পাখির শরীরে
অল্পই পাখি থাকে, বাকিটা শিকার
মূলত শিকার এক নোনা জলাভূমি
আনন্দ-মাছের পথচারী পারাপার

মূলত পথচারীরা ভাঙা ভাঙা কাচ
আলোর মাংস তারা বেচে ভাগা দিয়ে
মূলত আঁধার এক সাদা স্তন্যপায়ী
এক কোপে নেয়া যায় মাথাটা ছিনিয়ে

ঘুম

বিউগল বাদক, আপনি কোথায়?
ঝাঁকে ঝাঁকে বকুল পড়েছিল, একটাও নেই আর
দিনখোর শ্যালো মেশিনটা এরই মধ্যে তুলে ফেলেছে অগুনতি ঢেকুর
একটি আদর্শ ঘুড়ির লেজও প্রায় তৈরি নাবালকের হাত ধরে
অথচ আপনার দেখা নেই
এত দেরি করলে চলে?
কী মনে হয় আপনার—
স্বজন হারানোর এক মাস পর মানুষের ঘুম পায়,
না কয়েক ঘণ্টা পর?

ধুলোরা ভাইরাল হয়ে যাচ্ছে ঝাড়ুর সাহায্যে

ধুলোরা ভাইরাল হয়ে যাচ্ছে ঝাড়ুর সাহায্যে
ঝাড়ুরা যমজ ভাই
সুরতে-স্বভাবে আওয়াজ তুলছে
‘ওমুক তোমাকে চাই’

ওমুকপন্থী বহুতে সইছে
এক শরীরের কাঁপ
ধুলোরা ভাইরাল হয়ে যাচ্ছে ঝাড়ুর সাহায্যে
ধুলোর মনখারাপ

ধুলো ও ঝাড়ুর মাঝে পড়ে আছে প্রায় খাওয়া এক রুটি
অনেক কামড়ে বোঝা যাচ্ছে না, আমার কামড় দু’টি

হাস্নুহেনা

‘আমাকে পাশ কাটিয়ে তারা রিকশা নেয় মতিঝিলের,
তারা সেখান থেকে আজিজ মার্কেট যায়
দুনিয়া আনন্দে কালো হয়ে আসে
তাদের হুডের ওপর গান ধরে
মেঘদের কানাই দাস বাউল

আমাকে পাশ কাটিয়ে তারা আরো করে কি—
ঢকঢক করে জীবন খায়, জীবন গায়ে মাখে
তারা যেন উদোম কড়ই পাতা—
ঝরে পড়ে একে অন্যের গায়ের ওপর নির্লজ্জের মতো

অনেক আগে তাদের একজনকে আমি দুঃখ দিয়েছিলাম,
আজ তার জন্য দুঃখ পাই
তার জন্য বুকের ভেতর শাপলা ফোটাই,
ধরতে দেই না নিজেকেও’

বিগত কোনও শুক্র-শনিবারে
এমন কোনও কবিতা তুমি লিখেছিলে হাস্নুহেনা?

ঈশ্বরের বেহেশত

খোয়াবের জঙ্গলে তুষার বৃষ্টিতে
কিছু স্বল্প-চেনা মানুষ উষ্ণতা নিয়ে এগিয়ে আসার পর
আর কিছু ভাল লাগে না
আকাশে গুড়গুড় স্বরে কম্বল ডাকে
দূরে হাতছানি দেয় কম্বলচিকা

লানত সেই কম্বল-অপেক্ষার বোধে
লানত অপেক্ষাহীনতায়
অপেক্ষারা জানে তারা কতটা বর্ণাঢ্য
জানে— এক প্রকার মানুষ ভাইরাস অপেক্ষা-রোগ ছড়ায়

জানুক,
কিছুতেই কিছু যায় আসে না আমার
আমি শুধু বাঁশি বাজানো শিখতে যাই একজনের কাছে‌—
যিনি বাজাতে জানেন না নিজেই
শুধু শরীর বেয়ে সুরের মতো লাউ লতা উঠে গেলেও থাকেন নির্ভার

নির্ভার মানুষের পায়ের নিচে ঈশ্বরের বেহেশত!

চিত্রণ: চিন্ময় মুখোপাধ্যায়
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments

Recent Posts

সাবিনা ইয়াসমিন

শিলং ঘোরা

নদীর মাঝখানে একটা মস্ত পাথরের চাঁই। তারপরে সিলেট, বাংলাদেশের শুরু। কোনও বেড়া নেই। প্রকৃতি নিজে দাঁড়িয়ে দুই পারের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

আষাঢ়স্য প্রথম দিবস

পয়লা আষাঢ় বলতে অবধারিতভাবে যে কবিকে মনে না এসে পারে না, তিনি হলেন মহাকবি কালিদাস। তিনি তাঁর ‘মেঘদূত’ কাব্যে পয়লা আষাঢ়কে অমরত্ব দিয়ে গেছেন।

Read More »
উত্তম মাহাত

কল্পোত্তমের দুটি কবিতা

দশাধিক বছরের সূর্যোদয় মনে রেখে/ শিখেছি সংযম, শিখেছি হিসেব,/ কতটা দূরত্ব বজায় রাখলে শোনা যায়/ তোমার গুনগুন। দেখা যায়/
বাতাসের দোলায় সরে যাওয়া পাতার ফাঁকে/ জেগে ওঠা তোমার কৎবেল।// দৃষ্টি ফেরাও, পলাশের ফুলের মতো/ ফুটিয়ে রেখে অগুনতি কুঁড়ি/ দৃষ্টি ফেরাও সুগভীর খাতে/ বুঝিয়ে দাও/ তোমার স্পর্শ ছাড়া অসম্পূর্ণ আমার হাঁটাহাঁটি।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়: অনন্যতাসমূহ

বিভূতিভূষণ, বনফুল, সতীনাথ ভাদুড়ীর মতো তিনিও ডায়েরি লিখতেন। এ ডায়েরি অন্য এক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সামনে এনে দাঁড় করায়। মদ্যাসক্ত মানিক হাসপাতালে লুকিয়ে রাখছেন মদের বোতল। ডাক্তার-নার্সকে লুকিয়ে মদ খাচ্ছেন। আর বাঁচার আকুলতায় মার্ক্সবাদী মানিক কালীর নাম জপ করছেন! তবু যদি শেষরক্ষা হত! মধুসূদন ও ঋত্বিক যেমন, ঠিক তেমন করেই অতিরিক্ত মদ্যপান তাঁর অকালমৃত্যু ডেকে আনল!

Read More »
মধুপর্ণা বসু

মধুপর্ণা বসুর দুটি কবিতা

ভয় পেলে ভয়ংকর সত্যি ধারালো ছুরির মতো/ খুব সন্তর্পণে এফোঁড়ওফোঁড় তবুও অদৃশ্য ক্ষত,/ ছিঁড়ে ফেলে মধ্যদিনের ভাতকাপড়ে এলাহি ঘুম/ দিন মাস বছরের বেহিসেবি অতিক্রান্ত নিঃঝুম।/ গণনা থাক, শুধু বয়ে চলে যাওয়া স্রোতের মুখে/ কোনদিন এর উত্তর প্রকাশ্যে গাঁথা হবে জনসম্মুখে।/ ততক্ষণে তারাদের সাথে বুড়ি চাঁদ ডুবেছে এখন,/ খুঁজে নিতে পারঙ্গম দুদণ্ড লজ্জাহীন সহবাস মন।

Read More »
নন্দদুলাল চট্টোপাধ্যায়

ছোটগল্প: জমির বিষ

বিষয় মানেই বিষ। তালুকেরও হুল ছিল। বছরে দু’বার খাজনা দিতে হতো। আশ্বিন মাসে দুশ’ টাকা আর চত্তির মাসে শেষ কিস্তি আরো দুশ’ টাকা। এই চারশ’ টাকা খাজনার চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত। সে বছর বাবার ভীষণ অসুখ। বাতে একদম পঙ্গু, শয্যাশায়ী। অসুস্থ হয়ে জমিদারের ছুটি মিলল। কিন্তু খাজনা জমা দেবার ছুটি ছিল না। চত্তির মাসের শেষ তারিখে টাকা জমা না পড়লেই সম্পত্তি নিলাম হয়ে যেত।

Read More »