Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

বিশেষ নিবন্ধ: অরিজিৎ চক্রবর্তী

কলকাতার গানের বাড়ি

বহু বছর আগের সেই রাত। তখনও কলকাতায় আসেনি বিদ্যুতের আলো। বাড়িতে বাড়িতে তখন রকমারি ঝাড়লন্ঠন আর বাহারি সেজবাতি। বহুবাজারের এই বাড়িতেও শিল্পী এবং অগণ্য শ্রোতার মাথার উপর জ্বলছে ঝাড়লন্ঠন। বেলজিয়াম-বর্ন কাটগ্লাসের প্রিজমে ছড়ানো নানা রঙের নকশা প্রতিফলনে ঠিকরে যাচ্ছে দেওয়ালের মার্বেলে। ছড়ানো কার্পেটে ভদ্রজন। চিকের আড়ালে মহিলারা রয়েছেন, দোতলার থামের আড়ালে নিশ্চুপ হয়ে রয়েছে পারাবত পরিবার। কী করে যেন জেনে গেছে তারাও যে, এই ক’রাতে শব্দ করতে নেই। গান চলছে যে! বেহাগের গান্ধারে নিবিষ্ট সবাই। পাঙ্খাবরদারের নিরন্তর আকর্ষণ ঝুলন্ত টানাপাখাকে দুলিয়ে দিচ্ছে চৌতালের তালে তালে। হেমন্তের রাতে গরম হয়তো তেমন নেই, কিন্তু বাজনের প্রয়োজন। কারণ এ গান গাইতে প্রচুর পরিশ্রম। বাট করছেন শিল্পী, নিখুঁত লয়ের মাপে। খানিক আগেই পাখোয়াজিকে একটু ছাড় দিয়েছিলেন শিল্পী। সুযোগ বুঝে বাদক প্রতিপক্ষকে প্রায় ধরাশায়ী করে ফেলতে যাচ্ছিলেন প্যাঁচের কেরামতিতে কিন্তু পাল্টা প্যাঁচের কায়দায় শিল্পী বাদককে পরাস্ত করে ফেললেন। গানের খেলায় কার হার, কার বা জিত? এই পাখোয়াজিরাই অনর্গল একুশটা ধা মেরে ধ্রুপদিয়াকে আসর ছাড়া করে দিতে পারতেন আবার শিল্পী এমন ধ্রুপদ নিলেন যে, পাখোয়াজির সম খুঁজতেই প্রাণান্ত।

এই বাড়িতে এখন এক দুরন্ত বাট আড় কুয়াড় বিয়াড়– এর পাল্লা পেরিয়ে প্রচণ্ড বেগে বসমে পড়ল। অনেক শ্রোতার কষ বেয়ে গড়িয়ে পড়ল পানের পিক। ঘুমন্ত অনেক শ্রোতা হঠাৎ জেগে উঠলেন। সরবে হর্ষধ্বনি উঠল। “বেশ বেশ বেশ”। গৃহকর্তা অধিকারী মশাই অর্থাৎ রামকানাই অধিকারী নিজে পাখোয়াজি, পশ্চিমী শিল্পী মনমোহনের বিস্তর তালিম নিয়েছেন। শশব্যস্ত রামকানাই তারিফ জানিয়ে এলেন শিল্পীকে।

রামকানাই অধিকারীর সেই আমল আর নেই। নেই বহুবাজারের রাস্তা ধরে চলা ঘোড়ায় টানা ট্রাম, নেই জুড়িগাড়ি, পালকি, নেই সেই কার্পেট, রুপোর পানদানি। ঝাড়লন্ঠনের খাঁজে বিলিতি ওয়্যাক্স ক্যান্ডেল লাইটের বদলে এসে গেছে আধুনিক বাল্ব। বহুবাজার এলাকার শশীভূষণ দে স্ট্রিট ধরে নেবুলতার দিকে খানিকটা যেতেই ডানহাতি গলিতে লাল রঙের দুটি পুরনো বাড়ি চোখে পড়বে। একই গড়নের বাড়িদুটি, মাঝামাঝি একফালি পথদুটি বাড়িকে ভেদ করে চলে গেছে এবং সাকিন নম্বরও ভিন্ন হয়ে গেছে। সেকালের প্রাসাদনগরী কলকাতার শৈল্পিক জাতের মাপকাঠিতে হয়তো বাড়িটি নেহাতই সাদামাটা কিন্তু বাড়িটি নজর কারে এক নকশাদার অদ্ভুত সাঁকোর জন্য। দোতলায় রাস্তার আড় বরাবর এই ঝুলন্ত সাঁকো দুই বাড়ির সংযোগ সেতু– অন্দরবাসিন্দাদের এবাড়ি-ওবাড়ি পারাপারের পথ। গলি তস্য গলির কঙ্কালসার সব বাড়ির মধ্যে বেশ স্বাস্থ্যবান, স্বতন্ত্র এবং আভিজাত্যপূর্ণ এই লাল বাড়িটি। বাড়ির নাম অধিকারী বাড়ি আর ঝুলন উৎসব খুব ঘটা করে হয় বলে আরেক নাম ঝুলনবাড়ি। এবাড়িতেই আদিপুরুষ রামকানাই জন্মেছিলেন ১৮৪৬ সালে, পিতামহ কৃষ্ণমোহন তেজারতি ব্যবসা করতেন। তিনিই বাড়িটি তৈরি করেছিলেন। রামকানাইয়ের আমল থেকে ব্যবসা আরো বড় হল। বাড়িটির সংস্কার এবং পুনর্বধন ঘটল শুধু সঙ্গীতের প্রয়োজনে। রে পামারের থামওলা সাঁকোও তৈরি হয়ে গেল ও বাড়িতে গান শুনতে যাবার জন্য। ক্রমে তাবড় গুণীর যাতায়াতের পীঠস্থান হয়ে উঠল এই বাড়িটি।

এই বাড়িতেই রবীন্দ্রনাথের শিক্ষাগুরু যদুভট্টের গানে পাখোয়াজ সঙ্গত করতেন রামকানাই অধিকারী। সে ১৮৭০-৭৫ সালের কথা। হীরুবাবু-শ্যামবাবু থেকে শুরু করে এটি কানন, ভিজি যোগ, মশকুর আলি খাঁ সাহেব, জ্ঞানপ্রকাশ ঘোষের মতন স্বনামধন্য শিল্পী এই বাড়িতে গান গেয়েছেন। যদুভট্ট রামকানাইয়ের থেকে ছ’ বছরের বড়, মাত্র ছেচল্লিশ বছরের জীবনে বিশাল খ্যাতিসম্পন্ন হয়ে উঠেছিলেন। কে না তার শিষ্য, মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথের দুই পুত্র জ্যোতিন্দ্রনাথ-রবীন্দ্রনাথ তালিম নিচ্ছিলেন যদুভট্টের কাছে। যদুভট্টের জোড়াসাঁকোর যাতায়াত এই বাড়ি থেকেই ছিল। বাংলার শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ইতিহাসে যদুনাথ ভট্টাচার্য এক যুগান্তকারী পুরুষ। ১৮৪০ সালে জন্মগ্ৰহণ করেন যদুভট্ট। জীবনের অনেকটা সময় তাঁর কেটেছিল বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুরের খাদাকুড়ি গ্ৰামে। বঙ্কিমচন্দ্র নিজে যদুভট্টের কাছে সঙ্গীত শিক্ষাগ্রহণ করলেও বন্দেমাতরম গানটির প্রথম সুর নাকি তৈরি করেছিলেন যদুভট্ট। ভাটপাড়ায় বসে তিনি এই সুর তৈরি করেন। সেইসময় এই গানটি তৈরি করা হয়েছিল রাগ- মালহার, তাল কাওয়ালি-তে।

‘জীবনস্মৃতি’-তে রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন তাঁর অভিজ্ঞতা। জোড়াসাঁকো বাড়িতে সকাল-সন্ধ্যা চলছে দেশীয় গানের চর্চা। বালক রবিকেও পাঠানো হল গান শেখার জন্য বিষ্ণু চক্রবর্তীর কাছে। রবীন্দ্রনাথের যখন তেরো-চোদ্দো বছর বয়স, বিষ্ণুপুর ঘরানার যদুভট্ট আসেন কলকাতায়। তাঁর কাছে শুরু হয় শাস্ত্রীয় সংগীত চর্চা। অপরদিকে পাথুরেঘাটার প্রিন্স সুরেন্দ্রমোহন টেগোর বিষ্ণুপুর ঘরানার বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী ক্ষেত্রমোহন গোস্বামীর কাছে নাড়া বেঁধেছেন তখন। ফলে বিষ্ণুপুর ঘরানার সব তাবড় তাবড় গাইয়েদের সমাবেশ ঘটত জোড়াসাঁকো ও পাথুরেঘাটা রাজবাড়িতে। বিষ্ণুপুর ঘরানা ও তার রাগগুলির প্রতি রবীন্দ্রনাথের এই আত্মিকতা ও ভালবাসা প্রকাশ পেয়েছে তাঁর অনেক গানে।

কলকাতার শিল্পীরা, যেমন অঘোর চক্রবর্তী, বিহারীবাবু, রাধিকা গোস্বামী– এ বাড়ির নাড়ির টানে বাঁধা ছিলেন। পরবর্তী কালে দানীবাবু, মহিম মুখার্জি, যোগেন ব্যানার্জি, ধীরেন ভট্টাচার্য, দুর্লভ ভট্টাচার্য, কেশব মিত্র; আরও পরে রাজীবলোচন দে, দীনু হাজরা প্রমুখ অনেক ধ্রুপদিয়া পাখোয়াজির কলাক্ষেত্র এটি। চল্লিশের দশকে জ্ঞান গোস্বামী আসতেন। এখানে গান গেয়েছেন এ কানন, মালবিকা কানন। তাঁদের স্মৃতির পাতায় উঠে এসেছে নানা ঘটনা। কানন বলেছিলেন, নানা গুণীর পদচিহ্ন রক্ষিত এ বাড়িতে গান গেয়েই নাকি তিনি প্রাণঘাতী রোগ থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন।

কলকাতায় এক সময় অনেক বাড়ির বেশ অন্যরকম পরিচয় ছিল। কোনওটা ঘড়িওয়ালা বাড়ি, কোনওটা পাখির বাড়ি, কোনওটা দোল-দুর্গোৎসব বাড়ি। এছাড়াও বেশ কিছু বাড়ি ছিল যাদের বুকের স্পন্দন বাঁধা ছিল সুরের সঙ্গে। ধ্রুপদ, ধামাল, খেয়াল, ঠুমরির স্রোত বয়ে যেত সে বাড়ির অন্দরে। তেমনই গানের বাড়ি বহুবাজারের অধিকারী বাড়ি। ধ্রুপদ-ধামারের ঐতিহ্য সংরক্ষণে যার অবদান বহুশ্রুত। আবার কলকাতার ঝুলন প্রসঙ্গে ‘ঝুলনবাড়ি’-র কথা বিশেষ উল্লেখ্য। এই নামেই পরিচিত বউবাজারের রামকানাই অধিকারীর বাড়ি। প্রায় ২০০ বছর আগে এই পরিবারের আদিপুরুষ কৃষ্ণমোহন অধিকারী ঝুলন উৎসবের প্রচলন করেন। পরে তাঁর পৌত্র রামকানাই অধিকারী সাড়ম্বরে এই উৎসবের প্রচলন করেছিলেন। এই বাড়ির রাধাবল্লভ জিউর ঝুলন উৎসব আজও বহু মানুষকে আকৃষ্ট করে। এ বাড়িতে এই ঝুলন উৎসব হয় পাঁচ দিন ধরে। আর তাই এই পাঁচ দিনে দেবতাকে বিভিন্ন বেশে সাজানো হয়। প্রথম দিন রাখাল বেশ, দ্বিতীয় দিন যোগী বেশ, তৃতীয় দিনে সুবল বেশ, চতুর্থ দিনে হয় কোটাল বেশ এবং শেষ দিনে রাজ বেশ। প্রথম দিনে হোম করে ঝুলন উৎসবের সূচনা করা হয়। এর পরে দেবতাকে এক এক দিন এক এক রকমের ভোগ নিবেদন করা হয়। পুরনো ঐতিহ্য বজায় রেখে আজও পাঁচ দিনের এই উৎসবে আত্মীয় সমাগম হয়। সঙ্গে চলে ধ্রুপদী সঙ্গীতের মনোজ্ঞ অনুষ্ঠান। দীর্ঘ সময়ের ঐতিহ্যকে আঁকড়ে ধরে আজও অধিকারী বাড়ি স্বমহিমায় উজ্জ্বল। এই বাড়ির প্রতিটি অলিন্দে ধ্রুপদ ধামালের উচ্চারিত ধ্বনি, সুর ও মর্মর!

চিত্র: গুগল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

three × 4 =

Recent Posts

মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

আমেরিকার স্বাধীনতা: আড়াইশো বছর

১৬০৭ থেকে ১৭৮৩ পর্যন্ত সময়কাল আমেরিকায় ব্রিটেনের ঔপনিবেশিক রাজত্ব। আজকের দিনে যে আমেরিকা, তা কিন্তু পুরোটা ব্রিটিশদের দখলে ছিল না। ছিল ভার্জিনিয়া, ম্যাসাচুসেটস, নিউ ইয়র্ক, পেনসিলভেনিয়া-সহ ১৩টি রাজ্য। আর কানাডার বেশ কিছু অঞ্চল। আমেরিকার অন্যান্য স্থানে ফরাসি, ডাচ, নরওয়েজিয়, সুইডিস উপনিবেশ-ও ছিল। তাছাড়া রাশিয়া আমেরিকার আলাস্কা থেকে ক্যালিফোর্নিয়া পর্যন্ত দখল করে। পরে সে আলাস্কা আমেরিকার কাছে বিক্রিও করে দেয়।

Read More »
অপরাজিতা মৈত্র

গোদাবরীর গোমুখে

গঙ্গার মর্ত্যে আগমন নিয়ে যেমন ভগীরথের গল্প, তেমনই গোদাবরীর উৎসস্থলে না এলে জানা যেত না, দক্ষিণের গঙ্গা নিয়েও আছে হাজার গল্প। যে গল্প জানাবে আজও এই অঞ্চলের মানুষ অনেক সময়েই কাছাকাছি আর কোনও পানীয়জল না পেয়ে কষ্ট করে হলেও এই উৎসস্থলে এসেই শীতল এই পানীয়জল নিয়ে যান নিজেদের কাজের জন্য। গঙ্গা বা অন্য নদী সে শুধু ধার্মিক আবেগের কারণে পবিত্র না, হাজার প্রাণীর ‘তৃষ্ণা’ মেটাবার জন্য সে হয়ে ওঠে ‘দেবী’ বা ‘পবিত্র’। সে পথে মিশে যায় হাজার গল্প-কষ্ট কিংবা দিনযাপনের চরম বাস্তবতা।

Read More »
রুহ

রুহের কবিতাগুচ্ছ

একই আলোকমালায় কাটিয়েছি/ বহুকাল দু’জনে…/ বলিনি কখনও।/ তারা খসা দেখেছি একসাথে, যদিও/ গোপন থেকেছে চাওয়া-পাওয়া।/ মাঝে বহুদিন, বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো/ একা… নীরবে বয়েছি যাতনা।/ আজ মিথ্যের নেই অবকাশ/ তোমাকে কি পড়েনি মনে/ কোনও মুহূর্ত বা ক্ষণে/ ভাবিনি কি একান্ত বন্ধু আমার—/ এতদিন পরে, পুনর্মিলনে বলেছ/ পাখি হতে চেয়েছিলে এ জীবনে

Read More »
কাজী তানভীর হোসেন

যুদ্ধ: বৈশ্বিক কসাইখানা, পুঁজির সংকট ও শ্রমের মুক্তি

অবিক্রীত পণ্যের পাহাড় যখন পুঁজির পুনরুৎপাদনকে বাধাগ্রস্ত করে, তখন পুঁজিপতিরা তীব্র আতঙ্কে ভোগে। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য তারা প্রতিযোগী পুঁজিপতির বাজার ও পণ্য ধ্বংস করতে চায়। আর এই ধ্বংসের বৈধ হাতিয়ার হিসেবে তারা রাষ্ট্র ও সামরিক বাহিনীকে ব্যবহার করে যুদ্ধ বাধিয়ে দেয়। অর্থাৎ, উদ্বৃত্ত পণ্য এবং অতিরিক্ত শ্রমকে ধ্বংস করে পুঁজির ভারসাম্য ফিরিয়ে আনাই বুর্জোয়া যুদ্ধের মূল উদ্দেশ্য। এই শোষণের প্রক্রিয়াকে আড়াল করতে রাষ্ট্র একদল বুদ্ধিজীবী ও নীতিবিদ লালন করে, যারা কৃত্রিম ‘দেশপ্রেম’ ও ‘জাতীয়তাবাদ’-এর আফিম খাইয়ে শ্রমিককে বিভ্রান্ত রাখে, যাতে তারা শোষক ও শোষিতের মধ্যকার মৌলিক শ্রেণি-পার্থক্য ভুলে যায়।

Read More »
প্রসেনজিৎ চৌধুরী

বিশ্বকাপ জৌলুসে আর্জেন্টিনা গণহত্যার বধ্যভূমি

বুয়েনস আইরেসের রিভার প্লেটের যে স্টেডিয়ামে তখন খেলা হত, তার মাত্র এক মাইল দূরে ছিল সামরিক সরকারের বন্দিশিবির নেভি স্কুল অব ম্যাকনিকস। সাংবাদিক ডেভিড কক্স ফুটবল বিশ্বকাপের খবর সংগ্রহ করতে গেছিলেন। তিনি ‘ডার্টি ওয়ার’ বইতে লিখেছিলেন, যখন স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার ম্যাচ চলত তখন ওই টর্চার সেল থেকে কান্নার শব্দ শোনা যেত। আর্জেন্টিনার ভুবনমোহিনী ফুটবলে লেগে আছে রক্ত।

Read More »
রাধাবল্লভ রায়

ধর্মযুদ্ধ

এই যে সংবাদমাধ্যমে প্রতিদিন শতমুখে বিদ্বেষ ছড়ানো হয়, এই যে ফেসবুক জুড়ে বিশেষ সম্প্রদায়কে চিহ্নিত করে সম্মানীয় নেতা-মন্ত্রীদের কুৎসিত ইঙ্গিত, হিংসার প্রদর্শনী— এর প্রতিক্রিয়া কোথায় গিয়ে ঠেকে তাঁরা কি জানেন? পাড়ায় পাড়ায়, রকের আড্ডায়, ক্লাবের আড্ডায়— সর্বত্র বয়োজ্যেষ্ঠদের নির্বোধ অসংযত উচ্চারণ কোন শিশুর হৃদয়ে কেমন ভাবে প্রোথিত হয় তাঁরা কি জানেন? ভেবে দেখেছেন কি এই বিদ্বেষিতার মধ্যে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে আগামী প্রজন্ম?

Read More »