Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

জাতপাতের বিরোধিতায় বঙ্কিমচন্দ্রের ‘সাম্য’

মাঝেমধ্যেই ট্রায়াল চলে। উনিশ শতকে বাংলার নবজাগরণের কীর্তিমান পুরুষদের বিচার করেন কয়েকজন ‘ঘোরতর সত্যানুসন্ধানী’। ওই কীর্তিমানেরা বিরাট উঁচু, আমরা নেহাতই বামন (খর্বট, খল্লাটদের মত)। তাঁদের উচ্চতার ধারেকাছে যাওয়া সম্ভব নয়, কারণ তা পরিশ্রমসাধ্য। তাই সেই কীর্তিমানদের টেনে নামানোর একটা ব্যর্থ চেষ্টা চলে। না, নীচু তাঁরা হন না, আমরাই আরও ছোট হই। তাঁদের কীর্তির শ্বেতপাথরের মিনারে আমাদের ফেলা পানের পিক ইতরবিশেষ ঘটায় না।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮-১৮৯৪) ছিলেন সেই কীর্তিমানদের একজন। সুতরাং তাঁরও বিচার হয়েছে। প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে তাঁর বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ।

১. তাঁর প্রথম অপরাধ সম্ভবত তিনি ব্রাহ্মণসন্তান (সুতরাং স্বভাবতই ব্রাহ্মণ্যবাদী হবেন),
২. তিনি ডেপুটির চাকরি করতেন (ঔপনিবেশিক শোষণের সহায়ক ছিলেন তাই),
৩. ভয়ংকর সাম্প্রদায়িক (‘নেড়ে’ ইত্যাদি শব্দ লিখেছেন),
৪. ধর্ম ও ভাববাদী নানা লেখাপত্র লিখেছেন।

বঙ্কিমচন্দ্রর বিরাট অবদানের তুলনায় এই সমস্ত অভিযোগ নেহাতই তুরুশ্চু। বঙ্কিমচন্দ্র শুধু বাংলা গদ্য ও উপন্যাসের অন্যতম জনকই ছিলেন না, বাংলায় বিজ্ঞান নিয়ে লেখালেখির প্রথম যুগের একজন লেখক এবং বাংলায় প্রগতিশীল লেখাপত্রর একজন পথিকৃৎ। হ্যাঁ বঙ্কিমচন্দ্র, যাঁকে প্রতিক্রিয়াশীলের তকমা লাগাতে পারলেই আমরা খুশি হই।

বঙ্কিমের ‘সাম্য’ বইটি বেরোয় ১৮৭৯ সালে। পাঁচটি পরিচ্ছেদ। সেগুলি আলাদা আলাদা করে ‘সাম্য’ ও ‘বঙ্গদেশের কৃষক’ নামে ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকায় বেরিয়েছিল। আর্থিক ও সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে ও এইসব ক্ষেত্রে সাম্যনীতি প্রয়োগের কথা বলে লেখা এই বই। অবশ্যই সীমাবদ্ধতা অনেক, কিন্তু তাতে লেখকের উদ্দেশ্যের কোনও হানি হয় না। বঙ্কিমচন্দ্র নিজের দেশের মানুষের আর্থিক দুর্দশা এবং অশিক্ষা নিয়ে অত্যন্ত চিন্তিত ছিলেন। একটি তত্ত্বে নিজের মত করে বিশ্বাস করতেন, দেশের মানুষের মধ্যে জ্ঞানচর্চা না বাড়লে দুর্দশার হাত থেকে মুক্তি নেই।

‘সাম্য’-র ভূমিকায় লিখেছিলেন, ‘স্বদেশীয় সাধারণ জনগণকে এই তত্ত্বটি [সাম্যতত্ত্ব] বুঝাইবার জন্য লিখিয়াছি। সুশিক্ষিত যদি ইহাতে কিছু পঠিতব্য না পান, আমি দুঃখিত হইব না। অশিক্ষিত [=ইংরিজি না-জানা] পাঠকদিগের হৃদয়ে এই নীতি অঙ্কুরিত হইলে আমি চরিতার্থ হইব।’ অর্থাৎ বঙ্কিমচন্দ্রের উদ্দেশ্য, এই বইয়ের মাধ্যমে আর্থিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে সাম্যনীতি প্রণয়নের জন্যে সাধারণের মধ্যে প্রোপাগান্ডা করা। কী আছে ‘সাম্য’-য়? আর্থিক বৈষম্য, জাতপাত, নারীপুরুষ বিভেদের বিরোধিতা আছে, বাংলার কৃষকদের দুরবস্থার বর্ণনা আছে, বুদ্ধ-যিশু এবং রুশোর মতবাদের কথা আছে, ফরাসি বিপ্লবের কথা আছে, আর আছে কমিউনিজমের কথা।

চিন্মোহন সেহানবীশ বলেছেন, ‘‘‘কম্যুনিজম’, ‘সোশিয়ালিস্ট’, ‘কম্যুনিস্ট’ প্রভৃতি শব্দ এইভাবে প্রথম ব্যবহার করলেন স্বয়ং বঙ্কিমচন্দ্র। আর ‘প্রথম আন্তর্জাতিক’ অর্থে ‘ইন্টারন্যাশনাল’ শব্দের প্রয়োগও এ-দেশে প্রথম তাঁরই হাতে।” এসেছে ওয়েন, লুই ব্ল্যাঁ, কাবে, সেন্ট সাইমন, ফুরিএর, প্রুধো প্রভৃতিদের সাম্যমূলক মতবাদের কথা। মার্কস-এঙ্গেলসের কথা আসেনি। সেই সময় মার্কস-এঙ্গেলসের নাম বা লেখাপত্রর সঙ্গে ভারতীয়দের তেমন পরিচয়ই সম্ভবত ছিল না।

‘সাম্য’-র দ্বিতীয় প্যারাগ্রাফটা আবার পড়া যাক। বঙ্কিমচন্দ্রর বক্তব্য বুঝতে সুবিধে হবে।

‘বড় লোকে ছোট লোকে এ প্রভেদ কিসে? রাম বড় লোক, যদু ছোট লোক কিসে? তাহা নিন্দক লোকে এক প্রকার বুঝাইয়া দেয়। যদু চুরি করিতে জানে না, বঞ্চনা করিতে জানে না, পরের সর্ব্বস্ব শঠতা করিয়া গ্রহণ করিতে জানে না, সুতরাং রাম বড় লোক। অথবা রাম নিজে নিরীহ ভালো মানুষ, কিন্তু তাহার প্রপিতামহ চৌর্যবঞ্চনাদিতে সুদক্ষ ছিলেন; মুনিবের সর্ব্বস্বাপহরণ করিয়া বিষয় করিয়া গিয়াছেন, রাম জুয়াচোরের প্রপৌত্র, সুতরাং সে বড় লোক। যদুর পিতামহ আনিয়া আপনার খাইয়াছে— সুতরাং সে ছোট লোক। অথবা রাম কোনো বঞ্চকের কন্যা বিবাহ করিয়াছে, সেই সম্বন্ধে বড় লোক। রামের মাহাত্ম্যের উপর পুষ্পবৃষ্টি কর।’

এবার আসা যাক ‘সাম্য’-য় জাতপাত প্রসঙ্গে। বঙ্কিমচন্দ্র বুঝেছিলেন এ দেশের সবচেয়ে বড় অভিশাপ এই জাতপাত— যা হল হিন্দুধর্মর মূল ভিত্তি। হিন্দুধর্ম মোটেই কোনও ধর্মগ্রন্থভিত্তিক ধর্ম নয়। যেমন কোরানভিত্তিক ইসলাম কিংবা বাইবেলভিত্তিক খ্রিস্টধর্ম। বেদবেদান্ত গীতা থাকলেও হিন্দুধর্মর মূল জীবনীশক্তি জাতপাত। সেই ১৮৭৩-এ বঙ্কিমচন্দ্র লিখছেন,

‘পৃথিবীতে যত প্রকার সামাজিক বৈষম্যের উৎপত্তি হইয়াছে, ভারতবর্ষের পূর্ব্বকালিক বর্ণবৈষম্যের ন্যায় গুরুতর বৈষম্য কখন কোন সমাজে প্রচলিত হয় নাই। অন্য বর্ণ অবস্থানুসারে বধ্য— কিন্তু ব্রাহ্মণ শত অপরাধেও অবধ্য। ব্রাহ্মণে তোমার সর্ব্বপ্রকার অনিষ্ট করুক। তুমি ব্রাহ্মণের কোনোপ্রকার অনিষ্ট করিতে পারিবে না। তোমরা ব্রাহ্মণের চরণে লুটাইয়া তাহার চরণরেণু শিরোদেশে গ্রহণ কর— কিন্তু শূদ্র অস্পৃশ্য। শূদ্রস্পৃষ্ট জল পর্য্যন্ত অব্যবহার্য। এ পৃথিবীর কোন সুখে শূদ্র অধিকারী নহে, কেবল নীচবৃত্তি তাহার অবলম্বনীয়। জীবনের জীবন যে বিদ্যা, তাহাতে তাহার অধিকার নাই। সে শাস্ত্রে বদ্ধ, অথচ শাস্ত্র যে কি, তাহা তাহার স্বচক্ষে দেখিবার অধিকার নাই। তাহার নিজ পরকালও ব্রাহ্মণের হাতে। ব্রাহ্মণ যাহা বলিবেন তাহা করিলেই পরকালে গতি। নহিলে গতি নাই। ব্রাহ্মণকে দান করিলেই পরকালে গতি, কিন্তু শূদ্রের সেই দান গ্রহণ করিলেও ব্রাহ্মণ পতিত। ব্রাহ্মণের সেবা করিলেই শূদ্রের পরকালে গতি। অথচ শূদ্রও মনুষ্য, ব্রাহ্মণও মনুষ্য। প্রাচীন ইউরোপের বন্দী এবং প্রভু মধ্যে যে বৈষম্য, তাহাও এমন ভয়ানক নহে।’

আজকাল এসব কথা বললে প্রশংসা পাওয়া যায়, পিঠ চাপড়ানি জোটে, প্রগতিশীল ইমেজ তৈরি হয়। কিন্তু তখন এইসব কথা বলতে গেলে কলজের জোর লাগত। এইসব কথা লেখার জন্যে বিরাট ক্ষতি হওয়ারও সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু সত্যি কথা বলার সৎসাহস দেখানো থেকে পিছপা হওয়ার মানুষ বঙ্কিমচন্দ্র ছিলেন না। এক সময়ের মানবসভ্যতার পীঠস্থান ভারতের অবনতির মূলেও যে এই জাতপাতের বিভাজন সে-কথাও তিনি স্পষ্টই ঘোষণা করেন। বঙ্কিমচন্দ্র লিখছেন,

‘এই গুরুতর বর্ণবৈষম্যের ফলে ভারতবর্ষ অবনতির পথে দাঁড়াইল। সকল উন্নতির মূল জ্ঞানোন্নতি। পশ্বাদিবত ইন্দ্রিয়তৃপ্তি ভিন্ন পৃথিবীর এমন কোন একটি সুখ তুমি নির্দ্দেশ করিয়া বলিতে পারিবে না, যাহার মূল জ্ঞানোন্নতি নহে। বর্ণবৈষম্যে [জাতপাত] জ্ঞানোন্নতির পথরোধ হইল। শূদ্র জ্ঞানালোচনার অধিকারী নহে; একমাত্র ব্রাহ্মণ তাহার অধিকারী। ভারতবর্ষের অধিকাংশ ব্রাহ্মণেতরবর্ণ। অতএব অধিকাংশ লোক মূর্খ হইল।’

এরপর ব্রাহ্মণদের ভূমিকা নিয়ে বলতে গিয়ে বঙ্কিমচন্দ্র শুধু জুতোপেটা করাই বাকি রেখেছেন।

‘সকল বর্ণর প্রভু হইয়া, তাঁহারা [ব্রাহ্মণরা] বিদ্যাকে প্রভুত্বরক্ষণীরূপে নিযুক্ত করিলেন। বিদ্যার যেরূপ আলোচনায় সেই প্রভুত্ব বজায় থাকে, যাহাতে আরও বৃদ্ধি হয়, যাহাতে অন্য বর্ণ আরও প্রণত হইয়া ব্রাহ্মণ পদরজ ইহজন্মের সারভূত করে, সেইরূপ আলোচনা করিতে লাগিলেন। আরও যাগযজ্ঞের সৃষ্টি কর, আরও মন্ত্র, দান, দক্ষিণা, প্রায়শ্চিত্ত বাড়াও, আরও দেবতার মহিমাপূর্ণ মিথ্যা ইতিহাস কল্পনা করিয়া এই অপ্সরানূপুরনিক্কননিন্দিত মধুর আর্য্যভাষায় গ্রন্থিত কর, ভারতবাসীদিগের মূর্খতাবন্ধন আরও আঁটিয়া বাঁধ। দর্শন, বিজ্ঞান, সাহিত্য, সে সবে কাজ কি? সেদিকে মন দিও না। অমুক ব্রাহ্মণখানির কলেবর বাড়াও— নূতন উপনিষদখানি প্রচার কর— ব্রাহ্মণের উপর ব্রাহ্মণ, উপনিষদের উপর উপনিষদ, আরণ্যকের উপর আরণ্যক, সূত্রের উপর সূত্র, তার উপর ভাষ্য, তার টীকা, তার টীকা, তার ভাষ্য অনন্তশ্রেণী। বৈদিক ধর্মের গ্রন্থে ভারতবর্ষ আচ্ছন্ন কর। বিদ্যা?— তাহার নাম ভারতবর্ষে লুপ্ত হউক।’

দামোদর ধর্মানন্দ কোসম্বীর বহু দশক আগেই বঙ্কিমচন্দ্রই বলে গেছেন কীভাবে সংস্কৃত ভাষাকে কুক্ষিগত করে, সে ভাষাকে পবিত্র অতএব সকলের অধিকার নেই এমন ঘোষণা করে ব্রাহ্মণ্যবাদ কীভাবে অন্য বর্ণর মানুষের ওপর শোষণ-শাসনের একটা পাকাপাকি বন্দোবস্ত করেছিল, আর জ্ঞানচর্চাকে শুধুই অর্থহীন অধ্যাত্মচর্চায় সীমাবদ্ধ করেছিল।

তারুণ্যের আতিশয্যেই কি বঙ্কিমচন্দ্র এসব লিখেছিলেন? মনে হয় না। তখন তাঁর বয়েস ৩৫ বছর। রক্ত ক্রমশ ঠান্ডা হচ্ছে। ‘সাম্য’ যখন বই হয়ে বেরয় তখন তাঁর বয়েস ৪১। এখানে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারেন বঙ্কিমচন্দ্র তো তাঁর ‘সাম্য’-র বক্তব্য থেকে শেষজীবনে অনেকটাই ঘুরে গিয়েছিলেন। সে-কথা সত্যি, কিন্তু তাতে কিছু আসে যায় না। সৃষ্টিকেই দেখতে হবে, স্রষ্টার ব্যক্তিগত মত পরিবর্তন তত গুরুত্বপূর্ণ নয়। লেখক পরবর্তী জীবনে মত পরিবর্তন করলেই তাঁর আগের লেখাগুলি মিথ্যে হয়ে যায় না। শিল্প আর শিল্পীকে গুলিয়ে ফেলা একটি দোষই বটে। মনে রাখতে হবে প্রত্যেক মানুষই তাঁর নিজস্ব সময়ের বাঁধনে বাঁধা। তার ওপর সেই বাঁধন কতটা দৃঢ়— সে-বিচার তত জরুরি নয়। গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে সময়ের সেই বাঁধনকে তিনি কতটা কাটতে পেরেছিলেন বা কাটার চেষ্টা করেছিলেন— সেই বিষয়টা।

‘সাম্য’-র মূল্যায়ণ করতে গিয়ে রামকৃষ্ণ ভট্টাচার্য বলেছেন,

‘‘বঙ্কিমের গৌরব এইখানেই যে, সমস্ত পুরনো সংস্কার ঝেড়ে ফেলে তিনি গণতন্ত্র ও সমাজবাদ-এর মূলকথাগুলি সহজভাষায় গুছিয়ে শুধুই-বাংলা-জানা পাঠক-পাঠিকার সামনে রাখলেন। তার সবটাই নির্ভুল ছিল না। এও ঠিক যে, পরে তাঁর নিজের মতামত ১৭৯ ডিগ্রি ঘুরে যায়। কিন্তু ‘সাম্য’-র আবির্ভাব— আগমন বা প্রকাশ বললে ঘটনাটিকে ছোটো করা হয়— বাঙালি হিন্দু সমাজের ইতিহাসে মনে রাখার মতো ঘটনা, আর শুধু হিন্দুসমাজ কেন, ধর্মনির্বিশেষে গোটা বাঙালি সমাজের পক্ষেই এটি স্মরণীয় রচনা।”

একটি ঐতিহাসিক লেখাকে কীভাবে বস্তুনিষ্ঠভাবে বিচার করতে হয়ে তার একটি আদর্শ মডেল হতে পারে রামকৃষ্ণ ভট্টাচার্যর ‘বঙ্কিমের সাম্য-ভাবনা, বাঙলায় সমাজবাদ-চর্চা’ নামের ছোট পুস্তিকাটি (২১তম চন্দনকুমার ভট্টাচার্য স্মারক বক্তৃতা, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭, বইটির প্রকাশক কাউন্সিল ফর পোলিটিকাল স্টাডিজ, দাম কুড়ি টাকা)। এই পুস্তিকাতে বঙ্কিমের ‘সাম্য’ সম্বন্ধে অনেক কাজের কথা জানা যাবে। আগ্রহী পাঠক অশেষ উপকৃত হবেন।

বঙ্কিমচন্দ্রের সমস্ত উদ্ধৃতি ‘বঙ্কিম রচনাবলী’, সাহিত্য সংসদ, ১৩৮৪ বঙ্গাব্দ থেকে নেওয়া।

চিত্র: গুগল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 × one =

Recent Posts

মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

আমেরিকার স্বাধীনতা: আড়াইশো বছর

১৬০৭ থেকে ১৭৮৩ পর্যন্ত সময়কাল আমেরিকায় ব্রিটেনের ঔপনিবেশিক রাজত্ব। আজকের দিনে যে আমেরিকা, তা কিন্তু পুরোটা ব্রিটিশদের দখলে ছিল না। ছিল ভার্জিনিয়া, ম্যাসাচুসেটস, নিউ ইয়র্ক, পেনসিলভেনিয়া-সহ ১৩টি রাজ্য। আর কানাডার বেশ কিছু অঞ্চল। আমেরিকার অন্যান্য স্থানে ফরাসি, ডাচ, নরওয়েজিয়, সুইডিস উপনিবেশ-ও ছিল। তাছাড়া রাশিয়া আমেরিকার আলাস্কা থেকে ক্যালিফোর্নিয়া পর্যন্ত দখল করে। পরে সে আলাস্কা আমেরিকার কাছে বিক্রিও করে দেয়।

Read More »
অপরাজিতা মৈত্র

গোদাবরীর গোমুখে

গঙ্গার মর্ত্যে আগমন নিয়ে যেমন ভগীরথের গল্প, তেমনই গোদাবরীর উৎসস্থলে না এলে জানা যেত না, দক্ষিণের গঙ্গা নিয়েও আছে হাজার গল্প। যে গল্প জানাবে আজও এই অঞ্চলের মানুষ অনেক সময়েই কাছাকাছি আর কোনও পানীয়জল না পেয়ে কষ্ট করে হলেও এই উৎসস্থলে এসেই শীতল এই পানীয়জল নিয়ে যান নিজেদের কাজের জন্য। গঙ্গা বা অন্য নদী সে শুধু ধার্মিক আবেগের কারণে পবিত্র না, হাজার প্রাণীর ‘তৃষ্ণা’ মেটাবার জন্য সে হয়ে ওঠে ‘দেবী’ বা ‘পবিত্র’। সে পথে মিশে যায় হাজার গল্প-কষ্ট কিংবা দিনযাপনের চরম বাস্তবতা।

Read More »
রুহ

রুহের কবিতাগুচ্ছ

একই আলোকমালায় কাটিয়েছি/ বহুকাল দু’জনে…/ বলিনি কখনও।/ তারা খসা দেখেছি একসাথে, যদিও/ গোপন থেকেছে চাওয়া-পাওয়া।/ মাঝে বহুদিন, বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো/ একা… নীরবে বয়েছি যাতনা।/ আজ মিথ্যের নেই অবকাশ/ তোমাকে কি পড়েনি মনে/ কোনও মুহূর্ত বা ক্ষণে/ ভাবিনি কি একান্ত বন্ধু আমার—/ এতদিন পরে, পুনর্মিলনে বলেছ/ পাখি হতে চেয়েছিলে এ জীবনে

Read More »
কাজী তানভীর হোসেন

যুদ্ধ: বৈশ্বিক কসাইখানা, পুঁজির সংকট ও শ্রমের মুক্তি

অবিক্রীত পণ্যের পাহাড় যখন পুঁজির পুনরুৎপাদনকে বাধাগ্রস্ত করে, তখন পুঁজিপতিরা তীব্র আতঙ্কে ভোগে। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য তারা প্রতিযোগী পুঁজিপতির বাজার ও পণ্য ধ্বংস করতে চায়। আর এই ধ্বংসের বৈধ হাতিয়ার হিসেবে তারা রাষ্ট্র ও সামরিক বাহিনীকে ব্যবহার করে যুদ্ধ বাধিয়ে দেয়। অর্থাৎ, উদ্বৃত্ত পণ্য এবং অতিরিক্ত শ্রমকে ধ্বংস করে পুঁজির ভারসাম্য ফিরিয়ে আনাই বুর্জোয়া যুদ্ধের মূল উদ্দেশ্য। এই শোষণের প্রক্রিয়াকে আড়াল করতে রাষ্ট্র একদল বুদ্ধিজীবী ও নীতিবিদ লালন করে, যারা কৃত্রিম ‘দেশপ্রেম’ ও ‘জাতীয়তাবাদ’-এর আফিম খাইয়ে শ্রমিককে বিভ্রান্ত রাখে, যাতে তারা শোষক ও শোষিতের মধ্যকার মৌলিক শ্রেণি-পার্থক্য ভুলে যায়।

Read More »
প্রসেনজিৎ চৌধুরী

বিশ্বকাপ জৌলুসে আর্জেন্টিনা গণহত্যার বধ্যভূমি

বুয়েনস আইরেসের রিভার প্লেটের যে স্টেডিয়ামে তখন খেলা হত, তার মাত্র এক মাইল দূরে ছিল সামরিক সরকারের বন্দিশিবির নেভি স্কুল অব ম্যাকনিকস। সাংবাদিক ডেভিড কক্স ফুটবল বিশ্বকাপের খবর সংগ্রহ করতে গেছিলেন। তিনি ‘ডার্টি ওয়ার’ বইতে লিখেছিলেন, যখন স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার ম্যাচ চলত তখন ওই টর্চার সেল থেকে কান্নার শব্দ শোনা যেত। আর্জেন্টিনার ভুবনমোহিনী ফুটবলে লেগে আছে রক্ত।

Read More »
রাধাবল্লভ রায়

ধর্মযুদ্ধ

এই যে সংবাদমাধ্যমে প্রতিদিন শতমুখে বিদ্বেষ ছড়ানো হয়, এই যে ফেসবুক জুড়ে বিশেষ সম্প্রদায়কে চিহ্নিত করে সম্মানীয় নেতা-মন্ত্রীদের কুৎসিত ইঙ্গিত, হিংসার প্রদর্শনী— এর প্রতিক্রিয়া কোথায় গিয়ে ঠেকে তাঁরা কি জানেন? পাড়ায় পাড়ায়, রকের আড্ডায়, ক্লাবের আড্ডায়— সর্বত্র বয়োজ্যেষ্ঠদের নির্বোধ অসংযত উচ্চারণ কোন শিশুর হৃদয়ে কেমন ভাবে প্রোথিত হয় তাঁরা কি জানেন? ভেবে দেখেছেন কি এই বিদ্বেষিতার মধ্যে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে আগামী প্রজন্ম?

Read More »