দুর্গাপূজার আকালিক সমাধান
দুর্গাপুজো এলেই এই কথাটা ‘কুইজ’-এর প্রশ্নে থাকবে। অকালবোধন কে করেছেন? রামচন্দ্র অকালবোধন করেছেন— উত্তর এটাই। কিন্তু কেন এটা অকালবোধন, কেন বলব অকালবোধন— এ সব প্রশ্নের উত্তর কুইজ মাস্টারও জানেন না। উত্তরদাতারা তো আরও পণ্ডিত। তবে কিনা, এটা ভেবে নেওয়াই ভাল যে, অকালবোধনের প্রসঙ্গটা এই শ্যাম বঙ্গদেশে যত চলে, ভারতবর্ষের অন্যান্য প্রদেশে এই অকালবোধনের বার্তা এত জোরদার নয়। সত্যি কথা বলতে কী, বারবার পুজোর সময় এই চিরাচরিত ‘ক্লিশে’ কথাগুলি বলে থাকি। ‘শরৎকাল এসেছে, আকাশে সাদা মেঘের পালে মন্দমধুর হাওয়া লেগেছে। এই হল শরৎকালের দুর্গাপুজোর সময়। মহামতি রামচন্দ্র অকালে দুর্গামায়ের বোধন করে এই সময়ে আমাদের উৎসবের মতি জাগিয়ে দিয়েছেন।’ আমি জানি, এই পুরাতন শৈশবাভ্যস্ত কথাগুলি সবিস্তারে বলেই আমার কাজ সারতে পারতাম। কিন্তু এখন এই বয়সে আর ক্লাস সিক্সের রচনা লিখতে ভাল লাগে না। এখন সব কিছুর মধ্যেই হেতু খুঁজতে ইচ্ছে হয়, ইচ্ছে হয় তাৎপর্য বুঝে নিতে। সত্যি সত্যি গবেষণার দৃষ্টিতে যদি দেখা যায়, তা হলে ষটচক্রের একটি বিশেষ ঋতু বা কাল শুধুমাত্র ঋতুমাত্র নয়, তার অন্য তাৎপর্য আছে। আবার দুর্গাপুজোর মতো একটা বিশাল উৎসব যে বঙ্গদেশে চালু হয়ে গেল, তার পিছনেও শুধুমাত্র ধর্ম নয়, তার সামাজিক এবং অর্থনৈতিক তাৎপর্যও এখানে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।
‘ক্লিশে’ হয়ে গেলেও এ কথা অবশ্য মানতেই হবে যে, শরৎকাল বড় বড় মহাকবিদের শব্দখেলার কাল। বর্ষাকালের সমস্ত মুখরতার শেষে লক্ষ্মীমতী শরৎ যেভাবে কমলকলির মুখে স্তব্ধ সূর্যের আলো মাখিয়ে দেয়, যেভাবে পূর্ণ পুষ্করিণীর জলে হাসি ফুটিয়ে দেয়, যেভাবে ছাতিম গাছের ছায়া অনুষ্ণ স্নিগ্ধতা ঘনিয়ে দেয়, তাতে মহাকবিদের ইন্দ্রিয়বদ্ধ এবং শব্দবন্ধ টুটবেই এবং ছুটবেই, মোদের মতো সাধারণ লোকের কথা আর কী বলব! বরঞ্চ যেটা বলা দরকার, সেটা হল, শারদ-লক্ষ্মীর সৌন্দর্য-তাৎপর্য ছাড়াও প্রাচীনকালে শরৎকালের অন্যদুটি গুরুত্ব ছিল। প্রথমত, বর্ষার বর্ষণ স্তব্ধ হয়ে যাবার কিছুদিনের মধ্যেই রাস্তাঘাট শুকিয়ে গেলে মানুষ এই কালে দূরস্থানে যাবার পরিকল্পনা করত। রাস্তার জমাট মাটিতে ধূলি নেই, চলতি পথে জলভরা পুষ্করিণীর হাওয়া, সেকালের মানুষের এই সময়ে পথিক হবার বাসনা জাগত। সংসারে ত্যাগী বৈরাগী চৈতন্য মহাপ্রভুর কথা শুনুন চৈতন্য-চরিতামৃতে— শরৎকাল হৈল প্রভুর চলিতে হৈল মতি।/ স্বরূপ-রামানন্দ সনে নিভৃতে যুকতি।।
শরৎকালের দ্বিতীয় তাৎপর্যেও প্রাথমিক যুক্তি একই রকম। শুকনো রাস্তাঘাটে শীতপূর্ব স্নিগ্ধতায় সেকালে যুদ্ধযাত্রা করতে বেরতেন রাজারা। খোদ বাল্মীকি-রামায়ণে এই সময়ে রামচন্দ্রের যুদ্ধোদ্যোগ স্মরণ করুন। উদাহরণ দিতে পারি আরও অনেক। কিন্তু তার মধ্যে না গিয়ে শরৎকালের তৃতীয় তাৎপর্য বলি এবং তার মধ্যেই দুর্গাপূজার সামাজিক প্রয়োজন পরিস্ফুট হয়ে উঠবে। মনে রাখা দরকার, এই শ্যাম বঙ্গভূমে সমাজের প্রধান উপজীবিকা ছিল কৃষি। এখনও তাই। তবে সেকালে তো লোকে এইভাবে চাকরি-বাকরি করত না। রাজা, জমিদার, পুরোহিত, যাজ্ঞিক আর গুটিকতক খাতা-লিখিয়ে মানুষ ছাড়া আর সবারই জীবিকা তো কৃষিই। এবারে দেখুন, কৃষিকাজ যাঁরা করেন বা করতেন, তাঁরা বর্ষাকালে ধানের বীজ রোপণ করেন এবং তাঁদের খেতের ধান কাটার সময় কার্তিকের শেষ দিনগুলি এবং অঘ্রাণ মাস। এই তো মাঝখানের সময়টা, এই সময়টা কিন্তু ‘ফ্রি’। খেতের ধান খেতে দুলছে, মানুষের মনও দুলছে ‘কী করি, কী করি’ করে। জমিদার-জোতদারদেরও এখন হিসেব করার সময় নয়, ধান উঠলে তবে না হিসেবের আরম্ভ। অতএব এই সময়টা তাঁদের কাছেও উদ্বৃত্ত। বাঙালির সমাজবৃত্ততে যে উদ্বৃত্ত সময়টুকু বেরল সেটা খেয়াল করেই যে নরচন্দ্রমা দেবী দুর্গার অকালবোধন করে দিলেন— এই ভাবার কোনও কারণ নেই। তার ওপরে অকালবোধন ব্যাপারটাও যে সকলে খুব ভাল বোঝেন তাও নয়। তবে এটা ঠিকই যে, রামচন্দ্রের অকালবোধনের কালটা বাঙালির দুর্গাপূজার কালের সঙ্গে ‘কয়েনসাইড’ করে গেছে। অর্থাৎ কিনা কৃষিনির্ভর সভ্যতায় খেতের ধান মাঠে বাড়ছে, জমিদারেরও সময় আছে হাতে, এই অবকাশে যে মুখরতার সৃষ্টি হয়েছিল, সেটাকে স্পষ্ট রূপ দেওয়ার উপায়ই ছিল উৎসব।
এই উৎসবটা দুর্গাদেবীকে কেন্দ্র করেই কেন তৈরি হল, তার পিছনে আছে আমাদের ধর্ম এবং আমাদের সাহিত্য। সবচেয়ে বড় কথা, সাহিত্যের প্রভাব যে কী করে ধর্মের চেয়েও বড় হয়ে ওঠে, তার একটা বড় উদাহরণ বাঙালির দুর্গোৎসব। কার কথা বলছি, হয়তো এখনও বুঝতে পারছেন না। ‘কৃত্তিবাস কীর্তিবাস কবি, এ বঙ্গের অলঙ্কার’— রামায়ণের কবি কৃত্তিবাস যে কী অসম্ভব সম্ভব করেছেন, তা বলবার মতো নয়। তিনি মনুষ্যলীল রামচন্দ্রকে দিয়ে দুর্গার পূজাবিধি রচনা করেছেন নিজকৃত পাঁচালি কাব্যে। রামচন্দ্র যখন কিছুতেই রাবণকে বধ করতে পারছেন না, তীরে এসে তরী ডোবে প্রায়, এই রকম এক সংকট-মুহূর্তে রামচন্দ্র ঠিক করলেন তিনি দেবী দুর্গার পূজা করবেন বিধি অনুসারে। কিন্তু শাস্ত্রীয় বিধানের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল, সেটা দুর্গাপূজার তিথি— সময়ই নয়। কৃত্তিবাস লিখেছেন, সংকটমোচনের জন্য রামচন্দ্র অকালে অর্থাৎ শরৎকালেই দেবীপূজার আয়োজন করলেন। স্বয়ং দেবীর জবানীতেই কৃত্তিবাস দেবীরই কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন— অকালবোধনে পূজা/ কৈলে তুমি দশভুজা/ বিধিমতে করিলা বিন্যাস।/ লোকে জানাবার জন্য/ আমারে করিতে ধন্য/ অবনীতে করিলে প্রকাশ।
কৃত্তিবাস বলেছেন, কাহিনি বিস্তার করে, কবির বেদনাবোধ সংযুক্ত করে এমন সুন্দর করেই তিনি ঘটনা বিন্যাস করেছেন, যাতে বাঙালির মনে অকালবোধনের কথাটা বেশ ধরেছে। কিন্তু আমরা শুধু বলি— শাস্ত্রের পরম্পরা যদি মানি, তবে শরৎকালটা দেবীপূজার পক্ষে কোনও অকাল নয়। অন্তত যে উৎসগ্রন্থ থেকে কৃত্তিবাস তাঁর উপাদান চয়ন করেছেন, সেই কালিকা পুরাণে যেমন আছে— আর শুধু কালিকা পুরাণ কেন, স্কন্দ পুরাণ, মার্কণ্ডেয় পুরাণের মতো বিখ্যাত পুরাণেও তো শরৎকালেই দেবীপূজা বিহিত হয়েছে। অতএব অকালবোধনের প্রশ্নটা কোথায়? আসল কথা, এটা তো মানতেই হবে যে, মূল বাল্মীকি রামায়ণে রামচন্দ্র রাবণ-বধের জন্য দেবী দুর্গার কোনও নির্দিষ্ট পূজাও করেননি, কাজেই অকালবোধনও করেননি। পূজাই নেই, সেখানে অকালবোধন! মহাকাব্যের উদার বীর পরিবেশে সেখানে বীরোচিতভাবেই উভয়পক্ষের হার-জিতের প্রক্রিয়া চলতে চলতে একসময় চরম আঘাত নেমে এসেছে রাবণের ওপর, তিনি মারাও যান বীরোচিতভাবে।
কালিকাপুরাণে নিজের আশীর্বাদপুষ্ট ব্যক্তিকে বিষবৃক্ষের মতো সম্বর্ধিত হতে দেখে রামচন্দ্রের প্রতি অনুগ্রহ এবং রাবণ-বধের জন্য ভগবান ব্রহ্মা মহাদেবী দুর্গার বোধন করেছিলেন। কিন্তু এই বোধন ব্যাপারটা, পূজার সাধারণকাল দিনের বেলায় বা সন্ধ্যায় না করে আশু সমস্যা সমাধানের জন্য ব্রহ্মা রাত্রিবেলার মতো অকালে করেছিলেন— রাত্রাবেব মহাদেবী ব্রহ্মণাবোধিতা পুরা। বিহিত সময় বাদ দিয়ে রাত্রিবেলার বোধনটাই হল অকাল। সেই অকালটাকেই কৃত্তিবাস কবি এমন কাব্যিক মধুরতায় এমন নাটকীয় প্রয়োজনীয়তায় রামচন্দ্রের কাজে লাগিয়েছেন যে, শরৎকালটাকেই আমরা দেবীপূজার অসময় বলে ভেবে এসেছি এতকাল। আমরা ওই যে প্রথমে বলেছিলাম, মানুষের প্রয়োজনে, সময়, অর্থসঞ্চার সব কিছু মিলে একটা সময় কেমন তৈরিই হয়ে যায়, আর তখনই সেই অনুকূল সময়ে সমাজবৃদ্ধেরা বিধান দিয়ে বসেন— এই সময়ে এতদিন ধরে দুর্গাপূজা হবে। মানুষ মেতে উঠবে উৎসবে— সমাজের প্রতিটি স্তরের লোক কাজ পাবে, প্রত্যেকে নতুন জামাকাপড় পাবে। যারা এতদিন চাষের কাজ করেছে, তাদের মধ্যেই দু-চারজন শিল্পী। বাজনদার ঢাক কাঁধে নিয়ে আসবে জমিদারবাড়িতে। ঢাক বাজাবে। সঙ্গে আসবে সেই ছোট্ট ছেলেটা, হাতে কাঁসি— সে বাপের কদর বুঝে যাবে, গিন্নিমার কাছ থেকে স্নেহের লাড্ডু খেয়ে যাবে হতচকিত বড় বড় অবাক দৃষ্টি নিয়ে। তাছাড়া দেবী দুর্গাও তো আমাদের দেশে অসুরদলনী দৈত্যবিনাশিনী রূপ নিয়ে আসেন না। তাঁর হাতে দশটা প্রহরণ আছে বটে, কিন্তু সেগুলো শক্তিময়ীর অলংকার— থাকতে হয়, তাই আছে। এমনিতে মা তো আসেন গোটা সংসারটা নিয়ে। আমাদের বাড়ি, পূজার প্যান্ডেল, দালানবাড়ি— সব তখন তাঁর বাপের বাড়ি। সুদূর কৈলাস থেকে ভরা সংসার নিয়ে এই যে ভুবনমোহিনী মা বাপের বাড়িতে আসেন, তারই-বা শাস্ত্রীয় স্যাংশন কোথায়? পৌরাণিক যুগে একমাত্র শিবপুরাণ আর মহাকবি কালিদাসের প্রণয়মধুর মহাকাব্য ছাড়া আর কোথাও কোনও প্রাচীন উৎস পাবেন না, যেখানে উমা-পার্বতী শঙ্কর-মহাদেবের স্ত্রী বলে চিহ্নিত হয়েছেন। টেনেটুনে কুমার কার্তিককে যদি বা দুর্গার ছেলে হিসেবে পান, কিন্তু গণেশ, লক্ষ্মী, সরস্বতী যে কীভাবে তাঁর মেয়ে হয়ে বসলেন, তা শুধু জানে এই বাঙালির সমাজ। সম্বন্ধ আর সম্পর্ক ছাড়া চূড়ান্ত শক্তিময়ী এক রমণীর কথা আমরা চিন্তাও করতে পারি না, অথচ বেদের বাক্সূক্তে অথবা উপনিষদের উমা-হৈমবতীকে আমরা তো ব্রহ্মময়ী পরমা শক্তি হিসেবেই দেখতে পেয়েছি। এমনকী যে মার্কণ্ডেয় চণ্ডী আমরা মহামতি বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে শুনে আলোড়িত হই, সেখানেও ভগবান শিব তাঁর স্বামী হিসেবে পরিচিত নন। সেখানে শুধু এই একটা কথা আছে— গৌরী! তোমার মধ্যেই তো শশীশেখর শিবের প্রতিষ্ঠা— গৌরি ত্বমেব শশিমৌলিকৃতপ্রতিষ্ঠা— শিবই তোমার মহিমা প্রতিষ্ঠা করছেন। গৌরী দুর্গার এই নৈর্ব্যক্তিক রূপ থেকে ভরা সংসার নিয়ে বাপের বাড়ি আসা জগজ্জননীর রূপান্তর খুব সহজ ছিল না। কিন্তু বাংলার নদ-নদী, আলো-বাতাস আর শিউলি-জবার মধ্যে সংসার সম্বন্ধের এমন একটা মাখোমাখো ভাব আছে যে, ব্রহ্মময়ী পরাশক্তির মধ্যে সৌন্দর্য-ঐশ্বর্যের অধিশ্বরী লক্ষ্মীদেবীকে তাঁর অধস্তনী শক্তি হিসেবে আত্মজা কন্যার রূপ দিয়েছি। বিদ্যাশক্তি জ্ঞানশক্তি রূপান্তরিত হয়েছেন সরস্বতীতে। বীর্য-শৌর্য কুমার কার্তিকের মধ্যে প্রতিভাত, আর গণশক্তির রূপ নিয়েছেন গণেশ।
আসলে, পরাশক্তির মধ্যে সকল শক্তিতত্ত্বই অন্তর্ভুক্ত। সবই মূলাধার জগজ্জননীর পুত্রকন্যা। আর শক্তি যাঁর আছে এমন অস্ত্যর্থেই তো শক্তিমান শব্দের প্রয়োগ, অতএব শক্তিরূপিণী দুর্গার অধিকারী স্বামী হলেন শিব। ভারতীয় দর্শনের শক্তিতত্ত্ব এইভাবেই পৌরাণিককল্পে সংসারের স্বরূপে ধরা পড়ে। তবে দর্শনের কথা ছেড়ে দিয়ে যদি পুরাণের বিস্তৃত লোকায়ত ক্ষেত্রে আসি, তা হলে দেখতে পাব— শিব-পার্বতীর বিয়ের সময় থেকে পার্বতীর জননী মেনকার মনে যে গরিব জামাইয়ের রূপকল্প এসেছে, তার মধ্যেই শতশত গরিব বাঙালি তার ঘরের মেয়ের যন্ত্রণা খুঁজে পেয়েছে। বাঙালির দুর্গাপূজা তাই কন্যা-সম্প্রদাতা পিতামাতার শাশ্বতিক চিরন্তন নিবেদন। রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, ‘আমাদের বাংলাদেশের এক কঠিন অন্তর্বেদনা আছে— মেয়েকে শ্বশুরবাড়ি পাঠানো। সেই সকরুণ কাতর স্নেহ বাংলার শারদোৎসবে স্বর্গীয়তা লাভ করিয়াছে। আমাদের এই ঘরের স্নেহ, ঘরের দুঃখ বাঙালির গৃহের এই চিরন্তন বেদনা হইতে অশ্রুজল আকর্ষণ করিয়া লইয়া, বাঙালির হৃদয়ের মাঝখানে শারদোৎসব পল্লবে ছায়ায় প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে। ইহা বাঙালির অম্বিকাপূজা এবং বাঙালির কন্যাপূজাও বটে। আগমনী এবং বিজয়া বাংলার মাতৃহৃদয়ের গান।’






