বসন্ত সিংহ রায়

বসন্ত সিংহ রায়

বসন্ত সিংহ রায় এভারেস্ট-জয়ী অভিযাত্রী। তাঁর জীবনের দীর্ঘ সময় কেটেছে পাহাড়ে পাহাড়েই। ১৯৯০ সালে তাঁর প্রথম অভিযান গ্যাংস্ট্যাং শৃঙ্গ। পরের বছর থেকে বিভিন্ন শৃঙ্গ অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। ২০১০ সালে সহ অভিযাত্রী দেবাশিস বিশ্বাসের সঙ্গে প্রথম অসামরিক বাঙালি হিসেবে এভারেস্ট শৃঙ্গ জয় করেন। এর পরের বছর কাঞ্চনজঙ্ঘা এবং ২০১২-য় অন্নপূর্ণা শৃঙ্গ জয়। সব ক’টি অভিযানেই তাঁর সঙ্গী ছিলেন দেবাশিস। এর আগে উল্লেখযোগ্য শৃঙ্গ জয়ের মধ্যে রয়েছে কামেট (১৯৯৭), চৌখাম্বা (১৯৯৮), শিব (২০০২), দেওটিব্বা (২০০৩), ইন্দ্রাসন (২০০৪), শিবলিঙ্গ (২০০৫), থলয় সাগর (২০০৮)। সেই ধারা ২০২৫-এও অব্যাহত রয়েছে। ২০১১ সাল থেকে ২০১৩-র এপ্রিল পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের মাউন্টেনিয়ারিং ও অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস ফাউন্ডেশনের যুবা বিভাগের সম্মানীয় উপদেষ্টা ছিলেন। ২০১০ সালের সেপ্টেম্বরে গাড়োয়ালের বিপর্যয়ে এবং ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে সিকিমের মঙ্গনের ভূমিকম্পে আটকে পড়া পর্যটক এবং অভিযাত্রীদের উদ্ধারকার্যে নিয়োজিত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্ধারদলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। পেয়েছেন ভারত সরকারের ‘তেনজিং নোরগে অ্যাডভেঞ্চার পুরস্কার’ এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ‘রাধানাথ শিকদার ও তেনজিং নোরগে পুরস্কার’।
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

ভ্রমণ: বসন্ত সিংহ রায়

কোয়ারাঙ-২ অভিযানে প্রশাসনিক বাধায় জুলাই মাসের ২ তারিখে ফিরতে হচ্ছিল লাদাখের চুমুর গ্রাম থেকে। আমরা মাউন্টেনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ কৃষ্ণনগরের ১০ জন সদস্য গিয়েছিলাম হিমাচল প্রদেশের

Read More »

চেতনার বিবর্তন ও ঈশ্বরের নৃবিজ্ঞান

মানুষের অজ্ঞানতা ও ভুলের গর্ভেই ঈশ্বরের জন্ম হয়েছিল; আর মানুষের জ্ঞান ও সভ্যতার ঐতিহাসিক অগ্রগতিই একদিন ঈশ্বরের কবরে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেবে। জ্ঞানতাত্ত্বিক আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান তাত্ত্বিকভাবে বিনাশ করবে অলৌকিক সৃষ্টিকর্তার ধারণা, আর সম্পদের সুষম বণ্টন ও সাম্যবাদ (Communism) বিলুপ্ত করবে প্রাচীন টোটেমীয় কুসংস্কারকে। একদিন ধর্মের এই অন্ধ খোলস ভেদ করে স্থান করে নেবে উচ্চতর গণিত, আধুনিক সৃষ্টিতত্ত্ব এবং বিজ্ঞানসম্মত মানবিক কর্তব্যবোধ।

Read More »

ব্রিটিশ ছোটগল্প

আমি আগে থেকেই আমেরিকার পাখি বইটি সম্পর্কে জানতাম, কিন্তু কখনও বইটির সঙ্গে তেমনভাবে সময় কাটাইনি। ঠিক যেভাবে কেউ নদীর ধারে বসে সময় কাটায়। বাবার হাসপাতালের শয্যার পাশে বসে থাকতে থাকতে আমি যেন ধৈর্যের অর্থ শিখে নিয়েছিলাম। অপেক্ষা করতে শিখেছিলাম। এডি ঠিকই বলেছিল— আমিও মাছ ধরতে যেতে চাইছিলাম। জলের ধারে বসে থাকতে চাইছিলাম। কিন্তু বাবাকে দেখতে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনও কাজে বাড়ি থেকে বেরোনো সম্ভব হয়নি। তাই আমি অডুবন-এর সরোবরসম বইয়ে আমার জাল ফেললাম।

Read More »

কন্টেন্ট ক্রিয়েশনের বিস্ফোরণ: তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের এক নীরব পূর্বাভাস

পণ্যের এই ভয়াবহ সঞ্চালন সংকটে পড়ে পুঁজিপতিরা এখন আগের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। তাই অবিক্রীত পণ্য গছিয়ে দেওয়ার জন্য বিশাল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে বিজ্ঞাপনের প্রচার চালানো হচ্ছে। এই সুযোগেই বিশ্বজুড়ে ‘কন্টেন্ট ক্রিয়েশন’ বা আধেয় নির্মাণের এক নজিরবিহীন বিস্ফোরণ ঘটেছে। যখন বিশ্বের সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ দু’বেলা অন্নসংস্থানে হিমশিম খাচ্ছে, তখন ইন্টারনেটে ছোটখাটো ভিডিও প্রচার করে ক্রিয়েটররা বিপুল অর্থ উপার্জন করছেন। এটি আসলে জমে যাওয়া শ্রম ও পণ্যের এক অস্বাভাবিক বণ্টন প্রক্রিয়া। যে পণ্যের রিভিউ করে একজন ক্রিয়েটর লাখ লাখ টাকা আয় করছেন, সেই পণ্যের প্রকৃত উৎপাদনকারী শ্রমিক হয়তো আজ কর্মহীন কিংবা নিম্নতম মজুরিতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

Read More »

চন্দ্রাবতী: বঙ্গের প্রথম পদকর্ত্রী

চন্দ্রাবতীর জীবনের যেটি শ্রদ্ধেয় দিক, তা হল গরলকে অমৃতে পরিণত করা। ব্যক্তিগত জীবনের গভীর শোককে কাটিয়ে উঠে একাগ্রতা নিয়ে পঠনপাঠন‌ ও সৃষ্টিকর্মে মন দেন। পিতাকে সহায়তা করেন কাব্যরচনায়। ১৫৭৫ নাগাদ, যখন চন্দ্রাবতীর বয়স মাত্র পঁচিশ, সেসময় তিনি পিতার লেখা মনসার ভাসান-এ সহযোগিতা করেছিলেন। তারপর একের পর এক নিজস্ব রচনায় ভাস্বর হয়ে থাকে তাঁর কারুবাসনা।

Read More »

মহাজনী সভ্যতা

অর্থের লোভ আজ মানবিক অনুভূতিগুলোকে সম্পূর্ণ গিলে ফেলেছে। আজ আভিজাত্য, ভদ্রতা আর গুণের একমাত্র মাপকাঠি হল টাকা। যার কাছে টাকা আছে, তার চরিত্র যত কালোই হোক, সে-ই দেবতা। সাহিত্য, সঙ্গীত, শিল্প— সবই আজ টাকার পায়ে মাথা ঠুকছে। এই বিষাক্ত বাতাসে বেঁচে থাকা দিন দিন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজ ডাক্তাররা মোটা ফিজ ছাড়া কথা বলেন না, আইনজীবীরা মিনিটের হিসাব করেন মোহর দিয়ে। গুণ ও যোগ্যতার বিচার হয় তার বাজারমূল্য দিয়ে। মৌলভি-পণ্ডিতরাও আজ ধনীদের কেনা গোলাম, আর সংবাদপত্রগুলো কেবল তাদেরই গুণগান গায়।

Read More »

রবীন্দ্রনাথের দৃষ্টিতে ইসলাম

হিন্দুকে মুসলমানদের আপন বলে মনে করতে হবে, একথা তিনি ‌বারবার উচ্চারণ করে গেছেন। ‘যদি ভাবি, মুসলমানদের অস্বীকার করে একপাশে সরিয়ে দিলেই দেশের‌ সকল মঙ্গলপ্রচেষ্টা সফল হবে, তাহলে বড়‌ই ভুল করব’— বলেছেন তিনি। বাউলদের সাধনার মধ্যে তিনি হিন্দু-মুসলমানের সম্মিলন আবিষ্কার করেন, অনুবাদ করেন মারাঠি সন্ত কবি তুকারামের ‘অভঙ্গ’ যেমন, ঠিক তেমনই কবীরের দোহা। মধ্যযুগের মরমী সুফি কবি কবীর, জোলা, রজব, দাদু প্রমুখের জীবনবৃত্তান্ত উৎসাহের সঙ্গে জেনে নেন ক্ষিতিমোহন সেনের কাছ থেকে, আর সত্তরোর্ধ্ব কবি পারস্যে গিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে আসেন কবি হাফেজকে।

Read More »