অনুবাদ : দিবাকর পুরকায়স্থ
প্রদোষকাল
মূল কবিতা: crepuscule
কুয়াশায় ঢাকা দিগ্বলয়ে তখন লাল হয় চাঁদ
ঘন কুয়াশা যেখানে নাচে,
ধোঁয়ায় ঢাকা ঘুমিয়ে থাকা প্রান্তরে
যেখানে ব্যাঙ ডাকে তারস্বরে
লম্বা ঘাসের ডগাগুলো কাঁপে তিরতির করে
লিলিগুলো পাপড়ি বন্ধ করে দেয়,
দীর্ঘকায় পপলার তাদের ঘনসংবদ্ধ ভৌতিক ছায়াগুলো
এলোমেলোভাবে মেলে দেয় বহুদূরে
ঝোপঝাড়ে জ্বলে জোনাকি
রাতজাগা পেঁচাগুলো নিঃশব্দে তাদের
ভারী ডানা মেলে উড়ে যায়
বিষণ্ণতা ছেয়ে যায় সর্বোচ্চ পর্যায়ে,
বিষণ্ণ সন্ধ্যাতারা বহুদূরে দেখা যায়
তখনই তো হয় প্রদোষকাল।
***
ক্লাইমেনের প্রতি
মূল কবিতা: Clymène (Fêtes Galants: A Clymène)
রহস্যময় পাখিগুলো গান করে
শব্দহীন নির্বাক প্রেম করে
প্রিয়া, তোমার দুচোখে
আকাশের রং লেগে থাকে
কারণ, তোমার আশ্চর্য কণ্ঠস্বর
তোমার পাগল করা দৃষ্টি
আমার জগৎসংসার
বিব্রত করার জন্য সৃষ্টি
কারণ তোমার বিরল মধুর গন্ধ
তোমার রাজহাঁসের মত বিষণ্ণতা,
আর তোমার নির্দোষ সরলতা
এবং তোমার সুবাস।
ও! তোমার সম্পূর্ণ সত্ত্বার জন্য
সুর এত তীব্র, এত তীক্ষ্ম
যেন এক দেবদূতের স্বরধ্বনি
এবং মেঘের হারানো সুগন্ধ
আছে শুধু নরম সুরের মূর্ছনা,
আর তার সাযুজ্য,
আমার লুকোনো হৃদয়কে প্রলোভিত করে
আর তাই করতে থাকুক।
***
তিন বছরের শেষে
জরাজীর্ণ দ্বার খুলে আমি যখন
আমার ছোট্ট বাগানে হাঁটতে গেলাম
তখন ভোরের সূর্য কিরণ ছড়িয়ে
সবদিক আলোকিত করেছিল
সব ফুল আলোতে জ্বলজ্বল করছিল।
কোনও কিছুই তো বদলে যায়নি
সেই কাঠের নোয়ানো মাচা,
যা বেয়ে লতানো সেই দ্রাক্ষাকুঞ্জ,
সেই বেতের চেয়ারগুলো,
সেই রুপোলি ফোয়ারা,
সেই বুড়ো পপলার গাছের পাতার মর্মরধ্বনি
গোলাপগুলো তখনও যেভাবে কাঁপত,
এখনও সেভাবে কাঁপে
দীর্ঘশির গরবিনী লিলিফুলগুলো বাতাসে দুলছিল
ওদের প্রতিটি দুষ্টু দুষ্টু খেলা
যেন উঁকি দিচ্ছিল আর লুকিয়ে যাচ্ছিল
আর আমি বাগানের শেষপ্রান্তে
ভাঙাচোরা চাঙড়ের মাঝে মৃদুগন্ধী আবহাওয়ায়
ভেলডা-র* কমনীয় মর্মর মূর্তি দেখতে পেলাম।
* ভেলডা= একজন জার্মান মহিলা পুরোহিত ছিলেন, যাঁর মর্মর মূর্তি উনবিংশ শতাব্দীতে বসতবাড়ি সংলগ্ন বাগানে অনেকেই রাখতেন।
চিত্রণ: বিভাবসু
***
কবি পরিচিতি