Site icon BhaloBhasa

মণিশংকর বিশ্বাসের গুচ্ছকবিতা

ন্যাপথলিন

কীভাবে ফিরিয়ে নিয়ে যাও, ভাবি, ওগো কাঠের গোলাপ,
স্নায়ুশুভ্র, তুমি আমাকে ধরে রাখো
আমার মায়ের পুরনো মুখ, ধরে রাখো

*

দ্ব্যর্থক

পুরনো দিনের মতো তোমাকে পাব না আর

*

প্রতিভা

যেভাবে ব্যথা দাও, মনে হয় দুঃখ তোমার কুটিরশিল্প

*

দুঃস্বপ্ন

ঘুম ভেঙে যায়, বুঝি, ঘুম হয়নি একটুও

*

আমিত্ব

আমাকে সকলে দ্যাখে
অথবা দেখেও না-দেখার ভান করে
অথচ আমি কখনো আমাকে দেখতে পাই না

আমি, আমি-অন্ধ

*

বিস্মরণ

তুমি আনন্দের খনি
আমি ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা ছাড়াই
নিচে নেমে গেছি

আর উঠে আসতে পারছি না

*

প্রাণ

যে জ্বালানি পুড়িয়ে তোমাকে ভালোবেসেছি
সেই একই খড়কুটো জ্বালিয়ে
বেঁচে আছি
লোকে ভাবছে, নাইট-বাল্ব—

ঘুমোনোর আগে নিভে যাবে

*

প্রতিবিম্ব

একটাই মন—
তোমাকে ভালোবেসে তাই
নিজেকে তেমন ভালোবাসতে পারিনি কখনো

বরং ভেঙে গেছি বারবার

*

না-লিখতে পারার দিনগুলিতে বাংলা কবিতা

বিবাহিতা প্রেমিকার মতো আমাকে ভুলে গেছ?
যথাযথ ভালবাসা অথবা নিঃশব্দে প্রতারণা আমি তো পারিনি।
আজ দূর থেকে মহর্ষি বটের ফাঁক দিয়ে
ইতিউতি সূর্যাস্তের মতো
তোমার আদুরে মুখ মনে পড়ে।
ঝিলের কিনারে কুয়াশালাঞ্ছিত টালির বাড়িটির মতো
সেও ঘুমন্ত আজ; ভান?
কিছুই বুঝি না
কিছুই বুঝি না— বাংলা-অনার্স ক্লাসের মেয়ে

আমি তো তোমার কেউ নই
তবুও তোমার অভিমান কেন ভাঙে
এই বুকে?

চিত্রণ: চিন্ময় মুখোপাধ্যায়