Site icon BhaloBhasa

লিলিপুটের লেখার টেবিল অথবা নকুলদানার জাহাজ

ধুলোবালির গল্প শোনাতে গিয়ে এই লিলিপুটজন্ম শেষ হয়ে গেল।
পরের জন্মে অন্তত রোঁয়াটুকু উঠুক, শুঁয়োপোকাটির
এই বলে রেনকোট পরে নেওয়া।

এই জামা আদতে বাসরঘর। লখিন্দরের।

মঙ্গলকাব্য পৌঁছে গেছে মঙ্গল গ্রহে।
সাতটি ডিঙা পৌঁছে গেছে স্পেস স্টেশনে।
এলিয়েনদেরও ঈশ্বরী পাটনী বলে চলেছে দুধভাতের কবিতা।
মঙ্গল গ্রহের ঘরে ঘরে এখন গোয়াল।

কবীরের দোঁহা পাঠিয়েছ ইমেলে
এই দেশ ছেড়ে চলে গেছে ইমনকল্যাণ

পারস্যের মেঘ উড়ে উড়ে আসে আমাদের বাংলায়
দূর্বা আরও নরম হয়ে ওঠে
আকাশ ভেজে আবিদা ধারায়।

ভেসে আসছে গুলজারের গলা, হাওয়া, মাস্তুল
উঠে পড়লেই হয় শেষ নৌকাটি, পালতোলা
পাহাড়ের পাদদেশে রেখে এসো পাষাণ প্রাণ

কোথা আছে শান্তিজল, আছে কোথা বরফবৃক্ষ
তার কাজলজ্বর মেপে দেখার মুহূর্তরা অদেখা

শেকল তুলে বেরিয়ে এসেছে খালি পা
ঘুঙুরও জানে শব্দহীন চলে যাওয়া।

কোক স্টুডিওর খোলা জানলা
থেকে উড়ে আসছে আরশপাখিটি
তখন গোলাম মোস্তফার জীবন বিনিময়
আর
শঙ্খ ঘোষের বাবরের প্রার্থনায় একটি সাঁকো দেখতে পাওয়ার কথা

ঠিক এভাবেই তুলসীদাসে জাগি, মীরাতে কাঁপি

নিজেরই গভীরে ঘুরে ঘুরে নামে অচেনা মেঘ।
আজান।

বাতাসার ঠোঙাটিতে শিশুদের শবযান
মিথ্যে বলো এই ক্ষুধা, ক্ষয়রোগ
মর্গের বরফ দিয়ে আর সরবত বানিয়ো না

ঈশ্বরের থালা এত ছোট না হলে
নকুলদানার জাহাজে পিঁপড়ে ধারণের জায়গা হত না

পৃথিবীর সব ময়রার দোকান
গুঁড়িয়ে দিয়ে গেছে যুদ্ধজাহাজ

ইস্পাতের জানালা। নরক পোড়ার ধোঁয়া।

মৃত সূর্যের সাতটি ঘোড়ার পিঠে ফোস্কা
সমস্ত আকাশফল ঝরে পড়েছে, জেট প্লেন

এই হিমঘরে পোকারা মগজ চিবোয়

নক্ষত্রমৃত্যুর দৃশ্যে
এখনও তুমি ইচ্ছাপূরণ ভাবো

জানাজা থেকে উড়ে আসা মাছিটি
এসে বসেছে শ্বেতপাথরের থালায়
জাতিসংঘের ছাদে

ভাতের হাঁড়িতে ঢুকে পড়েছে
গুয়েপোকা, পরমাণু বোমা

শিশুটির দুই কাঁধ থেকে নেমে
দুই দেবদূত
ফেলে দিচ্ছে পাপপুণ্যের হিসাব।

চিত্রণ: চিন্ময় মুখোপাধ্যায়