Site icon BhaloBhasa

নুশান জান্নাত চৌধুরীর কবিতা

উর্বর আঁধারে

তুমি কোথাও যাওনি তো আর
এ তোমার শুষ্কঋতুর প্রাচীর ভূমি
হাওয়া যে বইছে দেখি এখানেও— তুমি

এ তো আর আজকের কথা নয়
ঝুড়ি ঝুড়ি চূর্ণ হচ্ছ তুমি
ঢেউয়ের পরে ঢেউ
ক্ষয়ে যাচ্ছ তুমি
ভালবাসা কী তার চেয়ে তুমি জেনেছ
ভালবাসা কী নয়

তোমার রংহীন শরীরের অবশেষ থেকে
এখানে গজাতে বীজমূল
আমি কোথাও যাব না আজ থেকে

ভালবেসেছি বলেই দীর্ঘপথ
ভালবেসেছি বলেই
এতশত ঝড়ের দৃশ্য রোপণ
ফিরে আসার শপথ

ভালবাসি বলে
বেদনার উষ্ণজলে
জেগে ওঠা লতাগুল্ম আমাদের রক্তের মধ্যে দিয়ে ছোটে
এখনও সময়ের উপকূলে কখনওসখনও ভেসে ওঠে
ডুবে যাওয়া স্থাপনা, কিছু অসঙ্গত চিত্রকর্ম
শতাব্দীমাঝে চোখ চেয়ে দেখি
ওই আশপাশে আমারই তো বাস ছিল একদিন

মাঝে মাঝে মনে হয় ভুলে যাচ্ছি সব
জলজযন্ত্রণায়
শুধু বোধ হয়
ও কিছু নয়— হয়ত এমনই হয়
আমাদের সাধারণ ক্ষয়…

এখনও ভুলতে পারিনি পুরোটা
চোখে এখনও কিছুটা জ্যোতি বাকি
এখনও প্রলাপ বকি
এখনও শান্তির নিমিত্তে বর্বর বিবাদের বাগদান করি
আমরা এখনও দুর্ভিক্ষের হাঁ করা মুখ থেকে ঝরি

সেই সুযোগে কিছু না বলেই
আলো নিভিয়ে দিয়েছে কেউ
টের পাচ্ছি অসাড় ঠান্ডা

সেই সুযোগে আমার হাতের ওপর
এ আঁধারেই কেউ
ফেলে গেল উজ্জ্বল রঙের বীজ
আমি কি আদিম কোনও জীব!

একদিন মোহিত করেছিল যারা
ওরা, মানে হাতের আস্তিনে রাখা
আধেক নির্দোষ স্মৃতি
ওরাই শোকাহত করছে আজ
এ অন্ধকারে

জটলা বাগানের ধারে
পড়ে আছে পাতা, সামান্য কাঠ
ইচ্ছে হয় আলো জ্বালি—
করি প্রার্থনার পরাগায়নপাঠ

ভালবাসা,
যদি তোমারও ইচ্ছে হয় কোনওদিন ঝরো নদীতীরে
পাতার পতনে যদি তোমারও হৃদয় পোড়ে
তুমি ফিরে এসো
আমাদের সূর্যোষ্ণ বাড়ির দেয়ালে-ছাতে-ঘরে

ভালবাসা,
তুমি তো সীমানা বোঝনি কোনোদিন
জন্মের উপকূল ছেড়ে
তুমি চলে এসো আমাদের হেমন্তে—
এখানে যৌবনের পাপশোক গ্রাম্যফুল হয়ে শুকায় ঘাসে
তুমি এসো আরও কিছু শক্তি, আরও কিছু সময় নিয়ে হাতে

ভালবাসা,
তুমি এসো
এসো থেমে থেমে, জলের এপারে
সদ্যোজাত ভোরে

আকাশের মতো পুরাতন হতে হতে
তুমি এসো
আরও কিছু শক্তি আরও কিছু সময় নিয়ে হাতে

পথে যদি কালো ভাঁজে ভাঁজে দ্রুত এসে যায় রাত
যে রাতে কেউ বোঝে প্রেম
খোঁজে কেউ বারুদের মোহন হাত
খোঁজে কেউ গদ্যময় পূর্ণিমাচাঁদ
তারে তুমি বলে এসো—

ক্ষয়জলে যে যায় চলে
সে কেমন নুয়ে নুয়ে পড়ে; দ্যাখে দাগহীন
জলহীন তালুরেখা তার

সে কেমন খোঁজ করে
উর্বর আঁধারে মৃত-মথ
বিবর্ণ পাতার

চিত্রণ: চিন্ময় মুখোপাধ্যায়